আমার প্রিয় পোস্ট

কতো কী করার আছে বাকি..................

নির্বাচনে বামের না পারা-শেষ অংশ।

২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৫

শেয়ারঃ
0 1 0

প্রথম অংশ

নির্বাচনে বামের না পারা বলতে দলগুলো কি বোঝে সেটা জরুরি একটা বিষয়। ফলে জনগণের সামনে নির্বাচন পরবর্তী মূল্যায়ন বা সফলতা কিম্বা ব্যর্থতা তুলে ধরা উচিত। সেটা কখনো কি চোখে পড়েছে। আর নির্বাচন এলেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার সংস্কৃতি ছাড়তে হবে। কেন তারা নির্বাচনে দাঁড়াবেন-কি করবেন-তাদের দাবি কি-সমস্ত বিষয়ে জনগণকে অবহিত করার রাজনৈতিক চর্চা যেমন থাকতে হয় তেমনি জনগণের পক্ষের দল যারা নিজেদের দাবি করেন তাদের উচিত নির্বাচনে দাঁড়ানোর বিষয়ে জনগণের অনুমতি নেয়া। অনুমতি নেয়ার বিষয়টা এমনই হতে পারে যে গ্রামে-পাড়ায়-বাজারে-বিভিন্ন জায়গায় সভা করার মধ্য দিয়ে নিজেদের নির্বাচনে দাঁড়ানোর যুক্তি তুলে ধরতে হবে-জনগণের সামনে দলের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে হবে-সব শুনে যদি ঐ এলাকার জনগণ মনে করে সেই দলের প্রার্থী দাঁড়ানো উচিত তাহলে তারা দাঁড়াবেন। এই কাজ অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদি এবং দল বিকাশে অপরিহার্য। আমাদের দেশের বাম দলগুলো বিভিন্ন জায়গায় সভা-সমাবেশ করে বা প্রকাশনার মাধ্যমে জনগণের সামনে সবসময় উপস্থিত থাকলেও তাতে জনগণ আম জনতা হিসেবেই বিবেচিত হয় অর্থাৎ দলের অংশ হয়ে ওঠে না। বিষয়টিকে আরো ব্যাখ্যা করলে বলতে হয়- দলগুলোর তৈরি করা কর্মসূচিতে জনগণ অংশগ্রহণকারী মাত্র-সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ভূমিকা নেই। বামেরা নির্বাচনে যে ভোট পায় তার চরিত্রও নির্ণয় জরুরি-সাধারণত জনগণের বিকল্পের প্রতি ঝোঁক-নিজেদের অসহায় আবস্থার মুক্তি, এ সমস্ত বিবেচনা থেকে বামে ভোট দেয়। দল-রাজনীতি বুঝে ভোট দেয়া এবং সেই দলের কাজে অংশগ্রহণের তড়না বোধ করে কয়জন। এটা দলগুলোর রাজনৈতিক চর্চার কারণেই হয়। আমাদের দেশের ধারণায়-ইতিহাসের প্রেক্ষিতে দল কি এবং দলের সংজ্ঞা-বৈশিষ্ট্য কি তা কোন দল নির্ধারণ করতে শুনিনি বা চর্চায় নেই এটা বলা যায়।

গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি তা হলো-দলগুলো জনগণের মনোজগতের পাঠ নিতে পারে না। অর্থাৎ ধর্ম-বিশ্বাস এই সমস্ত বিষয়ে বামেরা বরাবরই নিরুত্তাপ থেকেছে। এটা হওয়ার কারণ ধর্মের দার্শনিক বোধ সম্পর্কে ধারণা তৈরি না হওয়া-বা ধর্ম সম্পর্কে মোটাদাগের ধারণা ছাড়া বিশেষায়িত জ্ঞান দলগুলোর মধ্যে নেই-ধর্মের উদ্ভব এবং বর্তমানে তার বিকৃত চর্চা সম্পর্কে জনমনের তৃষ্ণা মেটানো এদের পক্ষে সম্ভব হয় না। যে কারণে- ধর্ম মানে এমন কেউ কি কখনো দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে। আবার জনগণের সংস্কৃতিক চেতনা-বিশ্ববোধ-প্রকৃতিমুখীনতা-জীবন চর্চা-রুচিবোধ-সৌন্দর্য চেতনা গড়ে তোলা কোন বিষয়ে কি বামদের কাজ আছে। নির্বাচনি প্রচারণাওতো সেই মিছিল পোষ্টারে সীমাবদ্ধ-কখনোতো শুনিনি প্রচারণার অংশ হিসেবে-বাউল গানের আসর হবে-একটা নাটক হবে-জনতা ভোট না দিক অন্তত চেতনার দেখা পাবে। তা হয়নি-দলগুলোর নির্বাচনি স্লোগান হয়েছে এক ভোট এক নোট। এটা নিঃসন্দেহে পুঁজিবাদের স্বেদ বিন্দু- টাকা দিয়ে ভোট কেনার বিকল্প হিসেবে বামেদের কৌশলে টাকাকেই যে আরো প্রধাণ করে রাখা হয়েছে তা কে বুঝবে। তাছাড়া যার টাকা দেয়ার সামর্থ্য নেই যাদের তারাই দলগুলোকে ভোট দেয়ার কথা- যার টাকা দেয়ার সামর্থ্য আছে সে মধ্যবিত্ত-শহুরে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুরুষ। যখন ভোটের চেয়ে নোটের সংখ্যা বেশি হয় তখণ ওই স্লোগানের সলিল সমাধি হয় পুঁজিবাদের অট্রহাস্য মুখে। একের বিছিন্নতা আলোচনা নাই করলাম। ওই যে বললাম টাকা দেয়ার সামর্থ্য রাখে পুরুষ, তারই সাথে সঙ্গতিপূর্ণ সমালোচনা হল-দলগুলোতে নারী প্রার্থির সংখ্যা কত-কয়জন আদিবাসী।

নির্বাচন পুঁজিবাদের সামলে ওঠার সময়। ফলে তার আগ্রহ-একাগ্রতা-হিসেব নিকেষ সমস্তই এই সময়ে সজাগ থাকে। তার তৈরি করা ইসুতে মাঠ গরম হয়। সেই ইস্যু হয়তো জনসংশ্লিষ্টই-কিন্তু এর ফলাফল জনগণের পক্ষে নাও যেতে পারে। ফলে সেই সময়ে জনগণের পক্ষের দাবি দাওয়া তৈরি করা উচিত-সেটা এই অর্থে যে তার খবর মিডিয়ায় না আসলেও জনগণই বহন করে নিয়ে চলবে এবং সেই দাবি অনুষ্ঠানিকতাকে ছাড়িয়ে জীবনমুখি হবে। কিন্তু সারা বছর বাম দলগুলো যেমন পত্রিকার তৈরি করা সংবাদে ভর করে পথ হাঁটে এই সময়েও ভিন্ন পথ তৈরি করতে পারে না।

নির্বাচনওতো সংস্কৃতি নির্মাণের জমিন-জনগণের সংস্কৃতির প্রাবল্য তৈরিইতো নির্বাচনের একমাত্র সাফল্য হওয়া উচিত। রাষ্ট্র এখন প্রচন্ড আর ছলনাময়ী-তার বিরুদ্ধ স্রোত তৈরি যদি নির্বাচনের উদ্দেশ্য হয় তাহলে তার আয়োজন সবসময়েরই। বসন্তের ওই বাতাসটুকুর মতো জনপ্রাণে ছোঁয়া দিতে হবে নির্বাচনের সময়। রঙে-ঢঙে চিত্ত জয় করে নিতে হবে-উৎসব করতে হবে সংস্কৃতি নির্মাণের, পালনের। এক ঘেয়ে রাজনৈতিক চর্চায় নয়- মাটি-কাঁদা মাখা এদেশের মানুষকে জাগিয়ে তোলার মোক্ষম সময় হোক নির্বাচন। তবেই হয়তো হাতের কর ছাড়িয়ে আরো অনেক কিছু বামেরদের নির্বাচনী প্রাপ্তির খাতায় যোগ হবে।

পাঠক-লিখাটিকে অসমাপ্তই বলবো। কারণ বিষয়ে এর বিশাল ব্যাপ্তি-লেখক তার অবয়ব ধরতে ব্যর্থ। আপনাদের আগ্রহ-বিতর্কই পারে লিখাটি শেষ করতে। আরো একবার কৃতজ্ঞতা রইল সহযোগীতার জন্য।


 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বামপন্থি রাজনীতি। ;
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৫১
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আসলেই অসমাপ্ত, বিক্ষিপ্ত, ছাড়া-ছাড়া..... অনেকটা উপর উপর দেখা....

তদুপরি বিষয়ের কারণেই আবারো প্লাস.....

২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৪

লেখক বলেছেন: কি করবো বলুন, আলোচনা চললে লিখা যায়। আর কোন দৃষ্টি ভঙ্গী থেকে লিখছি সেটি কিভাবে এই লিখাতে বুঝাই বলুন।

সব মিলিয়ে চেষ্টা করেছি.এই আরকি।

২. ২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:১৬
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
ধর্ম বিষয়ক আলোচনাটি পরিষ্কার হলো না......
সেই সাথে এক ভোট এক নোট- এর সমালোচনার জায়গাটিই বুঝিনি...

কি হতে পারে, কেমন হতে পারে.....
২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:৩২

লেখক বলেছেন: ধর্মকে কৃত্য পালনের বিষয় হিসেবে দেখে বামপন্থীরা-কিন্তু প্রত্যেকটি ধর্মই দর্শন-এর ইতিহাস আছে-বিকাশের প্রেক্ষাপট আছে-সবচেয়ে বড় কথা মানুষ ধর্ম পালন করে। এই বিষয়ে নিরুত্তাপ থাকার সুযোগ নেই। ধর্ম দর্শন-ইতহাস-ব্যবহার-বিকৃতি বিষয়ে দলগুলোর ভূমিকা নীরব। ফলে জনগণ হতে বিচ্ছিন্ন।

এক ভোট এক নোট -বামপন্থীদের স্লোগান আমি শুনেছি। এটা নোটকে প্রধাণ্য করার পুঁজিবাদী সংস্কৃতিরই ধারক। আর এর সাথে যুক্ত আমাদের সমাজ জীবন-সংস্কৃতি। যে নারী টাকা দিতে পারে না তার কাছে এই স্লোগানের অর্থ কি।

বুঝাতে পারলাম কি।

৩. ২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:২১
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আর কোন দৃষ্টি ভঙ্গী থেকে লিখছি সেটি কিভাবে এই লিখাতে বুঝাই বলুন।
=====>>>>

আপনার দৃষ্টিভঙ্গী তো আপনার আলোচনা, আপনার বক্তব্য, আপনার যুক্তি ও যুক্তি করার ধরণের মধ্য দিয়েই পরিষ্কার হতে থাকবে....... আলাদা করে বুঝানোর চেষ্টা করার দরকার নেই...

আপনার পুরো আলোচনার মধ্য দিয়েই কিন্তু আপনার কিছু দৃষ্টিভঙ্গীর ছোয়া পাওয়া গেছে- সেই দৃষ্টিভঙ্গীটাই হয়তো আমার দৃষ্টিভঙ্গীতে কোন কোন জায়গায় খাপছাড়া ও উপর উপর থেকে দেখা মনে হয়েছে.....
২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:২৭

লেখক বলেছেন: উপর থেকে দেখাটাকে নাকচ করছি কারণ দেখেই এসেছি। তারপরও ওপর থেকে দেখা আরেকটা হতে পারে সম্পূর্ণটা না দেখা। এই দাবি করবো না। আর আমার দৃষ্টিভঙ্গী এখানে বোঝা গেছে এটা ঠিক..কিন্তু আমি আপনাদের সামনে নতুন বলে সেটাকে আড়ালের চেষ্টা আবার প্রকাশের চেষ্টা এই দ্বিধায় ছিলাম। এর লিখাকে বেঁধে রাখার চেষ্টাও ছিল এই জন্যে যে লিখা বড়ো হয়ে যাচ্ছে না তো।

রাজনীতিকে কলমে কতটুকু তোলা যায় বলুন।

কিন্তু তারপরও যা লিখেছি আমি মনে করি তাতেই অনেক উপাদান আছে।

৪. ২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৮
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
যা লিখেছেন, তাতে ঠিকই অনেক উপাদান রয়েছে, এবং রাজনীতিকে কলমে ভালোই তুলে এনেছেন- সেটিতে কোন আপত্তি নেই; বলতে পারেন- দ্বিমত বা অমিল আছে আপনার দেখার সাথে আমার দেখার।

অমিল বা দ্বিমতের জায়গায় আমার মতটি তুলে ধরার আগে আরো দুটি প্রশ্ন করছি (আশা করি কিছু মনে করবেন না) : ধর্মের কারণে কিভাবে বিচ্ছিন্ন, এই বিচ্ছিন্নতা কিকরে কাটানো যেতে পারে, ধর্মের ব্যাপারে নিরুত্তাপ না থেকে কি করতে পারে বামেরা? ভোটের সাথে টাকা চাওয়াটা কি করে পুজিবাদী সংষ্কৃতির অন্তর্গত হয়, বাম দলের নির্বাচনী ব্যয় বা দল পরিচালনার ব্যয় এসব কি করে আসতে পারে?

২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০১

লেখক বলেছেন: ১. ধর্মকে ধারণ করার বিষয় আছে-তা ত্যাগ করলে কিংবা দূরে রাখলে জনবিচ্ছিন্নতা বাড়ে। যেমন ধরুন-আমাদের দেশে যারা সরল মনে ধর্ম পালন করে তাদের কাছে ধর্মের বক্তব্য নিয়ে যাওয়াটাকে যে কোন বামপন্থি দলই অপ্রয়োজনীয় মনে করে। অথচ ধর্ম সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেয়া, যেমন- ইসলাম ধর্মের নিয়ম কানুন ইতিহাস-এই ধর্মের মূল দর্শন যদি বিশ্বাসি মানুষের সামনে অন্তত বই লিখেও তুলে ধরা যায় তাহলে জনগণের আস্থা বাড়ে কোন দলের ওপর। আপনি নিজেই দেখুন মুহাম্মদ অনেক বড় দার্শনিক -বুদ্ধও তাই-তাদের সম্পর্কে শুধু জানারই নয় মানারও অনেক বিষয় আছে-বামপন্থিরা এটা স্বিকার করে না।

২. গণ চাঁদা সংগ্রহ করেই দলগুলো চলবে-এটা স্বিকৃত, স্বাভাবিক। এটা স্লোগানের বিষয় নয়। স্লোগান চিন্তাকে-দৃষ্টিভঙ্গীকে ধারণ করে। একটা স্লোগাণ একটা ধারণা -পরিবেশ তৈরি করে। আমি বলতে চাচ্ছি ভোটের সাথে নোটের কোন সম্পর্ক নেই। ভোট এবং নোট সমান গুরুত্ব পাওয়া ঠিক নয়। সমার্থকও নয়-কিন্তু এক ভোট এক নোট মানে কি-নোট কেন যুক্ত হল-টাকা কেন্দ্রিক সংস্কৃতির স্বিকৃতিই প্রতিষ্ঠিত হলো না। আর এটা পুরুষতান্ত্রিকও বটে-আমাদের দেশে পুরুষরাই টাকার মালিক। এটা স্লোগাণে প্রতিষ্ঠিত করা অন্যায়।

৫. ২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:৫২
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
..কিন্তু আমি আপনাদের সামনে নতুন বলে সেটাকে আড়ালের চেষ্টা আবার প্রকাশের চেষ্টা এই দ্বিধায় ছিলাম।
=====>>>>
এমন দ্বিধায় থাকার দরকার নেই। আপনার এধরণের লেখার পাঠক এখানে সীমিত, তার উপরে তাদের অনেকেই এ লেখার খোঁজই পাবেন না। এখানে সমাজতান্ত্রিক ফোরাম গ্রুপে গিয়ে সদস্য লিস্টে চোখ বুলালে একটা ধারণা পেতে পারেন- এরকম বিষয়ে কাদের সাথে আপনার আলোচনা হতে পারে.....

২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৩

লেখক বলেছেন: নতুনের পথচলার অড়ষ্টতা......

সমাজতান্ত্রিক গ্রুপে যুক্ত হওয়ার বিষয়টা ভেবে দেখবো।

৬. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:০৬
ফাতাহ্‌ বলেছেন: (বিঃদ্রঃ এই মন্তব্যটি আপনার পোষ্ট সম্বন্ধে নয় )


ন্যাশনালিজমের সংঙ্গাটি আমাকে একটু পরিক্ষার করবেন কি ??

আন্যোর বিরুদ্ধে এর ব্যবহার ব্যাপক । তাইতো আজ আন্যায়ভাবে অন্য যে কোন দেশের মানুষ মরলেও সমস্তবিশ্বই চুপ থাকে বা থাকতে হয় বা যারা অন্যায় করে তারাও গর্ববোধ করে এই ন্যাশনালিজমের কারণে।

যদি তাই না হবে তবে কেন ," এলটিটিকে বা অন্যান্য স্বাধীনতাকাশীদের কেন হত্যা করা "।
৭. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৮
আমি ও আমরা বলেছেন: আরে দারুন একটা পোষ্ট। টাইম নিয়া পড়তে হবে। এখন অফিসে।
২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৫০

লেখক বলেছেন: আপনার মতামতের অপেক্ষায় থাকলাম।

৮. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৩৭
মিলটনরহমান বলেছেন: ভালো লাগলো


মঙ্গলে থাকুন
২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৪৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনিও ভালো থাকুন।

৯. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:১৪
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:


ধর্ম নিয়ে আপনার বিস্তারিত ব্যাখ্যায় হতাশ হলাম- আপনাকে একজন বাম মনা মনে হয়েছিল এবং সত্যি আপনি যদি নিজেকে একজন বামপন্থী ভেবে থাকেন এবং বামদলের সংশ্লিষ্টতা থেকে থাকে তবে আপনার এমন অবস্থান কিছুটা হলেও হতাশাজনক।

"ধর্মকে ধারণ করার বিষয় আছে-তা ত্যাগ করলে কিংবা দূরে রাখলে জনবিচ্ছিন্নতা বাড়ে"- আপত্তিকর কথাই মনে হলো। রাজনীতি থেকে ধর্মকে দূরে রাখার কথা যেখানে কাগজে কলমে হলেও বুর্জোয়াই স্বীকার করে ও বলেও বেড়ায়, সেখানে বামদের ধর্মকে ধারণ করতে হবে!!!

জনবিচ্ছিন্নতা দূর করার জন্য হাসিনার মত নির্বাচনের আগে তসবি-হেজাব পরে দোআর ভঙ্গিতে হাত তুলে ছবি দিয়ে পোস্টার ছাপাতে হবে বা আওয়ামিলীগ-বিএনপি'র প্রার্থীদের মত দাড়ি-টুপির আধিক্য আনতে হবে????

"আমাদের দেশে যারা সরল মনে ধর্ম পালন করে তাদের কাছে ধর্মের বক্তব্য নিয়ে যাওয়াটাকে যে কোন বামপন্থি দলই অপ্রয়োজনীয় মনে করে।" এই অপ্রয়োজনীয় কাজটিকে কেন আপনার এত প্রয়োজনীয় মনে হলো- সেটাই বুঝতে পারছি না। বামরা জনগণের কাছে ধর্মীয় কোন বক্তব্য নিয়ে যাবে, কেন নিয়ে যাবে? ধর্মীয় ইতিহাস বা ধর্মের মধ্যকার ভালো জিনিসগুলোর প্রচার কিভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচীর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে?
ধর্মকে হাতিয়ার করে জনবিচ্ছিন্নতা দূর করতে হবে???? দূর করা সম্ভব????

আসলে, বামদের আজ দুর্বলতা দেখে এসব নানান কিসিমের তত্ত বের হচ্ছে বলে মনে হয়। অবশ্যই দুর্বলতার কারণ উদঘাটন করতে হবে, দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। সবই ঠিক আছে, তবে তাই বলে কি জনবিচ্ছিন্নতা দূরের নামে, জনপ্রিয় হওয়ার লক্ষে বাম থেকে ডান হয়ে যেতে হবে????

যাহোক, এবারে এই বিষয়ে মার্কসবাদী ক্ল্যাসিকসের দিকে একটু হাত বাড়ানো যাক।
বামদের মানে মার্কসবাদীদের দার্শনিক ভিত্তিই হচ্ছে দ্বন্দমূলক বস্তুবাদী দর্শন, এটা অবশ্যই নিরীশ্বরবাদী দর্শন। মার্কস যেমন জানিয়েছিলেন- ধর্ম শাষক শ্রেণীর শোষণের একটি হাতিয়ার, নিপীড়িত জনগণের দীর্ঘশ্বাস, তা আফিমের ন্যায় নেশার মত- এটা আজকের জন্যও সত্য। এঙ্গেলসের এ্যান্টি ডুরিং এও ডুরিং এর ভাববাদ ও ধর্মের প্রতি সামান্যতম ছাড়কেও কঠোর সমালোচনা করেছিলেন- তেমনি 'সমাজতান্ত্রিক সমাজে ধর্মই থাকবে না' ডুরিং এর এমন অতি বিপ্লবীপনাকেও ততোধিক সমালোচনা করেছেন।
লেনিনও রাশিয়ায় বিপ্লবের আগে ১৯০৫ সালের এক আলোচনায় বলছেন- "ধর্ম এক প্রকার আধ্যাত্মিক সুরা-বিশেষ এবং এরই মধ্যে পুঁজিদাসদের মনুষ্য-ভাবমূর্তি এবং অল্পবিস্তর মানুষ হিসাবে বেচে থাকার দাবী নিমজ্জিত"।
সোভিয়েত ইউনিয়নে বা চীনে লেনিন বা মাও সেতুং কে ধর্মের বাণী নিয়ে যেতে হয়নি। ধর্মকে ধারণ করতে হয়নি। ধর্মের উজ্জল দিক প্রচার করতে হয়নি আলাদাভাবে।

হুম- ঐতিহাসিক বাস্তবতায় একসময়ে ধর্মের পজিটিভ রোলের কথা প্রাসঙ্গিক ভাবে আসতেই পারে, কিন্তু সেটা দিয়ে মানুষের কাছাকাছি হওয়া সম্ভব এমনটি আমার কাছে এখন পর্যন্ত নতুন চিন্তা বলেই মনে হচ্ছে। তাহলে বামেরা কি করতে পারে? এ ব্যাপারে লেনিনের দেয়া কর্মপদ্ধতিকেই এখনও সঠিক মনে করি:
"ধর্মকে ব্যক্তির নিজস্ব ব্যাপার বলে ঘোষণা করা উচিৎ। এ উক্তিতেই সাধারণত ধর্ম সম্পর্কে সমাজতন্ত্রীদের মনোভঙ্গি অভিব্যক্ত"।
"ধর্ম নিয়ে রাষ্ট্রের কোন গরজ থাকা চলবে না এবং ধর্মীয় সংস্থা সমূহের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সংগে জড়িত হওয়া চলবে না"।
"....... তাই যদি হয়, তবে আমাদের কর্মসূচিতে আমরা নিজেদের নাস্তিক হিসাবে ঘোষণা করছি না কেন? কেন খ্রীস্টান ও ঈশ্বরবিশ্বাসীদের আমাদের পার্টিতে যোগ দিতে আমরা নিষেধ করছি না?"
"... পরলোকে স্বর্গ সৃষ্টির সম্বন্ধে প্রলেতারিয়েতের মতৈক্য অপেক্ষা পৃথিবীতে স্বর্গ সৃষ্টির জন্য নির্যাতিত শ্রেণীর সত্যকার বৈপ্লবিক সংগ্রামের ঐক্য আমাদের কাছে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ।
এ কারণেই আমাদের কর্মসূচিতে আমরা আমাদের নাস্তিক্যবাদ ঘোষণা করিনি, করা উচিতও না। এ কারণেই যেসব প্রলেতারিয় আজও অতীত কুসংষ্কারের কোন-না-কোন জের আজো বজায় রেখেছে তাদের আমাদের পার্টিতে কাছাকাছি আসা নিষিদ্ধ করা হয়নি, করা উচিতও নয়। আমরা সবসময়ই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার করবো, নানাবিধ ধর্মীয় অসঙ্গতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম আমাদের প্রয়োজন। এর অর্থ এই নয় যে, ধর্মের প্রশ্নকে আমাদের সর্বাধিক প্রাধান্য দেয়া উচিত। এর অর্থ এই নয় যে, সত্যকার বৈপ্লবিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামের শক্তিসমূহকে আমরা বিভক্ত করবো তৃতীয় স্থানের গুরুত্বের মতামত বা প্রলাপের খাতিরে...।"
("সমাজতন্ত্র ও ধর্ম"- কমরেড লেনিন, ৩ ডিসেম্বর ১৯০৫)

সমাজতন্ত্রীদের/বামপন্থীদের খুব বেশী করে আসলে জনগণের সামনে থাকা উচিৎ। শ্রমিক কৃষকের সমস্যা, জাতীয় সমস্যা, ইস্যুগুলো নিয়ে লাগাতর আন্দোলনে থাকা- রুট লেভেলে ঢুকে লেগে পড়ে কাজ করা দরকার। তাহলে সংগঠন বাড়বে, কর্মী-সমর্থকও বাড়বে। পরে, সেটা নাহয় ভোটের সময়ও কিছুটা প্রতিফলিত হবে। মূল বিষয় হলো- গ্রামে গঞ্জে কলে-কারখানায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়তে হবে। মানুষের মাঝে যেতে পারলে- ধর্ম কোন ফ্যাক্টর হবে না। এখানকার মানুষ ধর্ম মানে, কিন্তু ধর্মান্ধ নয়; এটা অসংখ্যবার প্রমানিত হয়েছে।

২। এক ভোট এক নোট এই শ্লোগান কিকরে টাকার সংষ্কৃতিকে তুলে ধরতে পারে? নোট আর ভোট সমার্থক এটাই বা কে বলছে? শ্লোগানটি আসলে মানুষের কাছে কিভাবে যাচ্ছে (যাদের কাছে যতটুকুই যাচ্ছে)- সেই বিবেচনাই জরুরী। নির্বাচনে যে টাকার খেলা, প্রার্থীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ, বস্তু সামগ্রী, খাদ্য- এসব পেয়ে অভ্যস্ততা মানুষের মাঝে ভোটের/নির্বাচনের যে সংষ্কৃতি গড়ে তুলেছে- তার বিপরীতে দাড়িয়ে উল্টো ভোটের সাথে ভোট করার খরচও চাওয়ার মধ্যে দিয়ে - কেমন সংষ্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়াশ পায়? পেতে অভ্যস্ত যে মানুষটি এই আহবান শুনে সেই (অধিকাংশ ক্ষেত্রেই) কি থমকে দাড়ায় না? প্রশ্ন করবে না- 'আপনিই তো বরং দিবেন, উল্টো চান কেন?'
তখন যে জবাব- 'নির্বাচন তো জনগণের গরজ, জনগণের স্বার্থ। ফলে এর খরচ তো জনগণই যোগানো উচিৎ।' ফলে ইন্টারেকশন বাড়লো, এই শ্লোগান নিয়ে যাওয়া নির্বাচনের একটি সঠিক, যৌক্তিক ও ন্যায় পদ্ধতিকে সামনে নিয়ে আসা হলো।
এবং এই পাল্টার মধ্য দিয়ে আগের যে বুর্জোয়া সংষ্ক্বতি- টাকার খেলার মাধ্যমে নির্বাচন- তাকেও তো চ্যালেঞ্জ জানানো হলো। ফলে এটা কি করে টাকা-কেন্দ্রিক সংষ্কৃতিকে স্বীকৃতি দেয়া হয়?

আপনার আপত্তি কি শ্লোগানে টাকা শব্দটি থাকাটা? টাকা কে কি আপনার বুর্জোয়া সংষ্কৃতির সমার্থক মনে হয়? তাহলে বলতে হয়, আপনি এক ধরণের রোমান্টিক বিপ্লবী।

এক ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে ভোট কেনাবেচা হচ্ছে, ভোটাররা টাকা নিচ্ছে ব্যক্তিগতভাবে তাদের টাকা বা সামগ্রী লাভ হচ্ছে- প্রার্থী টাকা বিনিয়োগ করছে। এই সংষ্কৃতি হচ্ছে বুর্জোয়া সংষ্কৃতি। ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক লেনদেনই হয় সেজন্য। কিন্তু প্রার্থী যখন ভোটের সাথে খোরাকিও চাচ্ছে- সেটা কিন্তু ভোটাররা ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি কিছু পাচ্ছে না, উল্টো তাদের দিতে হচ্ছে- দান বা ত্যাগ করতে হচ্ছে। অর্থ বা সামগ্রী যেটা দিচ্ছে সেটা কিন্তু সরাসরি কোন কিছুর বিনিময়ে না, মানে এখানে মুনাফা কেন্দ্রিক কোন লেনদেনও ঘটছে না। হচ্ছে কি? সমষ্টিগত ভাবে একজন প্রার্থীর নির্বাচন খরচের ভাগীদার হওয়া। এটা বুর্জোয়া টাকার সংষ্কৃতিকে স্বীকৃতি দেয়া তো দূরের কথা- অনেক উচ্চতর সংষ্কৃতি।

পুরষতান্ত্রিকতার প্রসঙ্গটি আনা একটু ছেলেমানুষি মনে হয়েছে। টাকার বা সামগ্রীর মালিক শুধু পুরুষ এটা কে বললো? মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ি পুরুষের অর্ধেক হলেও (বাস্তবক্ষেত্রে আরো কম দেয়া হলেও)- নারীও কিন্তু সম্পদের মালিক হতে পারে। নারীও কিন্তু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। শুধু এতটুকু বলতে পারেন- পুরুষের তুলনায় নারীর সম্পদ অনেক অনেক কম। এটাও বলতে পারেন- নারী নানাবিধ বৈষম্যের স্বীকার।
দ্বিতীয়ত, বর্তমান যে অবস্থাটা বিরাজমান- সেটাকে কি আমরা সঠিক মনে করি কি না? ফলে- নারীর হাতে টাকা/সম্পদ নেই বলে ভোটের সাথে নোট চাওয়া শ্লোগানটিকে পুরুষতান্ত্রিক বলাকে মনে হচ্ছে- এক্সিসটিং বাস্তবতারই সাফাই গাওয়া।

এই শ্লোগান নিয়ে পুরুষদের কাছে যেমন নারীদের কাছেও তেমন যাওয়া কি হবে না? কোন নারী যদি বলে, 'সাহেব নেই- পয়সা কিকরে দেই'- তখন পাল্টা দুটো কথা বলার কি সুযোগ তৈরী হয় না?

আর গণচাঁদাকে একজায়গায় সমর্থন করার পরেও কেন আপনি নির্বাচনের তহবিল জনগণের কাছ থেকে আদায় করাকে বেঠিক মনে করছেন- তাও বোধগম্য হলো না। এটাও তো টাকার সংষ্কৃতিকে স্বীকৃতি দিতে পারে, এটাও তো পুরুষতান্ত্রিক কাজ-কারবার হতে পারে (আপনার যুক্তি মোতাবেক)!!!!!!
৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২১

লেখক বলেছেন: আমি নিজেকে বামপন্থী বলি না এখন। কারণ ওই পন্থার পক্ষে আমি ক্রিয়াহীন। বর্তমান বামের সমর্থকও নই কারণ সমর্থন করার মতো কোন পক্ষ খুঁজে পাইনি। আমি নিজে থেকে যা বলবো তা হলো মুক্তির পথ খুঁজছি। সেই পথ যে বামেই তা আমার ইতিহাস এবং এখন পর্যন্ত অর্জিত জ্ঞানে মনে হয়। ফলে সেই বামপন্থার পক্ষেই আমার আগ্রহ এবং আরো একটি বিষয় আছে। একসময়ের লালপতাকার রঙে নিজের ভবিষ্যতের সমস্ত অলিগলিকে রাঙিয়ে ছিলাম-আকস্মাৎ সেখানে তৈরি হওয়া ভয়াবহ শূণ্যতা আমার বেশি দিনের নয়। এবং বিচ্ছিন্ন হওয়ার তীব্র ক্ষত এখন প্রশমিত হলেও নানা গন্ধে শব্দে তা ঠিকই যন্ত্রণা দিয়ে যায়। সেই যন্ত্রণাই আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছে এই লিখা- আমি তা অস্বিকার করবো না। কিন্তু এতে করে আমার নিজের ভেতরে গড়ে ওঠা সাম্প্রতিক ভাবনা আপনাদের সামনে পড়ে কিছুটা অপ্রস্তুত বৈকি। এই ভাবনাগুলোকে আরো ঋদ্ধ করে আপনাদের সামনে তুলে আনলে ভালো হত। তারপরও আপনাদের মতামতইতো আমার চিন্তাকে আকৃতি এবং গ্রহণযোগ্য হলে স্বীকৃতিও দিবে।

ধর্ম বিষয়টিকে আমি দেখি জনগণের কৃত্য পালন-নখরে রক্ত লাগানো ধর্ম বর্জনীয়-সবার কাছেই। আমি ধর্ম বলছি আমাদের কৃষকটি ক্ষেতের আইলে বসে যে নামাজ পড়ে তার কথা-আমাদের গৃহবধুটি যে সান্ধ্য আহ্নিক করে তার কথা-জীবনের শেষ বয়েসে এসেও যে চাকমা বৃদ্ধা কঠিন চীবর দানে নিজের স্বর্গ বোনে তার কথা। রাজনীতি যদি হয় দৈহিক মানুষ এবং বৈশ্বিক মানুষের সমস্ত রকম আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণস্থল- মানসিক নির্ভরতার জায়গা-মানবিকতা চর্চার জায়গা আমি সেই রাজনীতির পক্ষে।

ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার বা রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার কোনটাই ধর্মমুখীনতা নয়। আমি বলছি প্রকৃত অর্থেই ধর্মমুখীনতার কথা-ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রাখার কথা। যার ধর্ম তার কাছে-সকল ধর্মের সমান মর্যাদা এগুলোইতো এখন পর্যন্ত বামদের ধর্ম সন্মন্ধীয় মত। ধর্ম সন্মন্ধে কোন পড়াশোনা আছে কি না কোন দলে আমার জানানেই। মানে হচ্ছে আমাদের দেশে কয়জন নেতা-বাইবেল-বুদ্ধ জাতক-রামায়ণ-মহাভারত-বেদ-উপনিষদ-কোরআন পড়েছেন। নিজের দলের কর্মীদের তা পড়িয়েছেন-আদিবাসীদের ধর্ম সম্পর্কে কয়জন জ্ঞাত। সমাজতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় কি ধর্ম পড়ানো হবে না। পৃথিবীর সমস্ত মানুষ নিশ্চয়ই নাস্তিক হয়ে যাবে না। সব ধর্মেই সত্য কথা বলার নিয়ম আছে-আমাদের দেশে বামদলগুলোর মধ্যে কি মিথ্যের চর্চা নেই-শুদ্ধতার প্রশ্নে নয় সংগঠন-রাজনীতি এমনকি ব্যক্তির নিজেকে রক্ষার প্রশ্নেই। ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এ তবে ভেক কথা।

আমার যতদূর ধারণা আদিবাসীদের বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে বামদলগুলো অংশ নেয়। কি হয় যদি কোন বাম দলের নেতা কর্মীরা ঈদে পুজায় গ্রামে গিয়ে কৃষক শ্রমিকদের সাথে সেই উৎসব পালন করেন। রাজনীতি যদি হয় কেবলই রাজপথের কাজ তাহলে কোন কথা নেই। কিন্তু রাজনীতির কর্মসূচীকে যদি ঘরের চৌকাঠ পেরুতে হয় তাহলে জুতা খুলে প্রবেশের চিন্তা তাকে করতে হবে। জুতা খুলে প্রবেশের চর্চা নেই বলেইতো শহরমুখি বামের রাজনীতি চর্চা। সে জন্যেই রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিয়েও আন্দোলন করতে পারে নি বামরা। সেদিনিতো সাপে কাটা লাশ ভেলায় ভাসিয়ে দিল কোন এলাকার মানুষেরা-এটা বর্বরতা নয়- মানুষের আকাঙ্ক্ষা-অনন্তের প্রতি সাধনা। একে শ্রদ্ধা করতে হবে ভালোবাসতে হবে। মনসাপূজার ইতিহাস বলুকতো কোন একজন বামকর্মী। সেই ধর্ম কোন প্রেক্ষাপটে
গড়ে উঠলো তা অন্তত আমার দশ বছরের সাংগঠনিক রাজনীতিতে পঠিত হয়নি-কোন দলকেও শুনিনি এ নিয়ে আলোচনা করতে। ফলে জনগণের মর্মমূলে আগে পৌঁছাতে হবে-তারপর তাকে পরিবর্তনের কথা আসে।

ইউরোপ ধর্মকে গেলাচ্ছে-আবার ধর্মকে বিকৃতও করছে- তাদের বিজ্ঞান ধর্মকে প্রশ্ন করছে। তারা সহজেই সব পেতে চায় হাতের কাছে। আমাদের সে দশা নয়। আমাদের সাধনা করে পেতে হয়-কষ্টকেও আমরা প্রাপ্তি ভাবি। ফলে সাধনাকে বুঝতে হবে। সেই সাধনাকে আয়ত্ব করতে হবে-তাকে মেনে চলা পরের বিষয়। ধর্মকে আপনি যে দৃষ্টিতেই দেখেন না কেন-তা টিকে আছে-টিকে থাকবে-এর পরিবর্তনও ঘটবে। আজকের যুগে ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার কারা বন্ধ করবে-সাম্প্রদায়িকতা করা বন্ধ করবে-কারা ধর্মের মূল্যবোধকে রক্ষা করবে। বুর্জোয়ারা পারবে না। তাইলে। যে বিধবা হিন্দু সমস্ত শক্তি খুঁজে পায় তার দেবীর চরণতলে-সেই দেবীকে ছাড়াতো বিধবার মর্যাদা রক্ষা করা যাবে না। যে ম্রো যুবক ঠোঁটে রঙের স্বপ্ন আঁকে তার সাথে ঠোঁটে রঙ লাগিয়ে একদিন নাচলে নিশ্চয়ই বামেদের জাত যাবে না। সে শুধু নাচই নয় তাতে শ্রদ্ধাও থাকতে হবে।


আপনি যদি বলেন তত্ত্বের কথা তাহলে ধর্ম সম্পর্কে অনেক কিছুই বলা যায়। কিন্তু সেই তত্ত্ব আপনি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন তাকে চাপিয়ে দিতে পারেন না। আর সেই তত্ত্ব যারা আবিষ্কার করেন তাদের আর আপনার উদ্দেশ্য না মিললে কি করবেন। কারণ আপনি নিজের মাটির ওপর দাঁড়িয়ে আছেন। সেখানের আকাশে সূর্যগ্রহণের কারণ হিসেবে আপনি রাহুর গ্রাস কিংবা চন্দ্র সূর্যের প্রদক্ষিণ পথ বুঝিয়ে দিলেন-কেউ একজন যদি সেই মিথেই আস্থা রাখে আপনি কি করবেন। নাকি মিথে আস্থা রাখবে বলে আপনি তাকে শুধু বৈজ্ঞানিক যুক্তিই বলবেন। বামেরা জনগণের কাছে ধর্ম কে নিয়ে যাবে এভাবেই। যে কর্মীটি পানির নবী খোয়াজ খিজিরকে চেনে না-তার জেলেদের মধ্যে কি কাজ করা সাজে। সেই কাজ করতে গিয়ে দুজনকে দলের কর্মী করতে পারাই কি তার কাজ। নাকি এই বিশ্বে মানুষ প্রকৃতির জীব হয়ে তার কর্তব্য নিষ্ঠায় আজ কতো বিপর্যয়ের সামনে পড়ে আছে তার ইতিহাসও শোনাবে। সেই কৃষকের কন্ঠে গেয়ে ওঠা গানে তাল সুর মেলানোর কর্মসূচিইতো হওয়া উচিত বামেদের পরিকল্প না। সেটা রাজপথ শূণ্য করে না অবশ্যই।

টাকার বিষয়টিকে আমি সংস্কৃতি হিসেবেই দেখেছি। টাকা না বলে মুনাফা বা সম্পত্তি বললে হয়তো বুঝতে সুবিধা হতো। কিন্তু আপনি আমাকে না বোঝানো পর্যন্ত টাকাকে আমি এি হিসাবেই জানি। কিন্তু টাকাতো সবসময়ই তাই নয়-একজন ভিক্ষুকের কাছে তাতো আর মুনাফা নয়। কিন্তু টাকা এজন্যেই সংস্কৃতি যে এর সংখ্যা সমাজে মানুষের অবস্থান নির্ধারণ কওে দেয়। সেটা মনস্তাত্ত্বিকভাবেও। এ জন্যে টাকায় নামওতো লিখে রাখে কতো জন। সেতো মালিকানার চিন্তা থেকেই। বাম দলের টাকা সংগ্রহ গুণগতভাবে ভিন্ন-কারণ এটা একটা সামাজিক প্রয়াস-এবং তা সমগ্রের অধিকার নিশ্চিত করণের লক্ষ্যেই। কিন্তু আপনি কি নিশ্চিত যে যেদিন কোন কর্মীর সংগ্রহে টাকা বেশি আসবে তার মনটা সেই কম পাওয়ার মতোই একই থাকবে। তকে অফিসে ফিরে গিয়ে মন খারাপ করে থাকতে হবে না। আপনি সংগঠন করেছেন কি না জানি না। করলে জানতেন যে বেশি টাকা তুলতে পারে বা বেশি সংখ্যকবার টাকা তোলায় অংশ নেয় সেই নেতা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি আমাদের বামরাজনীতির সংস্কৃতিতে। তাহলে । যার কাছে টাকা নেই-এই পৃথিবীতে তার অস্তিত্ব ধুলো-বালিসম। এ নির্মম বাস্তবতা। স্লোগান মানে আপনি দাবি করছেন-সংস্কৃতি নির্মাণ করছেন। সেখানে টাকার উপস্থিতি আমার কাছে আপত্তিকর। এদেশে টাকা নেই যাদের তাদের জন্যেই আপনার আন্দোলন- তাদের কাছেই আবার আপনি টাকা চাইবেন।
আর আপনি ভোট চাইতে যাওয়ার পর সে যদি নাই বোঝে আপনি ওদের মত নন-আপনাকে ভোট আর নোট দুটোই দিতে হবে কারণ আপনি তাদের জন্যেই আন্দোলন করছেন-তাহলে তার কাছে ভোট চাইতে যাওয়া বামের রাজনৈতিক চর্চার অস্বস্তি মাত্র। আমি সেজন্যেই বারবার বলেছি নির্বাচন হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি সময়ের প্রস্তুতি। কিন্তু বামদলগুলো নির্বাচনের সময়েই জনগনের সামনে অনেক বেশি দৃশ্যমান থাকে। এতদিন পরে এসে সেই টাকা নিয়েই স্লোগাণ তৈরি করলেন-এবং আবার অদৃশ্য হয়ে গেলেন। কিন্তু ওই জনগণকে যে টাকা পিছু ছাড়লো না। আবার ফিরে এসে ভাটের সময়ে আপনি নোট ভোট দুটোই চাইবেন এ কেমন কথা। কারণ-যার জন্যে আন্দোলন করছে বামরা সে ভোট যাকেই দিক নোটগুলোকে পরম মমতাতেই আঁকড়ে ধরে। এটা বামেদের বুঝতে হবে-এটা তার রাজনীতি।

টাকা পুরুষতান্ত্রিকই। আমাদের সময়ে টাকার মালিক পুরুষ-ধর্মীয় আইনে যাই থাক না কেন। আসলেই যে নারীর কাছে টাকা নাই তার জন্যে এই স্লোগাণ নিজের দাসত্বকেই মনে করিয়ে দেয়। তার কাছে কিছু কথা শোনাবো বলে টাকা চাইবো। এই চর্চা ঠিক না। বুর্জোয়ারা কি করল তা দেখার বিষয় কিন্তু বামেরা কি নির্মাণ করছে তাও দেখার বিষয়। বুর্জোয়াদের পাল্টাপাল্টিতে গণসংস্কৃতি নির্মাণ হয় না। জনগণকে নিয়েই তা করতে হয়।

আমি আসলেই কিছু বুঝাতে পেরেছি নাকি আপনাদের বিরক্তি তৈরি করছি-এ বিষয়ে সংশায়িত। তবে এই পোষ্টে আপনার মতামত আমার স্মরণে থাকলো।

১০. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:২৯
মনজুরুল হক বলেছেন:

@নাস্তিকের ধর্মকথা। আপনি পোস্টের লেখককে বামমনষ্ক মনে করায় আপনার অনেকগুলো মন্তব্য পাওয়া গেছে। সেটাই এই পোস্টের প্রাপ্তি।

লেখক নিজেকে বামমনষ্ক মনে করেন। তিনি একটি বাম দলেরও সদস্য হয়ত, কিন্তু বাম আর মাকর্সবাদী ব্যাপারটা গত চার দশক ধরেই পরিষ্কার বিভাজন রেখা তৈরি করেছে। সেটা লেখক ধরতে পারবেন না তাও দোষের কিছু নয়, কারণ তার বয়স খুব বেশী নয়।

ধর্ম আর নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লব বা যুদ্ধের কোন স্তরে আমরা অথবা আমাদের সামনে এই বিষয়গুলির প্রশ্নে কী করণীয় সেটা আমি "চাঁই" দের (টিপু বিশ্বাস,বাদশা বা এই মাপের অনেকের) সাথে আলোচনা করতে যেয়ে শেষ পর্যন্তু কিছুই পাঠোর্দ্ধার করতে পারিনি। এক ধরণের গোঁজামিল দিয়ে তারা দিনাতিপাত করে চলেছেন।
৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১৩

লেখক বলেছেন: আপনিও বিশেষ করে আমার পোষ্ট পড়েছেন। এটা আমার পোষ্টের এবং ভাবনার প্রাপ্তি।

আর বিপ্লব এর স্তর বা এই সম্পর্কিত বিষয় আমার কাছে সেলফে তুলে রাখা বইয়ের মতই। ততদিন পর্যন্ত যতদিন পর্যন্ত আপনি দেখাতে পারবেন এই দেশে কোন সঠিক ধারার বাম দল আছে।

এ অনেক বড় সমালোচনা-কিন্তু যদি সত্যি হয়-তাই এই সমালোচনাকে মিথ্যা প্রমাণ করতে পারে।

ভালো থাকবেন।

১১. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৬
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: @নাস্তিকের ধর্মকথা-আপনার জন্যে ভুলে যাওয়া কিছু কথা। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারের কথা আমি কোতাও বলিনি। আমি বলেছি ধর্মকে ধারণ করতে হবে মানে বুঝতে হবে-শ্রদ্ধা করতে হবে। রাশিয়াতে লেনিনের বিপ্লবের ইতিহাসে-মাওসেতুং-এরা রাজনীতি করতে গিয়ে ধর্মকে ভেবেছেন কিনা। আমিও ওই ভাবতে বলছি। তত্ত্ব তৈরি করতে বলছি। সংস্কৃতি তৈরি করার স্বপ্ন দেখি-যার বাতাবরণে সুস্থ্যতাই বিকশিত হবে।


আমাদের দেশে মওলানা ভাসানিকে কি বলবেন-হাজং বিদ্রোহকে কি বলবেন-সাঁওতাল বিদ্রোহ-ফকির-সন্ন্যাস বিদ্রোহ।

ধর্মকে সত্যিই বোঝার বিষয় আছে।
১২. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:২৫
সোনা১ বলেছেন: ধর্ম ধর্ম কইরাই সব গেছে, ধর্ম জানলে এই সমস্যা হইতো না, ধর্ম জানাটা তাই বেশি জরুরী বর্তমানে নব্য আতেঁল সমাজের, কারণ আজকাল কামের চে মাছালা ছড়ায় বেশি এনারা
৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৭

লেখক বলেছেন: আমিও বলতে চাই ধর্মকে না বুঝলে-শ্রদ্ধা না থাকলে চলবে না। আর তত্ত্ব পরিবর্তনশীল। চর্চায়র সাথে তার দ্বান্দিক সম্পর্ক।

১৩. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৭
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
শ্রদ্ধার বিষয়টিতে আমি আসলেই একমত হতে পারলাম না.....

কোন এক মানুষের মুদ্রাদোষ হলো- সে কিছুক্ষণ পরপর তার পাছা চুলকায়। পাছা চুলকানোটা সম্পূর্ণই তার ব্যক্তিগত ব্যাপার, সে চুলকাতেই পারে- সেটা নিয়ে অন্যদের উচ্চবাচ্য করার কিছুই নেই; কিন্তু এখন যদি বলেন তার এই পাছা চুলকানোকেও আমাদের শ্রদ্ধার চোখে দেখতে হবে- তো ভাই সেটা কেমনে সম্ভব?

যেকেউ তার বিশ্বাস মতে যা ইচ্ছা করুক- কিন্তু আমার চিন্তায়-যুক্তিতে-রুচিতে সেটা যদি আপত্তিকর মনে হয়, তারপরেও কি করে শ্রদ্ধা করি বলুন?

অধিকাংশই ধর্ম মানে, পালন করে; সেটাই কি যথেষ্ট ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা আনয়নের জন্য? কিকরে ভুলি - ধর্মের কুসংষ্কারাচ্ছন্নতার কথা, ধর্মের পুরুষতান্ত্রিকতার কথা, ধর্মের নারীর প্রতি অবমাননা-ঘৃণ্য অবস্থানের কথা, ধর্মের মধ্যকার বিপরীত মত-পথের প্রতি বিদ্বেষের কথা? এসব যেকেউ বিশ্বাসের অনুবর্তী হয়ে মানতে-পালন করতে পারে, কিন্তু এসবের প্রতি অবিশ্বাসী একজন কিভাবে শ্রদ্ধা রাখতে পারে?

বেশী কিছু না- ছোট দু'একটি উদাহরণ দেই- নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গী দেখি ইসলামের কোরআন আর হিন্দুদের মনুসংহিতায়.....

সুরা নিসা: আয়াত ৩৪:
পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ্ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ্ সবার উপর শ্রেষ্ঠ।

সুরা বাকারা: আয়াত ২২৩:
তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর।

সুরা আল ইমরান: আয়াত ১৪:
মানবকূলকে মোহগ্রস্ত করেছে নারী, সন্তান-সন্ততি, রাশিকৃত স্বর্ণ-রৌপ্য, চিহ্নিত অশ্ব, গবাদি পশুরাজি এবং ক্ষেত-খামারের মত আকর্ষণীয় বস্তুসামগ্রী|। এসবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভোগ্য বস্ত।| আল্লাহ্র নিকটই হলো উত্তম আশ্রয়।

.... ইত্যাদি।

মনুসংহিতা ৯ অ: ১৪ শ্লোক:
স্ত্রীরা সৌন্দর্য অন্বেষণ করে না, যুবা বা বৃদ্ধ ইহাও দেখে না, সুরূপ বা কুরূপ হউক- পুরুষ হইলেই উহার সহিত সঙ্গম করিতে চায়।

মনুসংহিতা ৮ অ: ৩৬৫ শ্লোক:
স্ত্রীলোকগণ কোনরূপ দ্বিধা-দ্বন্দ্ব না করিয়াই আপনাপেক্ষা উৎকৃষ্ট জাতীয় পুরুষদিগকে সহাবাসার্থে ভজনা করিবে।

মনুসংহিতা ৯ অ: ৫৯ শ্লোক:
সন্তানের অভাবে স্ত্রী, পতি প্রভৃতি গুরুজন কর্তৃক নিযুক্ত হইয়া দেবর অথবা অন্য যে-কোন সপিণ্ড হইতে অভিলষিত সন্তান লাভ করিবে।

মনুসংহিতা ৯ অ: ৫১ ও ৫২ শ্লোক:
যেমন গবাদি গর্ভে উৎপন্ন বৎস গো-স্বামীর (গাভীর স্বামীর) হয়, তেমনি পরপুরুষে উৎপাদিত সন্তান উৎপাদকের হয় না, ক্ষেত্রীরই হয়।
যদি কোন ব্যক্তি নিজ বীজ পরক্ষেত্রে বপন করে, তবে বীজবপনকারী সে ফল ভোগের কর্তা না হয় ক্ষেত্রীই ফল ভোগে কর্তা হইবে।

....... ইত্যাদি।

এখন বলুন এসবে আমাদের শ্রদ্ধা আনতে হবে????

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৫

লেখক বলেছেন: আবারো আপনাকে ধন্যবাদ এই পোষ্টে মতামত প্রদানের জন্য। ধর্মের প্রতি আপনার শ্রদ্ধা প্রকাশ না করার সাবলিল ভঙ্গী ধর্ম সম্পর্কে আমার কিছু মতামত প্রচারের সুযোগ করে দিল। যদিও এই বিষয়ে পান্ডিত্য অর্জন এখনো সুদূর পরাহত-কিন্তু একেবারেই কিছু না বললে পূর্বের বক্তব্যগুলোও পরিষ্কার হবে না।

আমি কিছু বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করতে চাই যে আমি কখনোই বামপন্থীদের নামাজ পড়তে-পূজা করতে বলিনি। আর আমি মানবিকতা বর্জিত ধর্মকে শ্রদ্ধার চোখেও দেখতে বলিনি। একান্তই যে বৃদ্ধ এখন নিজের কবরে যাওয়ার দিন গোনে, ধর্ম তার এখনকার একমাত্র অবলম্বন-সে বামপন্থীদের রাজনীতির অংশ হলে তার ধর্ম সম্পর্কিত বিশ্বাসকে শ্রদ্ধা করতেই হবে। আমার বাবা নিজের মুসলমান পরিচয়ই প্রদান করেন-তার নিজের সম্পত্তির উল্লেখযোগ্য অংশ তিনি একমাত্র মেয়ের বিয়েতে খরচ করেছেন এবং এখন পর্যন্ত মেয়ের সংসারে সহযোগীতা দিচ্ছেন-স্থায়ী সম্পত্তিও দিয়ে যাবেন মেয়েকে। ধর্ম যাই বলুক না কেন। আমার যে সমস্ত বন্ধুরা এখন মদ খায়-শূয়োরের মাংস খায়-আওয়ামিলীগ সমর্থন করে, জীবনের কোন এক সময়ে তারা দাড়ি টুপি লাগিয়ে মৃত্যুর দিন গুনবে- এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ মৃত্যুর প্রতি জিঞ্জাসা-অনন্তের প্রতি সাধনা-একজন মানুষের জন্য স্বাভাবিক-এ মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট। এই বিশ্বাস তার একাকীত্বের সঙ্গী-তার আস্থা-নির্ভরতা-একে শ্রদ্ধা না করে রাজনীতি আগাবে কোন পথে। একজন গওহর আলী-এত মহান একজন মানুষ-শেষ জীবনে তাঁর ইচ্ছা কেবলমাত্র শান্তিতে মরা। তার সামনে লাল পতাকার স্বপ্ন কি করে ফুটে উঠবে। যে যুবকের সাধ্য নাই মায়ের শ্রাদ্ধের টাকা যোগাড়ের -তাকে সেই টাকা যোগাড়ে সহযোগীতা করাটাই সেই মুহূর্তের মানবিকতা। যে কৃষক ক্ষেতের আলে নামাজ পড়ে সে আল্লাহকে তার সৃষ্টিকে গালিগালাজও করে-তবে। ধর্ম তার কাছে নির্ভরতারই প্রতীক-ভালো থাকার আকাঙ্ক্ষা মাত্র। যে বৃদ্ধা জীবনের অনেক চাওয়াকে চাপা দিয়েছে তার বোরখার তলে-সেও শেষ জীবনে স্বর্গের পথে যাওয়ার আশায় ব্যকুল থাকে। তার কাছে রাজনীতি মানে কি।

ওপররে চরিত্রগুলো উদাহরণমাত্র-এরকম অসংখ্য আছে। এদের মধ্যে কে সাম্প্রদায়িক-কে নারী বিদ্বেষী-কে অন্ধ-কুপমন্ডুক। নাকি রাষ্ট্রই সমস্ত কিছুর জন্য দায়ী। মানুষকে সাম্প্রদায়িক করে তুলেছে কে রাষ্ট্র না ধর্ম। এই দেশের ইতিহাস কি বলে-কারা ভাগ করেছে ভারতবর্ষ, রাজনীতি না ধর্ম। রাজনীতি কখনোই ধর্মের পক্ষে কাজ করেনি- সে ধর্মকে বিকৃত করেছে বারবার। আমাদের দেশে সাম্প্রদায়িকতার জোয়ার শুরুর কারণ কি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট না ধর্মীয় কারণ। সেই সাম্প্রদায়িকতা আজো যখন আমাদের রক্তে মিশে থাকে-তখন কাকে দায়ী করবেন ধর্মকে না উপনিবেশকে। ছোট বেলায় যতো হিন্দু এদেশে দেখেছি-এখন আর দেখি না কারণ কি। ধর্ম না রাজনীতি। ভাবুনতো-এদেশ থেকে নবান্ন গিয়েছে, মৌলবাদ এসেছে- বাউল গিয়েছে, মাদ্রাসা এসেছে-মনসার ভাসান গিয়েছে-গাজীর গীত গিয়েছে-পদ্মার নাচন গিয়েছে-বেড়েছে মসজিদ-বেড়েছে মোবাইল। তাহলে কে দায়ী এর জন্যে ইসলাম না রাষ্ট্র। এখনকার যাত্রা পালায় যখন নায়িকার ভরা বুক উদোম হয়ে যায়, সে কিসের জন্য-ওই ধর্মীয় মানুষগুলো সেখানে কি তাদের কোন ধর্মীয় কৃত্য পালন করতে যায়। আমি গ্রামে দেখেছি-মধ্যরাত অতিক্রান্ত সময়েও মারফতি গান শুনতে মহিলারা কতদূর থেকে ছুটে এসেছেন-মাথায় ঘোমটা পর্যন্ত টানার প্রয়োজন মনে করেন নি। অথচ যে মহিলা গাচ্ছিলেন-তাতে ধর্মের নবিজীর সাফাই- চুকা বেগুনের দৈহিক রুপের চুলকানি, সব আছে তার গানে। এই গান কি সমাজের রচনা নয়-এখানে ধর্মের দোষ কোথায়। এদশে পর্ণো এসেছে-হজ্বে যাওয়ার সংখ্যা বেড়েছ। আমাদের দেশে মানুষ কবে থেকে হজ্জে যায়। যাওয়ার কারণ কি ধর্মীয় না সামাজিক প্রতিপত্তি বৃদ্ধি-হজ্জ ও কি এখন একটা ব্যবসা নয়-এর সাথেও কি রাজনীতি যুক্ত নয়। তাহলে ধর্ম কোথায় আছে। যে পাকিস্তান ধর্মের কথা বলে রাষ্ট্র ভাঙলো, মুহূর্তের জন্যেও কি সে ধর্ম মেনেছে। সাম্রাজ্যবাদ যুদ্ধের গায়ে কোন পোষাক পড়ায়-ওই ধর্মেরই পোষাক। তার নিজেকে আড়াল করার জন্য। আমাদের দেশে হিন্দু ঘরের কোণে গিয়েও শান্তি পায় না-ঠিক উল্টো পরিস্থিতি ভারতে। তাহলে ধর্মকে কে চালায়। ইউরোপ ধর্মের বিরুদ্ধে রেনেসাঁ আনলো আর তারপরই আফ্রিকাতে নিয়ে গেল ধর্ম-এখানেও তাই। তাহলে কি বলবেন না রাষ্ট্র ধর্মেরও শত্রু।

ধর্ম ছিল গণমানুষের সংস্কৃতি। এই দেশে দেখুন-রামায়ণে কি আছে-শ্রী কৃষ্ণ কীর্তন কি বলে-চৈতন্য-বাউলরা। ইসলাম এখানে এসে কোনভাবেই কি স্থানীয়ের প্রভাব মুক্ত থাকতে পেরেছে। চর্যাপদ কে কি বলবেন- এতো বৌদ্ধদের সৃষ্টি। সেই চর্যাপদের সাহিত্যে প্রভাবিত রবীন্দ্রনাথসহ সকলেই। সেই চর্যাপদে উল্লেখ আছে নাটকের প্রসাধনির কথা। তার মানে সেই সময়ে নাটকের চর্চা হত। ওই চর্যাপদের বাণি গীত হত বলেও শোনা যায়। সেই বৌদ্ধও সাম্প্রদায়িক হয়ে গেল-কখন, যখন-পালরা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করলো বৌদ্ধদের। কৈবর্তরা পালদের সাথে বিদ্রোহ করলো-অস্তিত্ব রক্ষার জন্য-সেও তো ধর্মীয় রীতিতে সংগঠিত হয়েই। বৌদ্ধ ধর্মের বিষয়টা একটু খেয়াল করুন-বিশ্বে এখন যে সমস্ত দেশে বৌদ্ধদের সংখ্যা বেশি সেখানে সংঘাত সংঘর্ষ কম-যেটুকু থাকে তাও রাষ্ট্রেরই প্ররোচণা। ভূটানে-সেখানকার মানুষ ধর্মের প্রতি প্রচন্ড আকৃষ্ট হচ্ছে। সেখানে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বদলে বার্ষিক সুখে থাকার কর্মসূচি নেয়া হয়েছে বলে পত্রিকায় পড়লাম। এবং দেখুন ভূটানে কোন অশান্তি নেই।

রামায়ণে সীতাই মহৎ-মর্যাদায় সে রামকে ছাড়িয়ে যায়- রাম দেবতা আর সীতা দেবতার সৃষ্টি। সীতা নারী-সে আত্মসম্মানে দেবতার কাছেও হার মানে না। কিন্তু সেই সীতাই সতিত্ব নিয়ে প্রশ্নে পড়ে-কারা করে সেই প্রশ্ন-রামায়ণেই আছে উত্তর- ব্রাহ্মনরা। যে হিন্দু ধর্মে এতোগুলো দেবী-সেই হিন্দু ধর্মে নারীর অবদমন শুরুর কারণ কি। ব্রাহ্মনদের রাজনীতি-পুরুষতান্ত্রিকতা। মহাভারতেরও দেখুন, নারী সেখানে বিশাল ব্যপ্তি নিয়ে আছে। নারী ছোট হয়ে গেল কেন-সেই আধিপত্যের প্রশ্নেইতো। সাম্রাজ্যের কাছেইতো নারী পরাস্ত হলো-কারণ তাকে দিয়ে যুদ্ধ হবে না। সে কোমল। নারীর ভালোবাসাকে পতিব্রতা হিসেবে প্রচার দিলো কারা পুরুষরাই। কালীর পা কি শিবের বুকে ওঠেনি। আর মনসা- রাজশক্তির বিরুদ্ধে তা বিদ্রোহেরই প্রকাশ-তার প্রধাণও নারী। কিন্তু সেই ধর্মই কালে কেমন পরিবর্তিত-বিকৃত হয়। তারপরও সেই বিকৃত ধর্মের অনুশাসন সাধারণ মানতে চায় না। জানেও না অনেকেই। কিন্তু রাষ্ট্র ঠিকই জানে-রাজনীতি ঠিকই জানে। দোররা মারার বিধান ইসলামের কোথায় আছে-সেই বিধান চালু করল কারা-মৌলবাদীরা, কেন-স্বার্থ কিসের, ধর্মীয় না রাষ্ট্রীয়।

আশা করছি আমার আলোচনা আপনার এই পোষ্ট সংক্রান্ত মনোযোগের বিঘ্ন ঘটাবে না। আরো কিছু লিখবো শীঘ্রই।

১৪. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:০৩
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আপনি ধর্মের দুটি রূপই দেখছেন- জনগণের কৃত্য পালন ও নখরে রক্ত লাগানো- যার দ্বিতীয়টিকেই শুধু বর্জনীয় মনে করেছেন। কিন্তু ধর্ম তো শুধু কৃত্য পালনের বিষয় আষয় হয়ে থাকে না শেষ পর্যন্ত; ধর্ম মানে এক ধরণের বিশ্বাস- এই বিশ্বাসের পালে হাওয়া দিয়ে যে বিশ্বাসী হতদরিদ্রকে শোষণ করাটা ডালভাতে পরিণত করে বুর্জোয়ারা- সেটি কি একজন বাম ভুলতে পারে? ধর্ম যে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টিকারী অনুষঙ্গও।

যে চাষী তার ক্ষেতের আইলে বসে নামাজ পড়ে- তার কাছাকাছি হতে কি তার পাশে বসে নামাজ পড়তে হবে? চাষীর সারের সমস্যা- সেচের সমস্যা- বীজের সমস্যা; খরচ না তুলে সর্বসান্ত হওয়ার সমস্যা নিয়ে কি তার কাছাকাছি যাওয়া যায় না? ধর্মের ভালো দিক বলে তার কাছে গিয়ে কি লাভ? সে তো সেটা জানেই, আর জানে বলেই পুঁজিবাদী শোষণে চরম বিপদে পড়েও আল্লাহর দিকে দুহাত তুলে কাঁদে- মহাজনরে অভিশাপ দেয়; বাম কর্মীও গিয়ে আল্লাহর কাছে মোনাজাত ধরে কি সেই চাষীর সাথে সম্পৃক্ত হবে? সেই গৃহবধু সান্ধ্য আহ্নিক করে- তার কাছে গিয়ে বাম কর্মীকেও কি সান্ধ্য আহ্নিক করতে হবে? নাকি এই সমাজব্যবস্থায় গৃহবধুটির যত লাঞ্ছনা-অপমান সেসবের সঙ্গী হবে? চাকমা বৃদ্ধার কাছে গিয়ে চীবর দানে কি স্বর্গের স্বপ্ন বোনার কথাই বলবে- নাকি চাকমা বৃদ্ধার দুঃখ-সুখের ভাগিদার হওয়ার চেষ্টা করবে? জাতিগত বৈষম্য, পুরুষতান্ত্রিক শোষণ আর বয়স্কাবস্থায় চারদিকের অবহেলায় পিষ্ট জীবনে বন্ধুর হাত বাড়িয়ে না দিয়ে কি তার স্বর্গ-স্বপ্নের পালেই হাওয়া লাগাতে হবে?

"রাজনীতি যদি হয় দৈহিক মানুষ এবং বৈশ্বিক মানুষের সমস্ত রকম আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণস্থল- মানসিক নির্ভরতার জায়গা-মানবিকতা চর্চার জায়গা আমি সেই রাজনীতির পক্ষে"- আপনার মত আমিও মনে করি বামদের রাজনীতি এমনই হওয়া উচিৎ এবং সে পথে ধর্মীয় পথে অগ্রসর হওয়ার কিছু নেই।

হুম, ধর্মের বিষয়ে মানুষের আবেগ আছে, সেটা জেনেই বামরা ধর্মের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করবে না- করা উচিৎ নয়, ধর্মের প্রতি অশ্রদ্ধা থাকার পরেও; কিন্তু তার মানে এটা নয় যে- ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা আনয়ন করতেই হবে। সাধারণের ধর্ম পালনে বাঁধা দেয়ার প্রশ্নই উঠে না; কিন্তু তার মানে এই নয় যে- জনসম্পৃক্ত হওয়ার জন্য ধর্ম পালন করা শুরু করতে হবে।

আসল কথা হলো- মানুষের সুখে-দুখে মানুষের মাঝে যেতে হবে- থাকতে হবে, এদেশে কৃষকদের-শ্রমিকদের হাজারো সমস্যা, সেই সমস্যায় তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে, তাহলেই হবে- এভাবেই জনবিচ্ছিন্নতা কেটে যেতে পারে। ধর্ম নিয়ে যাবার কোন প্রয়োজন নেই- ধর্ম সম্পর্কে মুক থেকেও মানুষকে জয় করা সম্ভব সেটা এদেশেই বামরা অসংখ্যবার প্রমাণ করেছে। আজকের বামপন্থীদের এ জায়গাটিতেই সংকট- এজায়গাটিতেই খুব বেশী করে কাজ করতে হবে।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৫

লেখক বলেছেন: আমি বলতে চাচ্ছিলাম রাষ্ট্রই এখন ধর্ম পালন করে। জনগণের ধর্ম পালনের অত গরজ নেই। রাষ্ট্র এখন নামাজ পড়ে-মাঝে মাঝে পূজায় যায়-রাষ্ট্রের মাথায় বিসমিল্লাহ্-টুপি দাড়ি নিয়ে রাষ্ট্রই আলাপ করে সংসদে। বি.এন.পি ভোট পেছানোর জন্যে হজ্জ্বের কারণ দেখিয়েছিলো। কোথাও শুনেছেন জনগণের এই বিষয়ে কোন মন্তব্য-বরংচ এটা বি.এন.পির চালিয়াতি বলেই বিশ্বাস করেছিল। রাষ্ট্র কিন্তু সেই নির্বাচন পিছিয়েছিল। জনগণের এতো নিয়ম কানুন মনে নেই। যদি না রাষ্ট্র, সমাজ মনে করিয়ে দেয়। জনগণের জন্য এটা বিশ্বাস-তার মুক্তির পথ-সেই পথ যদি বাম কখনও দেখাতে পারে তাহলে এখনকার পথকে সঙ্গী করেই নিয়ে যেতে হবে, অনেকদিন পর্যন্ত।

আফ্রিকায় দেখুন-সেখানে ইউরোপ যখন ধর্ম নিয়ে গেলো-এক কৃষ্ণাঙ্গ ধর্মযাজক ডেসমন্ড টুটর ভাষ্যে-সাদা চামড়ার লোকগুলো যখন এল, তখন তাদের হাতে ছিল বাইবেল আর কালো মানুষদের অর্থাৎ আমাদের হাতে ছিল আমাদের মৃত্তিকা, জমি। ওরা বলল চোখ বন্ধ কর, ঈশ্বরকে ভাব, ধ্যনস্থ হও। আমরা বন্ধ করলাম আমাদের চোখ। তারপর চোখ খুলে দেখি ওদের হাতে আমাদের ভূমি, আর আমাদের হাতে শুধুই একখানা বাইবেল। আফ্রিকানার দাঁড়াতে পারত তাদের বিরুদ্ধে-যদি ধর্মকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করত। আচেবে থিংকস ফল এপার্টে ওকোংকোর সেই সর্প্ধাই তুলে ধরেছেন যে স্পর্ধার শক্তি নিজের ধর্ম-সংস্কৃতি, যা দাঁড়িয়েছিলো ইউরোপের বিরুদ্ধে-বাইবেলের বিরুদ্ধে নয়। সেমবেন উসমান লিখেছেন উপজাতির ক্ষত চিহ্ন-দাসত্বের থেকে মুক্তি পেতে নিজের মেয়ের গায়ে অসংখ্য ক্ষত তৈরি করেছেন-তাই এখন তাদের ধর্মীয় রীতি। ধর্ম কেউ বিকৃত করে আবার কেউ ধর্ম দিয়েই নির্মাণ করে মানবিক ইতিহাস।

আমাদের দেশের আদিবাসীদের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা করতে হলে তাদের ধর্মকে রক্ষা করতে হবে। কারণ ধর্ম শুধুমাত্র তাদের কৃত্য পালনের বিষয় নয় তা তাদের জীবন যাপনের রীতি-তাদের উৎসব-সামাজিকতা। সেলিম আল-দীনের বনপাংশুলে তাই লিখা আছে-মান্দিদের সাথে আধুনিকতার সংঘাত-রাষ্ট্রের সংঘাত-যা শুধুমাত্র তাদের জীবিকাকেই নয় জীবনকেও ধ্বংস করে দিচ্ছে। ধর্ম তাদের আন্দোলনের ভাষা-ইতিহাস বারবার তাই স্বাক্ষ্য দিয়েছে।

আপনি বলছেন ধর্মের বিষয়ে মানুষের আবেগ আছে-আমাদের দেশের বামেদের আবেগ বিষয়ক মতামত আমার জানা নেই। আবেগ মানবিক একটি বিষয় এটুকু নিজের জ্ঞানে বুঝি। অন্ধ আবেগ সমাজেই তৈরি হয় এটা মানি। কিন্তু যেটা আবেগ তাকে অস্বীকার করাটা কি অমানবিক হয় না। রবীন্দ্রনাথ মানুষের ধর্মে বলেছেন-
মনুষ্যত্বের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গেই দেবতার উপলব্ধি মোহমুক্ত হতে থাকে, অন্তত হওয়া উচিত। হয় না যে তার কারণ, ধর্মসন্মন্ধীয় সবকিছুকেই আমরা নিত্য বলে ধরে নিয়েছি। ভুলে যাই যে, ধর্মের নিত্য আদর্শকে শ্রদ্ধা করি বলেই ধর্মমতকেও নিত্য বলে স্বীকার করতে হবে এমন কথা বলা চলে না। ভৌতিক বিজ্ঞানের মূলে নিত্যসত্য আছে বলেই বৈজ্ঞানিক মতামত মাত্রই নিত্য, এমন গোঁড়ামির কথা যদি বলি তাহলে আজও বলতে হব, সূর্যই পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে।

আরো বলেছেন-
এ কথা মানতে হবে, ভুল মত মানুষেরই আছ, জন্তুর নেই। ................. কিন্তু মূল কথাটি হচ্ছে, তার এই বিশ্বাস যে, প্রত্যক্ষ বিচ্ছিন্নতাকে পরিপূর্ণ করে আছে অপ্রত্যক্ষ নিখিলতার সত্য। সমগ্রকে উপলব্ধি করবার যে প্রেরণা আছ তার মনে সেই তার ভূমার বোধ। মানুষ অন্তরে বাহিরে অনুভব করে সে আছে একটা নিখিলের মধ্যে। সেই নিখিলের সঙ্গে সচেতন সচেষ্ট যোগসাধন দ্বারাই সে আপনাকে সত্য করে জানতে থাকে। বাহিরের যোগে তার সমবৃদ্ধি ভিতরের যোগে তার সার্থকতা।

মানুষর সেই অনন্তের প্রতি সাধনাক কিছুতেই অস্বীকার করা যায় না। লালনে আছ-
দেহ-ধন-মন দিতে হয়-
সে-ও ধন তারি, আমারতো নয়,
আমি মুটে মোট চালাই।
আবার ভেবে দেখি
আমিই বা কি
তাওতো আমার হিসাব নাই।।

সেই আমিকে ধরার বা বোঝার কিংবা চিন্তা করার সময় আমার নেই-জীবন আর যুক্তি-প্রগতি কতো কিছুর ভীড়ে সুযোগই বা কোথায়। কিন্তু তার ওই বোধকে কিছুতেই অস্বীকার করতে পারি না। হয়তো কখনও ভেবে উঠি-কিংবা এই যে এখানে উল্লেখ করলাম। সেই অনন্তকে জানবার সাধনা মানুষের নিশ্চয়ই হারিয়ে যাব না।

আমি ধর্ম বলতে একেই বুঝিয়ে ছিলাম। জিজ্ঞাসা। মানুষর জিঞ্জাসাকে-বিশ্বাসক শ্রদ্ধা করতেই হবে। ধর্মের হিংস্রতা পুঁজিবাদে দূর হবে না, বাড়বে বরঞ্চ। এই মুহূর্তে স্থানীয় গণসংস্কৃতি নির্মাণই পারে জনগণকে ধর্মের অন্ধতার বিরুদ্ধে উজ্জিবীত করতে। কিন্তু সে ধর্মকে সাথে নিয়েই-মানে ধর্মকে স্বীকৃতি দিয়েই-ধর্ম মানে স্রেফ বিশ্বাসও যদি ধরে নেই।

আপনার পান্ডিত্য সম্পর্কে আমার শ্রদ্ধা আছে-খুব বেশি পড়াশোনা না করে আপনার সাথে বেশিদূর চালিয়ে নিতে পারবো না এটা জানি। আপনার পরবর্তী মতের অপেক্ষায় রইলাম। আমি এই পর্যন্তই। এই বিষয়ে আরো কিছু পড়াশোনা করে একটা পোষ্ট দেয়ার ভাবনা রইলো। আপনার পরবর্তী মতামতগুলোও ভাবনাকে সঙ্গ দিবে।

ভালো থাকবেন।


১৫. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৯
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
পরে সময় করে আরো কিছু কথা বলার ইচ্ছা থাকলো....
পোস্টটিকে শোকেসে রাখা হলো...
১৬. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৯
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র,
আপনার এদিকে সময় দিতে পারছি না, একটা সিরিজ শুরু করেছি.....

তো আপনার এই বিষয়টিতে সত্যান্বেষী একটি পোস্ট দিয়েছেন- সেখানেও কিছু আলোচনা হয়েছে- চাইলে ঢু মারতে পারেন.....

লিংকঃ Click This Link
১৭. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০১
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
প্রশ্নোত্তরের এই পোস্টেও বামপন্থা ও ধর্ম নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে.....

লিংকঃ Click This Link
১৮. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৭
সত্যান্বেষী বলেছেন: @লেখক: আমার নিচের পোস্টটিতে আপনার এই পোস্টের যে অংশ ধর্ম আর বামকে নিয়ে আলোচনা রয়েছে তার উপর একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত রয়েছে। মতামত কাম্য।

Click This Link
১৯. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:৫৩
ফাতাহ্‌ বলেছেন: (বিঃদ্রঃ এই মতামত আপনার পোষ্ট সম্বন্ধে নয় ।)

এশিয়া মতো মহান , নৈতিক , উন্নত চিন্তাধারার সৃষ্টিশীল কিছু করতে না পারলেও কিছু অগভীর,অসার ও অমানবিক রাজনৈতিক মতবাদের জন্ম দিয়েছে ইউরোপ। তন্মধ্যে ক্যাপিটালিজম, ফ্যাসিজম, ইমপেরিয়াজম, লিবারালিজম, ডেমোক্রেসি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বহুল আরোচিত চর্চিত মতবাদ ন্যাশনালিজম বা জাতীয়বাদ যেন বিশ্বরাজনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি।রোমান সামাজ্য, পারস্য সামাজ্য,অটোমান সামাজ্য এভাবে বিভিন্ন সামাজ্যর অধিবাসীরূপে নিজের পরিচয় প্রদানে একসময় মানুষ গর্ববোধ করত। ইউরোপে ফরাসি বিপ্লবের পর থেকে জাতীয়তাবাদী চিন্তা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সাম্রাজ্যের অবক্ষয়ের ও অবসানের পটভূমিতে জাতীয়বাদী রাষ্টের বিকাশ ঘটে। ১৯৪৫ সালে মাত্র ৫১টি জাতি রাষ্ট নিয়ে গঠিত হয় জাতিসংঘ। মাত্র ৬৩ বছর পরে পৃথিবীতে জাতিরাষ্টের সংখা ১৯৪তে এসে দাড়িয়েছে যা জাতীয়বাদের বিকাশ ও বিস্তারের জ্বলন্ত উদাহরণ।

ল্যাটিন শব্দ natus থেকে nation শব্দের উৎপত্তি। যার মূলগত অর্থ রক্ত সম্পর্কযুক্ত বা বংশোদ্ভব জনসমষ্টি। একটি জনগোষ্টি যখন নিজেদেরকে ভিন্ন মনেকরে এবং ভাষা-সাহিত্য, রীতি-প্রথা,আচার-আচরণ, ধারণা-বিশ্বাস-ঐতিহ্য প্রভূতির বন্ধনে একসুত্রে গ্রথিত হয়ে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয় তখন তাকে জাতীয়তাবাদ বলে। জাতীয়তাবাদ তাই একটি রাজনৈতিক আবেগ উচ্ছাসের নাম।মাটি ও মানুষকে ঘিরে গড়ে ওঠা এক দূর্বিনীত ও চুড়ান্ত অনুভূতির নাম।আমরা এক আমাদের ভূমি হলো জাতীয়তাবাদের চিন্তা।জাতীয়তাবাদ নিজ দেশ বা বসবাসের স্থানকে নিজেদের কতৃত্বে নেবার প্রবল আকাংখার নাম।জাতীয়তাবাদ অন্ধকার অতীতকে টেনে নিয়ে এসে আলোকিত করতে চায় নতুন ইতিহাস সৃষ্টির প্রেরণা।জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও বিকাশের ক্ষেত্রে ভৌগলিক একত্ব, রেসিয়াল ইউনিটি, নিদিষ্ট ভাষা এবং একই ধর্ম-বিশ্বাস ও সংস্কৃতি গুরুত্তপূর্ণ উপাদানরূপে বিবেচিত হয়। একটি জাতি গোষ্ঠির মানুষ বহুসংখ্যক রাষ্টে ও ভুখন্ডে ছিটিয়ে থাকা সত্তেও তাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা বিদ্যমান থাকতে পারে । যেমন : ইহুদী জাতি। পৃথিবীতে ওমন ডজনখানেক জাতি রাষ্ট রয়েছে যাদের ভূমি অখন্ড নয়।এন্ডিয়ার আন্দামান রাজ্য মূল ভূখন্ড থেকে ১১০০ মাইল দূরে অবস্থিত । আর্জেটিনার ফকল্যান্ড দ্বপ বৃটেন থেকে ৮০০০ মাইল দূরে অবস্হিত হয়ে বৃটেনের অংশ। আবার ১২০০ বিচ্ছিন্ন ভূখন্ড নিয়ে ইন্দোনেশিয়ান জাতি গঠিত। নিদিষ্ট ভূখন্ডের ভিত্তিতে জাতি গঠনের ভৌগলিক একত্বতা কতটুকু এলাকা নিয়ে হবে আর তা কিভাবে নিধারণ করা হবে তা নিণয়ের মাপকাঠি জাতীয়তাবাদে নেই। একই বংশধারা ও রক্তসম্পকের বন্ধন কিংবা নূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য একটি জনগোষ্টির মধ্যে একাত্ব অনুভূতি স্পৃহা জাগিয়ে তোলে যা জাতীয়তাবাদ বিকাশের অন্যতম উপাদান।কিন্তু রেস ডাইভারসিটি নিয়ে অনেক জাতিরাস্ট গড়ে উঠেছে। যেমনঃ পশতুন, উজবেক , পাঠান,তাজিক, ইত্যাদি রেসের মানুষ একটি আফগান জাতি রাষ্ট গড়ে তুলেছে। ািবার ডাচ, জামার্ন ওলন্দাজ ও ইংরেজ একই বংশোদ্ভত দাবি করলেও তাদের মধ্যে একক জাতিরাষ্ট গড়ে ইঠেনী।ল্যাটিন শব্দ natus থেকে nation শব্দের উৎপত্তি। যার মূলগত অর্থ রক্ত সম্পর্কযুক্ত বা বংশোদ্ভব জনসমষ্টি। একটি জনগোষ্টি যখন নিজেদেরকে ভিন্ন মনেকরে এবং ভাষা-সাহিত্য, রীতি-প্রথা,আচার-আচরণ, ধারণা-বিশ্বাস-ঐতিহ্য প্রভূতির বন্ধনে একসুত্রে গ্রথিত হয়ে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয় তখন তাকে জাতীয়তাবাদ বলে। জাতীয়তাবাদ তাই একটি রাজনৈতিক আবেগ উচ্ছাসের নাম।মাটি ও মানুষকে ঘিরে গড়ে ওঠা এক দূর্বিনীত ও চুড়ান্ত অনুভূতির নাম।আমরা এক আমাদের ভূমি হলো জাতীয়তাবাদের চিন্তা।জাতীয়তাবাদ নিজ দেশ বা বসবাসের স্থানকে নিজেদের কতৃত্বে নেবার প্রবল আকাংখার নাম।জাতীয়তাবাদ অন্ধকার অতীতকে টেনে নিয়ে এসে আলোকিত করতে চায় নতুন ইতিহাস সৃষ্টির প্রেরণা।জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও বিকাশের ক্ষেত্রে ভৌগলিক একত্ব, রেসিয়াল ইউনিটি, নিদিষ্ট ভাষা এবং একই ধর্ম-বিশ্বাস ও সংস্কৃতি গুরুত্তপূর্ণ উপাদানরূপে বিবেচিত হয়। একটি জাতি গোষ্ঠির মানুষ বহুসংখ্যক রাষ্টে ও ভুখন্ডে ছিটিয়ে থাকা সত্তেও তাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা বিদ্যমান থাকতে পারে । যেমন : ইহুদী জাতি। পৃথিবীতে ওমন ডজনখানেক জাতি রাষ্ট রয়েছে যাদের ভূমি অখন্ড নয়।এন্ডিয়ার আন্দামান রাজ্য মূল ভূখন্ড থেকে ১১০০ মাইল দূরে অবস্থিত । আর্জেটিনার ফকল্যান্ড দ্বপ বৃটেন থেকে ৮০০০ মাইল দূরে অবস্হিত হয়ে বৃটেনের অংশ। আবার ১২০০ বিচ্ছিন্ন ভূখন্ড নিয়ে ইন্দোনেশিয়ান জাতি গঠিত। নিদিষ্ট ভূখন্ডের ভিত্তিতে জাতি গঠনের ভৌগলিক একত্বতা কতটুকু এলাকা নিয়ে হবে আর তা কিভাবে নিধারণ করা হবে তা নিণয়ের মাপকাঠি জাতীয়তাবাদে নেই। একই বংশধারা ও রক্তসম্পকের বন্ধন কিংবা নূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য একটি জনগোষ্টির মধ্যে একাত্ব অনুভূতি স্পৃহা জাগিয়ে তোলে যা জাতীয়তাবাদ বিকাশের অন্যতম উপাদান।কিন্তু রেস ডাইভারসিটি নিয়ে অনেক জাতিরাস্ট গড়ে উঠেছে। যেমনঃ পশতুন, উজবেক , পাঠান,তাজিক, ইত্যাদি রেসের মানুষ একটি আফগান জাতিরাষ্ট গড়ে তুলেছে। আবার ডার্চ,ওলন্দাজ,ইংরেজ ও জামার্ন একই বংশোদ্ভত দাবি করলেও তাদের মধ্যে একক জাতিরাষ্ট গড়ে উঠেনি। একই ভাষা ভাষী হওয়া সত্তেও লাতিন আমেরিকার ১৮ টি দেশ একটি জাতিরাষ্ট গঠন করতে পারিনী।আবার ইন্ডিয়ান জাতির মধ্যে ২১ টি প‌্রধান ভাষা ও ২০০ টি আঞ্চলিক ভাষা রয়েছে।একটি ধর্মবিশ্বাস একটি জাতীয়তাবাদী জাগরণ তৈরী করে।ধর্মের বন্ধন জনগণকে একটি জাতিরাষ্ট গড়ার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।ইসরাইল এমনি রাষ্টের উদাহরণ।কিন্তু ইহুদীদের জন্য যদি কেবল ইসরাইল রাষ্ট হবে , তবে ইহুদীরা আমেরিকায় কেন ?? একটি ধর্মকে একটি জাতিরাষ্টের ভিত্তি ধরলে ইন্ডিয়ার ৪৬ % হিন্দু ,৩০ % মুসলিম এবং ১১% প্রকৃতি পূজারি কিভাবে একই জাতি সত্তায় পরিচিত।ধর্ম জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হলে মুসলিম অধ্যুষিত আরবদেশগুলি একটি জাতিরাষ্ট কেন নয় ?
জাতীয়তাবাদ বিশ্ব সভ্যতার প্রতি ভীতি স্বরূপ।জাতীয়তাবাদের নগ্নমূতি ২য় বিশ্বযুদ্ধে মানবতার কবর রচনা করেছে।Prof Lasky তাই বলেন , "As power extends , nationalism transform into imperiallism" জাতীয়তাবাদ একটি ভয়ংকর চিন্তা ও দর্শন।জাতীয়তাবাদ নিজ সম্প্রদায় ও জনগণকে অন্যদের থেকে শ্রেষ্ঠ ভাবতে শেখায়।জাতীয়তাবাদ আবেঘ -যৌক্তিকতার ধার ধারেনা । মানুষকে এমন আবেগে নিয়ে যায় যেখানে অন্য জনগোষ্ঠীকে হেয় ভাবতে অনুপ্রানিত করে। Right or Wrony my country হলো জাতীয়তাবাদের মূল কথা।এখানে মানুষ সীমাবদ্ধতার গোলকে আটকে যায়। জাতীয়তাবাদ অন্য জনগোষ্ঠী, অন্যভাষী, অন্যধর্মনুসারীদের প্রতিপক্ষ দাড় করিয়ে নেয়। এখানে মানুষকে ভ্রাতৃত্ববোধ থেকে দূরে সরিয়ে হানাহানি ও রক্তপাতের দিকে ঠেলে দেয়া হয়।পাশ্চ্যত্যের অন্ধ জাতীয়তাবাদ বংশ, বর্ন, শ্রেণী-ভাষা ও দেশ বৈষম্যের কাঁচি দিয়ে সম্পর্ক সম্বন্ধকে ছিন্ন-ভিন্ন করতে উদ্যত। ব্রিটিশ জাতি পৃথিবীবাসীকে শুনিয়েছে শাসন করার ক্ষমতা অধিকার তাদের। ফলে প্রত্যেক জাতির জনগণ নাজ নাজ জাতির পূজারী হয়েছে।
০৬ ই মে, ২০০৯ দুপুর ২:০৫

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, প্রাক্তন...........

কেন?

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৫৩৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
সব কিছু খর লাগে
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই