somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দি উইন্ড উইল কেরি আস( মুভি রিভিউ)

২৪ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


Oh you who are so verdant
Place your hands like a burning memory in my hands.
And leave your lips that are warm with life
To the loving caresses of my lips.
The wind will carry us away,
The wind will carry us away.

সিনেমা দেখা শিখলাম।প্রথমে কিছু না বুইজাই দেখা শুরু করসিলাম। বোরিং লাগতেসিল।একটু পর পর ঘুম পাইতেসিল।এক বড় ভাইকে , যিনি কিনা এই সিনেমা সম্পর্কে উচ্ছসিত প্রশংসা করসিলেন, ফোন দিলাম।" ভাই, এইটা কি সিনেমা ?? কি দেখুম এইটাতে??"
উনি ফরমাইলেন," এই সিনেমা দেখার আগে প্রিপারেসন নিতে হবে। আগে সিনেমা সম্পর্কে জানতে হবে। থিম কি বুজতে হবে।"
মাথা আউলাই গেল। আরে কয় কি?? জীবনে কোন সিনেমা প্রিপারেসন নিয়া দেখি নাই।এখন কি তাই করতে হইব?? মাথার নাট বলটু কি ঢিলা হইয়া গেলনি??

অল্প বিস্তর প্রিপারেসন নিয়া সিনেমা আবার দেখতে বসলাম।।
আরেব্বাস, সবকিছু যেন ক্লিয়ার হইয়া আসতে লাগলো,বুজলাম কাব্যিক সিনেমা। সিনেমার পরতে পরতে লুকিয়ে আসে কবিতা, গল্প, জীবন দর্শন।

নামকরন দিয়া শুরু করি, 'দি উইন্ড উইল কেরি আস'

পোস্টের শুরুতে যে কবিতার উল্লেখ করসি, সেখান থাইকা নেওয়া।কবি ফোরো ফারুখজাদ।সমসাময়িক ইরানি মহিলা কবিদের মধ্যে উনি সব চেয়ে জনপ্রিয়। যদিও অল্প বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেসেন কিন্তু উনার কবিতার মধ্যে বাইচা থাকবেন অনেকদিন সিউর।

সিনেমার ক্যাটাগরি ড্রামা, কিন্তু আমি মনে করি এই সিনেমা কোন ক্যাটাগরিতে ফালান মুশকিল, কেউ কেউ আর্ট ফিল্ম বলতে চাইসেন।ড্রামা বলার চেয়ে ওইটা বেশী সঠিক বইলাই মনে হয়।

সিনেমার পরিচালক, আব্বাস কিওরুস্তোমি, ইরানি হেভি ওয়েট পরিচালকদের অন্যতম।১৯৯৯ সালে সিনেমাটি মুক্তি পাইসে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এ। গোল্ডেন লায়ন এর জন্য মনোনীত হইলেও, স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড সিল্ভার লায়ন পায়।

তো জনাব আব্বাস, সিনেমাতে কি বুঝাতে চাইসেন,কি বক্তব্য, কি সমাচার, এগুলা আমি ২য় বার দেখলাম এবং আমার মতো কইরা বুইজা নিলাম।


সিনেমার ঘটনাস্থল সম্পর্কে কিসু কথা বইলা নেই।
কুর্দি সম্প্রদায়, ইরাক, ইরান, সিরিয়া, তুরস্ক, আজারবাইজান ইত্যাদি দেশে তাদের বাস। সময়ে সময়ে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব চাইলেও তারা কখনই সেটা পরাপুরি পায় নাই।তো এই সিনেমার কাহিনী ইরানের কুর্দি অধ্যুষিত পার্বত্য এলাকার এক প্রত্যন্ত গ্রাম।আধুনিকতার কোন বালাই সেখানে নাই।

তো কি আছে সেখানে??

পাহাড়ের কোলে নয়নাভিরাম এক গ্রাম,গ্রামের সহজ সরল মানুষ, যাদের জীবনে শহুরে কোন জটিলতা নাই।আছে ছবির মতো মাঠ, মাটির রাস্তা, ফসলের ক্ষেত,ছোট নদী। আছে গাঁয়ের স্কুল, কিচির মিচির করতে করতে আসা যাওয়া করা শিশু কিশোর ছাত্র।ঘর বাড়ী সব মাটির তৈরি।গাঁয়ের লোকজন মাঠে কাজ করে।মহিলারা ঘর সংসার সামলায়। এইতো
চির শান্তির গ্রাম আর কি।

সেই গ্রামে একদিন কয়েকজন শহুরে লোক আসলো। তাদের উদ্দেশ্য খুব সূক্ষ্ম ভাবে গোপন রাখা হইসে বলা যায়। মূল চরিত্র একজন ইঞ্জিনিয়ার, এবং উনার ২ বন্ধু।কেউ কেউ বলল উনারা সাংবাদিক, কেউ বলল, উনারা প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার কাজে আসছে।

আধুনিক বিশ্বের সাথে তাদের যোগাযোগের এক মাত্র উপায় একটা সেল ফোন।সিনেমায় কখনই অপর প্রান্তের কথা শুনানো হয় না, সুতরাং দর্শকদের এখানে নিজ দায়িত্তে বুঝে নিতে হবে অনেক কিছু।আমি এবং বেশির ভাগ লোকজন যা বুজল, সেটা হল, এক বৃদ্ধার মৃত্যু আসন্ন জেনে, শহর থেকে ওই তিন ব্যাক্তি আসছে, কুর্দি লোকজন কীভাবে মৃতদেহের সতকার করে তার উপর একটা ডকুমেন্টারি বানানোর জন্য।

যাইহোক, এখন ওই বৃদ্ধার মৃত্যু না হয়া পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করতে হবে।তো সেই অপেক্ষার সময়ে সেই ইঞ্জিনিয়ার গ্রামের জীবন খুব কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ করল।
সে তার সকল ব্যস্ততা, অবসাদ, শহুরে আরাম আয়েশ এর কথা ভুলে, গ্রামের দৈনন্দিন অনাড়ম্বর জীবনের কাছে নিজেকে সমর্পণ করল।

ঠিক এই জায়গা থেকে সিনেমাটি কাব্যিক এক রুপে দর্শকের কাছে ধরা দেয়।
সেল ফোনে কথা বলার জন্য বার বার একই রাস্তা দিয়ে উচু পাহাড়ে যাওয়া,গ্রামের মহিলার কাপড় শুকানো, আদিগন্ত বিস্তৃত সোনালী ফসলের ক্ষেতে বয়ে যাওয়া বাতাস,সিনেমার ফ্রেমে গৃহপালিত মোরগ মুরগীর ঘোরাফেরা, কবিতার মতই মনে হয়।

কারো ভেতর কোন তাড়া নেই।ইঞ্জিনিয়ার এর মতো সবাই যেন অপেক্ষা করছে তাদের নিয়তির জন্য।

এক পর্যায়ে ইঞ্জিনিয়ার দুধ কেনার জন্য এক বাড়ীতে যায়, সেখানে সেলারে এক তরুণীর সাথে তার আলাপ হয়,সে তাকে জিজ্ঞেস করে এই কবিতা শুনসে কিনা? বুঝা যায় এই কবিতাই সিনেমার সারাংশ

In my small night, alas,
The wind has an appointment with the trees,
In my small night there is fear of devastation.

Listen. Do you hear the dark wind whispering?
I look upon this bliss with alien eyes I am addicted to my sorrow Listen. Do you hear the dark wind whispering?

Now something is happening in the night
The moon is red and agitated
And the roof may cave in at any moment.

The clouds have gathered like a bunch of mourners
And seem to be waiting for the moment of rain.

A moment And after it, nothing.
Beyond this window the night trembles
And the earth Will no longer turn.
Beyond this window an enigma worries for you and for me.

Oh you who are so verdant
Place your hands like a burning memory in my hands.
And leave your lips that are warm with life
To the loving caresses of my lips.
The wind will carry us away,
The wind will carry us away.

তো এই যে দুই জগতের, দুই সত্ত্বার যে উপলব্ধি, জীবনের নতুন মাত্রা , সবকিসুর পর ইঞ্জিনিয়ার তার মূল উদ্দেশ্যের মাঝে এর কোন মজা পায় না। যখন ওই বৃদ্ধা মারা যায় তখন সে গাড়ীতে করে ফেরত আসতে চায়।
সে দেখতে পায় তার গাড়ীতে ওই পাহাড়ের কবর থেকে পাওয়া একটা মানুষের হাড়।তখন সে একটা নালার পাশে গাড়ী দাড় করায়। হাড় টা পানিতে ছুড়ে ফেলে। এটা কি তার নিয়তির কাছে আত্মসমর্পণ কিনা জানিনা।

পানিতে করে যখন সেই হাড় ভেসে যায় তখন মনে হয়, এটাই জীবন, এটাই নিয়তি, এটাই সত্য।মানুষ এবং সভ্যতা এভাবেই চলছে, চলবে

The wind will carry us away,
The wind will carry us away.

ডাউনলোড লিংক
http://thepiratebay.org/torrent/3696427
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১:৪০
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×