আমার প্রিয় পোস্ট

কতো কী করার আছে বাকি..................

রাংলাই ম্রো-শেকলে বন্দী ক্ষুব্ধ পাহাড়।

২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:১০

শেয়ারঃ
0 1 0

আকাশের গায়ে গায়ে যে জমে থাকা মহাকাল তা কি এই পৃথিবীর গল্পগাঁথা জমিয়ে রাখে তারায় তারায়, তাহলেতো ওই যে লাবন্যপ্রভা চাঁদ সূর্যের তেজী রোদ আর নিজের বিশুষ্কতার দুঃখ কে কেমন কোমলতায় প্রকাশ করে-চরাচর কি এক কমনিয়তার আভরনে ঢাকা পড়ে, সে তবে পৃথিবীর উচ্ছাস আর ওঙ্কারের স্বাক্ষী। তাহলে স্বর্ণপ্রভা সুর্য মাহাকাশে যে পথ তৈরি করে সেই পথে হেঁটে যান তুরাই। তিনিই তো একদিন মহাকাল ভ্রমণের পথে এই পৃথিবীর কালো- শক্ত পোক্ত নাঙ্গা মানুষ দেখে তার এক দূত পাঠিয়ে ছিলেন তাদের কাছে। তার সৃষ্টির যে পৃথিবী সেখানকার প্রাণীকূলের কেউই খারাপ তাকুক তা তো তিনি চান না। তাইতো সেই দূত কলাপাতায় করে ঈশ্বর বন্দনার যে মন্ত্র নিয়ে এসেছিল তা ওই স্রষ্টা তার সৃষ্টির মঙ্গল কামনায় কৃষ্ণবর্ণ মানুষগুলোর কাছেই পাঠিয়ে ছিলেন। আর পাঠিয়েছিলেন কাপড়-সৌন্দর্য বোধে জাগ্রত করতে চেয়েছিলেন তার সৃষ্টিকে। কিন্তু সেই দূত এই তাদের কাছে যাওয়ার আগেই কি হল- এ বোধহয় কালো মানুষগুলোর কপালেরই ফের-সেই দূত গোসল করতে নামল যে নদীতে ওই কলা পাতায় লিখা কালো মানুষগুলোর ধর্ম গাঁথা আর কাপড়গুলোকে তীরে রেখে-সেই কলাপাতা কোত্থেকে একটা গরু এসে খেয়ে ফেলল আর কাপড়ও ফেলল ছিঁড়ে-তাইতো ম্রো এর মেয়েরা পুরোটা বুক ঢেকে চলতে পারে না-ছেঁড়া কাপড়ই যে তাদের বিধান-অল্পে তুষ্টিই যে তাদের স্বভাব। আর তারা ইতিহাস খুঁজে পেল না নিজেদের- খুঁজে পেল না তাদের ধর্ম কি। কারণ ওই গরুতে যে সব খেয়ে ফেলেছে। তাইতো গরুর প্রতি এত ক্রোধ ম্রোদের। তারা গরু বধের উৎসব করে- সেই উৎসবে নাম কুমলোং। তাদের সমস্ত যত পাপ তা এই গরুর জন্য। যত মন্দ সব এই গরুর কারণে। খাঁচায় বন্দি গরুকে বর্শার আঘাতে খুঁচিয়ে মেরে তার রক্ত আর ঝলসানো মাংসে চলে তাদের উৎসব-মদের নেশায় বুজে আসা চোখে পাহাড়ের গায়ে গায়ে তারা স্বপ্ন চাষে-আর আকাশের তারায় তারায় জমিয়ে রাখে মনের কোন কথা। অথচ কি আশ্চর্য সেই গরুর রক্ত আর মাংস কোন এক রাতে নাকি কখন তাদের খেয়াল নেই-কারণ, যখন ঠোঁটে রঙ মেখে তাদের যুবক-যুবতিরা, গায়ে পুঁতি আর পয়সার গহনায় সেজে জুমের কিশলয় চারা গাছগুলোর যত্ন নিচ্ছিল আর কঠোরভাবে মেনে চলছিল মানুষকে ভালোবাসার নিজেদের বিধান-তখনই সেই রক্ত আর মাংস কেমন জলপাইয়ের ছোপ ছোপ রঙ হয়ে এবার তাদের ভিটেটুকুই খেয়ে ফেলতে চাইল-তাদের পাহাড়কে কেড়ে নিতে চাইল। তাদের ঘরগুলোকে তারা গুচ্ছাকারে গড়ে তুলেছিল। সেই ঘরের চালে জমিয়ে রাখে তারা জুমবীজ আর পাকা কলা কি পেপে কিংবা পুটলিতে বাঁধা চাংলাই উৎসবের জন্য ছেলেরা যে লাল রঙের কাপড় পড়তো আর মাথায় লাগাতো পালকের মুকুট তাওতো ওই চালের নিচে পরম মমতায় গুছিয়ে রাখত। আর রাতের জরি লাগা যে আকাশ দিনের বেলায় বেসামাল নীল সেখানেই তাদের ইতিহাস আর স্বপ্নের আনাগোনা। সেই চাল দখল হয়ে গেছে-সেখানে বন্দি জলপাই রঙ-এর ব্যাখ্যাতিত ছোপ ছোপ কাপড় ঢেকে দিয়েছে তাদের আকাশ। যে খাঁচায় বেঁধে তারা ভাগ্যের শত্রু গরুকে হত্যা করতো, সেখানে এখন থেকে মৃত্যুবীজ ছোটানো নল তাক করা থাকবে তাদের দিকে।

কিন্তু ইতিহাসের কোন সময়ে কোন এক প্রাণী কোন প্রকার বাধা ছাড়াই তাদের ভবিষ্যৎ খেয়ে ফেলেছিল আর আজ চোখের সামনে মানুষের মতই কারা যেন তাদের সর্বশান্ত করতে চায়, এ কি মেনে নেয়া যায়। মেনে নেয়নি রাংলাই। ক্ষেপে উঠেছিল-মাঝে মাঝে পাহাড়ের ওপাশ থেকে যেমন ক্ষুব্ধ গর্জনের মেঘ বেরিয়ে আসত তেমনি করেই সে ক্ষেপে ওঠে। ওই সুয়ালোক আর টংকাবতির মা সাঙটুং তাকে ক্ষেপিয়ে তোলে-মায়ের দখল কিছুতেই হতে পারে না। কিন্তু রাংলাই কি আর পারে ওমন বিকট হয়ে ছুটে আসা ট্যাংকের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে। কার জন্যে তৈরি এই ট্যাংক, ইতিহাসে এই মৃত্যুমুখা বিকট দর্শন যানের নল বারবার কাদের প্রতি উদ্ধত হয়েছে, এই রকম অসংখ্য জিঞ্জাসা আর আকুতি নিয়ে রাংলাই তাদের সামনে ক্ষীণ একটি প্রশ্ন হয়েও দাঁড়াতে পারে না। আর যাদের হাতের কররেখা হয়ে উঠেছে একেকটি রক্ত নদী, বুটের নিষ্পেষণে আসহায় হয়ে উঠেছে পাহাড়-রাংলাই তাদের কাছে কোন ছার। তার সমাজের কালো বর্ণের মানুষগুলোকে তো নিশ্চুপই থাকতে হয় ওই সারি সারি বারুদ ফাটানো ভয়ংকর অশ্লীল নলগুলোর সামনে। এই পাহাড় তাদের দেবতা- দেবতার দানে তাদের মায়েরা দুগ্ধবতি হয়-ঢালে ঢালে জুমের কুঁড়ি ফোটায়, সেই তারা কেন ভয় পাবে না দখলবাজ ওই ভয়াল বাহিনীকে। ফলে তাদের ঘর ছাড়তে হয়। শীতের রাতে ওই আকাশের গায়ে রচিত হয় আরেকটি অমানবিকাতর ইতিহাস।

আর মানবিকতাকে রক্ষা করে চলে যে রাষ্ট্র তার শক্ত শেকলে বাঁধা পড়ে রাংলাই ম্রো। রাষ্ট্র তার ওই ইট সিমেন্টের দেয়ালের ভেতরে মানবতা রক্ষা করে চলে রাংলাই ম্রোর ওপর নির্যাতন করার মাধ্যমে। রাষ্ট্রের আইনেও জামিন পেয়ে যান রাংলাই। কিন্তু তখন রাংলাইয়ের বুকে পিঠে মানবিক রাষ্ট্রের নির্যাতনের ছাপ। বাইশ মাস আটকে রেখে মানবতাকে রক্ষা করতে গিয়ে রাষ্ট্র রাংলাইকে অসুস্থ করে ফেলেছে। তার এখন দাঁড়ানোর শক্তি নেই। হার্টের সমস্যা। আর জামিন পেলেও হাতে শেকল। দাসত্বের এমন অমানবিক রুপ প্রতিদিন কি তার চোখে ঘুম আনতে পারে। নিশ্চয়ই না। তার চোখের পাতায় যত্নে লুকিয়ে আছে যে মুক্তির আকাশ তাকি সহজেই মুছে ফেলতে পেরেছে রাষ্ট্র। তার হাড়ে হাড়ে জমে থাকা যে মানবিকতা তা ওই রাষ্ট্রের ডান্ডাবেড়িতে কাবু হয়ে যাবে এত সহজেই। আর তার রক্তেইতো বহমান এক জাতির ইতিহাস, রাষ্ট্রের কোন সাধ্য তাকে বেঁধে রাখে। সংবিধানে বিসমিল্লাহ লিখা যেই রাষ্ট্রের, সেই রাষ্ট্র তাকে মানবতার বিরুদ্ধের লোক হিসেবে প্রমাণ দিয়েছে তার হাতে প্লাষ্টিকের খেলনা পিস্তল, অকেজো আগ্নেয়াস্ত্র, বুলেট পাওয়ার মিথ্যা মামলা দিয়ে। হা রাষ্ট্র এত বিশাল সে তাও তার এতো ভয় ক্ষুদ্র মানুষটার হাতের নষ্ট পিস্তলেও।

কিন্তু ম্রোদের হাতে পিস্তল-এ কেমন কথা। তারা যতজন আছে, যা করে সব একসাথেই করে। ওরেঙ তাদের নদীর দেবতা- সেই তাদের রক্ষা করে রোগ বালাই থেকে। আর তারা বন্দনা করে চাঁদ সূর্যের-উৎসবের দিনে যুবতীরা ফুলে সাজায় নিজেদের। যাদের নারী-পুরুষ ভেদ নাই। একসাথে জুম চাষে-গায়ে একটা বড় কাপড় চড়িয়ে পাহাড়ে বেয়ে বাজারে নামে-সস্তায় তাদের জিনিস পাওয়া যায় বলে বাজারে তাদের সুনাম আছে কত। সেই বাজারে তারা কোনদিন কাউকে কিছু বলেছে কি কারুর সাথে তর্কটা পর্যন্ত করেছে এমন কথা কেউ বলতে পারবে না। তারা কদলি গাছের নামে রাখে নিজেদের গোত্র-পরিবারের নাম। যে গাছের ফল খাইয়ে পাখিও পোষা যায়। আরো আছে কলা গাছ-আম গাছ, এমন। তা যারা তাদের বাঁচিয়ে রাখে তাদের সাথে সম্পর্ক না থাকলে-শ্রদ্ধা না থাকলে কি পৃথিবীতে টিকে থাকা যায়-এই তাদের বিশ্বাস। পাহাড়ের কোলে তারা মানুষ-সেই পাহাড় কতো বিশাল-তার সবুজে কতো প্রশান্তি-তার আকাশে কতো গভীরতা। সেই প্রকৃতির সন্তানেরা মানুষ ভালোবাসে। সেই তাদেরি হাতে পিস্তল-তাদেরই হাতে বুলেট। তবেতো এক মাহপ্রলয়ের ডাক আসছে।

নাকি রাষ্ট্র ঠিকই বলেছে- বুলেট রাংলাইয়ের কাছে আছে- তাতেইতো ভর্তি রাংলাইয়ের বুক- এখনো অব্যবহৃত। আর যে পিস্তল তা আসলে প্রত্যেক ম্রোর কাছেই থাকে-বুকের কাছে জমিয়ে রাখে প্রতিশোধের আশায়। তাছাড়া রাংলাই নামটাইতো রাষ্ট্রের চোখে চরম অপরাধী। নিজের ভেতরে কেমন রঙ আর লড়াইকে মিলে মিশে এক করে কি ছন্দ তৈরি করে, তাতে রাষ্ট্র চমকে ওঠে। কারণ রাংলাইয়ের রং শুনেই তাদের মনে পড়ে যায় ম্রোদের ছেলে-মেয়েরা ঠোঁটে রঙ মেখে যখন থুথু ছুঁড়ে তখন আসলে তাদের দিকেই ছুঁড়ে এই থুথু। আর লাই শব্দের ভেতরে কোথাও যে ড় লুকিয়ে আছে এই বিষয়ে রাষ্ট্র নিশ্চিত কারণ ম্রোরা খাঁচায় বন্দি গরুকে হত্যা করে চরম আক্রোশে, তাদের অধিকার হরণ কারীর বিরুদ্ধে এই ক্রোধ ভয়ানক- যা দেখে রাষ্ট্র ভীত হয়। ভীত হয় বলেই রাষ্ট্র তার শেকলে আবদ্ধ করে সমস্ত প্রতিবাদীদের। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সরকার জামিনের পরেও ছাড়ে না রাংলাইকে। বেঁধে রাখে তাকে। কারণ প্রচন্ড রাংলাইকে বেঁধে রাখলেই রাষ্ট্রের মঙ্গল। এই শেকল শুধু রাঙলাইকেই নয় বেঁধে রাখে মানবতার ইতিহাসকে, মানুষের প্রাণবন্ততাকে, বেঁচে থাকার ইচ্ছাকে, আত্মসম্মানকে। আর রাষ্ট্রের শত্রুকে।

তবে তো, নির্মম রাষ্ট্রের হাতে বাঁধা পড়ে আছে এক বিক্ষুব্ধ পাহাড়।

 

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:৪৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:১৭
তনুজা বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ।
সহমত
আর তুলনা নেই আপনার অনুভূতি আর প্রকাশের ভাষা।

'' বুলেট রাংলাইয়ের কাছে আছে- তাতেইতো ভর্তি রাংলাইয়ের বুক......রঙ আর লড়াইকে মিলে মিশে এক করে কি ছন্দ তৈরি করে ...প্রচন্ড রাংলাইকে বেঁধে রাখলেই রাষ্ট্রের মঙ্গল।...

রাষ্ট্রের হাতে বাঁধা পড়ে আছে এক বিক্ষুব্ধ পাহাড়"
২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:২৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:১৯
আলেক্সান্দার দ্যুমা বলেছেন: + দিলাম।
একজন রাংলাই ম্রো, কেবল রুপক। এমন আরো অনেকেই আছেন, যাদের নামও আমরা জানি না।
অধিকার আদায়ের অধিকারের জন্য সংগ্রামে নামা সে সব মানুষদের আমার অন্তরের অন্তস্তল থেকে শ্রদ্ধা।
আর ধিক্ রাষ্ট্র। শ্রেণী আর বর্ণের বৈষম্যকারী সরকারগুলোকে।
২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:২৪

লেখক বলেছেন: রাষ্ট্র শক্তি নিপাত যাক।

ধন্যবাদ।

৩. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:১৯
ফারহান দাউদ বলেছেন: যে দেশ এত অত্যাচারিত হয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই দেশেও যখন পাহাড়িদের উপর সেটলারদের এই অত্যাচার দেখি রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায়, তখন দুঃখ রাখার আর জায়গা থাকে না।
২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:২৪

লেখক বলেছেন: আপনিও নিশ্চয়ই রাঙলাইকে জানাবেন লাল সালাম।

৪. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৩৬
সৌম্য বলেছেন: পেপারে ছবি দেখে অনেক কষ্ট লাগছে।
তবে জাতিগত ইফেক্ট দেওয়াটা ঠিক না। কিছুদিন আগেও কানসাটে কি হলো। দেশের সবগুলো জেলাতেই অমানবিকতা হয়, পাহাড়িদের ব্যাপারটা স্পর্ষকাতর।
৫. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৩৯
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: জাতিগত ইফেক্ট মানে কি বোঝালেন।
৬. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৪৬
সৌম্য বলেছেন: দরিদ্র দেশ। অশিক্ষা, দুর্নীতি আর দারিদ্রতা অনেক অমানবিক নির্যাতনের জন্ম দেয়। পাহাড়ি বাঙ্গালী দু-দজনই বাংলাদেশের সন্তান। কানসাটে গনহত্যায় যারা মারা গেল, এরকম ঘটনা পাহাড়ে ঘটলো অন্যরকম একটা চেহাড়া পাবে।
শুভ্র ভাই। আমি ২/৩মাস পর পর পাহাড়ে যাই। এবং নির্দিধায় পাহাড়িদের গ্রামে থাকি, ওদের খাবার খাই এবং ওদের সাথে মিশি, ভালোভাবে না হলেও বম এবং ম্রোদের অনেক শব্দ বুঝতে পারি। বাংগালী, ম্রো, বম, চাকমা, মারমা সবাই সমান। কিন্তু একই ঘটনা সমতলেও পুলিশ সাধারন লোকেদের টর্চার করছে, একজন পাহাড়িকে করলে ব্যাপারটা আলাদা ইমেজ পায়, জাতিগত পার্থক্যগুলো প্রকট করে তোলে কিছু মহল। পাহাড়েও চোর ডাকাত আছে। স্বর্নমন্দিরের ভান্তেজীর মতো মহান মানুষও আছে। একই ভাবে সমতলেও ভালো খারাপ আছে।
২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:০৩

লেখক বলেছেন: আপনি ঠিক বলেছেন। কিন্তু এটাওতো ঠিক কেন্দ্রের প্রাবল্য যদি পুঁজিবাদের নিয়ম হয় তাহলে তো সমতলকেই সেখানে পাবেন। কিম্বা সেই সমতলওতো সাম্রাজ্যের দিকে ঝুঁকে থাকে। তাইলে।

আমি শুধুমাত্র একজন মানুষ কিংবা কোন জাতিগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করার বিরুদ্ধে লিখেছি। সে যেখানই হোক। রংলাই ম্রো একটি অধ্যায় মাত্র।

৭. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৪৭
এস.আই.তানজিল বলেছেন: অসাধারণ..............
পেলাস দিলাম।
যারা অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ব্রত তাদেরকে জানাই সশ্রদ্ধ অভিবাদন।
সেই সাথে শোষণ ও নির্যাতনের হাতিয়ার রাষ্ট্র যন্ত্রের আবসান কামনা করি।
ধন্যবাদ
২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৫৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৮. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৪৭
জুয়েল বিন জহির বলেছেন: "অথচ কি আশ্চর্য সেই গরুর রক্ত আর মাংস কোন এক রাতে নাকি কখন তাদের খেয়াল নেই-কারণ, যখন ঠোঁটে রঙ মেখে তাদের যুবক-যুবতিরা গায়ে পুঁতি আর পয়সার গহনায় সেজে জুমের কিশলয় চারা গাছগুলোর যত্ন নিচ্ছিল আর কঠোরভাবে মেনে চলছিল মানুষকে ভালোবাসার নিজেদের বিধান-তখনই সেই রক্ত আর মাংস কেমন জলপাইয়ের ছোপ ছোপ রঙ হয়ে এবার তাদের ভিটেটুকুই খেয়ে ফেলতে চাইল-তাদের পাহাড়কে কেড়ে নিতে চাইল।"

শুভ্র! অসাধারণ লিখেছো। যাক, সাহস পাচ্ছি।
১০. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:২১
তনুজা বলেছেন: @সৌম্য, ভাই আপনার কথাটা বুঝতে পারছি, কিন্তু তারপরও পাহাড়ে শোষণকে অবশ্যই অন্যচোখে দেখতে হবে।

সকল হত্যাই হত্যা, সকল নির্যাতনই দুবর্লের উপর, একথাও সত্য ,কিন্তু এই উপসংহার অতি মারাত্মক সহিষ্ণুতার, অতি অনাকাঙ্ক্ষিত বৈষম্যবাদের জন্ম দিতে পারে।

স্বীকার করি রাংলাই ম্রো একজন মুক্তিকামী মানুষ, রাষ্ট্র এখানে পেশীশক্তি। কিন্তু আরও বড় স্বীকারোক্তি পাহাড়ের বুকে চলে আসা নীরব জাতিগত হিংসা -আমাদের লজ্জা, আমাদেরই পরাজয়।


কানসাটে অধিকাররত মানুষের উপর অত্যাচার চলেছে এটা ঘৃণ্য, কিন্তু পাহাড়ে লুকিয়ে আছে সাম্প্রদায়িক দখলদারিতা।তাই ৬১ জেলায় ঘটে যাওয়া অন্যায়ের থেকেও ৩ জেলার অত্যাচারের রূপটি বেশি কদর্য।আর সে বিষয়ে আমাদের অধিকতর স্পর্শকাতর হওয়া প্রয়োজন বৈকি।

আপনি শুভবুদ্ধির মানুষ, তাই বিশ্বাস করি বুঝবেন এই উদ্বেগ এর কারণ ।


২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:২৭

লেখক বলেছেন: আমিও তনুজার কথায় একমত।

সমতল অনেক প্রচন্ড। তার সামনে কিছু দাঁড় করাতে গেলে পাহাড়কেই লাগবে।

১৭ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:৫৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৩. ১৪ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:৩৫
ফজলে এলাহী বলেছেন: রাংলাই আমার প্রিয় মানুষ,কিন্তু একজন রাংলাই যখন নিপিড়িত হয় রাষ্ট্রের হাতে তখন তথাকথিত সুশীল মিডিয়া সোৎকারে জেগে উঠে,কিন্তু একজন ফজলে এলাহী,সুনীল কান্তি দে বা একজন আজম আলী নিপিড়িত হলে একই মিডিয়া বা সুশীলরা নিশ্চুপ থাকে..........
দায় কার????????? জয় হবে কার???
.............রাংলাই যদি ইতিহাস হয়,আমরা কি তবে ভিলেন ??
আমাদের বেলায় চুপ থাকে মিডিয়া,বুদ্ধিজীবি এবং আদিবাসী নেতারাও।...................................
১৪ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:৩৮

লেখক বলেছেন: মিডিয়ার বিকল্প কি। যদি কিছুই না থাকে তাহলে এই আক্ষেপ মূল্যহীন।




বিকল্প মিডিয়া তৈরি না করলে একজন রাংলাই যেমন প্রয়োজনে সংবাদ হয়ে উঠবে তেমনি অসংখ্য বিডিআর কখনোই খবর হবে না।


ভালো থাকুন। শুভেচ্ছা।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৩৫৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
সব কিছু খর লাগে
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই