খন্দকার আহমেদ আলী ওরফে সাঈদ ভাই ওরফে তারছিড়া সাঈদ ভাই ওরফে ওয়ারলেস সাঈদ ভাইএর সাথে পরিচয় হলো কিভাবে মনে নাই। সম্ভবত নেটে ভবঘুরে কমিউনিটি গুলোতে ঘুরা ঘুরি করতে করতে। নিজের পরিচয় দেন সবসময় বাংলাদেশ সাইকেল টুরিস্ট নামে। জানতে পারলাম এই লোক বাইসাইকেলে বাংলাদেশের ৬৪টা জেলা ট্যুর করেছে। টেকনাফ তেতুলিয়া সাইকেল ট্যুর করা কয়েকজন (মনা ভাই, শরীফ ভাই) এদের সাথে ঘনিষ্ট যোগাযোগ ছিল। কিন্তু এই লোক ৬৪টা জেলা রোদ ঝর বৃষ্টিতে পরিবার চাকরি বাকরি ফেলে প্যাডেল মারতে থাকেন নিঃসন্দেহে অদ্ভুত লোক। ভদ্রলোক যে তার ছিড়া তার পরিচয় পেলাম খুব তাড়াতাড়ি।
উনাকে জিজ্ঞেস করতেই বলেন, আরে আমি তার ছিড়া কে কইলো, আমার তারই নাই। আমি ওয়ারলেস।
আসলেই ওয়ারলেস।
জুলভার্নের বই পড়ে পড়ে বিশ্বদেখার শখ চাপে। বাইসাইকেলে। এডভেঞ্চারের নেশায়। গেলেন দেশের বিখ্যাত একজন সাইক্লিস্টের কাছে। বিশ্বভ্রমনের রুট প্ল্যান নিতে।
উনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি বাংলাদেশ কতোটা জান?
সহজ উত্তর জানি না।
বাংলাদেশে কোথায় কোথায় ঘুরেছ?
কোথাও না।
নিজের দেশকেই দেখনি, বিশ্ব কি দেখবা?
উনি বের হলেন বাংলাদেশ ট্যুরে। কিন্তু মজার ব্যাপার সাইকেল চালাতে জানেন না।
বাংলাদেশের ম্যাপ ঘেটে ঘেটে রুট বানালেন। যাতে একটা জেলায় দুবার যেতে না হয়। চট্টগ্রাম জেলাতে দুবার ছাড়া এইপ্রক্রিয়ার প্ল্যান চুড়ান্ত হলো। সাইকেল কেনা হলো। পাড়ার মাঠে সাইকেল চালানো শিখতে গিয়ে বয়স্ক লোক বার বার আছাড়। এলাকার পিচ্চিরা হাসা হাসি শুরু করলো।
সেই ঐতিহাসিক সাইকেল। প্রায় রুটিন করে কিছুদিন পর পর ছিনতাইকারীরা রাত দেড়টা দুটোয় তাকে পাকড়াও করে। মোবাইল ছিনতাই এর কয়েক সপ্তাহ পড়ে তাজমহল রোডের ছিনতাই কারীরা ধরে তার কাছে মোবাইল মানিব্যাগ কিছু না পেলে সাইকেলটা নিয়া গেছে।
নবাব সীরাজউদ্দোল্লাহর সমসাময়ীক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর জনৈক গভর্ণরের কবর দেখতে গেছিলাম তার সঙ্গে। একটা লোকের সাথে ঘোরাটাই আনন্দের।
টিএসসিতে আড্ডা দিচ্ছিলাম সাঈদ ভাইয়ের সাথে। উনার সাথে কথা বলার একটাই ঝামেলা হাসতে হাসতে পেটে ব্যাথা হয়ে যায়।
যেইদিন তার প্রোগ্রামের অফিশিয়াল উদ্ধোধন হবে স্টেডিয়ামে ঐদিন উনি বেশ চিন্তিত। সাইকেল চালানো শেখা হয়নি পুরোপুরি। টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবায়রা রহমান লীনু প্রোগ্রাম উদ্ধোধন করবেন। সাঈদ ভাই এক ফ্রেন্ডকে বললেন, দোস্ত ট্যুর শুরুর আগে গাড়ী চাপা পড়ে মরতে চাইনা। তুই আমার সাইকেলটা চালিয়ে স্টেডিয়ামে নিয়ে যা। টুর শুরুর পড়ে মড়লে দুঃখ থাকবে না। আগে মরলে আফসোস রয়ে যাবে।
ঢাকা থেকে শুরু করলেন। নারায়ন গঞ্জ যেতে যেতে শত শত বার আছাড়। নারায়নগঞ্জে রাত কাটিয়ে পড়ের দিন আবার যাত্রা কুমিল্লার দিকে। আস্তে আস্তে সাইকেল চালনা ঠিক হলো। একদিন পুরো বাংলাদেশের ৬৪টা জেলা ঘোরা শেষ হলো।
মাথায় চাপছে নতুন ভুত। বাংলাদেশের সবগুলা উপজেলা ঘুরবেন এবারে সাইকেলে চেপে। সঙ্গি শরিফ ভাই। প্রস্তুতী পর্ব চলছে। কোন স্পন্সর নেই। কোন মিডিয়া কাভারেজ নাই। নিরবে চলছে প্রস্তুতী। ভ্রমনের অভিজ্ঞতা আর সাথের ক্যামেরার ছবি প্রতিদিন আপলোড হবে তার ওয়েবসাইট টুর বাংলাতে (http://www.tourbangla.com/ )। সাথে থাকবে ওয়ারলেস মডেমের ল্যাপটপ।
প্রায় ৪০০বছর পুরানো একটা কবরের ভিতর থেকে।
সবচেয়ে ভালো সংবাদ সাঈদ ভাই আসছেন সামহোয়ার ইন ব্লগে। একটা পোস্ট না দিতেই তাকে ব্যান করা হয়েছিল কোন কারন না দেখিয়ে। আমি তার ব্লগ ঘেটে আজও রহস্য উদ্ধার করতে পারি নি। অবশ্য মেইল করে জানানোর পরে তারা তারি তার একাউন্ট ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। মডুদের ধন্যবাদ। লিখার ব্যাপারে তার অসীম অনাগ্রহ। অপেক্ষায় আছি কবে লিখতে শুরু করবেন। সাইকেলে বাংলাদেশের সবগুলো জেলা /উপজেলা ট্যুরের অভিজ্ঞতা সেইরকম জটিল হবার কথা। সামু ব্লগে সাঈদ ভাইয়ের একাউন্টঃ Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

