ভারতে নাকি খাদ্যশস্য রপ্তানির উপর নিষেধ আছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে ৩ লাখ টন চাল আর ২ লাখ টন গম রপ্তানি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
আহা! কত মহানুভব দেশের পাশে আমরা বাস করি।আসেন সবাই ভারতের পায়ে পইড়া সিজদা দেই। ভাত্রৃত্বের এই নিদর্শন খোদ অ্যামেরিকার পা-চাটা ইংল্যান্ডের মাঝেও বিরল।
ভারতের সাবেক ও বর্তমান মিলে অন্তত তিনজন প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্য বৈষম্য কমানোর মৌখিক ও লিখিত আশ্বাস আজ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। ড. মনমোহন সিংয়ের প্রথম মেয়াদে ভারত যে বাংলাদেশ থেকে ৮৫ লাখ পিস তৈরি পোশাক আমদানির ওয়াদা করেছিল, তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
ভারত থেকে টাকা দিয়ে আমদানী করা চাল-ডাল গুলা বেশিরভাগ সময়ই পোকায় খাওয়া হয়। পেপারে এসবের ছবি দেখে ঘিন্নায় গায়ের লোম দাড়িয়ে যায়। আর সেই খাদ্যের অযোগ্য চাল-গম আমরা টাকা দিয়ে কিনি আর ভারতের সাথে সম্প্রীতি বাড়াই।
কপালটা কত বড় খারাপ হইলে ভারতের মত একটা ুতমারানী দেশকে প্রতিবেশী হিসাবে পাই যারা কিনা মন চাইলে বর্ডারের হাবিলদার টাইপের লোক নিয়ে বাংলাদেশের জয়ীন্তা সীমান্তে ঢুকে হাওর থেকে মাছ চুরি করে নিয়ে যায়।
আগে মাছ চুরি করতো, আর এখন শুনি ৫টা বাচ্চাকেও ধরে নিয়ে গেছে টেরোরিজমের জন্য। সবচেয়ে বড়টার বয়স ১৫। ফেরত দেয়ার নাম নাই।
যাই হোক, গরীবের বাচ্চা। আল্লাহ নিছে, আল্লাহই ফেরত দিয়া যাইবো। এসব ছোটোখাটো ব্যাপারে কথা না বলি।
সাত হাজার কোটি টাকার এই চুক্তিতে ভারতের সবচেয়ে বেশী লাভ সেটা কোনো সন্দেহ নাই। নেপাল, ভূটান আর উত্তর-পূর্ব ভারতে সহজে মাল পরিবহনের জন্য বাংলাদেশের রাস্তা ব্যাবহার করাটা খুবই লাভজনক হবে। ভারত এটা অনেক আগে থেকেই চাচ্ছিলো। আমরা এই সুযোগে ভারতকে চিপায় ফেলে হয়তো কিছু দাবী-দাওয়া পেশ করতাম। বর্ডারের সমস্যা, তিস্তা নদীর পানিবণ্টনের চুক্তি আর ভারতে শুল্কজনিত সমস্যা দূর করে আমাদের পন্য রপ্তানী। সবগুলা না হোক, ভারত হয়তো কয়েকটা দাবী মানতেও পারতো।
কিন্তু কোথা থেকে কি হয়ে গেলো। আমাদের সরকার কোন বেকুবগুলা চালায় বুঝলাম না। আওয়ামী সমর্থক হয়েও আজকে মেজাজ চুড়ান্ত রকমের খারাপ। দাবী পেশ করা তো দূরের কথা, উল্টা আরো শর্ত মাথায় নিয়ে এই ঋণের বোঝা নিয়ে নিলো।
এক ব্লগার বল্লো, ভারত অনেক আগে থেকে আমাদের ুদার সিস্টেম করে রাখছে। ওদের সাথে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কটাই এরকম ুদাুদির। দাদারা ভরবে, আর আমরা "আহা আহা! সম্পর্ক জোড়দার হচ্ছে" বলে োয়া আরো বাড়িয়ে ধরবো। এই চুক্তিটা সেই "সম্পর্ক"কে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।
কোনো সন্দেহ নাই এই ঋণ বাংলাদেশ শোধ করতে পারবে না। এবং এটাকে একটা পলিটিকাল ইস্যু হিসাবে দুই দলই ব্যাবহার করবে। কিন্তু ২০ বছর পর ভারত কি করবে সেটাই দেখার বিষয়। তখন বর্ডার ক্রস করে রাজধানীতে ঢুকে বিএসএফ যদি মৌজ-মাস্তির জন্য শেখ হাসিনার সুন্দরী নাতনী কে ধরে নিয়ে যায়, কারই কিছু করার থাকবে না।
আমি ভারতের দান এই পোকায় খাওয়া চাল-গম খেয়ে, ভারতের শোকর করতে করতে আরো ২০ বছর বাচতে চাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

