দুজন মিলে ব্যারিকেড-
রেজওয়ান কম্পিউটার গ্রাফিক্স ট্রেইনার ছিলেন। বয়েস ত্রিশ। তারই প্রতিষ্ঠানের অধ্যয়নরত প্রিয়াংকার প্রেমে পড়লেন। এই প্রিয়াংকা আসোক টোডির মেয়ে। ভারতের সুবিখ্যাত টাকাওয়ালা পরিবার। দুই হাজার সাত সালের আঠারো আগস্ট রেজওয়ান আর প্রিয়াংকা বিয়ে করেন। http://wapedia.mobi/en/Rizwanur_Rahman স্বাক্ষী হিসেবে ছিলেন তাদের পরিচিত বন্ধুরা। বিয়ের পর প্রিয়াংকা তার শ্বশুর বাড়ি উঠে আসেন। কিন্তু এটা মেনে নেয়ার কোন মানসিকতা নেই টোডি পরিবারের। শুরু হয় রেজওয়ানের ওপর মানসিক অত্যাচার আর প্রশাসনিক হুমকি। প্রিয়াংকা স্বীকার করেছে সে রেজওয়ানকে ভালোবাসে। তার সম্মতিতেই সে বিয়ে করেছে। কিন্তু টোডি পরিবার প্রেম বোঝে না, তাদের মেয়েও হয়তো ঘরের ঝাড়বাতি, যেখানে সেখানে প্রিয়াংকা থাকতে পারে না। ঝাড়বাতি পয়সাওয়ালাদের বাড়িতেই মানানসই। পুলিশ রেজওয়ানের পরিবারকে টাকা পয়সা সাধে, হুমকি দেয়। Click This Link পুলিশ রেজওয়ানের বিরুদ্ধে টোডিদের বাড়ি থেকে মোবাইলসহ অন্যান্য জিনিস চুরির মামলা করে। রেজওয়ান খুন হবার আগে একটা এনজিওর কাছে আবেদন করে সহযোগীতার জন্য। সেখানে সে লিখেছিল প্রয়োজনে ধর্মান্তরিত হয়েও সে প্রেম রক্ষা করতে চায়। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা ভাবছিল অন্য কথা। বিয়ের এক স্বাক্ষী বিপদে ফেলে রেজওয়ানকে। সে পুলিশকে জানায় যে জোর করেই রেজওয়ান প্রিয়াংকাকে বিয়ে করেছে। প্রিয়াংকাও তার বাবার বাড়ি ফিরে যায়। এগারো সেপ্টেম্বর প্রিয়াংকার সাথে রেজওয়ানের শেষ কথা হয়। এর মধ্যেই পুলিশ প্রিয়াংকাকে হুমকি ধামকি দেয়। একুশ সেপ্টেম্বর রেজওয়ানের লাশ পাওয়া যায় রেললাইনের ধারে। এপিডিআর এর একজন কর্মকর্তা জানান- সেদিন প্রায় সকাল দশটা দশের দিকে রেজওয়ান তাকে জানান আরো কিছু ত্থ্য প্রমাণ নিয়ে সে তার সাথে দেখা করবনে। তারা ঠিক করেন দুপুর আড়াইটার দিকে তারা লালবাগ পুলিশ থানার সামনে দেখা করবেন। দুইটা চল্লিশ মিনিটে তিনি শুনতে পান রেজওয়ান মারা গেছে। Click This Link এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়।
দলে দলে মানুষ রেজওয়ানের বাড়ির দিকে মিছিল করে আসে। তারা একে খুন বলে দাবি করে। পরে কোর্ট আদালত অনেক কিছু হলেও এটাকে আত্মহত্যা বলেই রায় দেয়া হয়। অথচ রেজওয়ানের লাশ পাওয়া যায় তার দুই হাত বুকে রাখা অবস্থায় এবং ময়না তদন্তে বলা হয় পেছন থেকে আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়। এসব আলাপ আপনারা লিংকগুলো থেকে পড়ে নিতে পারেন।
এই বিষয়ে সুমনের একটা গান-
http://doridro.net/Bangla Songs/index.php?dirpath=./Indian Bangla Songz/Indian Bangla Adhunik/Kabir Sumon - Gaanola Dhakay (Disc 2)&order=0 দ্বিতীয় গানটি।
প্রেমিক শাহরুখ-
শাহরুখ খান রেজওয়ানের নামটা তার মাই নেম ইজ খান ছবিতে ব্যবহার করেছেন। http://www.rizwanur.com/ কিন্তু সিনেমা আর বাস্তবকে দূরবর্তী করেই তারা রাখেন। অনেক মানুষকে আবেগ আর উত্তেজনার জোয়ারে ভাসিয়ে তারা নিজেদের স্বার্থ আর অর্থ কেন্দ্রিক সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখাই এদের মূল উদ্দেশ্য। ভারত এবং তার সিনেমা শিল্প আজ কোথায় গিয়েছে তার প্রমাণ এই শাহরুক খান। সাম্প্রদায়িকতার পক্ষে তাদের এমন অবস্থান ঘৃণার। আমাদের দেশেও তার ভক্ত এবং অনুসারীদের অভাব নাই। এটা নিশ্চিন্তে বলা যায় যে সে যদি এই দেশে আসে তাহলে তাকে দেখার হুড়োহুড়িতে আরো কয়েকজন রেজওয়ান বা প্রিয়াংকা পদপিষ্ঠ হতে পারেন। শাহরুখ এভাবেই সিনেমার মোড়কে স্ট্যান্টবাজি করে সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতিকে জায়েজ করে রাখেন। তার এই সিনেমা নিয়েও প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে। Click This Link রেজওয়ানের নাম ব্যবহারেও আপত্তি জানিয়েছেন কলকাতার মুসলমানরা।
কলকাতা নাইট রাইডার্স-
আমাদের দেশে দাদা আর কলকাতার সাপোর্টারের অভাব নাই। ক্রিকেটকে বাণিজ্যে রুপান্তরের মহা আয়োজনে কলকাতা নাইট রাইডর্স কিনে নিয়েছেন ওই টোড পরিবার। Click This Link আর তাদের সাথে চুক্তি করেছেন শাহরুখ। যে রেজওয়ানের নাম আর কাহিনী ব্যবহার করে বিখ্যাত হন শাহরুখ তার খুনীদের সাথেই আবার তিনি হাত মেলান। Click This Link
সামগ্রিক আলোচনায় গেলাম না। ব্যস্ততার মাঝে খালি মূল বিষয়গুলা তুইলা দিলাম। বিচার আপনাদের। এখনো শাহরুখ আমাদের মনে মননে থাকে বইলা খানিক গাত্রদাহ হইলো। এখনো কলকাতার খেলা দেখার তাড়না গায়ে বিধে দেইখা এইসব লিখলাম। আশা করি আরো যারা এই ঘটনা জানেন এই ঘটনা নিয়া চিন্তা ভাবনা করছেন তারা নিজেদের মতামত এখানে যোগ করবেন।
রেজওয়ানের জন্য লাল সালাম।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



