somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রাইভেট কার বান্ধব পরিবহন পরিকল্পনা কী এবং কার স্বার্থে

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয় ব্লগার
এ শহরটা আমাদের। এই শহরকে ঘিরে সকল পরিকল্পনা আমাদের পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি, সামাজিকতাকে স্পর্শ করে প্রতিনিয়ত । তাই
যেকোন ধরনের ভুল পরিকল্পনা কিংবা শুধুমাত্র ব্যবসাবান্ধব পরিকল্পনা প্রতিরোধে সবাইকে গিয়ে আসতে হবে । এই শহরকে বসবাসযোগ্য করে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সকলের।

ঢাকা শহরে প্রাইভেট গাড়ি সংখ্যা দ্রুত হারে বাড়ছে । এখনও পোর্টে আছে প্রায় ৪০০০ গাড়ি। যার অধিকাংশই (৯৫%) প্রাইভেট কার। আরও অপেক্ষায় আছে ১০০০ গাড়ি। খুব শীঘ্রই এসব গাড়ি রাস্তায় নামবে । অর্থাৎ ঢাকা শহরে বর্তমান প্রাইভেট কারের সঙ্গে আরও কয়েক হাজার গাড়ি যোগ হবে।

বর্তমানে ঢাকার যানজট সমস্যা সমাধানের জন্য নানা প্রকার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পরিকল্পনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিভ্রান্তকর তথ্য দিয়ে এসব পরিকল্পনায় কি ঘটছে তার কিছু ধারবাহিক চিত্র তুলে ধরতে চাইছি প্রথম অংশ প্রাইভেট কার ।

ঢাকা পৃথিবীর অন্য শহরের মত নয়, আমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং যাতায়াত চাহিদার ভিত্তিতে এ ঘনবসতি পূর্ণ শহরের যাতায়াতের জন্য পাবলিক পরিবহণ প্রয়োজন। প্রয়োজন চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করে সীমিত সম্পদের মাধ্যমে অধিক মানুষের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করা । তাই প্রাইভেট কার এই শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় কোন ভাবেই কার্যকর নয়। কেননা এখানে অধিকাংশ যাতায়াতই স্বল্প দূরুত্বের। আর ঘনবসতিপূর্ণ এ শহরে যদি সবার প্রাইভেট কার থাকে তাহলে, পুরো শহরটাকেই রাস্তা বানিয়ে ফেলতে হবে। তারপরও এ সমস্যার সমাধান হবে না।

তাহলে সমাধানহীন এই পথে আমরা কেন এগিয়ে যাচ্ছি নাকি বাধ্য করা হচ্ছে আমাদের .......................

অর্থনৈতিক উন্নয়ন নামে প্রাইভেট কারের অপ্রতিরোধ্য বৃদ্ধির সঙ্গে শুধুমাত্র এদেশীয় কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই যুক্ত নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরোও অনেক গুলো বিষয় যেমন দাতাদের ঋণ বাণিজ্য, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীর ব্যবসা, ব্যাংক ঋণ (কার লোন), বহুজাতিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেট কার নির্ভর অবকাঠামো নিমার্ণ ব্যবসা, জ্বালানী ব্যবসা এবং আরোও অনেক কিছু.....................

এ রকম একটি বিষয়ে ০৯/০৯/ ০৮ দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে লিংক
Click This Link


টাস্কফোর্স সূত্রে জানা গেছে যে ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ এই ১০ বছরে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়েছে ৩৫ হাজারের অধিক যানবহন। এর মধ্যে শুধু মাত্র মৎস ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যবহার করেছে প্রায় ১১০০ গাড়ি। এসব গাড়ি যাবতীয় ব্যয় সরকারকেই বহন করতে হচ্ছে। প্রশ্ন উঠতে পারে মৎস ও পশু সম্পদের মত একটা মন্ত্রনালয়ে এত গাড়ি কিসের প্রয়োজনে। তাহলে কী তারা দূনীতিবাজ?

না তার চেয়ে বড় সত্য হল এই সব প্রকল্পে ঋণ দাতারা যখন টাকা প্রদান করেছেন তখন অনেকটা বাধ্যতামূলক ভাবেই যোগ করে দিয়েছেন তাদের ঋণ বাণিজ্যের অংশ হিসেবে গাড়ি কেনা। এই গাড়ি রক্ষনাবেক্ষনের জন্যই প্রকল্পের একটা বিরাট অংশ ব্যয় হয় । কিন্তু গাড়ি কেন্দ্রিক সকল ব্যবসা উন্নত বিশ্বের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তারা চক্রাকারে এর সুবিধা পেতে থাকে।

এখানে একটি কথা বলা প্রয়োজন, ঋণ দাতারা যে পরিমাণ ঋণ দেয় তা সুধসহ কয়েক গুণ তুলে নেয় আমাদের দেশ থেকে এবং তারা নানা প্রকার বণিজ্যের পথ তৈরি করে যায়। প্রকল্পের গাড়ি এগুলোর মধ্যে অন্যতম।

ঢাকার সকল প্রকার পাবলিক যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলছে রিকশা, বাস, সিএনজি টেম্পু, ট্যাক্সি ক্যাব, হিউম্যান হলার, মিনিবাস ইত্যাদি। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে প্রাইভেট কারকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে কারণ এখানে জড়িয়ে আছে অনেকের স্বার্থ। ইচ্ছে হলেও কেউ একটা রিকশা কিনে রাস্তায় চালানোর অনুমতি পাবে না । যে রিকশা দিনে প্রায় ৫০ জন লোকের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করে। কিন্তু প্রাইভেট কার ................!!!!

একটা সিএনজি টেম্পু অথবা ট্যাক্সি ক্যাব সহজেই রেজিঃ করতে পারবে না। কারণ এটার সংখ্যা নির্ধারিত কিন্তু প্রাইভেট কারের বিষয়টি অন্যরকম এখানে যার টাকা আছে সেই গাড়ি কিনতে পারে একটা, দুইটা, তিনটা যতটা খুশি।

অথচ প্রাইভেট কার রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জায়গা নেয়, যানজট, যাতায়াত ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবেশ দূষণসহ অনেক সমস্যার কারণ হিসেবে চিহিৃত । অনেক শহরেই প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আমাদের দেশে উল্টো কেন? কারণ আমাদের পরিবহণ পরিকল্পনার অনেক অংশ নিধারণ করে ব্যবসায়ীক গোষ্ঠী তাদের লাভকে প্রাধান্য দিয়ে।

প্রাইভেট কারের বৃদ্ধিতে ঢাকার যানজট জনজীবন বিষিয়ে তুলছে। সঙ্গে সঙ্গে পরামর্শ দেওয়া হল ফ্লাইওভার তৈরির । যেমন বলা হচ্ছে নতুন নতুন ফ্লাইওভার হবে এবং বিদেশীরা তৈরি করবে । আমাদের সবাইকে যানজট মুক্ত ঢাকার স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে। কিন্তু লুকানো হচ্ছে এক ভয়াবহ বাস্তবতার। বলা হচ্ছে না ঐ সড়কগুলোর এখনকার মত আমরা বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারব না। প্রতিটি যাত্রীর কাছ থেকেই টোল নেওয়া হবে। যাতায়াত ব্যয় বৃদ্ধি পাবে শতগুণ।
কিন্তু আন্তজার্তিক অভিজ্ঞতায় বলা যায় উন্নত দেশগুলো ফ্লাইওভার নতুন করে তৈরি পরিবর্তে ভাঙ্গছে অথবা স্থগিত করছে। কিন্তু কেন এই সব পরিকল্পনা আমাদের দেশে..........................???????

লেখাটা অনেক বড় হয়ে গেছে। আশা করি আগামীতে আরো বিস্তারিত লিখব ।


০৯/০৯/০৮ আজকের দুটি পত্রিকায় আমার লেখা ছাপানো হয়েছে তার লিংক দিলাম

Click This Link

http://www.thebangladeshtoday.com/analysis.htm
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০০৯ রাত ১২:১৭
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×