প্রথম পর্ব:
স্কুল ১ : আমরা যখন দোতালায় ছিলাম তখন আমাদের বাসার নিচতলায় একটা হিন্দু মেয়ে থাকতো, নাম মনে নাই। আমি তখন ক্লাস ওয়ানে পড়ি। মেয়েটার সাথে আমার খুব মাখামাখি ছিলো। ও সারাদিন আমার বাসায় বসে থাকতো। একসাথে খাওয়া হতো।টিভি দেখতাম, খেলতাম...মাঝে মাঝে দুপুরে একসাথে ঘুমাতাম। মেয়েটাকে কেন জানি ঐ বয়সেই আমার ভালো লেগে যায়। জানি না এটাকে কি রকম ভালো লাগা বলে! একবার মেয়েটার বাসায় গেছিলাম। একটা টুলের উপর ঠাকুরমার(আমি নিশ্চিত না) ছবি ছিলো, সামনে কিছু কাসার বাসন, আরো কিছু জিনিস আর একটা চোলকা ছাড়া কলা।অনেকদিনের পুরানো বলে কলাটা কালো ছিলো।মেয়েটা আমাকে সেই কলা হতে কিছু অংশ কেটে আমাকে খেতে বল্লো। আমি মানা করলাম। তখন সে কইলো,"না খেলে ঠাকুরমা রাগ করবে"। আমি তারপরও খাই নাই। এরপর মেয়েটার সে কি কান্না। পরে ওর মা এসে ওর কান্না থামায়। কলাটা কালো ছিলো বলেই খাইনাই, নাহলে নির্ঘাত খেয়ে ফেলতাম
স্কুল ২ : আমার এক চাচাতো বোনকে ক্লাস এইটে পড়ার সময় ভালো লেগে যায়। যদিও লম্বায় আমার চেয়ে বড় ছিলো। কিন্তু বয়সে ছিলো ছোট। সে ক্লাস সেভেনে পড়তো তখন। এরপর হঠাত করে ফ্যামিলি সহ তারা কানাডায় স্থায়ী হয়। যেদিন কানাডায় যাবে, তার আগেরদিন আমি খুব কানছিলাম। মা জিগ্গাসা করছিলো কি হইছে? আমি কইলাম, "আমার নতুন চশমা লাগবো...আমারে নতুন চশমা কিন্না দাও
স্কুল ৩ : নাইনে পড়ার সময় আরেকটা মেয়েকে ভালো লেগে যায়। আমার সাথেই এক স্কুলে পড়তো।আমরা একসাথে পড়তাম, কোচিং-এ এক রিক্সা দিয়ে যাইতাম।
কলেজ ১ : এই মেয়েটা আমাকে অনেক অনেক ভুগাইছে। এখনও ভুগায়। একে দেখেই আমি বুঝছিলাম ভালোবাসা কি জিনিস। কলেজের ২টা বছর খালি ওর পিছেই ঘুরছি। মাইয়া আমার জ্বালায় স্যারের কাছে বিচার দিছে, ফোন নাম্বার চেন্জ করছে। তাও আমি সরি নাই। উল্টা ঐ স্যারের কাছে যাইয়া কইছি আমি ওকে কতটা ভালোবাসি। এখনও ওকে সেইভাবে ভালোবাসি। এটাকেই মনে হয় প্রথম প্রেম বলে। অনেকদিন হইছে ওর সাথে কোনো যোগাযোগ নাই। রাস্তাই বের হলেই খালি ওরে খুজি।
ভার্সিটি ১ : ভার্সিটিতে উঠেই একটা মেয়ের সাথে পরিচয়। অনেক মিশুক আর ফ্রেন্ডলি মেয়ে। মেয়েটার ব্যাপরে তেমন কিছুই জানতাম না। অনেকটা সময় পার হওয়ার পর বুঝতে পারি আমি মেয়েটার প্রতি দুর্বল হয়ে গেছি। একদিন হঠাত করে জানতে পারলাম মেয়েটার বয়ফ্রেন্ড আছে। যদিও কখনও ওকে কিছু বলি নাই, তারপরও আমি চুপ হয়ে গেলাম। ১ বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। অনেক কিছুই হইছে। মেয়েটার ব্রেকআপ হয়ে গেছে। এখন সারাদিন মনমরা হয়ে পড়ে থাকে। রাতের বেলা মন খারাপ থাকলে ফোন দেয়, কথা বলে। আমিও সান্তনা দেই। প্রায় প্রতিদিন ওর সাথে আমার দেখা হয়, কথা হয়। আমি তারপরও কিছু বলি না, পাছে বন্ধুত্বটাও যদি ছুটে যায়।
ভার্সিটি ২: কলেজের মেয়েটার কথা ভাবতে ভাবতে আমি যখন মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তেছিলাম, তখনই এই মেয়েটার সাথে পরিচয়। পরিচয় থেকে ভালোলাগা, ভালোবাসা এরপর প্রেম। ৮ মাস হতে চলতেছে আমাদের সম্পর্কের। মেয়েটা আমাকে অনেক অনেক বেশী ভালোবাসে। কারো জায়গা পূরণ করতে সে আসেনি। সমস্যা হচ্ছে আমাদের সবসময় একটা না একটা ব্যাপারে ঝগড়া লেগে থাকে। সেই ঝগড়া একবার ব্রেকআপ পর্যন্ত গড়াইছিলো। সবচেয়ে বড় কথা আমি আমাদের সম্পর্কের কোনো ভবিষ্যত দেখতে পাইতেছি না। কিন্তু তাকে ছেড়ে যেতেও পারতেছি না। এটা ঠিক মেয়েটাকে একসময় খুব বেশী ভালোবাসতাম। কিন্তু সে এমন কিছু কাজ করছে যে আমার সমস্ত অনুভূতিগুলা নস্ট হয়ে গেছে। থাক, আর কিছু বলতে ইচ্ছা করতেছে না।
শেষ পর্ব:
শেষ পর্ব এখনো শুরু হয় নি। জানি না কবে হবে! অনেকের কথাই বল্লাম। এখন মনে হইতেছে এসব কথা বলার কি দরকার ছিলো। জীবন তো মাত্র শুরু। এরপর আরও কতকিছু যে দেখতে হবে! শুধু এটাই বলবো, আমার ভালোবাসা পাও নাই তো কি হইছে? আরো বেশী ভালোবাসা দেয়ার জন্য অনেক ছেলেই আছে। যাকে ভালো লাগে, যে তোমাকে বেশী ভালোবাসা দিতে পারবে তার সাথে থেকে সুখি হও। তোমরা ভালো থাকলেই আমি সবচেয়ে বেশী ভালো থাকবো।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০১৩ রাত ১০:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



