somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শের শায়রী
অমরত্বের লোভ কখনো আমাকে পায়না। মানব জীবনের নশ্বরতা নিয়েই আমার সুখ। লিখি নিজের জানার আনন্দে, তাতে কেউ যদি পড়ে সেটা অনেক বড় পাওয়া। কৃতজ্ঞতা জানানো ছাড়া আর কিছুই নেই।

চে গুয়েভার প্রেমিকা গুপ্তচর তানিয়াঃ পশ্চিমা গনমাধ্যমের চোখে

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম বিশ্বযুদ্বের মাতাহারি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বের সিন্থিয়া যেমন খ্যাতি পেয়েছিলেন গুপ্তচর হিসাবে, স্নায়ুযুদ্ব কালীন ষাটের দশকে অমন খ্যাতিই ছড়িয়ে পরেছিল তানিয়ার। অসাধারন মেধাবী আর সফল স্পাই ছিলেন, কাজ করেছিলেন এক সাথে তিন দেশের হয়ে। ভালবাসতেন বিশ্বনন্দিত বিপ্লবী চে গুয়েভেরাকে। কাজ করেছেন তার হয়েও তবে এ ব্যাপারে বিতর্ক আছে তানিয়াকে নিয়ে। পুজিপতি দেশগুলোতে তাকে দায়ী করা হয় চে’র অপমৃত্যুর জন্য। সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে তাকে মর্যদা দেয়া হয় মহান দেশপ্রেমিক আর দুঃসাহসী গেরিলা যোদ্বা হিসাবে। বলা হয় চে’র সাথে তিনিও আত্মোৎসর্গ করেছেন বিপ্লবের কাজে।

কিউবার মুক্তিযুদ্বে গেরিলা রনকৌশল সফল হবার পর চে ভাবেন ওই রননীতি ছড়িয়ে দিতে পারলে কমিউনিষ্ট শাষন প্রতিষ্টা করা যাবে সমগ্র লাতিন আমেরিকায়।এই ভাবনায় তিনি বেছে নেন বলিভিয়া আর আর্জেন্টিনাকে। প্রথমে বলিভিয়া সেখানে সফল হবার পর আর্জেন্টিনা। তার এই পরিকল্পনায় সর্বোত সহযোগিতা দেন তানিয়া কিন্ত শেষ পর্যন্ত সবই বিফলে যায়।

মার্কিন সাংবাদিক ড্যানিয়েল জেমস লিখছেন তানিয়াকে নিয়োগ দিয়েছেন “ষ্ট্যাসি” নামে পূর্ব জার্মানির গোয়েন্দা সংগঠন এবং কেজিবি নামে সোভিয়েত রাশিয়ার গোয়েন্দা সংগঠন। তাদের উদ্দ্যেশ্য ছিল কাস্ত্রো ও চে’র ওপর নজরদারি করা। জেমসের মতে চে’র সাথে তানিয়ার প্রেম ছিল পুরোপুরি অভিনয়। চে’র মৃত্যুর জন্য সর্বোতভাবে তানিয়া দায়ী।

তানিয়ার জন্ম আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনেস এয়ারসে ১৯৩৭ সালে ১৯শে নভেম্বর। তার পিতা ছিলেন জার্মানির রাজধানী বার্লিনের একজন অধ্যাপক, মা ছিলেন পোলিশ ইহুদি। নাৎসি দমন শুরু হলে তারা পালিয়ে চলে যান বুয়েনেস আইরিসে সেখানেই বসবাস করতে থাকেন স্থায়ীভাবে। তবে ১৯৫২ সালে তারা ফিরে আসেন পূর্ব জার্মানি। ১৫ বছরের তানিয়া নিয়মিত পাঠ নেন কম্যুনিজমের ওপর। বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি মার্ক্সবাদের ওপর উচ্চতর ডিগ্রী নেন। শিক্ষার্থী জীবনে তিনি “দ্যা ফ্রি জার্মান ইয়ুথ” নামে একটি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।ওই সময় লাতিন আমেরিকা সফরে যাওয়া রাজনৈতিক নেতাদের দোভাষী হিসাবে কাজ করেন। ২১ বছর বয়সে যোগ দেন MFS এ। শুরু হয় গুপ্তচর জীবন। তানিয়া নাম বদলে হন তামারা। পরে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে যান মস্কো, প্রাগ, ভিয়েনায়।

ওই সময় তিনি কেজিবির নজরে পড়েন। ওই সময় লাতিন আমেরিকায় কেজিবির গুপ্তচর সংকট ছিল। MFS কেজিবির কাছে তানিয়ার নাম প্রস্তাব করে। তানিয়াও সন্মতি জানায়। ১৯৫৯ সালে কিউবার ন্যাশনাল গর্ভমেন্ট ব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট হিসাবে চে আসেন পূর্ব জার্মানি। উদ্দ্যেশ্য কাস্ত্রোর জন্য বৈদেশিক ঋন সংগ্রহ করা। MFS তখন ওই সুযোগে তানিয়াকে নিয়গ করে চে’র দোভাষী হিসাবে। তানিয়া কয়দিনের মধ্যে চের সাথে জড়িয়ে পরেন ব্যক্তিগত সম্পর্কে।

১৯৬১ সালে মস্কোতে তানিয়াকে কঠোর প্রশিক্ষন দেয় কেজিবি। তারপর তাকে পাঠানো হয় হাভানায়, পূর্ব জার্মানিতে কিউবার ব্যালে নৃত্যশিল্পী দল এসেছিল তাদের সাথে একই বিমানে তানিয়া হাভানা যায় ওখানে চে’র ব্যাক্তিগত সুপারিশে চাকরি পান কিউবান শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে। শুধু তাই নয় কিউবার আধা সামরিক নারী বাহিনী গঠনেও তার ভুমিকা ছিল।

রনকৌশলের মাধ্যমে বলিভিয়ার অভ্যুন্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখলের প্লান করার পর তানিয়াকে বিশেষ দায়িত্ব দেন চে। সে দায়িত্ব অনেকখানি সাংগঠনিক আর অনেক খানি গুপ্তচরের। চে’র স্পাই হিসাবে লা-পাজ পৌছান তানিয়া। এখানে তিনি ভুমিকা নেন আমেরিকান-ইন্ডিয়ান লোক সংগীতের বিশারদ ও সিরামিক শিল্পী হিসাবে। স্থানীয় কম্যুনিষ্ট পার্টির সাথে সংযোগ স্থাপন করেন তানিয়া।বনাঞ্চলে লুকিয়ে থাকা গেরিলাদের সাথে বহিবিশ্বের যোগাযোগে মূখ্য ভুমিকা নেন তানিয়া। লা-পাজ থেকে নিয়মিত খাদ্য, ওষূধ, অস্ত্র নিয়মিত পাঠাতে থাকেন বনাঞ্চলে।

এত দক্ষ স্পাই হবার পরও কিছু ভূল করে বসেন তানিয়া, নজরে পরে যান বলিভিয়ান গুপ্তচর সংস্থার।গোপনে তাকে অনুসরন করে সরকারী গোয়েন্দারা। ২৩ শে মার্চকে বিপ্লব ঘটানোর দিন হিসাবে ঠিক করেন চে। কিন্ত তার দশ দিন আগেই বলিভিয়ার সৈন্যরা আক্রমন চালায় বনে অবস্থানরত গেরিলাদের ওপর। ওই সংঘর্সে প্রান হারায় সাতজন শীর্ষ স্থানীয় গেরিলা। বিপ্লব ভেস্তে যায়।এরপর চার মাস বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ান শেষে সৈন্য দের সাথে মুখোমুখি যুদ্বে বাকীরাও প্রান হারায়।

তানিয়ার শেষ দিনগুলো ছিল খুবই কষ্টকর। বিপ্লব নষ্ট হবার জন্য চে সরাসরি তানিয়াকে দায়ী করেন। শুধু চে না দলের অন্যান্য গেরিলারাও তাকে বিশ্বাসঘাতক ভাবে। এ অবস্থাতেই তাদের সাথে তাকে থাকতে হয়। গেরিলাদের শেষ দলের সাথে মুসিকেরী নদী পার হবার সময় সৈন্যদের সাথে গোলাগুলিতে মারা যান তানিয়া। নদীতে পরে যান মৃত তানিয়া। সেখান থেকে আটদিন পর যখন তার মৃতদেহ উদ্বার করা হয় তখন আর চেনার উপায় ছিল না, পরিচয়পত্র আর পাশপোর্ট দেখে তাকে সনাক্ত করা হয়। এভাবেই জীবনাবসান ঘটে এক অসামান্য রূপসী স্পাইয়ের।

সূত্রঃ http://en.wikipedia.org/wiki/Tamara_Bunke
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০১৩ সকাল ৭:৪৮
৩১টি মন্তব্য ২৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×