খোতবার বাকী অংশ পড়ুন
হে নবী প্রেমিক মুসলিম উম্মাহ ,
রাসূলুল্লাহর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজ সারা মুসলিম বিেেশ্ব একই আওয়াজ উঠেছে : শুধুই তুমি হে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। জেগে উঠেছে ঝিমিয়ে পড়া মুসলিম বিবেক। আপামর মুসলিম উম্মাহ সব ধরনের উপায়-উপকরন নিয়ে রাসূলুল্লাহর সাহায্যে এগিয়ে আসছে। ‘‘দায়সারা গোছের দুঃখ প্রকাশ নয়, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই”এই শ্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে বিশ্বের মুসলিম অধ্যুষিত প্রতিটি জনপদ, মুখরিত হচ্ছে প্রতিটি রাজপথ। আর এ ধরণের ঐক্য বিশ্বের দরবারে মুসলমানদের রাজনৈতিক অবস্থানকে নিঃসন্দেহে আরো মজবুত করেছে।উম্মুল মু‘মিনীন হযরত আয়েশা (রা) কে যখন কিছু লোক সন্দেজনকভাবে অপবাদ দিলো তখন মুসলমানদেরকে শান্তনা দিয়ে আল্লাহ পাক বলেন: “তোমরা একে তোমাদের জন্য অশুভ মনে করোনা। বরং তা তোমাদের জন্য কল্যাণজনক।” (আলকুরআন) এর ষ্পষ্ট প্রমাণ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বয়কট। বিশেষতঃ হারামাইন শরীফাইনের দেশ সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় কঠোর এবং কার্যকরী পদক্ষেপ অন্যান্য মুসলিম দেশের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে। যে সকল মুসলমান এ উদ্যোগে সাড়া দিয়ে রাসূলুল্লাহর সাহায্যে এগিয়ে এসেছে আল্লাহ তাদের কাজে বরকত দান করুন। আর যারা নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভালোবাসার উপর নিজের স্ত্রী-সন্তান ও স্বীয় স্বার্থকে প্রধান্য দিয়েছে তাদের উচিত আল্লাহকে ভয় করা। সাবধান, রাসূলের পক্ষের আন্দোলনে সাড়া না দেয়ায় যদি ইলাহী কুদরাত এ সকল ব্যক্তির হাত অবস করে দেন, জবান বন্ধ করে দেন, কলমের পদস্খলন ঘটান, প্রচার মিডিয়ার কালি শুকিয়ে দেন, তবে এদের কি করার থাকবে?।
মুসলিম ভাইয়েরা, জেনে রাখুন, বিবেকবর্জিত আবেগ সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। । অগ্রসর হতে হবে ধীর-স্থীরভাবে ও সুচিন্তিত উপায়ে। কারণ আবেগ তাড়িত হয়ে কোন জান মালের ক্ষতি করা মানে আমাদের এ যৌক্তিক আন্দোলনের মূখে চুনকালি মাখানো। যেহেতু শত্র“রা হরহামেশা বলে বেড়ায় আমরা, মুসলমানরা, অস্থির জাতি। তাদের ধীর-সুস্থে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা নেই। আল্লাহর দোহাই- আবেগ নিয়ন্ত্রণ করুন। আল্লাহর দোহাই- আবেগ নিয়ন্ত্রণ করুন। উচ্ছৃংখল সব চিন্তা বাদ দিন। অলীক স্বপ্নে বিভোর হবেন না। অহেতুক মোবাইল মেসেজ পাঠাবেন না। রাসূলের সম্মান রক্ষার এ আন্দোলনের ভিত্তি হবে সঠিক আকীদা-বিশ্বাস, হেকমতপূর্ণ পন্থা, ইতিবাচক উপায় এবং সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি। তাৎক্ষণিক কোন হাঙ্গামা কখনো কল্যাণ বয়ে আনে না। বিবেক ও হৃদয় নিঃসৃত ভালোবাসা দিয়েই রাসূলল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহায্যের এ আন্দোলনে সামনে আগাতে হবে । “আমার জিহ্বা কথা বলছে, আর অশ্র“ তার নীরব বর্ণনা দিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের ইস্যুতে মানুষ অশ্র“ বণ্যায় ভেসে যায়। আমরা জানি আমাদের নবীর মর্যাদা সর্বশীর্ষে, আর তাঁর শত্র“রা অপদস্ত, লাঞ্ছিত। কিন্তু হাবীবের পক্ষ থেকে মাহবুবের জন্য অশ্র“ বিসর্জন সম্মান ও গৌরবের বিষয়।” (আরবী পংক্তির বঙ্গানুবাদ) ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন। আমাদের এ বুলি আওড়ানো কোন শোক বা নৈরাশ্যসূচক নয় বরং দৃঢ় মনোবল নিয়ে নবীপ্রেমে সিক্ত হৃদয়ের সুন্নাত অনুসরণমাত্র। আর আল্লাহ তা‘আলার কাছেই সকল অভিযোগ।
আল্লাহর বান্দারা, আল্লাহকে ভয় করো। তাঁর আনুগত্য কর ,তাঁর নিকট তওবা কর এবং ক্ষমা প্রার্থনা কর। তাঁর প্রিয় হাবীবের পক্ষ হয়ে লড়াই কর। তাঁর সম্মান সুরক্ষায় অগ্রনী ভূমিকা পালন কর।
প্রিয় ভায়েরা, আল্লাহর রাসূলের সাথে চলমান দূর্ব্যবহার দমনে মুসলিম উম্মাহ যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তা যদি ফরজ না হত তবে আল্লাহ কেন তাঁর রাসূলের অনুসরণ, তাঁকে ভালোবাসা, তাঁকে সাহায্য করা ও সম্মান করা এবং প্রতিটি নিন্দুক ও শত্র“ থেকে তাঁকে রক্ষা করা উম্মতের উপর ফরজ করেছেন?! হ্যাঁ... এ কথা সত্য আল্লাহ তাঁর হাবীবকে হেফাজত করার জন্য কোন মাখলুকের মুখাপেক্ষী নন। কিন্তু তিনি জানতে চান কারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে।
রাসূলের অনুসারীরা, আল্লাহ আপনাদের হেফাজত করুন। জেনে রাখুন, বিশৃঙ্খল কিছু দাবী-দাওয়া, আর বিক্ষিপ্ত, অনিয়ন্ত্রিত কিছু আবেগ-উচ্ছ্বাস ব্যক্ত করাই আল্লাহর রাসূলের সাহায্য নয়। কক্ষনো নয়! আমরা যদি মন্দের প্রতিবাদ তাঁর প্রদর্শিত পন্থায় না করলাম এবং সঠিক পথ না চিনলাম তবে এ আন্দোলনে কাতারবদ্ধ হওয়ার কি অর্থ? জেনে রাখুন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাহায্য করার প্রকৃত প্রকাশ ঘটে তাঁর প্রদর্শিত জীবন বিধান ও সুন্নতের অনুসরণে, তাঁর বিরুদ্ধাচারণ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে।
মুসলিম বিশ্বের শাসকর্বগ, আপনাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, আন্তরিকতার সাথে নিজেদের নবীর সাহায্যে এগিয়ে আসুন। এই ন্যাক্কারজনক ঘৃণ্য পাপাচারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ঘোষণার জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নিন। এ জন্য আপনাদের সকল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগান। আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নতকে বিচার ও শাসনের মানদন্ড হিসেবে মেনে নিন। রাসূলকে যারা ভালবাসে তাদেরকে প্রসন্নচিত্তে, হৃদ্যতা ও আন্তরিকতার চোখে দেখুন। কারন তিনিই হলেন ভালবাসা ও শত্র“তার মূল-সূত্র। তাঁর পথ অনুসরণ ব্যতীত কোন জাতি কখনই সঠিক পথ পাবে না। হোক না তাদের জীবন দর্শন যতই না অভিনব আর চিত্তাকর্ষক। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিবেকবান সকল কর্তাব্যক্তিকে সুদৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিন -এ ধরনের সীমালঘংন ও স্পর্ধার বিরুদ্ধে উচিত পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।
হে ওলামায়ে কেরাম, দায়ী ইলাল্লাহ, ছাত্র-সমাজ, আল্লাহর রাসূলের বিরুদ্ধে এ ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করুন। বিশ্বব্যপী তাঁর সুন্নাহ ছড়িয়ে দিন। বক্তৃতা, আলোচনা ও সেমিনারের মাধ্যমে রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহান জীবন-চরিত বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিন। উম্মাহকে তাঁর সঠিক অনুসরণ ও প্রকৃত ভালবাসার দিক-নির্দেশনা দিন।
স্যাটেলাইট চ্যানেলের অধিকর্তা, কলামিস্ট, বুদ্ধিজীবি ও সাংবাদিকসমাজ, এ সুযোগকে কাজে লাগান। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুমহান জীবনী-গ্রন্থ রচনা করুন অথবা অনুবাদে আত্মনিয়োগ করুন। এক গোলার্ধ থেকে অন্য গোলার্ধে রাসূলের সিরাত ছড়িয়ে দিন। বিশ্বকে জানিয়ে দিনÑতিনি ইসলামের রাসূল, তিনি শান্তির দূত। রাজাধিরাজ মহাজ্ঞানীর পক্ষ থেকে অহীর বাহক। আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য উৎসর্গ হোক। সম্মান ও মর্যাদায় তিনি মিথুন তারকাকে ও ছাড়িয়ে গেছেন। প্রশংসা ও স্তুতিতে তিনি আকাশের নক্ষত্রের উর্ধে। বই-পুস্তক, পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন, রেডিও, ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট চ্যানেল ইত্যাদি প্রচার মিডিয়ার মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিত্বের মাহাত্ম্য ও তাঁর রিসালাতের বড়ত্ব তুলে ধরুন। কম হোক আর বেশী হোক যার যা সামর্থ্য আছে তা নিয়ে দ্বীনের সৌন্দর্য্য বর্ণনায় আত্ম নিয়োগ করুন। বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিন, ইতিহাসকে দেখিয়ে দিনÑ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জীবন-চরিত ঝলমলে সূর্যের চেয়ে ও প্রদীপ্ত। আকাশের নীলিমার চেয়েও সুমহান। আমাদের আকাক্সক্ষা. আল্লাহ তাআলা আমাদের চক্ষুকে শীতল করবেন, আমাদের আত্মাকে প্রশান্ত করবেন-মুসলমানদেরকে আর্ন্তজাতিক মানের কিছু ইসলামী স্যাটেলাইট চ্যানেল চালু ৃকরার তাওফিক দেবেন। যে মিডিয়ার মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় আমাদের দ্বীনকে তুলে ধরা যাবে। বিশ্বকে বলা যাবে ‘এটা আমদের মহান দ্বীন। ইনি আমাদের মহানুভব নবী। যিনি সুমহান চরিত্রের অধিকারী।” এ জন্য প্রয়োজন হাতখোলা ব্যক্তির উচ্চকাক্সক্ষী হিম্মত।
হে সম্পদশালীরা, আল্লাহর দেয়া সম্পদ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূলের সাহায্যে ব্যয় করুন। সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের সাথে বিদ্রূপকারীদের সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার জন্য খরচ করুন।
মুসলিম বোনেরা, পর্দা, লজ্জাশীলতা, সম্ভ্রম রক্ষার মাধ্যমে আপনাদের নবীকে ও নবীর সুন্ন্াহকে সাহায্য করুন। খোলামেলা চলা, বেহায়াপনা, অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকুন। বেগানা পুরুষের সাথে মেলামেশা থেকে দূরে থাকুন। পাশ্চাত্যের কুটজালে পা দিবেন না। রাসূলের ভালবাসা ও তাঁর আনুগত্যের উপর নব প্রজন্মকে গড়ে তুলুন। রাসূলের সিরাত ও আদর্শ শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে তাদের আত্মার খোরাক দিন।
সমাপ্ত

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


