জগৎজ্যোতির প্রতি বাংলাদেশ সরকার তার প্রতিশ্রুতি রাখেনি। স্বাধীনতার পর সরকার জ্যোতিকে সর্বোচ্চ খেতাব দেয়নি, সর্বোচ্চ খেতাব মুক্তিযুদ্ধের একটি বিশেষ অংশের জন্য সীমাবদ্ধ রয়ে গেলো। সরাসরি সশস্ত্রবাহিনীর না হলে সর্বোচ্চ খেতাব দেয়া যাবে না। অতএব জগৎজ্যোতিও বাদ। ওতে কিছু যায় আসেনি। জ্যোতিরও কোন ক্ষতি হয়নি। স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী জগৎজ্যোতিরা অমর। তাদের কীর্তি অয় অবিস্মরণীয়।
এই লাইনগুলো বন্ধু ভাস্করে লেখা
জগৎজ্যোতি! যিনি ছিলেন বাংলার প্রথম বীরশ্রেষ্ঠ পোস্টের
Click This Link
এই বীরের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করছি। জগৎজ্যোতি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এক কিংবদন্তির নাম সাহস ও অনুপ্রেরণার উৎস।
জগৎজ্যোতির প্রতি রাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতার কথা শুনে হতাশ হলাম। রাষ্ট্র কেন তার প্রাপ্ত খেতাব ছিনিয়ে নিল? উপরের ব্যাখ্যাটা আমার মত হয় অনেকেরই পছন্দ হবে না। মনে হল বাংলাদেশ রাষ্ট্র নামক প্রতিষ্ঠানের যে সংকীণতার মাঝে আবদ্ধ তার প্রমাণ বহুদিনের। আমরা তা ধারাবাহিকতা বয়ে নিয়ে বেড়াছি। রাষ্ট্রের জন্মের সেই শুরুর মুহূর্তগুলোতে ও আমার নতুন করে শুরু করতে পারিনি, চলতে পারিনি স্বাধীনতার পথে। শুধু এক ভার্সন থেকে অন্য ভার্সনে রূপান্তর মাত্র কিংবা আমাদের চলতে দেওয়া হয়নি।
আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি আমাদের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের এবং সাতজন বীরশ্রেষ্টের প্রাপ্য সম্মানীর প্রতি আমি কোন প্রশ্ন তুলতে চাই না। শুধু বলি জানার কৌতুহলে আমি জানতে চাই কোন ছকে কিসের ভিত্তিতে বীরশ্রেষ্ট উপাধি দেওয়া হয়েছিল?
যুদ্ধাপরাধীর গাড়িতে রাষ্ট্রীয় পতাকা ওড়ে আর পোশাক নেই বলে জগৎজ্যোতির সম্মান ছিনিয়ে নেয় রাষ্ট্র। যদি পোশাকের কারণে ছিনিয়ে নেওয়া হয় জগৎজ্যোতির সম্মান । তবে যুদ্ধের ময়দানে মা আর মাতৃভূমির জন্য কি জগৎজ্যোতিদের ভূমিকা শুধু পোশাক দিয়েই মাপা হবে।
প্রিয় জগৎজ্যোতি
উপাধির বিষয়টি যদি শুধু মাত্র পোশাক কেন্দ্রিক হয়ে থাকে তাহলে ব্যক্তিগত ভাবে লজ্জিত আমি। তোমাদের রক্তের দিয়ে কিনে দেওয়া দেশটা শুধু স্বার্থলোভীর মত ভোগই করছি আমরা। তোমাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতেও কৃপণতা!!! জানি শুধুমাত্র পদকের লোভে তোমরা বুকে বুলেটকে সাদরে গ্রহন করনি। যে স্বাধীনতার জন্য তোমরা লড়েছ সেই স্বাধীনতাও আমরা আকড়ে রাখতে পারিনি। এখনো প্রতিবার প্রতিমুর্হূতে খামচে ধরছে আমাদের মানচিত্র। এক ভার্সন থেকে অন্য ভার্সনে আমাদের স্বাধীনতা আড়কে ধরে শাসকগোষ্ঠী । আমাদের এই অপারগতা ক্ষমা কর।
নিজ সহযোদ্ধাদের বাঁচাতে গিয়ে আত্ম উৎসর্গ করেন জগৎজ্যোতি দাস। তবে তার আগেই শহীদ জগৎজ্যোতি অমর বীরত্বগাথার মাধ্যমে নিশ্চিত করে যান আমাদের নিজস্ব মানচিত্র আর নিজস্ব পতাকার মালিকানা।
প্রিয় ভাস্কর
আপনার পোস্টের আশা করি আমার মত অসংখ্য ব্লগারে জন্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে। ব্যক্তিগত ভাবে আপনার কলমের প্রতি আমি বিশেষ ভাবে আস্থাশীল। আমি জানি পণ্যের এই বাজারে অনেককিছু পণ্য হয়। তারপরও কিছু ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান ভিন্ন। বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় কিছু কলম কখনো বিক্রি হবে না সত্যের প্রশ্নে। বিশ্বাস আস্থাটাকে আকড়ে রাখবেন। ধন্যবাদ
পরিশেষে জগৎজ্যোতির বীরশ্রেষ্ঠ উপাধির দাবি করতে চাই না । শুধু বলি যে রাজনীতির স্বার্থেই জগৎজ্যোতির প্রতি অতীতে অবিচার হোক না কেন, আশা করি somewhereinblog কতৃপক্ষ অবিচার করবেন না লেখাটির গুরুত্ব অনুধাবন করে এবং আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার স্বার্থে এই লেখাটি স্টিক করার জন্য কতৃপক্ষের প্রতি অনুরুধ করছি।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



