আমার প্রিয় পোস্ট

কতো কী করার আছে বাকি..................

তেঁতুল।

১৬ ই মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৭

শেয়ারঃ
0 3 0

মায়ের ছবিটার ওপর একটা টিকটিকি চার পায়ে আর লেজে সহজাত কৌশলে ধীর হয়ে আছে। তার মুখের কিছু সামনেই রং আর অবয়ব ধরা যায় না এমন একটা পোকা। লালা মাখা টিকটিকির চোয়ালে যার জীবনের শেষ পরিণতি। অথচ এই মুহূর্তে সে ঘুনাক্ষরেও তা জানছে না। পোকাটা খেয়েই টিকটিকিটা সরে যায়। ভেসে ওঠে মায়ের হাসিটা। কি এক জীবন বোধের হাসি। যেন টলটলে জলাশয়-তাতে অসংখ্য সাদা হাসের সন্তরন। মায়ের হাসির শব্দেও যেন ওই খলবলে আওয়াজটা পাওয়া যেত। হাসিরেণুরা ছিটিয়ে পড়তো চারপাশে। হাসির দুপাশে ভোরের ঘষা আকাশ-তাতে রাতের ক্লান্তি অথবা বিষন্নতা। আর কপালের টিপটা যেন দিগন্তে জেগে ওঠা ভোরের সেই শিশু সূর্য-কতো কমনীয়তা আর কতো তেজ তার ভেতরে ভরা। মা কখনোই তেজ প্রকাশ করেন নি। আলো ছড়িয়েছেন শুধু। এই পৃথিবীটাই তার কাছে ভালোবাসার জন্য। পৃথিবীটা যেন তার আঁচলস্পর্শী। ভালোবাসতেন তিনি সবকিছুই। ঘরের একটা শুকনো কি ভেজা ত্যনা থেকে শুরু করে তার সন্তানদের-তার জীবন সঙ্গীকে। মায়ের আঁচলের ছোঁয়ায় সব কিছুই সন্তান হয়ে উঠতে পারতো তবে। মায়ের ঠিকই মনে পড়তো গ্রামের কোন খালা কি কোন বুয়াকে। সময় পেলেই তাদের গল্প করতেন। গ্রামে চলে যেতেন তাদের সঙ্গ পাবার আশায়। খোঁয়াড়ে তার ছোট বেলায় পালা মুরগি আর বাচ্চাগুলোকে ভুলতে পারেননি মা। বাল্যের সখিদের সাথে বেতুইন অমলকি খাওয়ার স্বাদ তার জিহ্বায় কি শেষ পর্যন্ত লেগে ছিল। মায়ের মৃত্যু তবে অনেক কষ্টের ছিল। ভাবে সে। মৃত্যু শয্যায় মায়ের মুখ থেকে একে একে কতো মুখচ্ছবি, গন্ধ,দৃশ্য,চিত্র ঝুপ ঝুপ করে বাতির মতো নিভে গেছে নিশ্চয়ই। মাকে নিয়ে গেছে এক নিঃসীম অন্ধকারে। সেই অন্ধকারে যাওয়ার আগে মায়ের মুখে কি যেন এক আকুতি ফুটে উঠেছিল। কি জন্যে সেই আকুতি। নিজের সন্তানকে ছেড়ে যাচ্ছেন বলে। না কি সালেহা খালাকে পরের ঈদে একটা শাড়ি দেয়ার কথা ভেবে ছিলেন, শেষ মুহূর্তে তাই মনে পড়ে গিয়েছিল মায়ের। না কি সদ্য বাড়িতে লাগিয়ে আসা তিতাকরলা গাছটায় যেন নিয়মিত পানি দেয় জমিলা বুয়া, পেঁচিয়ে বেড়ে ওঠার জন্যে যেন একটা কাঠি দেয় তার গোড়ায়-তাই বলে যেতে চেয়েছেন। কে জানে, মৃত্যুক্ষণে নিরাবলম্বন মা হয়তো ওই কচি করলা গাছেই বেঁচে উঠতে চেয়েছিলেন-কিম্বা বেঁচে ফিরতে আঁকড়ে ধরতে চাইছিলেন কিছু একটা। সেই কিছু একটা হয়তো তিতাকরলা গাছের গোড়ায় পোঁতা কাঠির মতোই কিছু একটা। তার সবসময়ই মনে হয় মায়ের মৃত্যুটা খুবই কষ্টের ছিল। বাবার মৃত্যুও কি কষ্টের ছিল। বাবা একেবারেই পুরুষ ছিলেন। সংসারের হাল বেয়ে গেছেন জীবনের শেষদিন পর্যন্ত। কতো ঢেউ-কতো ঝড় দাঁতে কেটেছেন। রক্তক্ষরণের বেদনা বাবার ছিল। তাই চাইতেন সন্তান যেন বড়ো কিছু হয়। পুরুষ হয়। বাবা গ্রামে যেতেন। কারণ সেখানে সহজেই পুরুষ হওয়া যেত। গ্রামের লোকেরা তাকে মান্য করতো। সালিশ বিচার করতো। শহুরে পোশাক ছেড়ে সেই পুরুষ, হাল বাওয়া বন্ধুর সাথে জমিয়ে গল্প বলতেন। আবার শহরে ফিরে এলে বাবাকে পুরুষ সাজতেই হত, উপায় নেই। পুরুষ ছাড়া শহরে কে পারে দৌড়াতে। বাবার দৌড় একদিন শেষ হয়ে এলো। চলমান রাস্তার শেষে দাড়ি হয়ে উঠলো তার নিশ্চল শরীর আর বিছানা। সেই বিছানায় শুয়ে বাবা নিশ্চয়ই তাকিয়েছেন পথের দিকে। কি ভেবেছেন তিনি, জীবনে কখনো জারুল কৃষ্ণচূড়া দেখা হয়নি, সময় হয়নি মজা করে বৃষ্টিতে ভেজার। পুকুরের জল উথাল পাথাল হয়ে উঠতো যার পাখার ঝাপটানিতে, সেই বাবাই ক্রমশ নিথর, নিস্তরঙ্গ চাদরে শয়ান। শেষ দিকে কেমন কুঁকড়ে গিয়েছিল তার পুরুষ বাবা। মায়ের পাশে সেই ছবিটা দেখে কখনো কেউ ভাবতেই পারবে না এই দৃশ্য।

ভাত খেতে খেতেই মা বাবার ছবির দিকে চোখ চলে যায় তার। মায়ের ছবি বরাবর নীচে চেয়ারে বসা তার বউ। একেবারে গৃহলক্ষী। সংসারের প্রতি তার বিশ্বাস,ভালোবাসা অমূল্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু কোথায় যেন তার বউটা মা হয়ে উঠতে পারেনি। সেই গন্ধটা নেই। আঁচল থাকলেও তার পরিপাট্যই প্রধাণ। একমাত্র কাজের মেয়েটির প্রতি তার ভালোবাসার কমতি নেই। কিন্তু এটুকুই। খালি হাতে বা গোমড়া মুখে কেউ বাসা থেকে যায় না। উচ্চ শিক্ষিত তার বউয়ের পৃথিবীতে মানুষ কম। গ্রাম নেই-খালাবুয়া নেই-জলপাই বেতুন নেই। মাটি নেই কাদা নেই। বুকে ঘামের গন্ধ নেই। এটা সে বেশ বুঝতে পারে। নারী তবে ঘর থেকে বেরুচ্ছে এটা সত্যি, কিন্তু উন্মুল হচ্ছে, নারী আর তবে মা হয়ে উঠছে না। এ আরো বড় সত্যি। নাকি সে এসব ভুল ভাবছে। তার বউ বসন্ত বর্ষা এসব ভালোবাসে। কিন্তু তারতো ঝড়জলে আম কুড়ানো হয়নি কখনোই। পুকুর দাপানো দুপুর তার জীবনে আসেনি। আরেকটা সন্তান তো তার জন্যে নেই যে সবুজ পাতায়-শাখা প্রশাখায়-কচি ডাল আর পুষ্পে বিকশিত হয়। কোথাওতো এতটুকু মাটি তার জন্যে নেই যে জায়গাটা সে মমতায় ছোপাতে পারে। তার জন্যে শুধু ইটবালিসিমেন্ট।
: কাল কিন্তু বাবুকে বাইরে নিয়ে যেতে হবে।
: বাইরে কোথায় নিয়ে যেতে চাও।
: তুমিতো ওই এক শিশু পার্কই চিনো। কাল চলো আশপাশে কোন গ্রামে যাই। যেখানে কেউ আমাদের চেনে না।
: কিভাবে যাবা।
: কেনো কোন লোকাল বাসে চেপে।
: তুমি কখনো লোকাল বাসে চড়েছো।
: না, তবে দেখেছি আর দুয়েকবার যে চড়িনি তাতো নয়।
: হ্যাঁ, দুয়েকবার তো চড়বেই। কাল চড়তে চাচ্ছো কেন।
: আমাদের বাচ্চাটাকে এসব শেখানো দরকার না। দেখানো দরকার এসব।
: নিজেই দেখোনি তো বাচ্চাকে কি দেখাবে।
: তুমিইতো বলো, আমিও চাই। তোমার ভরসাতেইতো আমি বাচ্চাকে এসব শেখাতে চাই।
: চাও, কিন্তু হয় না। কতো ভেবেছি, ওকে গ্রামে নিয়ে পড়াবো । অন্তত ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত। কই হলো।
: হয়নি। হওয়া সম্ভব না।
: তুমি কি তোমার গ্রামের লোকজন কে চিনো। বলতে পারবে তোমাদের গ্রামে খেটে খায়, অন্যের বাড়িতে কাজ করে খায় এমন কারুর নাম। তাদের কোনো গল্প।
: না। আমি কি আর গ্রামে ছিলাম বলো। কিভাবে পারবো।
ভাত খেতে খেতে বউয়ের সাথে এই কথপোকথনে কোন কিছু তৈরি হয় না কেবল ভাত খাওয়ার ইচ্ছেটা মরে যাওয়া ব্যতিত। ভাত খাওয়া থেকে উঠে বউয়ের সাথে গোছানোর কাজ করে। সেই ফাঁকে চুলায় চায়ের পানি চাপায়। ভাবতে থাকে তার মায়েরই কথা। মা বলতেন
: বুচ্ছস তেতুল অইতাছে শয়তাইন্যা ফল-দেখলেই লালচ লাগে-লালা গড়ায়া পড়ে। এই খায়া কি অয় ক, পেট ভরে না শইল্যে শক্তি অয়। তেতুল কয়-দেহো মানুষ তোমার মইদ্যে অহনও লালচ আছে-লোভ আছে। সামলায়া চলো।
তার বউ কি এই তেঁতুল মাহাত্ম্য জানে। কি করে শেখাবে তার সন্তানকে তেঁতুল থেকে সংযমের শিক্ষা। মনে আছে যখন তারা শহরে উঠে আসে গ্রাম থেকে। মা কোন কিছুই বাদ দেন নি। ব্যাগে ভরে সবই নিয়ে এসেছেন। ফুল গাছ, মরিচ গাছ, ম্যাচ, সব। অথচ এই মা কতোবার টাকা অলংকার হারিয়েছেন। ভাবতে ভাবতে তার সামনে চুলার আঁচে স্বচ্ছ চায়ের পানির নীচে বুদ্বুদ ওঠে। আবার মিলায়ে যায়। এই দৃশ্য কেন যেন তার চোখে লেগে থাকে। চা-সিগারেট-ঘুমানোর প্রস্তুতি। দৃশ্যটা চোখ থেকে মোছেই না। রাতের ঘন অন্ধকারে বুঝতে পারে কোন অর্থ সে তালাশ করে চলেছে এই দৃশ্যের। এই যে মায়ের মৃত্যু, তার বউ, সন্তান, মান-অভিমান-আলাপ-স্বপ্ন। সমস্তই মহাকালের একেকটি বুদ্বুদ। মিলায়, আবার তৈরি হয় আবার মিলায়। তাপ বাড়তে থাকে। বাষ্প হয়ে পানি উবে যায়। রাতে ঘুমের স্বপ্নে সে গোসল করে এক পুকুরে, যেখানে পানি নেই। শুদু কাদা। সেই ভুসভুসে কাদায় ডুব দেয়। লেপ্টে থাকা কাদা গায়েই সে গোসলের আমেজ নিয়ে উঠে আসে-তার লুঙ্গি গামছায় লেগে থাকে সেই কাদা। সকালে আয়নায় নিজের মুখে বারবারই কাদা দেখে। পেষ্টের ঝাঁঝ গলায় চলে এলে একটি ঘটনা তার মনে পড়ে। তার এক বোনের শ্বশুর বাড়ির পাশেই এক লোককে তার দলের অন্যরা শাস্তি স্বরুপ ক্ষেতের মাঝখানে নিয়ে গিয়ে লোদকাদা খাইয়েছিল। বোন সেই লোকের গোঙানি শুনেছে। বউ বাচ্চাসহ নাস্তার টেবিলে বসে রুটি খেতে খেতে তার মনে হয় ওই কাদা মলা রুটিই সে খাচ্ছে। গলায় যেন বালি বালি পানসে কাদার স্বাদ, দলা পাকানো, গিলতে ভীষণ কষ্ট। ভাজা ডিম দিয়ে সে যা খাচ্ছে, কি বিস্ময়, তা কাদারুটি।

নাস্তা শেষে পত্রিকাটা হাতে নেয়। পত্রিকায় তার আগ্রহ কম। অভ্যস্ততার বশে পড়ে। তাও কোন রাজনৈতিক খবর না। আশপাশের খবর। রাজনীতির ফলাফলটাই সে পড়ে থাকে। আজো ভেতরের পাতার খবর পড়ছিল। সেখানেই খবরটা দেখতে পায়। স্বাভাবিক-কিন্তু এই সকালের জন্যে খবরটা বিভ্রান্তিকর। যখন সে তার বাচ্চাটাকে নিয়ে ঘুরতে বের হবে-তখন এই খবর দ্বিধা তৈরি করে বৈকি। একটা মেয়ে অভিমানে গলায় ফাঁসি দিয়েছে। এমন খবরতো নতুন নয়। তবু সে বিচলিত হয়। বের হওয়ার সিদ্ধান্ত বাদ দিতে চায়। পত্রিকা রেখে একটা সিগারেট ধরায়। ভুলে থাকতে চায় খবরটা। সিগারেটের ধোঁয়ায় মনোনিবেশ করে। সেই উর্দ্ধমুখী ধোঁয়া ছাদে মিলায়-ছাদে নীরব সিলিং ফ্যান। ধোঁয়াগুলো সেখানে গিয়ে ফন্দি আঁটে। হাত পা সমেত মনুষ্য শরীরে গঠিত হতে থাকে। এরপর মেয়েটির অবয়বে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলতে থাকে সিলিং ফ্যানে। চমকে ওঠে সে। চিন্তাটা ভুলে যেতে তৈরি হয় বাইরে যাওয়ার জন্য। মোজা,শার্ট,বেল্ট পড়তে পড়তে সেই চিন্তা তার নাসা রন্ধ্রে, তার হাতের তেলোয় জীবন্ত হয়ে ওঠে। ঈদে জামা পায়নি বলেই আত্মহত্যা করেছে মেয়েটি। অস্থির হয়ে নিজের সন্তানের কাছে যায়। তাকে তৈরি করতে থাকে। ভাবতে থাকে এটাও একটা ছবি আঁকা বা এমন কিছু। নিজের হাতে সাজানোর আনন্দ পেতে চায়। কিন্তু সেখানেও তার বাচ্চাটার চোখের মনিতে সে তাকায় না। নিচু হয়ে থাকে। দ্রুত বাসা থেকে বের হয় ট্যাক্সি ক্যাব ডাকবে বলে।

শহরের আসা যাওয়ার পথে শেষ বসন্তের বাতাস গলিয়ে তাদের গাড়ি এগিয়ে যায়। হা বসন্ত। শিমুল নাই পলাশ নাই খালি ধুলো মলিনতা। পুরো শহরেই ধুলোর ময়লা শাদা আস্তরণ। যেন শহরের গায়ে গায়ে বুনন চলছে মৃতের বসনের, ধীরে ধীরে। একদিন শহরটা ঢেকে যাবে শবের কাফনে। অসমাপ্ত বুননের নীচে সেই আয়োজনের বিরাম নেই। শহর জুড়ে রক্ত বারুদ আর রোদে ঝিলিক দেয়া অস্ত্রের আঘাতে মানব মৃত্যুর মচ্ছব চলছে। সেই কাফন গায়ে জড়ানোর অপেক্ষাতেই আছে বোধহয় সভ্যতা। গাড়ির জানলায় বাতাস কাটা পড়ে-কিছু তার চুল এলোমেলো করে দেয়। বাকিটা চলে যায় ফেলে আসা পথে। বউ তার গান ধরে।
আসা যাওয়ার পথের ধারে
কেটেছে দিন
গান গেয়ে মোর কেটেছে দিন
যাবার বেলায় দেবো কারে
যাবার বেলায়
দেবো কারে বুকের কাছে বাজলো যে বীণ
এই আসা যাওয়ার সংসারের পথ তবে কি ওই অনন্তেই মিলায়। নইলে বউ তার এই গান ধরলো কেন। নাকি সেও পড়েছে সকালের পত্রিকা। অথবা শহরের মৃত্যুগামীতা বিষয়ক আগের কোন আলোচনা তার মাথায় উঁকি দেয়-সে গেয়ে ওঠে এই গান। কে জানে। সে শুধু ভবতে থাকে যাওয়ার বেলায় কোন বীণ বেজে ওঠে মৃত্যুমুখা মানুষের মনে। সেই গাছের ডালে ঝুলে পড়া মেয়েটি ঠিকরে বের হয়ে আসা চোখে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কি এই আশায় তাকিয়ে ছিল যে কেউ আসবে দুহাতে তার ঈদের জামা নিয়ে । তার বুকের ভেতরে বেঁচে ওঠার যে বীণ বেজেছিল তাতে সাড়া দেয়নি কোন হাত-তাল লয়ে কম্পিত হয়নি কোন হৃদয়। সবার অগোচরে তার গমন। হয়তো কেবল আঁচড় বসিয়ে গেছে তার মা বাবার স্মৃতিপটে। কাঁধ থেকে ঝুলে থাকা এই দুহাতে সেও তো মেয়েটির জন্য ঈদের জামা কিনে নিয়ে যেতে পারতো। তবে কি এই দুহাত শুধু টাকা গুনে যাবে, বাজার করে যাবে, বউ আর সন্তানকে সোহাগ করে যাবে। এই দুহাতের ছোঁয়ার বেঁচে উঠবে না কোন জীবন, কোন বৃক্ষ। অসহায়্ত্ব গ্রাস করে তাকে। নিজের হাতে চুলে বিলি কাটে। হয়তো হাতগুলোকে স্বার্থক করে তুলতেই তা করে।

পার্কে বউ-বাচ্চাকে ঘুরতে পাঠিয়ে সে নিজে পায়চারি করে। চৈত্র আসছে। চৈত্র কী ভিষণ-বেঁচে থাকার আকুতিকে প্রচন্ড করে তোলে সে। চৈত্রের কি তবে পুরুষ স্বভাব আছে। সন্তানটি তার নাগরদোলায় চড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সে পাশেই একটি বেঞ্চিতে বসে সিগারেট ধরায়। চোখে পড়ে চানাচুরের ঝাল নুন তেলমাখা পত্রিকার টুকরা। ফলাফল প্রকাশ বা খেলায়াড়দের উল্লাসের ছবি। হঠাৎ তার মনে হয়-এই টুকরার তো আরো অংশ আছে। সব অংশ মিলিয়ে যে প্রত্রিকা হয় তাতেও কি ছাপা আছে ওই মেয়েটির মৃত্যু সংবাদ। কিংবা অন্য কোন মানুষ মরার খবর। নাহলে কি আর আজকে যুগে সে পত্রিকা হয়ে উঠতে পারে। পত্রিকার কালো কালো অক্ষরগুলোকে তার কাছে শুকিয়ে আসা জমাট কালো রক্ত মনে হয়। তার ঝিম ধরা মাথায় সেই কালোয় শুধু সংখ্যা ভেসে ওঠে পত্রিকার পাতায়। মৃতের সংখ্য। অসংখ্য অগুনতি। প্রথম পাতা ভরে গিয়ে দ্বিতীয় পাতায়ও। খালি সংখ্যা। নাগরদোলা ঘুরতে থাকে-ক্যাঁএএএউঁ-ক্যাঁএএএউঁ। পত্রিকা জুড়ে শুধু যত মানুষ মরেছে তার সংখ্যা। তীক্ষ্ণ হয় ক্যাঁএএএউঁ। অস্থির হয়ে পাতা ওল্টায় সে। পুরো পত্রিকা জুড়েই খালি সংখ্যা আর সংখ্যা। সাংবাদিকের পক্ষে অন্য কোন সংবাদ ছাপানোই সম্ভব হচ্ছে না। সংখ্যার কি ভয়াবহ রুপ। পাতা ওল্টানোর গতি দ্রুত হয়। ক্যাএএএউঁ শব্দ বৃত্ত রচনা করে। সে দেখতে পায় মৃতের সংখ্যা কেমন যেন গোল গোল ছোট বৃত্ত হয়ে যায়। এতোবড় পত্রিকার পুরোটা জুড়েই সেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কালো বৃত্ত। ক্যাঁএএএএউঁ এর সাথে এবার কচি কন্ঠের চিৎকার মিশে যায়। আর পত্রিকার মাথায় সে দেখতে পায়- সম্পাদকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ শুধু মৃতদের একটি করে চোখের মনি ছাপানো হয়েছে। অন্য কোন খবর ছাপানো সম্ভব হয়নি বলে আমরা দুঃখিত।

শ্বাসটান উঠে যাওয়ার অবস্থা হয় তার। চোখের সামনে সর্বগ্রাসী এক কালো গহ্বর দেখতে পায় যার কিনারায় সে ঝুঁকে আছে। হঠাৎ আব্বু ডাকে টলে ওঠে। নাগরদোলায় যতো উল্লাস নিয়ে চড়েছিল, নামার সময় ততটাই শুণ্যতার বোধ বাচ্চাটার সেই উল্লাসকে ভয়ে পরিণত করেছে। বাবার বুক এখন তার আশ্রয়। বাবাও যেন এক ঝলক বাতাস চাইছিলেন। সন্তানকে বুকে জড়িয়ে তার বুক থেকে সেই বাতাসটুকু টেনে নিলেন। কান্নার বেগটাকে দমন করলেন। নিজের দুই হাতের তালু, আঙ্গুলের ডগা- ভাঁজ, কররেখার খাঁজে জমে থাকা সমস্ত মমতা দিয়ে ঢেকে রাখতে চায় সে সন্তানটাকে। তার মুখে ঘামলালার গন্ধে জীবন আছে। বিকাশ আছে। বাচ্চাটা যেন সেই কচি করলার লতা। তার গোড়ার কাঠিটা হয়ে উঠতে চায় সে। আষ্টেপৃষ্ঠে তাকে জড়িয়ে বেড়ে উঠবে বাচ্চাটা। শাদা ফুলে হেঁসে উঠবে পরাগায়নের রোমাঞ্চে। ওই মেয়েটির মত্যু তবে শুধু পত্রিকারই সংবাদ। ওই মেয়েটির মৃত্যু তবে তার জীবনের জন্য অপ্রাসঙ্গিক মত্যু।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): গল্প ;
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ২:১১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১৬ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৮:৪৯

লেখক বলেছেন: থাকুক..যতদিন ইচ্ছা।

২. ১৬ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:১৫
লীনা দিলরূবা বলেছেন: বাবা, মা, সন্তান, মোহ, চক্রের ভেতর ঘুরপাক খেলাম অনেকক্ষণ। সাবলীল গদ্য।

"বাবা একেবারেই পুরুষ ছিলেন। " নতুন ভাবনা পেলাম।
১৬ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:২৬

লেখক বলেছেন: আমি সাবলিলভাবেই লিখতে চেয়েছি। সেটা সাবলির হয়েছে কি না জানি না। তাছাড়া আমি একটা বক্তব্য দিতে চেয়েছি। তাও ফুটে উঠেছে কিনা বুঝতে পারছি না।

বাবা পুরুষ ছিলেন মানে বাবাকে পুরুষ হতে হয়েছে। এই পুরুষ নারী পেটানো পুরুষ না। সে দিনাতিপাত করা পুরুষ। দাঁড়িয়ে থাকতেই চায় যে পুরুষ-নাম সুনাম কুড়াতে চায় যে পুরুষ। হুজুর হুজুর ডাক শুনতে চায় যে পুরষ, সে। সংসার জীবনে বার বার হেরে গিয়েও দাঁত কামড়ে তাকে অস্বীকার করে যে পুরুষ । মধ্যবিত্ত মুসলমান পুরুষ।

পড়ার জন্যে ধন্যবাদ।

৩. ১৬ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৩৪
লীনা দিলরূবা বলেছেন: বাহ! পুরুষের মত ব্যাখ্যা।
১৬ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৪১

লেখক বলেছেন: একটা কড়া সমালোচনা দিয়েন তো। অদ্ভুতভাবে আমি এই লিখা নিয়ে বেশ সংশয়ে আছি। অথচ এটা বেশ খুঁচিয়েছিল।

১৭ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:৪৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৬. ১৬ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:৫৩
আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: গ্রাম থেকে শহরগামী মানুষের পিছুটান আর ক্রমাগত সেই পিছুটান ছাড়িয়ে নাগরিক জীবনযাপনের জন্য নিজেকে/নিজেদেরকে প্রস্তুত করার গল্প এটি! চমৎকার বিষয়, এবং বলাইবাহুল্য, আকর্ষণীয় প্রকাশভঙ্গি [কিছু বানানবিভ্রাট বাদ দিলে]।

তেঁতুলের মাহাত্ন্য-বর্ণনা অসাধারণ। কিন্তু এই মাহাত্ন্য মা জানতেন তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে, তার সন্তান (এই গল্পের নায়ক) জানে মায়ের কাছ থেকে, আর তারও সন্তানের কাছে হয়তো তা অজানাই থেকে যাবে! প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা-পরোক্ষ অভিজ্ঞতা- অভিজ্ঞতাহীনতা -- এই হচ্ছে গ্রাম থেকে শহরমুখী জনগোষ্ঠীর প্রজন্মান্তরের নিয়তি!

খুবই ভালো লিখেছেন। বিশেষ করে শেষের দিকে মৃতদের চোখের চিত্রকল্পটা, অসাধারণ লেগেছে।
১৭ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:৫১

লেখক বলেছেন: আপনার উপস্থিতি কামনা করিনি। প্রথমে কৃতজ্ঞতাটুকু রইলো।

আপনিই বলুন-অসংখ্য মানুষ উন্মুল হচ্ছে । কোথায় যাবে এরা-কি পরিণতি। আমার কাছে সবসময়ই ভয়াবহ মনে হয়। মনে হয় অসংখ্য মৃত্যুর কথা।

বানান নিয়ে দুশ্চিন্তা কিছুতেই কাটছে না।

৭. ১৭ ই মার্চ, ২০০৯ ভোর ৬:৪১
তনুজা বলেছেন: শুভ্র আপনার লেখা যেমন হবার কথা ছিল তেমন ই হয়েছে
পড়তে গিয়ে বার বার মনঃসংযোগ চলে যাচ্ছিল
কারণ ব্লগের পাতায় এমন মননশীল লেখার মযাদা রাখা যায়নি

যদি লাইন ধরে ধরে না বলি ভাল লাগার কথা জানানো যাবে না
কত খেটে লেখেন সেটা বুঝতে পারি

আর কিছু না বলি

আর সমালোচনা কন্টেন্ট স্টাইল নিয়ে আমি খুব কমই বলতে পারি, কারণ ওটার স্বাধীনতা অনেক বিশাল
আমি নিবিষ্ট পাঠক, নিজে কি ভাবি তার থেকে যখনই পড়ি লেখকের সাথে একাত্ম হয়ে যাই

আপনার তেঁতুল, করলা গাছ , মা, মাতৃত্ব ব্যাপার গুলো গভীরতা অবাক করে , এগুলো দীর্ঘ সাধনা না করলে ধরা পড়ে না



ভাল লিখেছেন, অভিনন্দন
১৭ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:০৯

লেখক বলেছেন: মা বিষয়টি নিয়ে আমাকে অনেক আলোড়িত করেছেন মাহমুদুল হক। তার লেখার প্রতি আমার আলাদা মনোযোগ আছে। এখনো পড়ছি-ভাবছি।

কিন্তু লিখাটা নিয়ে আমি সংশয়ে আছি এখনো-এর একটা কারণ হতে পারে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি। আরেক কারণ অনেকের মতামত না পাওয়া। যদিও এ নিয়ে আমার আক্ষেপ নেই। কিন্তু যাচাই করে নেয়াটা হয় না। আরেকটা কারণ হচ্ছে ঢংটা আমি লিখেছি ঠিকই কিন্তু এখনো আয়ত্ত করতে পারিনি।

সাহিত্যিক মানের চাইতে লিখার বক্তব্যটা পাঠকের সামনে তুলে ধরার আকুতি আমার একটু বেশি। তা নিয়েও সংশয়ে আছি।

আপনাকে ধন্যবাদ।

৮. ১৮ ই মার্চ, ২০০৯ ভোর ৫:৩৮
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: আমি ব্লগে গল্প লিখি, বাধ্য হয়ে লিখি! ব্লগে কেন যেন বড় লেখা পড়তে কষ্ট হয়! সেই কারণে আমি তিল-গপ্পো লিখি। তবে মাঝে মাঝে বৃত্ত অতিক্রম করে কয়েকটা লেখা পড়ে ফেলি, আমার ভাল লাগে, আমাকে টানে। এটা-ও পড়ে ফেললুম।

দৃশ্যনির্মাণটা ভাল লেগেছে, তবে এর সাথে গল্পের বর্ণনা/উপমার ক্ষেত্রে আরেকটু যত্নবাদ হতে পারতেন। ভাষা আরেকটু সূচালো হোক।
১৮ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:১৪

লেখক বলেছেন: আপনাকে স্বাগতম এবং কৃতজ্ঞতা পড়ার জন্যে। আমি আসলে অনেক বেশি ভাবি লিখি কম। এই লিখাটায় আমি গল্প হাজির করতে চাই নি। একদিন সারারাত ঘুম না এসে শহরে বন্দী অসংখ্য মানুষের যন্ত্রণা এসে ভিড় করলো আমার চারপাশে।

গল্প নয় ঠিক যন্ত্রণাটা তুলে ধরতে চেয়েছি। একেবারেই সাদামাটা ভাবটা রাখতে চেয়েছি।

আপনার সমালোচনা পাথেয় হয়ে থাকবে নিশ্চয়ই।

ধন্যবাদ।

৯. ১৮ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৮
নেক্সাস বলেছেন: উচ্চ শিক্ষিত তার বউয়ের পৃথিবীতে মানুষ কম। গ্রাম নেই-খালাবুয়া নেই-জলপাই বেতুন নেই। মাটি নেই কাদা নেই। বুকে ঘামের গন্ধ নেই। এটা সে বেশ বুঝতে পারে। নারী তবে ঘর থেকে বেরুচ্ছে এটা সত্যি, কিন্তু উন্মুল হচ্ছে, নারী আর তবে মা হয়ে উঠছে না.......


অসাধরন শুভ্র ভাই।আপনার লিখা গুলো খুব মগ্ন হয়ে পড়ি..রংহীন কীটের প্রতি শিকারী টিকটিকির যতটা মগ্নতা তার চাইতে বেশী...

কথা সাহিত্যের ফুল যেন আপনার হাতে আরো মর্মস্পর্শী হয়ে ফুটে উঠে সেই কামনা করি।

আমি সেলিম আল দ্বীন জহির রায়হান নিয়ে গর্ব করি..আমার উত্তর প্রজন্ম যেন একজন সালাউদ্দিন শুভ্র কে নিয়ে গর্ব করতে পারে সেই প্রত্যাশা করি....
১৮ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:১১

লেখক বলেছেন: আপনি অনেক বড়ো দায়িত্ব আমার কাঁধে তুলে দিচ্ছেন- আমি মোটেও এমন ভাবি না। সেলিম আল দীন বলতেন - তিনি যদি রবীন্দ্রনাথ কে জুতা পরিয়ে দিতে পারতেন তাহলে না কি লিখতেন না। আমিও তাই। এই জীবনে তাদের সাহিত্যের রসাস্বাদনই আমার ভাবনা।

লিখি, নিজের মনের প্রচন্ড যন্ত্রণা তাতে প্রশমিত হয়। আর কিছু না। তাও শুধু ব্লগে।

আপনার ভালোলাগাটুকুই আমার প্রাপ্তি।
ভালো থাকুন সবসময়।

১০. ১৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৮:৪৩
আমি ও আমরা বলেছেন: বস আমি আরো কয়েকবার পড়ব এটা।
১৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৪০

লেখক বলেছেন: আমি ভাবলাম সেরাম একটা ঝারি দিবেন..কি লিখছি না লিখছি..

আপনে নাকি আবার পড়বেন...কেমনে কি।

১১. ১৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৫০
শত রুপা বলেছেন: ভাল লাগা রইলো। ভাল থাকুন।
১৯ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:১৬

লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞতা।

১২. ১৯ শে মার্চ, ২০০৯ ভোর ৫:৩৮
আমি ও আমরা বলেছেন: হাহাহা!!! কি যে কন না বস। গল্প টা আমার ভালো লেগেছে। বিশেষ করে

: বুচ্ছস তেতুল অইতাছে শয়তাইন্যা ফল-দেখলেই লালচ লাগে-লালা গড়ায়া পড়ে। এই খায়া কি অয় ক, পেট ভরে না শইল্যে শক্তি অয়। তেতুল কয়-দেহো মানুষ তোমার মইদ্যে অহনও লালচ আছে-লোভ আছে। সামলায়া চলো।

এইখানে একটা দারুন ভাব রচনা হইছে কথার ছলে। একটা দারুন দর্শন এর খেলা হইছে। এক জায়গায় কবিতার মত শব্দের জোড়া দেখা গেলো "ইটবালিসিমেন্ট"। বেতুইন ফল টার কথা আমি ৮ বছর পর শুনলাম।

সব মিলিয়ে আমার কাছে ভালো লেগেছে।
১৯ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:১১

লেখক বলেছেন: বেতুইন তো বেত ফল। আমরা স্কুলে খেতাম- বেতের বাড়ি এবং ফল দুটোই। লবন আর ঝালের গুঁড়া দিয়ে। বেত বনে যাওয়ার স্মৃতিও মনে পড়ে তবে খুবই ঝাপসা।

আপনারেই গোপনে কই, তেঁতুলের এই দর্শন কিন্তু চর্যাপদে আছে। এইডা যেমন তেমন দর্শন না।

ভালো থাইকেন।

১৩. ১৯ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:৪১
মাইবম সাধন বলেছেন: হুম। ভালো লেগেছে। 'তেঁতুল'।


চলেশ রিছিল সম্পর্কে লিংক দিয়েছি..



ভালো থাকবেন।
১৯ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:১২

লেখক বলেছেন: থ্যাংকস...............

আপনেও ভালো থাইকেন।

১৪. ১৯ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ৮:৫০
আিমওআমরা বলেছেন: প্লাস দিলাম পরে কঠিন সমালোচনা করে যাব।
১৯ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:০৮

লেখক বলেছেন: এবারতো আপনের অপেক্ষায় আমার দিনগুজরান হবে।

জলদিই আইসেন।

১৯ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:৫১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৬. ২০ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:৪৬
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন: আগেরগুলাও পড়ছি (খেপে খেপে) কম কথায় কিছু বলতে পারুম না
২০ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৫

লেখক বলেছেন: কিছু কইতে পারবেন না দেইখা কিছুই কইবেন না।

এইডা কেমন কথা অইলো।

না কইলে কেমনে কী।

১৮. ২১ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:০৬
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন: আরেকবার পড়লাম, বেশ বেশ। কিন্তু ঐযে সত্য কথা হইছে ,সামনে থাকলে প্যানপ্যান করা যাইত।

গল্পটা আরেকটু কম্প্রেসড করা যাইলে হয় নয়ত আরো কিছু ডিটেইলে, তাতে হয়্ত মনোক্রমিক একটা বিষয় চলে আসতে পারে কিন্তু সেটা হয়ত দীর্ঘশ্বাসও হয়ে উঠতে পারে।

কিন্তু দেখেন এমন খুচরা মন্তব্যে অনেক কিছুই পরিস্কার করা গেল না।

মানে .........আর আফনে যা বুঝেন।
২১ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৫

লেখক বলেছেন: আমি আর কি বুজি কন। আমার মনে অয় তাই লিখি। তয় কে কি কইলো এইডা আমার খুব গায়ে লাগে। মানে আমি ভাবি । আপনে কষ্ট কইরা আইলেন-কৃতজ্ঞতা।

গল্পডা কম্প্রেসড রাখারই চেষ্টা করছি। ডিটেইলে গেলে হাঁপ ছাড়ার চান্স পাইতাম না। তয় ঠিক কইছেন আরো কম্প্রেসড হইতে পারতো ভাষায়-গতীতে।

ভালো থাইকেন-সবসময়।

২১ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২০. ২১ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:৩০
নুশেরা বলেছেন: খুব... খুব সুন্দর একটা লেখা পড়ার সুযোগ দিলেন।
কামালভাই যথাযথভাবে বলে দিয়েছেন; যা বলতে চেয়েও গুছিয়ে আনতে পারছিলামনা। দুএকটা অনুচ্ছেদ একটু বেশী দীর্ঘ মনে হয়েছে; অবশ্য ব্লগে বলেই; নইলে ছাপার অক্ষরে এর চেয়ে বড় অনুচ্ছেদ পড়তে আমরা অভ্যস্ত।

বানানের জন্য ক্রোড়চারী হিসেবে একখানা অভিধান থাকুক নাহয় :)
নইলে দেখুন এটায় কাজ চলে কিনা--
http://dsal.uchicago.edu/dictionaries/dasa/

শুভকামনা রইল।
২১ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:৫০

লেখক বলেছেন: আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

ভালো থাকুন সবসময়।

২১. ২১ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:০২
নাজনীন১ বলেছেন: "নারী তবে ঘর থেকে বেরুচ্ছে এটা সত্যি, কিন্তু উন্মুল হচ্ছে, নারী আর তবে মা হয়ে উঠছে না।" ----- উন্মুল হওয়া মানে কি?

আর "বেতফল" --- হ্যাঁ, স্কুলজীবনের স্মৃতি মনে পড়ে গেল।

ভাল লাগলো।
২১ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:০৫

লেখক বলেছেন: উন্মুল মানে শেকড় ছাড়া হওয়া। মূল থেকে উন্মোচিত হওয়া।

ভালো লাগলো আমারও, আপনি পড়লেন।

ভালো থাকবেন-সবসময়।

২২. ২১ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৩
আিমওআমরা বলেছেন: কতকগুলো অপরাধবোধ আর সেভেন ইয়ারস ইচ - তাকেই কি মহত্ত দিয়ে ফেললেন না?
২২ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:০১

লেখক বলেছেন: অপরাধ থাকলে তা ইতি বা নেতি যেকোনভাবেই বোধে আঘাত করে। অনুভূতিপ্রবণ মানুষ অপরাধকে চিনে নেয় অস্থিহাড়েমজ্জায়। আর যে অপরাধের শিকার তার কাছে অপরাধ বিভীষিকার স্বপ্ন। ..

সেভেন ইয়ারস ইচ--অভিধাটি অপরিচিত। অজ্ঞতা মাফ করবেন।

২৩. ২২ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:২৩
আিমওআমরা বলেছেন: স্ত্রী/ স্বামী একটু পুরানো হয়ে গেলে নিজেদের মধ্যকার বিরক্তি মূলত একঘেয়েমিত্ব।



খোড়াঁ সমালোচনার সঠিক জবাব।
২২ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৩

লেখক বলেছেন: আমি আপনাকে জবাব দিলাম কোথায়। উত্তর দিলাম।


খোঁড়া যে কে......

২৪. ২৩ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১:৫৫
হাসান মাহবুব বলেছেন: অসাধারণ লিখেছেন। বড় লেখা সাধারণত পুরোটা পড়িনা ব্লগে,কিন্তু আপনারটা পড়লাম অনেক ভালো লাগা(নাকি খারাপ লাগা? যাইহোক, সমার্থক!) নিয়ে। ভালো থাকবেন।
২৩ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ২:০৩

লেখক বলেছেন: এইডা জব্বর কইছেন ভালো লাগা খারাপ লাগা সমার্থক।
আপনেগো ভালো লাগলেই আমার চলবো।

আপনেও ভালো থাইকেন......যতোটা সম্ভব।

২৫. ৩০ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:২৫
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন: এক তেতুল দিয়া আর চল্বো না, সব পুরান বাসন ফকফকা কইরা ফালাইছি। নতুন দেন।
২৬. ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ ভোর ৪:৪৩
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন:


শাদাফুলে হেসে উঠবে পরাগায়ণ
৩১ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:৩৮

লেখক বলেছেন: সবাই তাই আশা করে।

২৭. ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ৮:৩০
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
একটানে পড়ে গেলাম...............

আসলে পড়া এবং দেখা দুই ই হলো।
খুব ভালো লেগেছে..........

আসা যাওয়ার পথের ধারে..........গানটা গল্পটাতে দারুণ মানিয়েছে।
ভাল থাকবেন।
শুভেচ্ছা।
৩১ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:৩৯

লেখক বলেছেন: কেমন আছেন।

আপনার ভালো লেগেছে এটাই হয়তো প্রাপ্তি।


ভালো থাকুন সবসময়।

০২ রা এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:৩২

লেখক বলেছেন: কি বলে যে ধন্যবাদ দিবো। ..........................


কেমন আছন। ভালো থাকুন।

২৯. ০২ রা এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:৩০
খারেজি বলেছেন:




জ্বি, জনাব এই হলো অবস্থা।


জেনারেল, কেননা কেবল এই সুপারিশ করেছিলাম যে ব্লগে কোর্টমার্শাল বিচার ঠিক না, এটকে পাব্লিক করা দরকার। সকলের জানার অধিকার আছে কি অপরাধে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। এমনকি শাস্তির প্রদানের ক্ষমতার বিরুদ্ধেও আপাতত কিছু বলিনি।


বলা মাত্র পোস্ট প্রথথ পাতা থেকে গায়েব। তার পর রিপোস্ট করে মডারেটরদের কাছে জানতে চাইলাম কেন গায়েব, জবাবে জেনারেল পদে পদোন্নতি পেলাম।


আপনি কি বিষয়টাকে গূরুত্ব দিয়ে প্রথম পাতায় আনবেন, ব্লগে গণতন্ত্রের পরিসর বৃদ্ধির সংগ্রামের এটা অংশ বলেই আমার মনে হয়।


আমার পোস্টটি ছিল:



ব্যান করা প্রসঙ্গে কয়েকটি প্রস্তাব: ব্লগ- পরিসরের গণতন্ত্রায়ন চাই



হাসিবসহ বেশ কয়েকজন ব্লগার এই মূহুর্তে নিষিদ্ধ।

আমি পক্ষে-বিপক্ষে আপাতত বলতে চাই না। তবে কয়েকটি প্রসঙ্গের অবতারণা করতে চাই যা আমার কাছে ন্যায্য এবং সঙ্গত বলে মনে হয়েছে।

প্রথমতঃ যে কাউকে নিষিদ্ধ করা হলে তার কাছে পত্র দেয়া হয়। এটা অনেকটা ক্যামেরা ট্রায়ালের মত। আমরা চাই উন্মুক্ত বিচার। কি অপরাধে কাউকে নির্বাসিত করা হল, নোটিশ বোর্ডে তার প্রতিটি ঘটনা-নিদর্শন ও লঙ্ঘিত বিধিরবিস্তারিত উল্লেখ চাই।


দ্বিতীয়তঃ হাসিব এর পক্ষে কেউ কেউ বলছেন সর্বশেষ ব্যানারোপ করার সময় তাকে কোন নোটিশ দেয়া হয়

যদি এই অভিযোগ সত্যি হয়ে থাকে, তবে, কার অধিকার আছে এমন বর্বরপ্রায় বিচার করার? আর যদি তা মিথ্যে হয়, তবে প্রথম ব্যবস্থাটি গ্রহণ করা হলে এমন অভিযোগ তোলার সুযোগ প্রায় থাকবে না।

তৃতীয়তঃ যদি দ্বিতীয় অভিযোগ সত্যি হয়, মডারেটরদের পক্ষ থেকে এই অন্যায় বিচার প্রক্রিয়ার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা দরকার।

কেননা অপরাধ যাই হোক
বিচার প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ হতেই হবে।

প্রসঙ্গত আরও বলতে চাই যে, ব্লগ-পরিসরের কতগুলো শর্ত থাকবে, তা সকলেই মেনে নেন। কিন্তু ব্লগারদেরও অধিকার আছে কি কি শর্তে তিনি ব্লগ করতে আসছেন তা জানার। যেমন সচলায়ন তার সদস্যদের জানিয়েই দেয় তারা সিলেক্টিভ।

আরও বলা দরকার যে, এই ব্ লগেই পূর্বে কপিরাইট বিষয়ক এক বিতর্কে কবি আলফ্রেড খোকন এর পোস্ট এর উত্তর তো দেয়া হয়নি, বরং তার পোস্ট প্রথম পৃষ্ঠা থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন মডারেটররা। এর প্রেক্ষিতে খোকন সামহয়ার বর্জনের ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে অন্যান্য ব্লগারদের হস্তক্ষেপে ও অংশগ্রহণের ফলে সামহয়্যার কিন্তু কপিরাইট বিষয়ে তার অবস্থান পরিবর্তনই করেছিল। এখানে আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাচ্ছি কপিরাইট নিয়ে নয় (অর্থাৎ নীতিমালা নিয়ে নয়), যে প্রক্রিয়ায় নীতিমালা ভঙ্গের বিচার হচ্ছে তা নিয়ে। ব্ল্লগ স্বয়ং নীতিই পরিবর্তন করে ফেললেও মডারেটররা তো তাদের অন্যায় আচরণের জন্য তো আলফ্রেড খোকনের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেননি!


আমার সুষ্পষ্ট দাবি, হাসিব নিকের বিচার প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হোক, কিন্তু তাকে আদৌ নোটিশ দেয়া হয়নি এই বক্তব্য যদি সত্যি হয়ে থাকে মডারেটররা ক্ষমা প্রার্থনা করুক এবং তাদের বদলি/ চাকরিচ্যুত্যি/ অন্যকোন ধরনের প্রশাসনিক শাস্তি পাক।





০২ রা এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:০৯

লেখক বলেছেন: সাথে আছি।.................

৩০. ০২ রা এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৩৮
রুবেল শাহ বলেছেন: নতুন লেখা কই............?
০২ রা এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:৪৩

লেখক বলেছেন: লিখতে ইচ্ছা করছে না। ইচ্ছে করলেই লিখবো।

৩১. ০২ রা এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩২
কাক্কা বলেছেন: আপনি তো দেখি ভালই লেখেন-চালায়া যান
০৩ রা এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:০১

লেখক বলেছেন: আরে কাক্কা এদ্দিন পরেনি....

দোয়া রাইখেন কাক্কা

৩৩. ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫৮
হিমালয়৭৭৭ বলেছেন: অবশেষে খুঁজে পেলাম লেখাটা।।। লেখাটার বক্তব্যগুলোকে বিভিন্ন জায়গায় ছড়ানো-ছিটানো মনে হল, একটা কমন প্লাটফরম তেতুল হতে পারত, কিন্তু 'ফিলার' ঘটনার আধিক্যে প্লাটফরমটা আর এক এ কেন্দ্রীভূত হয়নি।।। শুরু হচ্ছিল মা-বাবার প্রসঙ্গ দিয়ে, ওড়না পেচিয়ে মৃত্যু বা সম্পাদকের নির্দেশে মণি ছাপানো হয়েছে জাতীয় পরম্পরাগুলো গল্পে টুইস্ট যোগ করতে চায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত গল্পে তারা গৌণ হযেই থাকে।।। এই টুইস্ট তৈরির একটা ফেইক লুপ এবং পরবর্তীতে গৌণ হয়ে থাকা, এই বিষয়টা দারুণ লেগেছে।।।
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৪

লেখক বলেছেন: হুমমমমমমমম....থ্যাংকস।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০১৭৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
সব কিছু খর লাগে
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই