অনির্বাণের মেজাজ প্রচন্ড খাবাপ। বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরিয়ে হালকা হওয়ার চেষ্টা করছে। অনির্বাণ চাকরি করে একটা এ্যড ফার্মে, ডিজাইনার হিসেবে। ক্লায়ান্ট সার্ভিসের শহিদের সাথে প্রচন্ড বাদানুবাদ হয়েছে। শহিদের ব্রিফ অনুজায়ী সে ডিজাইন ডেভলপ্ করেছে। এখন সে বলে আনির্বান নাকি গার্বেজ ডেভলপ্ করেছে। ক্লায়ান্টের ডিমান্ড নাকি সে বোঝে না। কথাটা শুনেই তার পা থেকে মাথা পর্যন্ত জ্বলে গেছিলো।
অনির্বাণের মতে ক্লায়েন্ট ভাল বুঝে বাজার আর ব্যাবসা পরিচালনা করা, আর এ্যড ফার্মে বুঝে মার্কেট কমিউনিকেশন। এই জন্যই তো একে অপরের কাছে আসা, সেখানে যদি আমিই ক্লায়েন্টের সাথে রা মিলাই তাহলে তো ক্লায়েন্টের আমাকে প্রয়োজন নেই...হতভাগা শহিদ ক্লায়েন্টের কাছে গিয়ে “ইয়েস বস্” হয়ে যায়। অথচ কমিউনিকেশনের ডিজাইনটা যা দাড়িয়ে ছিল সকলের চোখ-মন দুই-ই টানতো। আহাম্মকটা আইডিয়া টা বিক্রি করে আসতে পারেনি ক্লায়েন্টের কাছে...আর এখন বলা হচ্ছে “গার্বেজ ডেভলপ্”।
অনির্বাণের আর ভাল লাগে না, দিনের পর দিন ক্লায়েন্টের পচ্ছন্দ আনুজায়ী কাজ করতে করতে হাপিয়ে উঠেছে সে। অর্থের স্বাধীনতা খুঁজতে গিয়ে আত্মার স্বাধীনতা খুইয়েছে। ঢাকা চারুকলা থেকে গ্রেজুয়েশন করেছিল সে। পেইন্টিং ডিপার্টমেন্ট এর ছাত্র ছিল। শিক্ষকরা তা বিষয়ে বেশ পজেটিভ ধারনা পোষন করতো। দ্বিতীয় বর্ষে থাকতেই ওর আঁকার হাতে বেশ ম্যাচুরিটি চলে আসে। অথচ আজ সে তুলি ধরারই সুযোগ পায় না। সকালে বের হয়ে রাতে ফিরে খাবার খাওয়ার মত ইচ্ছা থাকে না। ছবি আঁকা তো দূরে থাক বিষয় নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ কোথায়। মাঝে সময় করে কিছু আর্ট গ্যালারী গিয়েছিল, বানিজ্য যে শিল্পির আত্মা কিনে নিতে পারে তার উন্নত উধাহরন ছিলো সেগুল...শিল্পিদের প্রতিটা ছবি ছিল ক্রেতার কথা মাথায় রেখে। আনির্বাণ প্রচন্ড হতাস হয়েছিল যখন সে গ্যালারীতে তার শিক্ষকের ছবি দেখেছিল...মানুষের জীবনে টাকার প্রয়োজন কত ? অনেক বেশি? সে ফরমায়েসি কাজ করে কারন তার জীবন ধারনের জন্য টাকা দরকার কীন্তু স্যারের তো চাকুরী আছে... তার কি বিক্রি না হলে চলছিল না? নতুন ছেলে-মেয়েরাও কেমন যেন...টাকা টা খুব বেশি চিনেছে। আত্মার মুক্তীর পথটা সবায় টাকার কাছে বেচে দিচ্ছে।
“স্যার, সি ও ও স্যার আপনাকে ডাকেছেন।” অফিস এ্যাসিস্টেন্ট এসে জানায়। তার মানে আহাম্মকটা সি ও ও কে গিয়ে লাগিয়েছে। অনির্বান সিগারেটের শেষ অংশ টা মাটিতে ফেলে পা দিয়ে পিষে আগুন টা নিভায়।
(...চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



