এই লিখায় আমার পরিচিত কিছু খবিশ পোলাপানের কথা ধারাবাহিক ভাবে থাকবে। আজকে প্রথম পর্বঃ১
অনেক দিন পর বাড়িতে এসেছি। এইচএসসির পর থেকে বাড়ির বাইরে। যখন ফিরলাম ততদিনে প্রায় দুটো বছর পেরিয়ে গেছে। মোস্তাকীমের কাবাবের দোকানে হাজার খানেক লুচি আর টিকা আমার প্লেটে না গিয়ে অন্যদের পেটে ঢুকে গেছে। প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টারে ইতিমধ্যে আমাকে ছাড়াই অনেকে বিনা দাওয়াতে বিয়ে খেয়ে আসছে। আমি বাড়ির বাইরে তাই অনেক মিস করেছি।
বাসায় ফেরার পরে পুরান বন্ধুদের সাথে মিট করলাম। দু-বছরে অনেক নতুন মুখ এসেছে, অনেক মুখ চলে গেছে। তাজমহল রোডের খবিশ পোলাপানের দলে ঢোকা সহজ না। এর মাঝে নতুন একজন মনে হয় খুব ভালো ভাবে এন্ট্রি করেছে। কথা বার্তার মাঝে সবাই আহা উহু করছিলো, তোর সাথে আবিরের পরিচয় হয় নি তাই না? ইস মিস করলি। পোলা একখান।
এই বিখাউজ ছেলেদের গ্যাং এ ঢুকে এরকম ইনফ্লুয়েন্স তৈরি করা সহজ না। বুঝলাম আবির নামের ছেলেটা এদের চেয়েও চরম বিখাউজ। একটু শ্রদ্ধা জন্মালো। পরিচয় করার জন্যে অপেক্ষায় ছিলাম। তাই একদিন বিকালে আবিরের সাথে পরিচয় হতে চমকে উঠলাম যখন দেখি ওর বয়স ৭/৮।
আবিরের বাবা জাপান না আমেরিকা কই জানি থাকে। ঢাকায় মায়ের সাথে থাকে। মহা ধুরন্ধর ছেলে। এই ছেলেকে সামলানো সহজ না। একে সামলানোর জন্যে গ্রাম থেকে ওর কেমন যেন এক মামা এসে থাকে। ঐ ছেলে নিয়মিত তার সাথে টম এন্ড জেরী খেলে। সে দিনও বোধহয় মামার চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে এসেছে। হাফাচ্ছিলো।
আমি ভেবেছিলাম অনার্সপড়ুয়া কেউ হবে। এত সহজে আমাদের দলে শুধু ঢুকেই নি, ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে (কেউ আমার সামনে বয়সের ব্যাপারটা বলা নিরর্থক ভেবেছিল)। আমি একটু হতাশ হলাম। সে বিন্দু মাত্র দমলো না।
আমার সামনে কোমড়ে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো, তোমার নাম সৌম্য?
আমি মিন মিন করে উত্তর দিলাম, জ্বী হ্যা।
সে হাত বাড়িয়ে দিল, নাইস টু মিট ইউ। পরের প্রশ্নঃ তোমার জি-এফ আছে?
আমার কি আছে?
জি-এফ, জি-এফ আছে নাকি?
আমি আসা করেছিলাম সে আপনি অথবা নামের শেষে ভাই লাগিয়ে সম্মোধন করবে। সে ঐ পথ দিয়ে গেলই না। আমি প্রশ্নটা না বুঝতে পেরে তাকেই ভাইয়া বলে সম্মোধন করলা। মানে কি ভাইয়া? তোমার ঐ জি এফ?
তোমার বয়স কত? ছি ছি তুমি জি-এফ মানে জান না। জি-এফ মানে গার্লফ্রেন্ড। এই বয়সেও জি-এফ শব্দের অর্থ না জানার অমার্জনীয় অপরাধের জন্যে আমি মাটিতে মিশে যাবার উপক্রম করলাম। লাজুক হেসে জানালাম, জ্বী না ভাইয়া, আমার জি-এফ নাই। তোমার আছে?
এই বার ওর মুখের গাম্ভীর্য খসে পড়লো। সম্ভবত গার্লফ্রেন্ডের মুখ মনে পড়াতেই মুখটা আলো আলো হয়ে গেল। জ্বী আছে। আমার জি-এফ এর নাম এই ... (সে একটা খ্রিশ্চান নাম বললো, তবে আজকালকার নাম শুনে কোনটা ছেলে, কোনটা মেয়ে সেটাই বোঝা যায় না, রিলিজিয়ন আরো দুরের ব্যাপার)।
আমি ওকে একটু আটকানোর জন্যে বললাম, জি-এফ এর সাথে কি কর তুমি? (যেই ছেলের পিছে সবসময় মামা স্পাই এর মতো লেগে থাকে সে একা একা ডেটিং করবে আশা করা যায় না, নাকি ডেটিং এর সময় মামাকে সাথে নিয়ে যায়?)
আবিরের হাসিটা আরো দির্ঘায়িত হলো। আমার জি-এফ এর সাথে আমি প্রতি রাতে মোবাইলে কথা বলি। ও আমাকে গান গেয়ে শোনায়।
আমি কি বলবো, বুঝে উঠতে পারছিলাম না। এবারে সে বললো, জানো আমার জি-এফ কিন্তু ক্রিশ্চান। সে আমাকে সবসময় বলে তুমি মুসলমান থেকে খ্রিষ্টান হয়ে যাও, তাহলে আমাদের বিয়ে করতে সুবিধা হবে। আর আমি তাকে বলি তুমি খ্রিষ্টান থেকে মুসলমান হয়ে যাও।
আমি কি বলবো বুঝতে না পেরে বোকার মত জিজ্ঞেস করলাম, তো কি সমাধান হলো, কে ধর্ম চেঞ্জ করবে?
আবিরের হাসি এতে আরো দির্ঘায়িত হলো। মুসলমান থেকে খ্রিষ্টান হবার নিয়ম ও বলতে পারে নি। কিন্তু আমি বলতে পারছি, তিনবার কালেমা তাইয়েবা পড়লেই খ্রিষ্টান মুসলমান হয়ে যায়।
জান একবার কি হইছে?
আমিঃ কি হইছে?
একবার দেখি প্রায় সময় ওর মোবাইল বিজি থাকে। আমি খুজে খুজে বের করলাম ক্লাস ফোরের একছেলে ওকে রাতের বেলা ফোন করে (আবির আর ওর জি-এফ ক্লাস থ্রি-তে পড়ে)। তো আমি যখন টের পেলাম, একদিন টিফিন টাইমে ওকে ডেকে স্কুলের বাথরুমের ভিতরে নিয়ে গেলাম। এরপরে বাইসাইকেলের চেন খুলে ওকে পিটাইছি।
এতোটা সহ্য করা আমার জন্যে কষ্টকর ছিল। আমি নির্বাক।
এমন সময় দেখা গেল দূরে ওর মামা পাগলের মত দৌড়াচ্ছে। দুই হাত সামনে। অবিকল কার্টুনের টম এর মত। জেরী তথা আবির সেটা দেখে বললো। তোমার সাথে কথা বলে খুব মজা পেলাম। যেও না কোথাও। আমি পার্কের চারদিকে দুটো দৌড় দেই। মামা খুজে পাবে না তাইলে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

