somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খবিশ পোলাপাইন-১

৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এই লিখায় আমার পরিচিত কিছু খবিশ পোলাপানের কথা ধারাবাহিক ভাবে থাকবে। আজকে প্রথম পর্বঃ১

অনেক দিন পর বাড়িতে এসেছি। এইচএসসির পর থেকে বাড়ির বাইরে। যখন ফিরলাম ততদিনে প্রায় দুটো বছর পেরিয়ে গেছে। মোস্তাকীমের কাবাবের দোকানে হাজার খানেক লুচি আর টিকা আমার প্লেটে না গিয়ে অন্যদের পেটে ঢুকে গেছে। প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টারে ইতিমধ্যে আমাকে ছাড়াই অনেকে বিনা দাওয়াতে বিয়ে খেয়ে আসছে। আমি বাড়ির বাইরে তাই অনেক মিস করেছি।

বাসায় ফেরার পরে পুরান বন্ধুদের সাথে মিট করলাম। দু-বছরে অনেক নতুন মুখ এসেছে, অনেক মুখ চলে গেছে। তাজমহল রোডের খবিশ পোলাপানের দলে ঢোকা সহজ না। এর মাঝে নতুন একজন মনে হয় খুব ভালো ভাবে এন্ট্রি করেছে। কথা বার্তার মাঝে সবাই আহা উহু করছিলো, তোর সাথে আবিরের পরিচয় হয় নি তাই না? ইস মিস করলি। পোলা একখান।

এই বিখাউজ ছেলেদের গ্যাং এ ঢুকে এরকম ইনফ্লুয়েন্স তৈরি করা সহজ না। বুঝলাম আবির নামের ছেলেটা এদের চেয়েও চরম বিখাউজ। একটু শ্রদ্ধা জন্মালো। পরিচয় করার জন্যে অপেক্ষায় ছিলাম। তাই একদিন বিকালে আবিরের সাথে পরিচয় হতে চমকে উঠলাম যখন দেখি ওর বয়স ৭/৮।

আবিরের বাবা জাপান না আমেরিকা কই জানি থাকে। ঢাকায় মায়ের সাথে থাকে। মহা ধুরন্ধর ছেলে। এই ছেলেকে সামলানো সহজ না। একে সামলানোর জন্যে গ্রাম থেকে ওর কেমন যেন এক মামা এসে থাকে। ঐ ছেলে নিয়মিত তার সাথে টম এন্ড জেরী খেলে। সে দিনও বোধহয় মামার চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে এসেছে। হাফাচ্ছিলো।

আমি ভেবেছিলাম অনার্সপড়ুয়া কেউ হবে। এত সহজে আমাদের দলে শুধু ঢুকেই নি, ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে (কেউ আমার সামনে বয়সের ব্যাপারটা বলা নিরর্থক ভেবেছিল)। আমি একটু হতাশ হলাম। সে বিন্দু মাত্র দমলো না।

আমার সামনে কোমড়ে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো, তোমার নাম সৌম্য?

আমি মিন মিন করে উত্তর দিলাম, জ্বী হ্যা।

সে হাত বাড়িয়ে দিল, নাইস টু মিট ইউ। পরের প্রশ্নঃ তোমার জি-এফ আছে?

আমার কি আছে?

জি-এফ, জি-এফ আছে নাকি?

আমি আসা করেছিলাম সে আপনি অথবা নামের শেষে ভাই লাগিয়ে সম্মোধন করবে। সে ঐ পথ দিয়ে গেলই না। আমি প্রশ্নটা না বুঝতে পেরে তাকেই ভাইয়া বলে সম্মোধন করলা। মানে কি ভাইয়া? তোমার ঐ জি এফ?

তোমার বয়স কত? ছি ছি তুমি জি-এফ মানে জান না। জি-এফ মানে গার্লফ্রেন্ড। এই বয়সেও জি-এফ শব্দের অর্থ না জানার অমার্জনীয় অপরাধের জন্যে আমি মাটিতে মিশে যাবার উপক্রম করলাম। লাজুক হেসে জানালাম, জ্বী না ভাইয়া, আমার জি-এফ নাই। তোমার আছে?

এই বার ওর মুখের গাম্ভীর্য খসে পড়লো। সম্ভবত গার্লফ্রেন্ডের মুখ মনে পড়াতেই মুখটা আলো আলো হয়ে গেল। জ্বী আছে। আমার জি-এফ এর নাম এই ... (সে একটা খ্রিশ্চান নাম বললো, তবে আজকালকার নাম শুনে কোনটা ছেলে, কোনটা মেয়ে সেটাই বোঝা যায় না, রিলিজিয়ন আরো দুরের ব্যাপার)।

আমি ওকে একটু আটকানোর জন্যে বললাম, জি-এফ এর সাথে কি কর তুমি? (যেই ছেলের পিছে সবসময় মামা স্পাই এর মতো লেগে থাকে সে একা একা ডেটিং করবে আশা করা যায় না, নাকি ডেটিং এর সময় মামাকে সাথে নিয়ে যায়?)

আবিরের হাসিটা আরো দির্ঘায়িত হলো। আমার জি-এফ এর সাথে আমি প্রতি রাতে মোবাইলে কথা বলি। ও আমাকে গান গেয়ে শোনায়।

আমি কি বলবো, বুঝে উঠতে পারছিলাম না। এবারে সে বললো, জানো আমার জি-এফ কিন্তু ক্রিশ্চান। সে আমাকে সবসময় বলে তুমি মুসলমান থেকে খ্রিষ্টান হয়ে যাও, তাহলে আমাদের বিয়ে করতে সুবিধা হবে। আর আমি তাকে বলি তুমি খ্রিষ্টান থেকে মুসলমান হয়ে যাও।

আমি কি বলবো বুঝতে না পেরে বোকার মত জিজ্ঞেস করলাম, তো কি সমাধান হলো, কে ধর্ম চেঞ্জ করবে?

আবিরের হাসি এতে আরো দির্ঘায়িত হলো। মুসলমান থেকে খ্রিষ্টান হবার নিয়ম ও বলতে পারে নি। কিন্তু আমি বলতে পারছি, তিনবার কালেমা তাইয়েবা পড়লেই খ্রিষ্টান মুসলমান হয়ে যায়।

জান একবার কি হইছে?

আমিঃ কি হইছে?

একবার দেখি প্রায় সময় ওর মোবাইল বিজি থাকে। আমি খুজে খুজে বের করলাম ক্লাস ফোরের একছেলে ওকে রাতের বেলা ফোন করে (আবির আর ওর জি-এফ ক্লাস থ্রি-তে পড়ে)। তো আমি যখন টের পেলাম, একদিন টিফিন টাইমে ওকে ডেকে স্কুলের বাথরুমের ভিতরে নিয়ে গেলাম। এরপরে বাইসাইকেলের চেন খুলে ওকে পিটাইছি।

এতোটা সহ্য করা আমার জন্যে কষ্টকর ছিল। আমি নির্বাক।

এমন সময় দেখা গেল দূরে ওর মামা পাগলের মত দৌড়াচ্ছে। দুই হাত সামনে। অবিকল কার্টুনের টম এর মত। জেরী তথা আবির সেটা দেখে বললো। তোমার সাথে কথা বলে খুব মজা পেলাম। যেও না কোথাও। আমি পার্কের চারদিকে দুটো দৌড় দেই। মামা খুজে পাবে না তাইলে।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ২:৩০
২৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×