somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডেনর্মাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামরে ব্যঙ্গ ছবি ছাপানোর প্রেক্ষিতে হারাম শরীফের ইমামের তীব্র প্রতিবাদী জুমার খোতবা

২৪ শে জুলাই, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মসজিদে হারামের মিম্বর থেকে
১১ মুর্হারম ১৪২৭হিঃ জুমার খোতবা
আব্দুর রহমান আস্সুদাইস
ইমাম ও খতীব, মাসজিদুল হারাম, মক্কা মুকাররমা
মানব জাতি , আল্লাহকে যথাযথ ভয় কর। যে আল্লাহকে ভয় করে সে দুনিয়ায় সফলকাম এবং আখেরাতে সুসংবাদপ্রাপ্ত হবে। দুনিয়ায় নিরাপদে থাকবে এবং আখেরাতে লাভবান হবে। কেবল আল্লাহ-ভীতি বা তাকওয়ার মাধ্যমে আমরা মর্যাদার শীর্ষে পৌঁছুতে পারব। তাকওয়ার অন্যতম শীর্ষ স্তর হল আরব-অনারব সকলের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষে প্রতিবাদ করা, এ মহামানবের পক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে অর্জিত হবে সর্বোচ্চ লক্ষ্য, সর্বোত্তম নেয়ামত। আর তা কতই না উত্তম প্রতিদান!
মুসলিম ভায়েরা, ইতিহাসের পাতায় নজরদানকারী, সভ্যতার উত্থান-পতনে সজাগ দৃষ্টিদানকারী লক্ষ্য করবেন, নানা জাতি নানা গোত্র কালের স্বৈরাচারী নিকষ আঁধারে চিরতরে হারিয়ে গেছে। কিন্তু ইতিহাস তার ঝুলিতে ধারন করে আছে প্রোজ্জ্বল এক আলোক রশ্মি, আর উন্নত এক উম্মাহ। সমুচ্চতায় যা আকাশের নক্ষত্রকেও হার মানিয়েছে ।সে নুর হচ্ছে মুহাম্মাদের আনীত বিশ্বজনীন বার্তা। (এর বাহকের উপর যুগের পর যুগ, কালের পর কাল সর্বোত্তম সালাম ও রহমত বর্ষিত হোক।) আর সে জাতি হচ্ছে মুসলিম উম্মাহ। যার শুভ-ঊষা প্রতিটি প্রান্তরে প্রভা ছড়িয়েছে। প্রতিটি অন্তরের কুলুপ খুলে দিয়েছে। যার বরকতে প্রতিটি বাগ-বাগিচা সজীব হয়ে উঠেছিল। এই রিসালাহ প্রভূত কল্যাণের ধারক, হেদায়েতের আধার, ন্যায় ও সততার বাহক। ইসলামের কল্যাণেই তো ইতিহাস আলোকিত হয়েছে। শ্রেষ্ঠ মানুষের ঐশী দর্শনে মানব সভ্যতা তার অস্তিত্বের প্রকৃত অর্থ উপলব্দি করতে পেরেছে। আর আমাদের নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সভ্যতাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছে, কালিমা মুক্ত করেছে। “ঈমানদারদের প্রতি আল্লাহর বড় অনুগ্রহÑ তিনি তাদের মধ্য থেকেই একজনকে রাসূল হিসেবে তাদের কাছে প্রেরণ করেছেন। যিনি তাদেরকে তাঁর আয়াত পড়ে শুনান, পরিশুদ্ধ করেন, কিতাব ও সুন্নাহর জ্ঞান দেন। যদি ও বা তারা ইতোপূর্বে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে ছিল।”(আলকুরাআন) এই অবারিত ফল্গুধারা এখনো কোন রাহবার ছাড়া দেশ থেকে মহাদেশ, প্রান্তর থেকে তেপান্তর বিজয় করে চলছেন। বারী তাআলার হেকমতের দাবী ছিল মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহকে (তাঁর উপর রবের সালাম ও শান্তি বর্ষিত হোক।) তাঁর অহীর বাহক বানানো। যিনি হচ্ছেন পরিপূর্ণ রহমত, সবার জন্য নেয়ামত, দয়াময়, মহানুভব নবী। তিনি ছিলেন উচ্চ বংশের, সম্মানিত গোত্রের। যে চিন্তায় সদা বিভোর থাকতেনÑ কিভাবে মানব-সভ্যতাকে অন্যায়-অবিচার, বর্ণবাদ ও মূর্তি পূজার রাজ্য থেকে উদ্ধার করে ন্যায়-নিষ্ঠা, অনুগ্রহ-অনুকম্পা, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার জগতে নিয়ে আসতে পারবেন। “আমরা আপনাকে বিশ্ব-জগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছে।” (আলকুরআন) তাঁর রিসালাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও নবুয়তের বৈশিষ্ট্য আজ অবধি সত্যসন্ধানী গবেষকের গবেষণার জন্য একটি উপযুক্ত বিষয়। বরং এটি চির সজীব একটি অঙ্গন।
সমবেত মুসলিম ভায়েরা, রাসূল ভক্ত বন্ধুরা, এই তীক্ষè মেধাবী, নিরক্ষর নবীর সু গুণ ও তাঁর শরীয়তের যাবতীয় বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা এসেছে তাঁর পূর্ববর্তী নবী-রাসূলদের পক্ষ থেকে। আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, “যারা এ নিরক্ষর নবীর অনুসরণ করে, যার কথা তারা লিপিবদ্ধ পায় তাদের কাছে থাকা তাওরাত ও ইনজিলে, যিনি তাদেরকে সৎকাজের আদেশ দেন, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করেন, পবিত্র-জিনিস হালাল করেন আর অপবিত্র-বস্তু নিষিদ্ধ করেন এবং যিনি তাদেরকে মুক্ত করেন গুরুভার থেকে ও শৃংখল থেকে যা তাদের উপর ছিল। সুতরাং যারা তার প্রতি ঈমান আনে, তাকে সম্মান করে, তাঁকে সাহায্য করে এবং তাঁর সাথে অবতীর্ণ হওয়া নুরের অনুসরণ করে তারাই সফলকাম।” বিস্ময় জাগে! অস্বীকারকারীরা কিভাবে প্রিয় নবীজীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) এসব গুণকে অস্বীকার করতে পারে? বিদ্রূপকারীরা কিভাবে তাঁর ব্যাপারে স্পর্ধা দেখাতে পারে? নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) এর গুণ-গান তো এতেই সীমাবদ্ধ নয় বরং তাঁর পুরো জীবনটাই সকল সুন্দর ও মানবিক গুণের আধার। তাঁর উপর অবতীর্ণ শরীয়ত (জীবন-বিধান) হলো সর্বশেষ শরীয়ত এবং পূর্ববর্তী সব বিধি-বিধানকে রহিতকারী। তা সত্ত্বেও অহীর বাহকদের সাথে ঠাট্টা-মশকরার মাধ্যমে যারা আল্লাহর রিসালাতের পবিত্রতার উপর হামলা করে আল্লাহ তাদেরকে কঠোর শাস্তির হুমকি দিয়েছেন। বরঞ্চ এটাতো আল্লাহর মহত্ব ও বড়ত্বের উপর সরাসরি চ্যালেঞ্জ । কারণ নবী-রাসূলরা তো তাঁর বাণী প্রচারের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে নির্বাচিত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত।
ঈমানদার ভায়েরা, আল্লাহ পাকের বড় মেহেরবানী - তিনি তাঁর প্রিয় নবীকে এমন সব সাহাবীদের বন্ধনে রেখেছিলেন যারা ছিলেন একনিষ্ঠ বন্ধু, উত্তম চরিত্রবান, মহান হৃদয়ের অধিকারী। তাদের এক ব্যক্তির আদর্শই একটি রাষ্ট্র, একটি জাতির সংশোধনের জন্য যথেষ্ট। নবীর প্রতি তাদের ভালোবাসা ছিল অপূর্ব।তাদের কাছে নবী-প্রেম তুল্য আর কিছু ছিলনা। এমনকি নিজেদের জীবনও না। তৎকালীন কাফির নেতা আবূ সুফিয়ান যায়েদ ইবনে দাছিন্না নামক সাহাবীকে মৃত্যুর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল : যদি তোমার স্থানে মুহাম্মদকে হত্যা করে তোমাকে মুক্তি দেয়া হয় তুমি কি খুশী হবে? উত্তরে প্রিয় সাহাবী নিঃশঙ্ক চিত্তে বললেন : আল্লাহর ক্বসম , আমার প্রিয় হাবীবের মৃত্যু তো দুরের কথা আমার মুক্তিপণ হিসেবে তাঁর গায়ে একটি কাঁটা বিদ্ধ হবে তাও আমি সহ্য করতে পারব না।তখন আবূ সুফিয়ান হতভম্ব হয়ে চিৎকার করে বলল: আল্লাহর কসম, মুহাম্মদের প্রতি তার সাথীদের প্রেম- ভালোবাসার মতো গভীর ভালোবাসা আমি আর কোথাও দেখিনি। যায়েদ (রাদিআল্লাহু আনহু) নবীকে ভালবেসেছেন বলেই তো এভাবে কঠোরভাবে জোরালো ভাষায় প্রত্যুত্তর করতে পেরেছিলেন। “তাদের স্বপ্ন ছিল পাহাড়সম। মুষ্টিদ্বয় যেন বারিধারা। নবীর জন্য আত্মোৎসর্গকারীরা তো কিয়ামতের দিন জাব্বারের রহমতে থাকবে।” (আরবী পংক্তির অনুবাদ) তারা ত্যাগের এ বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছিলেন, কারণ তাদের অন্তর ছিল পুত-পবিত্র, দয়ায় ভরপুর, ভালবাসায় টইটম্বুর, জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় সমৃদ্ধ, ঐকান্তিকতা ও সত্যবাদিতায় পরিপূর্ণ। আল্লাহর শপথ, কি মহান এই দ্বীন! কত মহান এই দ্বীনের বাহক!। কতই না মহিমান্বিত তাঁর আদর্শ! “ বিশ্বের সকল বাগ্মী যদি মুখ খুলত তবে তুমিই হতে তাদের স্তুতি কাব্যের বিষয়বস্তু। যদি তাদের জিজ্ঞেস করা হত- সর্বোত্তম মানুষ কে? তারা অকপটে বলে দিত তিনি মুস্তফা মুখতার।” (আারবী পংক্তির গদ্যানুবাদ)
বিশ্বের আনাচে-কানাচের নবী প্রেমিক ভায়েরা , তাওহীদবাদী প্রিয় বন্ধুরা, আজ পৃথিবী যেন অন্ধকারাচ্ছন্ন। ইসলামের আকাশে নতুন করে কালো মেঘের ঘনঘটা। মুসলিম উম্মাহ ইতিহাসের কঠিনতম সময় অতিবাহিত করছে। নিপাত যাক! ধ্বংস হোক! অসভ্য, বর্বর, গণ্ডমূর্খ, কতগুলো তুলিবাজ-নরাধম। মিথ্যাচার ও বেয়াদবির সকল সীমা ছেড়ে গিয়েছে তারা। সীমা লংঘনের সকল স্তর পেরিয়ে গেছে শয়তানগুলো। যাতে প্রতিটি আত্মা কেঁপে উঠে। প্রতিটি হৃদয় থমকে দাড়ায়। বিদ্রুপাত্মক কার্টুন ছবি এঁকে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, বিশ্ব মানবতার মুক্তিদূত, নবীদের সর্দার মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) ইজ্জত নিয়ে হোলিখেলা শুরু করেছে। যিনি হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, বিশ্ব-রবের প্রেরিত-পুরুষ, অহীর বাহক, সৃষ্টিকুলের জন্য রহমত। “গালিবাজ নিজেই নিজের ইজ্জত খুয়েছে। তাওবা বিনা পুরস্কার তার জাহান্নাম।” (আরবী পংক্তির গদ্যানুবাদ) তারা কি আকাশ ও জমিনের রব আল্লাহর রাসূলের সাথে বিদ্রƒপ করছে?! সৃষ্টিকূলের মধ্যমনিকে তিরস্কার করছে?! প্রেরিত এই রহমতকে উপহাস করছে?! হেয় করছে প্রাপ্ত এই নেয়ামতকে?! “নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তার রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কষ্ট দেয় দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের উপর আল্লাহর লানত। আর আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন অপমানজনক শাস্তি।” (আল-কুরআন) তাদের কদাচারি ও কপটতাকে আকৃতি দেয়া হলে তাদের অন্তরে এর জায়গা হত না। তাদের এ অপকর্মে আজ গোটা বিশ্ব ক্রোধে ফেটে পড়ছে। তাদেরকে ধিক্কার জানাচ্ছে। কিন্তু তারা উপুর্যপরি অপকর্ম করেই যাচ্ছে। উপরন্তু তারা পরিতৃপ্তিতে প্রীত। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলার ঘোষনা হচ্ছে, “আর যারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে) কষ্ট দেয় তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (আল-করআন) “নিশ্চয় আপনার শত্রূ নিঃবংশ” (আল-কুরআন) আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক। কিভাবে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করতে পারি, বিজয় ও মুক্তির আশা করতে পারি, যদি না আমরা মুহাম্মদ মুস্তফার সাহায্যে ঝাঁপিয়ে না পড়ি? হায়! কত বড় মিথ্যাচার!! কত বড় অপরাধ!! কিন্তু কোথায় আজ আর্ন্তজাতিক নীতি-মালা, জাতি সংঘ সনদ? কোথায় আজ আর্š—জাতিক বিভিন্ন সংস্থা, এসোসিয়েশন? কোথায় আজ বিশ্ব বিবেক, নীতিবান মানবতাবাদীরা? কোথায় আজ আর্ন্তজাতিক বিভিন্ন সনদ, সন্ধি-চুক্তি?
লক্ষ-কোটি জনতার মুসলিম উম্মাহ, এ সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রিয় নবীজির জন্য তুমি কি করেছ ? কি দায়িত্ব ছিলো তোমার ? “কিছু ক্লেদাক্ত মননের অধিকারী অনাচারী বিভিন্নভাবে বার বার আমাদেরকে উত্ত্যক্ত করছে। কিন্তু আমাদের কষ্টকে আরো বাড়িয়ে দেয় মিলিয়নাধিক উম্মাহর নিস্তেজতা ও স্থবিরতা, যা আত্মহত্যাসম।” (আরবী পংক্তির বঙ্গানুবাদ)
বিশ্ব নেতৃত্ব, আজ মুসলিম বিশ্বের ছোট-বড় প্রতিটি দেশ, প্রতিটি অঞ্চল , প্রতিটি মুসলমান এ ঘৃণ্য অপরাধের কঠোর নিন্দা জানাচ্ছে। শত ধিক দিচ্ছে সেসব নর-কীটদের যারা আসমানী-বার্তা বাহক, আল্লাহ-প্রেরিত রাসূলকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।সাথে সাথে বিশ্ব মুসলিমের ক্বিবলা, প্রিয় নবীজির জন্মভূমি এবং ইসলামের আগমন স্থল পবিত্র ক্বা‘বা শরীফের মিম্বার থেকে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর পক্ষ হয়ে ঐসব বিদ্রƒপকারী ও তাদের দোসর এবং সেসব ছবির পূণঃমুদ্রণকারীদের কঠোরতম শাস্তির জোর দাবী জানাচ্ছি। তাদের ক্ষেত্রে আর্ন্তজাতিক সকল নীতি-মালা ও স›িধ-চুক্তির সিদ্ধান্ত পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। যেন সর্বকালে সর্বস্থানে আসমানী দ্বীনসমূহ ও রাসূলদের মর্যাদা সমুন্নত থাকে এবং আল্লাহ, নবী-রাসূল ও আসমানী শরীয়ত অবজ্ঞাকারীদের উপযুক্ত শান্তি দেয়া যায়। পত্র-পত্রিকা, প্রচার মিডিয়ায় যে সকল ছবি ছাপানো হয়েছে তা দিয়ে যদি অন্য কোন ব্যক্তিকেও উদ্দেশ্য করা হত তবে তাঁর ভক্তরা রক্তের সাগর ভাসিয়ে দিত এবং তাদের তা করা যৌক্তিক হত। তবে সর্বোত্তম মানব, সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল, আল্লাহর কাছে সর্বসম্মানিত, সবচেয়ে প্রিয় মুহাম্মদ মুস্তফার জন্য আমাদের কি অনুভূতি হতে পারে? (তাঁর উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বোত্তম শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক।) ইবনে তাইমিয়া (র:) বলেন: “কোন সন্দেহ নাই যে ব্যক্তি রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গালি দেবে সে মুসলমানদেরকে কষ্ট দেবে, ক্রূদ্ধ করবে । যা মুসলমানদের(কোন এক ব্যক্তিকে হত্যা করা বা কেউ একজনের সম্পদ আত্মসাতের চেয়ে বেশী ক্রোধ উদ্দীপক। কারণ এ ধরনের ক্রোধ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালবাসা নিঃসৃত।” তিনি আরো বলেন: “ মুসলমানরা যদি রাসূলকে গালি-গালাজকারী থেকে প্রতিশোধ নিতে না পারে তবে আল্লাহ নিজেই তাঁর রাসূলের জন্য প্রতিশোধ নিবেন, তাকে সমূলে উৎপাটন করবেন। এটাই আল্লাহর চিরা-চরিত বিধান।” মুসলিম উম্মাহ ও সারা বিশ্ব জেনে রাখুক, আল্লাহ অচিরেই তাঁর রাসূলের জন্য প্রতিশোধ নিবেন। “তারা তাঁকে সাহায্য না করলেও আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করেছেন।” ( আল কুরআন) “বিদ্রƒপকারীদের বিদ্রƒপ থেকে আমরাই আপনাকে হেফাজত করেছি।” (আলকুরআন)
বিশ্ব বিবেক, বাক-স্বাধীনতা কাকে বলে, এর নীতিমালাই বা কী, তোমরা কি মনে করো আমরা তা ভূলে গিয়েছি? তবে তোমরাই বল। আসমানী রাসূলগণের মর্যাদা রক্ষা সংক্রান্ত আইন কী - তোমাদের ধারনায় - আমরা জানিনা। শুধু ইসলাম ও মুসলমানদের সম্মানহানি এবং তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার সময়ই কি বাকস্বাধীনতার দোহাই লাগে? এ ধরনের আচরণ নিঃসন্দেহে একপেশে এবং শত্র“তা ও বিদ্ধেষের উদ্রেককারী। কি আশ্চর্য! দুনিয়ার কোন রাষ্ট্রপ্রধানকে টিপ্পনী কাটলে তোমরা সবাই আর্ন্তজাতিক সব আইনে শাস্তি দেয়ার জন্য উঠে-পড়ে লাগ। কোথায় আজ আন্তর্জাতিক নীতিমালা ? কোথায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা সমূহ ? আর কোথায় বা গেলো বিশ্ব বিবেক? ভাল চাইলে , ন্যায় ও সাম্য কায়েম করুন। ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করূন। অন্যায়, অবিচার , বিভেদ পরিহার করুন। বিবেকবান মাত্রই উপলব্ধি করতে পারে যে এ জাতীয় নৈতিকতা বিরোধী কর্মকান্ড যা দেড়শ‘ কোটিরও বেশী মুসলমানদের অনুভূতিকে আহত করেছে। যা পরমত সহিষ্ণুতা, বিভিন্ন ধর্মের সহাবস্থান, বিভিন্ন সভ্যতার মাঝে গঠনমূলক আলোচনা-সমালোচনা এবং বিশ্বময় শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবীকে নিঃসন্দেহে বাধা গ্রস্থ করবে। তাই আপনারা যদি সত্যিই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক হয়ে থাকেন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দাবিদার হয়ে থাকেন তবে আন্তর্জাতিক নীতি-মালা ও মানবাধিকার বিষয়ক আইন-কানূন বাস্তবায়ন করুন। যারা আল্লাহ, তাঁর রাসূলগণ ও মুসলমানদের কাছে পরমসম্মানীয় এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের কাছেও মাননীয় ধর্মীয় বিষয় সমূহকে হেয় করে এবং তাদের সম্মান লুণ্ঠনের সাহস করে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন। মানবতার সাথে ন্যায় সঙ্গত ও মানবিক আচরণ করুন। অন্যায় এবং একচোখা নীতি ত্যাগ করুন। তবেই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থেকে নিরাপদ থাকবেন। আর মনে রাখবেন - মুসলমানদের প্রাণের এ দাবীকে যারা অবজ্ঞা করে সেসব বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাদের ধর্মীয় ও মানবিক আমানতের খেয়ানত করেছেন। তারা ইসলামের কোন ক্ষতি করতে পারবেনা। আল্লাহর রাসূলেরও কোন ক্ষতি করতে পারবেনা। কেননা আল্লাহ তা‘আলা নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন - “আল্লাহর অনিবার্য ঘোষণা - অবশ্যই আমি এবং আমার রাসূলগণ বিজয়ী হব।” (আলকুরআন) এ ঘটনার দ্বারা এ বিষয়ও আজ সবার কাছে স্পষ্ট যে, কারা সন্ত্রাসবাদের উস্কানি দেয়। কারা বর্ণবাদ, উগ্রবাদ এবং জাতিগত দ্বন্ধের হোতা। কারা সভ্যতার সংঘর্ষকে অনিবার্য করে তোলে।
হে নবী প্রেমিক মুসলিম উম্মাহ ,
রাসূলুল্লাহর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজ সারা মুসলিম বিেেশ্ব একই আওয়াজ উঠেছে : শুধুই তুমি হে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। জেগে উঠেছে ঝিমিয়ে পড়া মুসলিম বিবেক। আপামর মুসলিম উম্মাহ সব ধরনের উপায়-উপকরন নিয়ে রাসূলুল্লাহর সাহায্যে এগিয়ে আসছে। ‘‘দায়সারা গোছের দুঃখ প্রকাশ নয়, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই”এই শ্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে বিশ্বের মুসলিম অধ্যুষিত প্রতিটি জনপদ, মুখরিত হচ্ছে প্রতিটি রাজপথ। আর এ ধরণের ঐক্য বিশ্বের দরবারে মুসলমানদের রাজনৈতিক অবস্থানকে নিঃসন্দেহে আরো মজবুত করেছে।উম্মুল মু‘মিনীন হযরত আয়েশা (রা) কে যখন কিছু লোক সন্দেজনকভাবে অপবাদ দিলো তখন মুসলমানদেরকে শান্তনা দিয়ে আল্লাহ পাক বলেন: “তোমরা একে তোমাদের জন্য অশুভ মনে করোনা। বরং তা তোমাদের জন্য কল্যাণজনক।” (আলকুরআন) এর ষ্পষ্ট প্রমাণ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বয়কট। বিশেষতঃ হারামাইন শরীফাইনের দেশ সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় কঠোর এবং কার্যকরী পদক্ষেপ অন্যান্য মুসলিম দেশের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে। যে সকল মুসলমান এ উদ্যোগে সাড়া দিয়ে রাসূলুল্লাহর সাহায্যে এগিয়ে এসেছে আল্লাহ তাদের কাজে বরকত দান করুন। আর যারা নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভালোবাসার উপর নিজ
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৪
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×