somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ওবামা বিষয়ক সংবাদ

০৮ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাইল একটা ঘটনা দেইখা ফালাইছি। ঘটনাডা আমার দেখার কতা ছিল না। দেখার কতা যে ছিল না তাও না। কারণ দেখছি যহন তহন কেমনে কই আমার দেখার কতা ছিল না। আর যে যায়গায় ঘটনাডা ঘটছে ওই ফুটপাতের ওপর দিয়া আমি অহরহই যাই আসি। ওইহানে কোন ঘটনা ঘটলে আমি যদি দেইখা ফালাই তাতে অবাক হওনের কি আছে। আমিওতো কত কিছু করি ওই পুটপাথ ধইরা হাইটা যাওনের সময়। থুথু ফালাই, বিড়ি টানি, মাঝে মাঝে এর-ওর লগে দেহা অইলে খাড়ায়া কতা কই, সেই কতায় তামাম বিশ্বি আইসা হাজির অয়। পাশ দিয়ে কেউ হাইটা গেলে ধাক্কা খাইলে সরি কই। তো ওই ফুটপাতে কিছু ঘটলে তাতো আমার দেহারই কতা। কিন্তু ঘটনাডা এমুনই যে মনে অয় এইডা দেহাডাই একটা সৌভাগ্য। নাওতো দেখতে পারতাম। অই সময় আমি অন্যকোন জায়গায়ওতো থাকতে পারতাম। কসমেটিক্স মাইখা টিভির নায়িকারা কি সুন্দর সুন্দর হাসি আর প্রেমের কতা কয় তাওতো দেখতে পারতাম। আর নইলে নতুন মন্ত্রীরা আইছে দেশে তারা কে কি কয়, সামনে কে কি করবো তার খোঁজখবরওতো নিতে পারতাম। এসব না কইরা ওই সময়ে ফুটপাতে যাওনের কারণ কি এইডাই যে ঘটনাডা আমারে টানছে। আর ওই টানেই আমি ঠিক সময়ে যায়া ওই ফুটপাতে হাজির ওইছি। তাইতো কইলাম ওই ঘটনা আমি নাওতো দেখতে পারতাম। এই জগতে কতো ঘটনা ঘটে, কেউ দেখে কেউ দেখে না তাতে ঘটনার কি যায় আসে নাকি যারা ঘটনা ঘটায় অগো কিছু যায় আসে। কতো ঘটনা আছে যার কোন স্বাক্ষী নাই। আমার ঘটনাডাও এমন। যারা করছে অরা, আমি আর আমার এক বন্ধু ছাড়া কেউ স্বাক্ষী নাই।

ওই ফুটপাতে ধইরা আমার বাসার দিকে যাওনের সময় হাতের ডান পাশে একটা চিকন ড্রেন পড়ে, কালা ড্রেনের পানি রাইতের আন্ধাররে আরো কালা কইরা দেয়। ড্রেন ঘেঁইষা কাগো বাড়ির দেয়াল খাড়ায়া আছে। ওই দেয়ালে আবার দৈনিক পত্রিকা সাঁটানো থাকে। ওই কমদামি প্রত্রিকাগুলা আরকি, নামধাম মনে নাই। ওই জায়গাডা ওইতাছে বাস কন্ডাকটারগো আড্ডা মারনের জায়গা। একপাশে কিছু ঠেলাগাড়ি দাঁড়ায়া থাহে, রিক্সা আর বাসও থাহে, ওইহানে বইসা অরা গাঞ্জা-গুঞ্জা খায়, গান গায়, সন্ধ্যা হইলে দেয়াল ঘেঁইসা মুতে। গালি গালাজ করে প্যাসেঞ্জারগোরে-খালেদারে-হাসিনারে, গত কয়েকদিন ধইরা বুশরেও গাইলাইতাছে। তো ওই দিক দিয়া হাঁইটা যাওনের সময় গাঞ্জার গন্ধ আমারও নাকে আসে। দেহি কয়েকটা মাইনষের শরীর উদাম-নিথর পইড়া আছে ঠেলা গাড়ির উপরে। অরা কি যেন ভাবে আর গতর চুলকায়। মাঝে মাঝে গানও শুনি। মুতের গন্ধ ভাসে বাতাসে। সন্ধ্যা হইলে অরা মনে অয় ওই জায়গার দখল নেয়। সারাদিন খাইটা খুইটা একটু জিরায়। বাড়ির কতা বউয়ের কতা চিন্তা করে মনে অয়। কারণ মাঝে মাঝে ওই দিক দিয়া হাঁইটা গেলে দীর্ঘশ্বাসের গন্ধও পাই আমি। অরা দেয়ালে লাগানো পত্রিকা পড়ে। একজন পইড়া আরেকজনরে শোনায়, হাসে, দাঁত কড়িমিড় করে, জিহ্বা দিয়া ঠোঁট চাটে, আমি দেখছি। যেদিন পত্রিকা দেয় না ওইদিন পত্রিকার মালিকরে, মালিকের বউরে গাইলায়। প্রতিদিনই পত্রিকা ছিঁইড়া কুটি কুটি। বড় বুকের কোন নায়িকার ছবি থাকলে তা কয়েকদিন অগো পকেটে পকেটে ঘোরে।

ঘটনা না কইয়া এইসব কইতাছি কারণ খালি ঘটনা কইলে তো বিশ্বাস করবেন না। আর কোন জায়গায় ঘটনাডা ঘটছে তা না জানলে খালি ঘটনা শুনলে কেমন অয়, হাইসাই উড়ায়া দিবেন, কইবেন মিছা কতা কইতাছি। তাছাড়া ঘটনা যদি ফল হয় তাইলে তার জন্য একটা গাছ লাগে। নইলে ফলেও বিশ্বাস নাই। তো ঘটনার দিন, মানে গত কাইল, গত কাইল-ই তো, হ গত কাইল নাকি তার আগের দিন, তয় আইজ না আইজকার ঘটনা এইডা না। ঘটনার দিন আমার এক বন্ধু আইলো সইন্ধ্যার পর। অর লগে আড্ডা দিলাম। দেশের কতা, বিদেশের কতা কতো কিছু কইলাম। গাজায় ছয়শো-সাতশো মানুষ মইরা গেল, হায় সভ্যতা, বুশ শালা কি করে। ওবামা নাকি উদ্বিগ্ন কারণ গাজায় বহুত মানুষ মরতাছে। যাই হোক দেশ থেকে বিদেশে আসলাম। জিনিসের দাম, রাজাকার কতো কিছু নিয়া কতা কইলাম। শেষে বন্ধু যহন কইলো চল একটু হাঁইটা যাইগা তহনই অরে লইয়া ওই ফুটপাথে উঠলাম।

ওই সময় ধরেন রাইত দশটার বেশি। লোকজন কম, সব মনে অয় নতুন মন্ত্রীগো হাতে-পাছায় নিজের ভবিষ্যৎ গুনতাছে। আর ফুটপাতের ড্রেনে অন্ধকার কি ঘন-কালা পানিতে লাইটের আলো চিকচিকায়। দুইজন না তিন জন মানুষ আমগোরে ক্রস কইরা গেল, সাথে একটা মহিলা। ঠেলা গাড়ির উপরে শুইয়া আছে ওরা, একজন বিজলি না চুমকিরে নিয়া গান গাইতেছিল। আমার বন্ধু কয় দাঁড়া আরেকটা বিড়ি খাই। বিড়ি ধরায়া ড্রেন ঘেঁইসা খাড়াইলাম। আর যেহানে খাড়াইলাম ওই জায়গাতেই ঘটলো ঘটনাডা। যে পত্রিকার কথা কইছিলাম না, পত্রিকাডা দেখলাম ছিড়া ফাইড়া দেয়ালের পাশেই ফালায়া রাখছে। পত্রিকা যেহানে লাগায় ওই বরাবর একটা লাইট আছে, তার আলোয় পত্রিকার লিখাগুলা পড়া যায়। ওই জায়গায় কাউরে আগে মুততে দেহি নাই। আইজ দেখলাম দুইডা পোলারে। নিশ্চিত বাসের কন্ডাকটার। গায়ে কালি-ঝুলি লাগা পোশাক। একজন বরাবর পত্রিকার উপরেই, আরেকজন একটু বুঝের আছে সে পত্রিকার উপরে না কইরা পাশেই কাম সারতাছে আর পাশের জনরে ধমকাইতাছে, ওই ব্যটা পত্রিকার উপরে মুতচ ক্যান গুনা অইব না। গুনার ভয়েও তার লগেরটার কোন বিকার নাই, বরংচ অনেক উৎসাহ নিয়া বেগ বাড়ায়া দেয়। হাসতে হাসতে কয়, ডিস্টাব দিছনা তো ওবামার উপরে মুততাছি। আমরা চমকায়া তাকাই তার দিকে, প্রচন্ড বেগে বাইর হওয়া জলধারা ফলো কইরা দেহি যে জায়গায় পইড়া ছেরছের শব্দ ওইতাছে ওইহানে লেহা আছে-
শান্তিতে নোবেল পেলেন ওবামা।


সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৩৬
২২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×