সাকা হাফলং তথা ক্ল্যান ময় পর্বত চুড়ার গুগল আর্থ ইমেজ।
http://www.gingefullen.com/gingefullen.html জিন ফুলেন প্রখ্যাত ব্রিটিশ এডভেঞ্চারার। গিনেজ বুকে ইতিমধ্যে নাম লিখিয়েছেন বিশ্বের ১৯৪টা স্বাধীন রাষ্ট্রের ১৫৪টায় উনি গেছেন এবং এর সবদেশের সর্বোচ্চ চুড়ায় আরোহন করেছেন। উনার প্রজেক্ট এখনো শেষ হয়নি, তাই বাকি দেশগুলোর সর্বোচ্চ চুড়ায় হয়তো জয় হয়ে যাবে সাম্প্রতিক সময়ে (বর্তমানে আফ্রিকা নিয়ে আছেন)।
জিন ফুলেন তার বিশ্ব রেকর্ড করার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশেও এসেছিলেন। বান্দারবান জেলায় কেও কারাডং তখন কাগজে কলমে শীর্ষ চুড়া, যদিও স্যাটেলাইট ইমেজ বলে অন্য কথা। ফুলেন সাহেবকে গাইড করছিলেন স্থানীয় একজন বম স্কুল টিচার। কেওকারাডং জয় করার পর আশে পাশের অন্যান্য উচু চুড়া গুলোর দিকেও নজর ছিল। এভাবেই ঘুরতে ঘুরতে একটা উচু চুড়ায় তার চোখ আটকে গেল। অভিজ্ঞ জিন ফুলেন বুঝলেন ওটাতে তাকে উঠতেই হবে। সেখানে অবশ্যই কিছু আছে। তার গাইডকে জিজ্ঞেস করলে উত্তর এল, হ্যা ওটাও অনেক উচু, সবচাইতে কিনা তা বলতে পারে না। সরকারী খাতায় অবশ্য কেওকারাডং এক নাম্বার। জিন ফুলেন রিস্ক নিলেন না। সেটাতেও আরোহন করেন। স্থানীয় বলতে বম এবং ম্রো। বমরা পাহাড়টাকে বলে সাকা হাফলং (বম ভাষায় সাকা হাফলং মানে সুন্দর পাহাড়) আর ম্রোরা বলে ক্ল্যান ময়।
জিন ফুলেনের ফেস বুক প্রোফাইল পিক।
সাকা হাফলং এর অবস্থান গুগল আর্থে 21°47′11″N 92°36′36″E / 21.78639, 92.61, গুগল আর্থে অবশ্য এটা মায়ানমার সীমান্তের ওপারে দেখাচ্ছে। কিন্তু ক্যাপশানে ঠিকই দেয়া আছে বাংলাদেশের সম্ভবত সর্বোচ্চ চুড়া। রাশিয়ান ট্রপোগ্রাফিক ম্যাপে অবশ্য সাকা হাফলং এর আসল অবস্থান আছে। এবং সেটাতে কোন ভুল নেই।
এ বছর ২০০৮ এর ২রা জানুয়ারী সাকা হাফলং অফিশিয়ালী জয় হয়। আবিষ্কারক নিয়েও কিছুটা বিতর্ক আছে। ঢাকা থেকে আগে বের হয়েছিল বিএমটিসি (বাংলাদেশের সবচাইতে বড় এডভেঞ্চার ক্লাব, পাখিবীদ ইনাম আল হক প্রতিষ্ঠিত, অনেক বড় বড় এর মধ্যেই সাফল্যের সাথে শেষ করেছে, সম্ভবত আগামী বছর প্রথম বাংলাদেশী এভারেস্ট জয়ীকেও আমাদের সামনে আনতে পারবে)। আরেকটা ক্লাব নেচার এডভেঞ্চার ক্লাব প্রথম প্রেস কনফারেন্স করে সাকা হাফলং জয়ের ঘোষনা দেয়। নেচার ক্লাব জিপিএস রিডিং পায় ৩৪৮৮ ফিট আবোভ সী লেভেল, যেটা ফুলেনের রেকর্ডের সবচেয়ে কাছে। এটাই সাকা হাফলং এর অফিশিয়াল উচ্চতা।
সাধারনত বড় কোন নদী বা পর্বত দিয়ে আর্ন্তজাতিক সীমান্ত আইডেন্টিফাই করা হয়। বান্দারবানের এই জায়গাতে বাংলাদেশ মায়ানমার সীমান্ত ঠিক হয়েছে সাকা হাফলং পর্বতের রেঞ্জ ধরে। কিন্তু নিশ্চিত ভাবে সাকা হাফলং বা ক্ল্যান ময় পড়েছে সীমান্তের এপাড়ে, বাংলাদেশ ভু-খন্ডে (যেহেতু ইতিমধ্যে ২টা ট্রেকার ক্লাব বাংলাদেশী পতাকা উত্তোলন করতে পেরেছে)। কিন্তু সীমান্তবর্তি জায়গা, প্রচন্ড দুর্গম এবং নাসাকা বাহিনী এবং সীমান্ত পেরিয়ে আসা মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠি গুলো যেমন আরাকান আর্মি, রোহিঙ্গা বিপ্লবীদের আনাগোনা থাকায় সাকা হাফলং বা ক্ল্যান ময় অভিযান একরকম নিষিদ্ধ। সাকা যেতে হলে কুখ্যাত পুকুর পাড়া ক্যাম্প পেড়িয়ে যেতে হবে। প্রচন্ড দুর্গম সেই সব জায়গাতে খুব বেশি বাঙ্গালী সমতলীয়দের পা পড়েনি। নিরাপত্তাও বড় একটা ইস্যু। বিএমটিসির জিপিএস রেকর্ড ৩৪৬১ ফিট এবোভ সী লেভেল।
নিঃসন্দেহে লিস্টে ২ নাম্বারে থাকে রাং তলাং (উচ্চারনটা অভ্র দিয়ে লিখতে পারছিনা, ত আর ল যুক্ত বর্ন)। এটার সঠিক জিপি এস রিডিংটা বলতে পারছি না। তবে এটাও ৩২০০+ ফুট এবোভ সী লেভেল।
কেও কারাডং পর্বত চুড়ায় আর্মিরা যেই স্তম্ভটা রেখেছে তাতে রেকর্ড হচ্ছে ৩১৯৬ ফিট (জার্মেইন জিপিএস)। স্যাটেলাইট ইমেজ থেকে কেও কারাডং এর উচ্চতা ৩১৭২ ফুট।
তাজিং ডং বা বিজয়ের স্যাটেলাইট ইমেজ নিয়ে বিতর্ক আছে। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে চুড়ার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বিজয় পর্বত। এটাও বেশ জায়ান্ট পর্বত। সরকারী দাবী অনুযায়ী এটার উচ্চতা ১২৮০ মিটার। (কেও কারাডং ৯৭৪ মিটার)। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক জিপিএস হাতের মুঠোয় এসে যাচ্ছে। ট্রেকারদের হিসাবে কেও কারাডং চতুর্থ অথবা তৃতীয়। বিজয় পর্বতের স্থান কেও কারাডং এর পরে।
সাকা হাফলং বা ক্ল্যান ময় পর্বতের কোন ছবি দিতে পারলাম না। আমার কাছে কিছু ছিল সেগুলো ফেস বুকে বিভিন্ন ট্রেকারদের প্রোফাইল থেকে নিয়েছি। বিনা অনুমতিতে দেয়া ঠিক না। আগামী মার্চের আগেই সাকা হাফলং ঘুরে আসার ইচ্ছা আছে। সরকারী বিধি নিষেধ আর প্রকৃতির বাধা জয় করতে পারলে নিঃসন্দেহে এই ব্লগটা এডিট করে সাকা হাফলং এর কিছু ছবি দিতে পারবো।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ২:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



