somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ মাসের জন্য আড়াই হাজার বছর পেছনে চলে যাচ্ছি।

১১ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এদ্দিন যে কাজটা করতাম তা ছেড়ে দিয়েছি। নতুন আরেকটা কাজে যোগ দেয়ার আগে মাস দুয়েক একটা গবেষণা কর্মে যুক্ত হবো। ছাত্রাবস্থায় সেখানে টানা তিন বছর কাজ করেছি। পড়াশোনা শেষ করার পর নানাবিধ ঝামেলায় এবছর যাওয়া হয় নি। কিন্তু টানছিল, ভীষণ টানছিল কাজটা। তাই আরেকটা প্রতিষ্ঠানের যোগ দেয়ার সময়টুকুর মাঝখানটা হেলায় ফেলে না দিয়ে কাজে লাগানোর ধান্দায় চলে যাচ্ছি সেখানে।

যেই কাজে যাচ্ছি তাকে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা বললে সবাই বুঝবে। কিন্তু এর রোমাঞ্চটা টের পাবে না। আড়াই হাজার-এরও বেশি পুরোনো একটা সভ্যতা, নিজেদের দেশের মাটির নীচে হরেক রহস্য আর সম্ভবনা নিয়ে লুকিয়ে আছ। খুঁড়ে খুঁড়ে তা বের করার শিহরণটুকু তো আর প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা শব্দটায় খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমাকে ডাকছে-ওই মাটির নীচের রহস্য ভীষণভাবেই আমাকে ডাকছে। পারছি না আর থাকতে। তা-ই চলে যাচ্ছি। আবিষ্কারের নেশা যে সব কিছুকেই ছাড়িয়ে যায়।

মনে আছে একবার ঘড়া ভর্তি মুদ্রা পেয়েছিলাম। রুপার মুদ্রা। খুঁড়তে খুঁড়তে দুই আড়াই মিটার মাটির নীচে। আড়াই হাজার বছরের পুরোনো মুদ্রা। খালি গবেষণা কর্মের অভাবে বলা যাচ্ছে না, নইলে আমার জানি, বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন মুদ্রা এগুলো। এতো পুরোনো সময়ের মুদ্রা প্রাপ্তির খবর কোথাও পাওয়া যায় না। তো সেই ঘড়া ভর্তী মুদ্রা প্রথম দিনে অর্ধেক খুঁড়ে বের করতে করতেই সন্ধ্যা। চলে আসতে হল ক্যাম্পে। সারারাত ঘুম নেই-পাহারায় আছেন কয়েকজন। পরদিন সূর্যকে হার মানিয়ে তার আগেই আমরা হাজির ট্রেঞ্চে-কি যে এক উত্তেজনার মধ্যে বের করতে হয়েছে-হোর্ডটা। লিখে কি আর তা বোঝানো যায়।

আরেকবার উত্তেজনায় কেটেছে গর্ত বসতি পাওয়ার আগে। আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিন চার হাজার বছর আগে মানুষ গর্ত করে তাতে ছাউনি দিয়ে বাস করত। আমারও কিভাবে যেন পেয়ে গেলাম এমনই এক বসতি। প্রায় তিন মিটার নীচে। প্রথমে বুঝিনি। একটা গর্ত সাদা প্রলেপ দেয়া-কি হতে পারে। অর্ধেক কাজ বাকি রেখেই ক্যাম্পে ফিরে এলাম। স্যার সারারাত ভরে পড়লেন এটা ওটা কি যেন বই। আমরা হাসলাম-ভাবলাম, কি হতে পারে। আবারো ঘুমহীন রাত। ভোরে উঠলাম-ট্রেঞ্চে গেলাম। স্যার বললেন, হতে পারে এটা গর্ত বসতি। ভারতের ইনামগাঁও বা কিছু কিছু জায়গায় এমনটা পাওয়া যায়। প্রায় মরুভূমি কিংবা শুষ্ক অঞ্চলে এমন বসতি পাওয়া যায়। এখন গবেষণার পালা ওই সময়ে এই অঞ্চলে এমন পরিবেশ ছিলো কি-না।

রাস্তা পাওয়ার উত্তেজনা লিখতে গেলে লম্বা হয়ে যাবে। সম্প্রতি পাওয়া গেছে একটা ইটের স্থাপত্য অনেকটা পিরামিডের উল্টা আকৃতির। ভারতের কিছু কিছু জায়গায় এমন স্থাপত্য দেখা যায়। কিন্তু আকার এবং ইটের বিন্যাসে-এই স্থাপত্য এক বিস্ময়। দুই বছরে বের করেছি এই স্থাপত্য। এখনো ঢাকা শহরের গ্যাঞ্জামের মধ্যে হঠাৎ করেই মনে পড়ে যায়। তুমুল তর্ক চলছে আমাদের-কেউ বলছে এটা কবর, কেউ বলছে বাঙ্কার, বেশির ভাগই মন্দির। আমি ছিলাম কবরের পক্ষে। শেষমেশ কবর মেলে নি। রহস্যই থেকে গেলো।

সেই রহস্যের টানেই আবারো যাচ্ছি। আমাদের দেশে এমন গবেষণার নজির নেই। মহাস্থানগড় বা ওই সমস্ত স্থানে ফ্রান্স টিম খনন করে-বা গবেষণা করে। কিন্তু কি করে না করে ওরাই জানে, আমাদের কিছু জানায় না। আর সরকারি অধিদপ্তর কতো জিনিস যে নষ্ট করে-না দেখলে বুঝবেন না। আমাদের যেহেতু একাডেমিক জ্ঞান আছে-আমরা যত্নও নিতে জানি। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করি-কিভাবে করি, যারা যাবেন হাতে কলমে দেখিয়ে দিবো।

এই সভ্যতার নাম উয়ারি-বটেশ্বর। উয়ারি হচ্ছে দুর্গ নগরি। তাকে কেন্দ্র করে আশপাশে আরো অনেক নগর বা বসতি গড়ে উঠেছে। এই সভ্যতার সাথে যোগাযোগ ছিলো রোমান সভ্যতার। মনে করা হয় আলেকজান্ডার এই বঙ্গে যাদের ভয় পেয়ে চলে গিয়েছিলেন তাদেরই খুঁজে বের করেছি আমরা। কাজ করতে গেলেই যখন হাতের মুটোয় মাটি উঠে আসে, আর টের পাই এই মাটি আমার শেকড়ের, আমার ইতিহাস, কতো মানুষ আজ কেবলই ইতিহাস হয়ে মাটি হয়ে গেছে, আর তার খানিকটা আমার হাতের মুঠোয়। এতো রোমাঞ্চ কোথায় রাখি বলেন।

ও, বলাই হয়নি, সভ্যতাটা পাওয়া গেছে নরসিংদীতে। এখানে পাবেন অনেক কিছু। । কাজ শেষ করে আসা পর্যন্ত ব্লগে আসার সুযোগ কম। আর যারা দেখে আসতে চান দেশের সভ্যতা আর ইতিহাস, তারা বিনা দ্বিধায় চলে আসুন। তবে এ মাসের মধ্যেই।
৪২টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×