somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাঙালের জীবনে নারী বিষয়ক ব্যাপার স্যাপার (প্রথম ও শেষ পর্ব একত্রে)

১৬ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১০:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম পর্ব:

স্কুল ১ : আমরা যখন দোতালায় ছিলাম তখন আমাদের বাসার নিচতলায় একটা হিন্দু মেয়ে থাকতো, নাম মনে নাই। আমি তখন ক্লাস ওয়ানে পড়ি। মেয়েটার সাথে আমার খুব মাখামাখি ছিলো। ও সারাদিন আমার বাসায় বসে থাকতো। একসাথে খাওয়া হতো।টিভি দেখতাম, খেলতাম...মাঝে মাঝে দুপুরে একসাথে ঘুমাতাম। মেয়েটাকে কেন জানি ঐ বয়সেই আমার ভালো লেগে যায়। জানি না এটাকে কি রকম ভালো লাগা বলে! একবার মেয়েটার বাসায় গেছিলাম। একটা টুলের উপর ঠাকুরমার(আমি নিশ্চিত না) ছবি ছিলো, সামনে কিছু কাসার বাসন, আরো কিছু জিনিস আর একটা চোলকা ছাড়া কলা।অনেকদিনের পুরানো বলে কলাটা কালো ছিলো।মেয়েটা আমাকে সেই কলা হতে কিছু অংশ কেটে আমাকে খেতে বল্লো। আমি মানা করলাম। তখন সে কইলো,"না খেলে ঠাকুরমা রাগ করবে"। আমি তারপরও খাই নাই। এরপর মেয়েটার সে কি কান্না। পরে ওর মা এসে ওর কান্না থামায়। কলাটা কালো ছিলো বলেই খাইনাই, নাহলে নির্ঘাত খেয়ে ফেলতাম:P

স্কুল ২ : আমার এক চাচাতো বোনকে ক্লাস এইটে পড়ার সময় ভালো লেগে যায়। যদিও লম্বায় আমার চেয়ে বড় ছিলো। কিন্তু বয়সে ছিলো ছোট। সে ক্লাস সেভেনে পড়তো তখন। এরপর হঠাত করে ফ্যামিলি সহ তারা কানাডায় স্থায়ী হয়। যেদিন কানাডায় যাবে, তার আগেরদিন আমি খুব কানছিলাম। মা জিগ্গাসা করছিলো কি হইছে? আমি কইলাম, "আমার নতুন চশমা লাগবো...আমারে নতুন চশমা কিন্না দাও:D" মা খুব অবাক হইছিলো, কিন্তু মাকে তো আর সব কথা খুইলা কওন যায় না!;)

স্কুল ৩ : নাইনে পড়ার সময় আরেকটা মেয়েকে ভালো লেগে যায়। আমার সাথেই এক স্কুলে পড়তো।আমরা একসাথে পড়তাম, কোচিং-এ এক রিক্সা দিয়ে যাইতাম।:) মেয়ে ছিলো খুব ব্রিলিয়ান্ট। আমাকে পাত্তা দিতো না।আমি মেয়ের পাত্তা পাবার জন্য কোমড়ে গামছা বাইন্ধা পড়াশোনা শুরু করলাম। এরপর একসময় দেখি মেয়েটা পড়াশোনায় খারাপ করতেছে, আর আমি ভালো করতেছি। আমি ২০০৪ এ SSCতে যে ৫ পাইছিলাম, সেইটা অনেকটা এই মাইয়ার কারনেই। মাইয়াটা আমারে ভালা পাইতো। আমারে অনেক গল্পের বই, ক্যাসেট দিছিলো, আমিও দিছিলাম।তয় কোনো চিঠি দেয় নাই/:)। মেয়েটা বুঝতে পারছিলো যে আমি ওকে পছন্দ করি। তাই সে তার এক বান্ধবীরে দিয়া আমারে জিগাইছিলো কথা সত্যি নাকি। আমি শালা বেকুবের মতন ভাব নিয়া কইলাম, "নাহ! আমি ওরে পছন্দ করি না। ওরে লাইক করুম কেন???:D"X( এরপর আর কিছু হয় নাই। এখনও মাঝে মাঝে দেখা হয়, চোখাচুখি হয়, হাসাহাসি হয়। আর কিছু না।:|

কলেজ ১ : এই মেয়েটা আমাকে অনেক অনেক ভুগাইছে। এখনও ভুগায়। একে দেখেই আমি বুঝছিলাম ভালোবাসা কি জিনিস। কলেজের ২টা বছর খালি ওর পিছেই ঘুরছি। মাইয়া আমার জ্বালায় স্যারের কাছে বিচার দিছে, ফোন নাম্বার চেন্জ করছে। তাও আমি সরি নাই। উল্টা ঐ স্যারের কাছে যাইয়া কইছি আমি ওকে কতটা ভালোবাসি। এখনও ওকে সেইভাবে ভালোবাসি। এটাকেই মনে হয় প্রথম প্রেম বলে। অনেকদিন হইছে ওর সাথে কোনো যোগাযোগ নাই। রাস্তাই বের হলেই খালি ওরে খুজি।:| কই থাকে, কি করে কিছুই জানি না। ঐ স্যারকে জিগাইছিলাম, উনিও কিছু কইতে পারে না। অনেকজনকে জানায় রাখছি, ওকে দেখলেই যেনো আমাকে খবর দেয়। আমি যে ওরে কত ভালোবাসতাম সেইটা পুরা কলেজ জানতো, খালি ওই জানতো না। আমার নাম্বার মেয়েটার কাছে আছে। সেইটাই একমাত্র ভরসা। যদি কোনো একদিন ভুল করে হলেও একটা ফোন দেয়...

ভার্সিটি ১ : ভার্সিটিতে উঠেই একটা মেয়ের সাথে পরিচয়। অনেক মিশুক আর ফ্রেন্ডলি মেয়ে। মেয়েটার ব্যাপরে তেমন কিছুই জানতাম না। অনেকটা সময় পার হওয়ার পর বুঝতে পারি আমি মেয়েটার প্রতি দুর্বল হয়ে গেছি। একদিন হঠাত করে জানতে পারলাম মেয়েটার বয়ফ্রেন্ড আছে। যদিও কখনও ওকে কিছু বলি নাই, তারপরও আমি চুপ হয়ে গেলাম। ১ বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। অনেক কিছুই হইছে। মেয়েটার ব্রেকআপ হয়ে গেছে। এখন সারাদিন মনমরা হয়ে পড়ে থাকে। রাতের বেলা মন খারাপ থাকলে ফোন দেয়, কথা বলে। আমিও সান্তনা দেই। প্রায় প্রতিদিন ওর সাথে আমার দেখা হয়, কথা হয়। আমি তারপরও কিছু বলি না, পাছে বন্ধুত্বটাও যদি ছুটে যায়।

ভার্সিটি ২: কলেজের মেয়েটার কথা ভাবতে ভাবতে আমি যখন মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তেছিলাম, তখনই এই মেয়েটার সাথে পরিচয়। পরিচয় থেকে ভালোলাগা, ভালোবাসা এরপর প্রেম। ৮ মাস হতে চলতেছে আমাদের সম্পর্কের। মেয়েটা আমাকে অনেক অনেক বেশী ভালোবাসে। কারো জায়গা পূরণ করতে সে আসেনি। সমস্যা হচ্ছে আমাদের সবসময় একটা না একটা ব্যাপারে ঝগড়া লেগে থাকে। সেই ঝগড়া একবার ব্রেকআপ পর্যন্ত গড়াইছিলো। সবচেয়ে বড় কথা আমি আমাদের সম্পর্কের কোনো ভবিষ্যত দেখতে পাইতেছি না। কিন্তু তাকে ছেড়ে যেতেও পারতেছি না। এটা ঠিক মেয়েটাকে একসময় খুব বেশী ভালোবাসতাম। কিন্তু সে এমন কিছু কাজ করছে যে আমার সমস্ত অনুভূতিগুলা নস্ট হয়ে গেছে। থাক, আর কিছু বলতে ইচ্ছা করতেছে না।

শেষ পর্ব:

শেষ পর্ব এখনো শুরু হয় নি। জানি না কবে হবে! অনেকের কথাই বল্লাম। এখন মনে হইতেছে এসব কথা বলার কি দরকার ছিলো। জীবন তো মাত্র শুরু। এরপর আরও কতকিছু যে দেখতে হবে! শুধু এটাই বলবো, আমার ভালোবাসা পাও নাই তো কি হইছে? আরো বেশী ভালোবাসা দেয়ার জন্য অনেক ছেলেই আছে। যাকে ভালো লাগে, যে তোমাকে বেশী ভালোবাসা দিতে পারবে তার সাথে থেকে সুখি হও। তোমরা ভালো থাকলেই আমি সবচেয়ে বেশী ভালো থাকবো।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০১৩ রাত ১০:৩২
২২টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×