পাঁচতলা বিল্ডিং এর দ্বিতীয় তলায় থাকি। সদস্য সংখ্যা আমার ১১ মাসের মেয়ে অতিথি সহ পাঁচজন। বৃদ্ধ পঙ্গু বাবা- মা আর আমি ও আমার স্ত্রী। ঝুট ঝামেলা হীনভাবেই বাস করছি। ঠিক আমার উপরের তলায় অর্থাৎ ৩য় তলায় থাকেন আমার বাড়িওয়ালা। তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এর একটি শাখার এস.পি.ও। মানে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার। তিনি ইসলামী মতাদর্শের এক রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত। বাড়িওয়ালার সাথে আমার দেখা সাক্ষাৎ খুবই কম হয়। তিনি খুব ব্যস্ত থাকেন এবং আমিও কম নয়। তার সাথে যখনই আমার দেখা হয় তখনই তিনি আমাকে একটু দ্বীনী আলোচনায় অংশগ্রহণ করার জন্য দাওয়াত দিয়ে থাকেন। কিন্তু আমার কখনই সময় না হওয়ায় আজ অবধি আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারিনি গত সাড়ে তিন বৎসরে। বাড়িওয়ালার বাড়ি নোয়াখালি। তাই আমি একটু পালিয়েই থাকি।
ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ নিয়ে যখন বাথরুমে যাই পানির কল ছেড়ে দেখি ময়লা যুক্ত পানি। বিরক্ত হয়ে বের আসি। সারাদিন তো অফিস আর জ্যামে আটকে থেকে যখন রাতে বাসায় ফিরি তখন কাপড় পাল্টে যখন আবার বাথরুমে যাই তখন আবার একই অবস্থা ময়লা পানি। দুপুর একটুখানি ভালো পানি পাওয়া যায়। তা দিয়েই নাকি চলে রান্না। সকলের গোসল। এভাবেই চলছিল।
একদিন হঠাৎ করেই পানির বিল বাড়িয়ে দিলেন বাড়িওয়ালা। মাসে ২০০/- টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে। আমার খুব রাগ হলো। গত সাড়ে তিন বৎসরে পানি মুখে দেয়া যায় নি। বাহির থেকে ফিল্টারিং পানি কিনে পান করতে হয়েছে। সেখানেও প্রায় ৬০০/৭০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। তারপর আবার পানি বিল বাড়ানো হয়েছে। আপনারা বলুন একটি ইসলামিক দলের রোকন হওয়া সত্বেও আমাদের বাড়িওয়ালা কিভাবে ময়লাযুক্ত-দূর্গন্ধযুক্ত পানি তার ভাড়াটিয়াদের দেয়ার পরও কিভাবে সে অতিরিক্ত টাকা চাইছে। বুখারী ও মুসলিম একটি হাদিসে বর্নিত আছে-
"সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। আর প্রত্যেকেই কিয়ামতে তাঁর দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে। একজন পুরুষ তার সংসারের দায়িত্বশীল, স্ত্রী, স্বামীর সম্পদ ও নিজের সতিত্বের ব্যাপারে দায়িত্বশীল, মনিব তার গোলামের দায়িত্বশীল, গোলাম তার মালিকের সম্পদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। বাড়ীওয়ালা তার ভাড়াটিয়ার উপর দায়িত্বশীল (যাতের দার অধিকার ক্ষুন্ন না হয়) আবার ভাড়াটিয়া তার বাড়িওয়ালার ব্যাপারে দায়িত্বশীল (যাতে তার সম্পদ নষ্ট না হয় এবং সময় মত পাওনা বুঝে পায়)। এদের সকলকে কিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসা করা হবে- তোমরা তোমাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছিলে কি-না? তোমার দ্বারা অধিনস্থ কেন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কিনা, অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে কিনা? কষ্ট পেয়েছে কিনা? ভোগান্তির শিকার হয়েছে কিনা?"
এবার আপনারাই বলুন বাড়িওয়ালা পঁচা পানি বিক্রি করে নগদ টাকা কড় কড়া গুনে নিয়ে কি তিনি তার দায়িত্ব পালন করেছেন। আবার যদি কিছু বলতে যাই তাহলে শুনতে হয় ভালো না লাগলে চলে যান। অনেকেই হয়তো ভাবছেন ঢাকা শহরের অনেক জায়গায়ই পানির সমস্যা বা নষ্ট। সেটা সাময়িক। কিন্তু তাকে আমি জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন পানির মটর চলে বলে অনেক বিদু্ৎ বিল আসে। শুনে আমার আরো রাগ হলো। বেটা একটা খবিশ। খবিশের সাথে তর্কে গেলাম না। কিছু বলেই চলে এলাম বাসায়। মনে মনে দুটো গালি দিলাম তাকে। এরাই নাকি ইসলাম কায়ের জন্য জিহাদ করছে। এখানে ইসলামের দোষ নেই। দোষ এ সব ভন্ড লোকদের। যারা জেনেও না জানার ভান করে। যারা ইসলামের পতাকা তলে দাড়িয়ে ইসলামকে কলুসিত করছে।
তিনি যে আমাদের পঁচা পানি দিয়ে নগদ টাকা বুঝে নিচ্ছেন এর জবাব কি তাকে কখনই উপরওয়ালাকে দিতে হবে না। এটাকি তিনি কখনই ভাবেন নাই। আমার মনে হয় না তারা কখনও ভাবেন। তাহলে কেন সে দ্বীনী আলোচনার দাওয়াত দিয়ে থাকেন?
আমি একটি বেসরকারী স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। বেতন টা খুবই দ্রুত পাই বলে এ প্রতিষ্ঠানে কাজও করি আনন্দে। তাই প্রতি মাসের ১ তারিখে ভাড়া দেয়া সত্বেও মাসের শেষে ৩০ তারিখে ভাড়ার জন্য দাড়োয়ান এসে দড়জায় করা নাড়ে। খুবই বিরক্ত লাগে।
ভাড়াটিয়া হয়ে আমাকে আর কতদিন থাকতে হবে জানিনা।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুলাই, ২০১০ দুপুর ১২:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



