somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিডিআর

০৩ রা মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুপুরবেলা মেগা সিটি বাস প্রায় খালি যায়। পছন্দ মতো সীট পেতে সমস্যা হয় না। বাস টানেও বেশ তাড়াতাড়ি। ধানমন্ডিতে এসে অবস্থা খারাপ। রাস্তা পুরা স্থবির। বাস সামনেও আগায় না পিছেও না। অনেকক্ষন পরে টের পেলাম। ওদিক থেকে মিছিল আসছে। বিডিআর সৈনিকরা যাচ্ছে আবাহনী মাঠে। বয়স্ক দাড়ি ওয়ালা একজন আবার সদ্য কৈশোর উর্ত্তীন্ন আরেকজন। কারো পায়ে স্যান্ডেল গায়ে টি-শার্ট আবার কারো গায়ে শার্ট-প্যান্ট। চুলের কাটিং আর হাঁটার স্টাইলই না, পেশাদার সৈনিকের চেহারার মধ্যেই লেখা থাকে সৈনিক। লুকানো যায় না। ইনফেন্ট্রির বইতে একটা কথা পড়েছিলাম। যখন প্রচন্ড প্রতিকুল পরিবেশে দেখবে এক লোক হাতে রাইফেল কাধে বিশাল বোঝার ভারে নুয়ে পড়েছে কিন্তু তার মাথা গর্বিত ভঙ্গিতে উড্ডিন, বুঝে নেবে সে একজন ইনফ্যান্ট্রি।
পরাজিত মানুষ দেখতে খুব খারাপ লাগে। পরাজিত সৈনিকের মাঝে এমন একটা জিনিস থাকে যেটা লুকানো যায় না। বিডিআরের সৈনিকদের অবশ্য পরাজিত সৈনিক বলা যায় না। আমার গত পোস্টটা দিয়েছিলাম বিদ্রোহের রাতে। কথাটা একটু নির্মম ছিল। যতোই যা হোক একজন সামরিক বাহিনীর লোক নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে কিংবা মিউটিনির সাথে জড়িত হচ্ছে এটা মানা যায় না। বিডিআর উচ্ছৃঙ্খল সদস্যরা সে সময় বেশ ইমোশান আদায় করে ফেলেছিল। ফেসবুকে ঢুকে দেখলাম অনেকে প্রোফাইল পিকচারে বিডিআরের লোগো ব্যাবহার করছে। গন হারে গালি খেয়েছিলাম। বিদ্রোহ অবসানের পরে নারকীয় বর্বরতা প্রকাশ পেল, যারা বিডিআরের লোগো ব্যাবহার করছিলো তারাই দেখলাম কালো ব্যাজ ধারন করলো। বর্বরতার ঘটনা প্রকাশ পেল তখন। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায় মনে হলো মুল ঘটনা শুরু করেছিল অল্প কিছু সৈনিক। হয়তো এক সেকশান বা দুই সেকশান খুব বেশী হলে এক প্ল্যাটুন। বাইরের হাত থাকার কথাও জোরে শোরে শোনা যাচ্ছে। আবার বিডিআরে দূর্নীতি হয় না কিংবা সৈনিকরা বঞ্চিত হয় না একথাও ভুল না। একই ভাবে সঠিক কথা হচ্ছে মুষ্টিমেয় সৈনিক এই ন্যাক্কারের সাথে জড়িত। উস্কানী আর ঘটনার ঘটার পরে প্যানিক থেকে আরো শ-খানেক সৈনিক জড়িয়ে গেছে।
আবাহনী মাঠের সামনে যেই স্রোতটাকে দেখলাম এরা সবাই ইউনিফর্ম ছাড়া সৈনিক। রিপোর্ট করতে আসছে। তাদের চোখে ভয়, শঙ্কা আর আতঙ্ক। কিন্তু তাদের পরিবারের চেহারা আরো করুন। আবাহনী মাঠের দেয়ালের ওপাশ থেকে সৈনিকেরা উকি ঝুকি দিচ্ছে। ইউ আই ইউ ইউনিভার্সিটির সামনের টং দোকানে ভয়ার্ত চেহারা নিয়ে সিগারেট টানছে। এটা অবশ্য গতকালের চেহারা। আজকের এরা অনেক শান্ত। এক ২০/২২ বছরের সৈনিকের সাথে করে আসছেন এক বৃদ্ধা। সম্ভবত মা। বেচারার বোরখার ঢাকনি টাকনি সব এলোমেলো। কেঁদে হুলুস্থুল। লোকজন ভীর করে দেখছে। রাইফেলস স্কয়ারের সামনে এক বাচ্চা বয়সী সেকেন্ড লেফট্যান্টকে দেখে মনে হলো পুরো ব্যাপারটায় সে বিব্রত। আর্মির কম্ব্যাট গ্রীন ড্রেসে মানাচ্ছে না। রাইফেলস স্কয়ারের সামনে ইউনিফর্ম পড়া জওয়ানরা। লোকজন গ্রীলের ওপাশ থেকে দেখছে। ব্যাপারটা খারাপ লাগলো খুব।
ক্যাপ্টেন মৌসুমীর হাজব্যান্ড মেজর গাজ্জালী। ক্যাপ্টেন মৌসুমী মিলিটারী একাডেমীতে আমার সিনিয়র ছিলেন (৪৭ লং কোর্স)। মজার ব্যাপার তাঁর সাথে তেমন পরিচয় না থাকলেও মেজর গাজ্জালীকে খুব ভালো করে চিনতাম। খুব হাসি খুশি প্রান উচ্ছল মানুষ। তিন বছরের একটা বাচ্চা আছে তাদের। খুব গল্প করতেন। মেজর গাজ্জালীর মৃতদেহ পাওয়া যাচ্ছে না। ক্যাপ্টেন মৌসুমী কাপড়ে মুখ ঢেকে লাশ খুজছে। সব পত্রিকায় ছবিটা দেখলাম ।
বছর খানেক আগে জনৈক মেজর সাহেবের সাথে পরিচয় হয়েছিল। প্রতিভাবান অফিসার। তার বিকৃত লাশটা টিভির খবরে দেখলাম।

বাসে এক লোক উত্তেজিত বক্তৃতা দিচ্ছে। বিডিআরের সৈনিকদের দেখিয়ে বললেন এরা সব ট্রেইটর। এদের ইয়ে দিয়ে বন্দুকের নল ঢুকিয়ে ফায়ার করা উচিত। বর্বরতার বর্ননা সহ বলতে থাকেন কি কি শাস্তি দেয়া উচিত। বিডিআর জিনিসটাই উঠিয়ে দেয়া উচিত। আর্মি আর পুলিশ মিলে বর্ডার পাহারা দেব এরকম থিওরী গলার জোরে বলছিল। কথা শুনেই বুঝলাম সামরিক বাহিনী সম্পর্কে তার কোন ধারনাই নেই। কয়েকদিন আগে দেখেছিলাম একজনের ব্লগে আর্মি উঠিয়ে দেবার দাবী। আমার গন্তব্য ছিল মতিঝিল। ভদ্রলোকের বকবকানী সহ্য করতে না পেরে সায়েন্স ল্যাবে বাস থেকে নেমে গেলাম। আজকে শুনলাম বিডিআর উঠিয়ে দেবার দাবী। কোন ইউনিটে বিদ্রোহ হলে সেই ইউনিট ভেঙ্গে দেয়া হয়। নেভীতে শীপটাকে ডি-কমিশান করে দেয়া হয়। বিডিআরে কি হবে জানি না। নিরপরাধ জওয়ানরা যেন ভালো থাকে। বাংলাদেশ আর্মির উপরে অনেক আস্থা আছে আমার।

ইউ-আই-ইউ ইউনিভার্সিটির সামনে গন মিছিল যাচ্ছিল। অসংখ্য সৈনিক তাদের পরিজন নিয়ে লাইন ধরে যাচ্ছে রিপোর্ট করতে। একটা দৃশ্য চোখে লাগলো। একজন সৈনিক হেটে যাচ্ছে। তার একটা হাত শক্ত হাতে আকড়ে ধরেছে তার অল্প বয়সী গ্রাম্য স্ত্রী। সৈনিকের কাধে একটা শিশু। বড় বড় চোখে চার পাশের দৃশ্য দেখতে দেখতে যাচ্ছে বাবার সাথে। বিভুতীভুষনের অপুর সংসার দেখে যারা মুগ্ধ হন তাদের বলি, এর চেয়ে সুন্দর দৃশ্য আশে পাশে প্রতিদিন ঘটে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ১১:০০
১৩০টি মন্তব্য ৩৯টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×