somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্মের প্রতি আমার আগ্রহ নাই যে কারনে

১৮ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নামের শুরুতে মোহাম্মদ, তিরিশটা রোজা রাখা এবং প্রতি জুমায় মসজিদে যাওয়া সত্বেও ধর্মের প্রতি আমি কোনো আগ্রহ খুজে পাই না।

মনে আছে, ছোটবেলায় যখন হুজুরের কাছে পড়তাম, ফ্যানের প্রচন্ড বাতাসে সবগুলা বইয়ের পাতা উল্টাইলেও একমাত্র আমপারার কোনো পাতাই উল্টাইতে পারতো না। আমি হুজুরকে জিজ্ঞাসা করলাম, সব বইয়ের পাতা বাতাসে উল্টাইতে উল্টাইতে বইও উল্টায় যাইতেছে কিন্তু আমপারাটা উল্টায় না কেন? হুজুর বল্লো,"এটা আল্লাহর বই। এখানে আরবী হরফ আছে। সব বই এর সাথে তো এর তুলনা চলে না।" আল্লাহর এই অসীম লীলা দেখে ছোটোবেলায় বিমোহিত হয়েছিলাম।

বাইরে খেলা কম করতাম বলে ঘরে বসে টিভি দেখাটাই আমার জন্য একটা বিনোদন ছিলো।আরেক হুজুর এসে দেখতো আমি সবসময় টিভি নিয়ে থাকি।উনি আমাকে বল্লেন, "এক লোক সারাদিন টিভি দেখতো। এরপর একদিন সে মারা গেলো।তার বন্ধু তাকে কবর দিয়ে আসার সময় তার মনে হলো তার পাসপোর্টটা কবরে ফেলে এসেছে।তো সে আবার কবর খুড়লো আর দেখলো ঐ টিভিপাগল লোকটা কবরে শুয়ে আছে আর তার দুচোখে দুইটা গরম জলন্ত লোহার শিক"। আমি এরপর টিভি দেখা কমায় দিয়ে নামাজ রোজা শুরু করলাম।

আস্তে আস্তে দেখলাম সব বইয়ের পাতা বামদিকে উল্টাতে হয়, কিন্তু যাবতীয় আরবি বইগুলোর পাতা ডানদিকে উল্টায় পড়তে হয়।ফ্যানের বাতাস একটা নির্দিষ্ট কোণে সব বইয়ের উপর পরছিলো, উল্টা হওয়ায় শুধু আমপারাটাই উল্টায় নাই। ফ্যানের বাতাস ঠিক বিপরীত দিক থেকে আসলে শুধু আমপারাটাই উল্টাইতো।

"কবরের আজাব" এই ছিনেমাটার কথা আমরা সবাই জানি, ভয় দেখিয়ে ধর্মের দিকে টানার একটা উপায় হিসাবে এটা বানানো হইছে।

আমি বুঝি না, যেই ধর্মের অধীনে কোরআন শরীফের মত একটা বই আছে, যাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য এক সুন্দর ইতিহাস আছে, তারা কেনো গাছপালার রুকু-সেজদার ছবি দেখিয়ে মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেয়? খ্রিস্টানদের টাকা আছে, তাই তারা টাকা দিয়ে খ্রিস্টান বানায়। আগে যারা দাওয়াত দিতো তারা কি আগুনে কোরান পুড়ে না বা মাছের পেটে আল্লাহর নাম - এইসব বলে মানুষকে ইসলামের পথে আনতো?

ধর্মের নামে মাজার, মাসে মাসে সেখানে টাকা দেয়া, না দিলে উপরওয়ালা নাখোশ হবে, ধর্মের ভয় দেখিয়ে ফতোয়া দেয়া চলছেই। সাথে আছে কোরানের লাইনগুলার ভূল বা নিজের মনমত অনুবাদ করে জিহাদের নামে বোমাবাজি। আর রাজনীতিতে ধর্মের নামে যে বাটপারি চলে তা আর নতুন করে কি বলবো? প্রতিটা দল এই জিনিসটাকে ব্যাবহার করে ক্ষমতায় যেতে চায়।

কয়েকদিন আগে চট্রগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের দশম শ্রেণীর ইসলাম ধর্মের একটা প্রশ্ন দেখলাম। বর্তমান শিক্ষা ব্যাবস্থায় সৃজনশীল প্রশ্নের আলোকে করা।

"নাফিজ এবং সুমন সিদ্ধান্ত নিলো যে ১লা বৈশাখে তারা ধুতি ও কপালে তিলক পড়বে। হৃদি ও শবনম লাল শাড়ীর সাথে কপালে মানানসই টিপ পড়বে। তারা সারাদিন ডিসি হিলে সময় কাটাবে।তাদের প্রত্যেকের পিতামাতা মুসলিম এবং তারাও নিজেকে মুসলিম হিসাবে পরিচয় দেয়।"

এই অনুচ্ছেদটি পড়ার পর নিম্নের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে বলা হয়,
১) মুসলিম হওয়া সত্বেও তাদের এই ধরনের কাজ করার মূল কারন কি?
২) মুসলমানগন কিভাবে এই ধরনের কাজ থেকে নিজেদের বিরত রাখতে পারে?
৩) কুফরের পরিনতি বর্ণনা কর।



দশম শ্রেনীর বইতে আছে, আল্লাহ পাকের অস্তিত্ব অবিশ্বাস/অস্বীকার করা হলো কুফর। ইচ্ছা করে ক্রুশ,পৈতা পড়াও কুফর। কিন্তু কপালে টিপ দিয়ে শাড়ি পরলে কি আল্লাহকে অবিশ্বাস করা হয়?তার মানে শাড়ি বা ধুতি পড়া অমুসলিমদের কাজ?ধুতি হিন্দুরা পড়ে বলে আমরা পড়তে পারবো না? খ্রিস্টানরা কিন্তু শার্ট-প্যান্ট পড়ে! আমরা কি স্কুলের বাচ্চাদের এগুলাই শিখাইতেছি?

আমি এমন এক স্কুলে পড়ছি যেখানে টুপি মাথায় দিয়ে যেতে হত, দুপুরে নামাজ পড়া লাগতো, আরবী কবিতা এমনকি আরবী ব্যাকরণ মুখস্ত করা লাগতো।এখন ভার্সিটিতে পড়ি আর ভাবি, হয়তো কোনোদিন ঐ ব্যাকরণ বা কবিতাগুলা কোনো না কোনো কাজে আসবে।

এরচেয়ে কোরানের বাংলা একটু একটু করে সম্পূর্নটা শিখতে পারলেও কাজে দিত।

হয়তো ভাবতে পারেন, ইসলামের প্রতি আমার এত ক্ষোভ কেনো? আমি বলবো, কোনো ধর্মের প্রতিই আমার কোনো ক্ষোভ নাই। কোনো ধর্মই বলে না খারাপ কাজ করতে। কিন্তু ধর্মের অবৈধ ব্যাবহার আমাকে এর প্রতি বিতৃষ্ণ করে তুলে।

আমার কাছে তাই বাচাঁর জন্য ধর্ম লাগে না, আমি ভালো তো সব ভালো।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:৫০
৬৫টি মন্তব্য ৬১টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×