ওই ফুটপাতে ধইরা আমার বাসার দিকে যাওনের সময় হাতের ডান পাশে একটা চিকন ড্রেন পড়ে, কালা ড্রেনের পানি রাইতের আন্ধাররে আরো কালা কইরা দেয়। ড্রেন ঘেঁইষা কাগো বাড়ির দেয়াল খাড়ায়া আছে। ওই দেয়ালে আবার দৈনিক পত্রিকা সাঁটানো থাকে। ওই কমদামি প্রত্রিকাগুলা আরকি, নামধাম মনে নাই। ওই জায়গাডা ওইতাছে বাস কন্ডাকটারগো আড্ডা মারনের জায়গা। একপাশে কিছু ঠেলাগাড়ি দাঁড়ায়া থাহে, রিক্সা আর বাসও থাহে, ওইহানে বইসা অরা গাঞ্জা-গুঞ্জা খায়, গান গায়, সন্ধ্যা হইলে দেয়াল ঘেঁইসা মুতে। গালি গালাজ করে প্যাসেঞ্জারগোরে-খালেদারে-হাসিনারে, গত কয়েকদিন ধইরা বুশরেও গাইলাইতাছে। তো ওই দিক দিয়া হাঁইটা যাওনের সময় গাঞ্জার গন্ধ আমারও নাকে আসে। দেহি কয়েকটা মাইনষের শরীর উদাম-নিথর পইড়া আছে ঠেলা গাড়ির উপরে। অরা কি যেন ভাবে আর গতর চুলকায়। মাঝে মাঝে গানও শুনি। মুতের গন্ধ ভাসে বাতাসে। সন্ধ্যা হইলে অরা মনে অয় ওই জায়গার দখল নেয়। সারাদিন খাইটা খুইটা একটু জিরায়। বাড়ির কতা বউয়ের কতা চিন্তা করে মনে অয়। কারণ মাঝে মাঝে ওই দিক দিয়া হাঁইটা গেলে দীর্ঘশ্বাসের গন্ধও পাই আমি। অরা দেয়ালে লাগানো পত্রিকা পড়ে। একজন পইড়া আরেকজনরে শোনায়, হাসে, দাঁত কড়িমিড় করে, জিহ্বা দিয়া ঠোঁট চাটে, আমি দেখছি। যেদিন পত্রিকা দেয় না ওইদিন পত্রিকার মালিকরে, মালিকের বউরে গাইলায়। প্রতিদিনই পত্রিকা ছিঁইড়া কুটি কুটি। বড় বুকের কোন নায়িকার ছবি থাকলে তা কয়েকদিন অগো পকেটে পকেটে ঘোরে।
ঘটনা না কইয়া এইসব কইতাছি কারণ খালি ঘটনা কইলে তো বিশ্বাস করবেন না। আর কোন জায়গায় ঘটনাডা ঘটছে তা না জানলে খালি ঘটনা শুনলে কেমন অয়, হাইসাই উড়ায়া দিবেন, কইবেন মিছা কতা কইতাছি। তাছাড়া ঘটনা যদি ফল হয় তাইলে তার জন্য একটা গাছ লাগে। নইলে ফলেও বিশ্বাস নাই। তো ঘটনার দিন, মানে গত কাইল, গত কাইল-ই তো, হ গত কাইল নাকি তার আগের দিন, তয় আইজ না আইজকার ঘটনা এইডা না। ঘটনার দিন আমার এক বন্ধু আইলো সইন্ধ্যার পর। অর লগে আড্ডা দিলাম। দেশের কতা, বিদেশের কতা কতো কিছু কইলাম। গাজায় ছয়শো-সাতশো মানুষ মইরা গেল, হায় সভ্যতা, বুশ শালা কি করে। ওবামা নাকি উদ্বিগ্ন কারণ গাজায় বহুত মানুষ মরতাছে। যাই হোক দেশ থেকে বিদেশে আসলাম। জিনিসের দাম, রাজাকার কতো কিছু নিয়া কতা কইলাম। শেষে বন্ধু যহন কইলো চল একটু হাঁইটা যাইগা তহনই অরে লইয়া ওই ফুটপাথে উঠলাম।
ওই সময় ধরেন রাইত দশটার বেশি। লোকজন কম, সব মনে অয় নতুন মন্ত্রীগো হাতে-পাছায় নিজের ভবিষ্যৎ গুনতাছে। আর ফুটপাতের ড্রেনে অন্ধকার কি ঘন-কালা পানিতে লাইটের আলো চিকচিকায়। দুইজন না তিন জন মানুষ আমগোরে ক্রস কইরা গেল, সাথে একটা মহিলা। ঠেলা গাড়ির উপরে শুইয়া আছে ওরা, একজন বিজলি না চুমকিরে নিয়া গান গাইতেছিল। আমার বন্ধু কয় দাঁড়া আরেকটা বিড়ি খাই। বিড়ি ধরায়া ড্রেন ঘেঁইসা খাড়াইলাম। আর যেহানে খাড়াইলাম ওই জায়গাতেই ঘটলো ঘটনাডা। যে পত্রিকার কথা কইছিলাম না, পত্রিকাডা দেখলাম ছিড়া ফাইড়া দেয়ালের পাশেই ফালায়া রাখছে। পত্রিকা যেহানে লাগায় ওই বরাবর একটা লাইট আছে, তার আলোয় পত্রিকার লিখাগুলা পড়া যায়। ওই জায়গায় কাউরে আগে মুততে দেহি নাই। আইজ দেখলাম দুইডা পোলারে। নিশ্চিত বাসের কন্ডাকটার। গায়ে কালি-ঝুলি লাগা পোশাক। একজন বরাবর পত্রিকার উপরেই, আরেকজন একটু বুঝের আছে সে পত্রিকার উপরে না কইরা পাশেই কাম সারতাছে আর পাশের জনরে ধমকাইতাছে, ওই ব্যটা পত্রিকার উপরে মুতচ ক্যান গুনা অইব না। গুনার ভয়েও তার লগেরটার কোন বিকার নাই, বরংচ অনেক উৎসাহ নিয়া বেগ বাড়ায়া দেয়। হাসতে হাসতে কয়, ডিস্টাব দিছনা তো ওবামার উপরে মুততাছি। আমরা চমকায়া তাকাই তার দিকে, প্রচন্ড বেগে বাইর হওয়া জলধারা ফলো কইরা দেহি যে জায়গায় পইড়া ছেরছের শব্দ ওইতাছে ওইহানে লেহা আছে-
শান্তিতে নোবেল পেলেন ওবামা।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



