একটা খুব সুন্দর বাগান। খুব সুন্দর করে প্ল্যান করা কিন্তু হঠাৎ করে দেখলে মনে হবে হয়ত স্বাভাবিক ভাবেই গড়ে উঠেছে। ফলের গাছ, রং বেরং এর ফুলের গাছ আর ছোট্ট একটা লেক। লেক, কিন্তু পানির প্রবাহ আছে। কল কল শব্দে তানহার মন টা কেমন নরম হয়ে যায়। লেকে পানি টলটলে স্বচ্ছ। উপর থেকে হরেক রকমের রঙ্গিন মাছের খেলা দেখা যায়। মাঝে মাঝে লেকের পানিতে মাছ ঘাই দেয়।
এই বাগান টা তানহার খুব প্রিয় যায়গা। ইদানিং প্রায়ই সে এই বাগানে চলে আসে। লেকের পাড়ে একটা ছড়ান ডালের ঘন পাতার গাছ আছে। তানহা সেই গাছের নিচে শুয়ে থাকে। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে মিষ্টি রোদ খেলা করে ওর শরীরে। রোদ যেন তানহার ইচ্ছে মত বাড়ে কমে। তানহার খুব অবাক লাগে...কিন্তু ওর আর এসব নিয়ে চিন্তা করতে ভাল লাগেনা। গাছের ডালে নাম না জানা রঙিন পাখি এ ডাল হতে ওডালে লাফিয়ে বেড়ায় আর আপন মনে শিস দেয়। মাঝে মাঝে কাট্বিড়ালী ওর খুব কাছ থেকে কোন খাবার কুড়িয়ে নিয়ে সামনের দুই পা দিয়ে ধরে খায়। পানি-পাখি-পাতার শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ তানহার কানে আসে না। অবাস্তব এক প্রশান্তিতে তানহার চোখ বুজে আসে। তানহা ডুবে যেতে থাকে ঘুমের অতলে।
কতক্ষন হয়েছে তানহা জানে না...এক সময় তানহার চারপাশ থেকে অন্ধকার অল্প হাল্কা হয়, কিন্তু খুব বেশি না। সে টের পায় আসলে সে হাওয়া ভাসমান। কোন একটা কুয়ার উপর থেকে সে যেন পা ফস্কে পড়ে যাচ্ছে। উপরে পৃথিবীর আলোটা ছোট হয়ে আসছে। তানহা প্রানপন হাত-পা ছুড়ছে কিছু একটা আঁকড়ে ধরে পতন ঠেকাবার জন্য। কিন্তু কোনই অবলম্বন পাচ্ছে না...
...চরম আতঙ্কে তানহা লাফ দিয়ে বিছানায় উঠে বসে। মুখ হাঁ করে টেনে টেনে নিঃশ্বাস নিতে থাকে...তার শরীর ঘামে ভেজা কিন্তু কেমন যেন শীত শীত লাগছে...এরই মাঝে সে বুঝতে পারে সে তার রুমে আছে...রুমের হাল্কা সেফ লাইট টা জ্বলছে। তার আতঙ্ক ধীরে ধীরে কেটে যেতে থাকে। সে বাস্তবের সাথে নিজেকে মিলাতে থাকে।
তানহা কিছুটা ধাতস্থ হয়েছে কিন্তু শরীর প্রচন্ড গুলাচ্ছে...কিছু করার আগেই সে বিছানার পাশে বিকট শব্দে বমি করে ফেলে। বমি করে কিছুটা আরাম পেলেও শরীর অবস হয়ে যায়। সে বুঝতে পারে কেও দরজায় আঘাত করছে। “তানহা...তানহা...” কে ওটা...বাবা ?...তানহার কেমন জানি হেলুসিনেশন বোধ করে...শব্দ গুল যেন আনেক দূর থেকে আসছে...কানে ঝাঁপ ধরে আসছে...তানহা অন্ধকারে ডুবে যায়।
তানহার অনুভব করে সে আবারও লেকের পাশে শুয়ে আছে...লেকের পানির কুল কুল করে তার কপাল ছুঁয়ে যাচ্ছে...সে খুব আরাম বোধ করে। “হ্যা, ঠিক আছে...টেম্পেরেচার টা কমেছে, এবার ওকে ভাল মত শুইয়ে দাও...” “আচ্ছা মামা...”
তানহা চোখ খুলে তাকায়, সাজিদ মামা, তার একমাত্র মামা, ডাক্তার, ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছে তার দিকে। পাশে ইয়াকুব, বাড়ির কেয়ার টেকার ভীত-সন্ত্রস্থ চোখে দাঁড়িয়ে।
“তোর এখন ঘুম আসবে...আমি ঘুমের ঔষধ দিয়েছি...তোর সাথে কথা ইম্পর্টেন্ট কথা আছে...পরে বসব। এখন ঘুমা।“
তানহা চোখ বন্ধ করে।
(চলবে...)
আলোচিত ব্লগ
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।