somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ব্লগ-ই সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধের সামাজিক উপায়


যেখানে পুলিশ বা অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সাইবার ক্রাইমের বিচার করতেছে, সেখানে আলাদা কইরা আবার সাইবার আইনের কথা গুটিকয় ব্লগার কেন তুলতেছেন। এবং ব্লগেও আইন প্রয়োগের কথা বলতেছেন। মজার বিষয় হইল আইরিন সুলতানা তার লেখায় যে কিছু উদাহরণ দিছেন সেইগুলার বিচারও অফ লাইন পুলিশের আইনে সাজা সাব্যস্ত করছে। তাইলে আলাদা আইন কইরা ব্লগের অপরাধীদের সাজা দেয়ার চিন্তা লিবারেল দুর্বৃত্তি ছাড়া আর কি হইতে পারে, আমার বোধগম্য না। তাদের চিন্তায় যে সুশীল কামনা বিরাজ করে, সেই তাগাদা থিকা ব্লগে অপরাধী খুইজা বেড়ানোর পুলিশি দায়িত্ব তারা পালন করতেছেন।



ব্লগ আদতে সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ করে। বাস্তবিক ব্লগিং-এ যারা অভ্যস্ত তারাই বিষয়টা বুঝতে পারবেন। ইন্টারনেট এসেনশিয়ালি ব্যবসার জন্য, এর স্পেস অসিম, ফলে এইখানে অপরাধ যা হয় সেইটা নিয়া মাথা ঘামানোর লোক আছে। সেই দলে ব্লগাররা কেন ভিড়লেন । তাদের আচরণ সন্দেহজনক। সাইবার ক্রাইমের সমাধান অনলাইনে করা দুষ্কর, অফ লাইনেই এর বিচার চইলা আসতেছে। তাছাড়া এনারা যে সব অপরাধের কথা বলতেছেন সেগুলা সামাজিক, এর জমিন সমাজে। সাইবার ক্রাইম এসেনশিয়ালি সেইগুলা যা সাইবার স্পেস সম্পর্কিত, সাইবার সাইট সম্পর্কিত, সাইবার মাধ্যমের টুলস ব্যবহার কইরা যা করা হয়, বা এই নিয়াও আগে বিতর্ক হইতে পারে। চাইল্ড এবিউজমেন্ট বা হয়রানি প্রতিরোধে অভিযোগ করার সুযোগও আছে। এত কিছু থাকতেও ব্লগে পাহারাদার বসানির মনোবাসনা কেন জাগল তাগো! ডালয়ের মধ্যে কালা কি যেন আছে। সাইবার আইন যারা কায়েম করতে চাইতেছে তাদের এই বেলায় চিনে রাখাই মঙ্গলজনক। এর খাতিমদারদেরও চিনতে হবে। ব্লগ স্পেস মুক্ত রাখতে এদের নটে গাছ দ্রুতই মুড়ায়া দেয়া দরকার।



Click This Link আইরিন সুলতানার লেখা]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29514280 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29514280 2012-01-01 19:19:21
তিতাসের বুকে ভারতের বাঁধ দেয়ার খবর দেইখা এ গল্প নাজেল হইছে কাঁদে বেহুলা কাঁদে
কোব্বাদের চোখের সামনেই লাশের কাফন গলে ভোর ছড়াতে শুরু করে। রাত তখনও মিলায়ে যায় নাই। রাতের ফাঁকে ফাঁকে কাফনা-গলা মিহি-ভোরেরর রঙ পাতলা দুধের মতো উড়ে উড়ে মিশে যেতে থাকে। আমের পাতায়, তালের মাথায়, একটু একটু কাফন-গোলা মিহি-সাদা রঙ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তিতাস যেদিকে সেখানেও বাতাসে ভাসতে ভাসতে কাফন-গলা ভোর চলে যেতে থাকে। যেতে যেতে তারা কোব্বাদের বাপের গায়ের জলটুকু সঙ্গে নিয়ে যায়। অথবা কোব্বাদ আর তা মা কাঁদতে থাকলে তাদের নাকের আর চোখের পানিও কাফন-গলা ভোররে ভিজায়ে দেয়। ভেজা-ভেজা ভোর ফুটতে শুরু করে। এতক্ষণ অন্ধকারই ছিল। রাত ছিল। যেই না লাশটা ধুয়ে তারা উঠানে এনে রাখল, আর লাশটাও ভোর ছড়াতে শুরু করল। মসজিদের সামনে আরও কয়েকজন জড়ো হয়েছে। মরে যাওয়া মান্নানকে এরা সবাই চেনে। মান্নান মিয়া পাগল হয়ে গিয়েছিল, ভারত খুঁজতে গিয়েছিল। সে আজ মেলা দিন। কোব্বাদের তখন বগল তলে লোম গজাতে শুরু করেছিল, নাকি তারও আগে সবার অগোচরে তার বগল তলায় লোম গজাচ্ছিল তা কে জানে কিন্তু মান্নান চলে যাওয়ার পর সবাই খেয়াল করে তার একমাত্র ছেলেটা লায়েক হেয়েছে, তাবাল হয়ে উঠেছে। বাপের কষ্ট সে এবং তার মায় টের পাইছে, সমাজের বাকিরা টের পাইছে, কিন্তু পেটেরে টের পাইতে দেয় নাই কোব্বাদ। পেট খুব হারামজাদা আর বজ্জাত আছে। তারে তুমি খুশি রাখবা সেও তোমরে খুশি রাখবে। ভরা-পেট সাপের মতো সে তখন নির্বিষ নিজেরে গুটায় রাখবে। কিন্তু তারে তুমি দানা-পানি না দিছ সে হয়ে উঠবে কাল নাগ। ঘরে শত্রু বিভীষণ, তাওর তখন তুমি শান্ত করতে পারবা না। সে তখন তোমার ঘর ছেড়ে বাইরে চলে আসবে। ইজ্জত বাজারে বিকায়ে দিয়ে আসবে। সবাইরে দেখায়া বেড়াবে, দেহ আমি কোব্বাদের ক্ষিধা, কোব্বাদ একটা ফকিরের ছাও ও ক্ষিধারে খাইতে দেয় না। মান্নানই এসব বলেছে কোব্বাদরে। কিন্তু সেই সেই যে বাড়ি ছাড়ল আর আইজ ফিরল লাশ হেয়ে। ক্ষিধার চোটে ঘরের বাইরে যায় নাই সে। সে গেছিল ভারত খুঁজতে। ভারত খুঁজে পেয়েছিল কিনা সেই জানে, কোব্বাদ জানে না। তার মাও না। প্রায় শেষ রাতের দিকে তাদের ঘরে হাউ-মাউ হামলে পড়ে ইলিয়াস মিস্ত্রী। কোব্বাদ তার সাথেই কাজ করে এখন। সে-ই প্রথম মান্নানের লাশ দেখার সংবাদ জানায়। বাঁধের ওপর পড়ে আছে অসহায় মান্নান। শরীরের হাড় কখান গোনা যায়। চামড়া তখনও কুঁচকে যায় নাই। পেট যেন এক গর্ত হয়ে গেছে। শরীরে কোনো দাগ নাই। সাপেও কাটে নাই তারে। তাইলে মান্নান মরল কেমনে। এ প্রশ্নের উত্তর সবার সামনে ঝুলে থাকে। বাঁধটা যেখানে বাঁক নিছে মানে, কোড্ডার বড় রাস্তায় মেশার আগে মানে তিতাসের যে ঢাল সেখানও থেকেও কোব্বাদদের ঘর অন্তত দেড় মাইল ভিতরে। সেই ঢালে ইলিয়াসের চাচার দোকান আছে। সে সেখানেই ছিল রাতে। চাচায় মাছের ছোটখাটো ব্যবসা করে। আখাউড়ায় সেই মাছ চালান দেয়। আরও কয়েকটা দোকান ঘর আছে। আইজ মাছ মারার তদারকিতে ইলিয়াসের ডাক পড়ছিল। সে ঠিক ঢালের মুখে মান্নানের লাশ দেখতে পায়। দৌড়ে কোব্বাদরে খবর দেয় আর তারপর তার চাচার কাফনের ব্যবসাও আছে, সেখান থেকে কাফন নিয়ে, তিতাসের জলে গোসল করায়ে মান্নানরে ভ্যানে উঠায়ে মসজিদের সামনে নিয়ে আসতে আসতে কোব্বাদ এই প্রথম লাশটার দিকে ভালো করে তাকাইতে গেলে দেখে, সেই কাফন থেকে গলে-গলে ভোর নামতেছে আর সেই ভোর এমনকি আকাশেও উড়ে বেড়াইতেছে।

মান্নান অন্তত দুই বছর পরে ফিরে এসেছে লাশ হয়ে। কেউ বলে পাঁচ বছর। তাদের বছরের হিসাব গুলায়া যায় কারণ ভারত খুঁজতে যাওয়ার ঘটনা মান্নানে যখন ঘটাইল, তখন আশে-পাশে আর কোনো ঘটনাও ঘটে নাই। এমনকি এরপর মনে করার মতো, দাগ টাইনা রাখার মতো কিছু ঘটে নাই। ফলে মান্নান কবে চলে গিয়েছিল তা হিসাব কইরা বাইর করা সম্ভব হয় না। তয় মান্নান পাগল হইছিল। বেহুলার জন্য সে পাগল হইছিল। মান্নানের সব ঘটনাই সবাই জানে। সেও রঙের কাজ করত। বর্ষা আসলে মাছ ধরত। নির্ঝঞ্ঝাট মান্নান জহুরারে বিয়া কইরা নিয়া আসে তার নানা বাড়ি লাকসাম থিকা। কালো-মান্নান রঙের কাজ করতে গেলে তার মুখে কেমন সবুজ-লাল বা চুনা রঙ লেগে থাকলে তারে দেখতে বিচিত্র সার্কাসের সঙ মনে হইত। এমনকি তার মরণের পরে অনেকেই সেসব কথা স্মরণ করে। সে বিনয়ী আর ভাবুক চরিত্রের আছিল, কেউ কেউ তাও উল্লেখ করে। তবে সব ছাড়ায়ে তার পাগল হেয়ে ওঠার ঘনাই মান্নানরে আলোচ্য করে রাখে। সে মারা যাওয়ার পরদিনও এমনকি টানা সাতদিন এরপর বৃষ্টি হয়ে গেল, কার-কার যেন জমিনে পানি জমে গেল, কার যেন গরু ছুটে গেল, কার যেন নৌকা গেল ডুবে, কার টিনের চাল ফুটা হইল, কার কি হইল না হইল সব কিছুতে মান্নানের উপস্থিতি বাড়তেই থাকল। বলা যায় মান্নান তাদের অভাবের ঘরেরর চৌকিদার হয়ে উঠল। যতক্ষণ তারা কাজ করে বা যতক্ষণ তারা একা থাকে হয়তো তখন কেউ মান্নানের কথা ভাবে না বা ভাবলেও ঠিক ঠাহর করেতে পারে না মান্না বিষেয়ে সে আসলে কি ভাবল। কিন্তু যেই দুই জন এক হয় কোনো জায়গায়, তাদের আর কিছু করার থাকে না, তারা মান্নানের কথাই বলে। আখাউড়া গিয়ে সিনেমা দেখে ফেরার পথে তারা যখন বাসে চাপে বা টেম্পুতে বা হেঁটে ফিরলেও তাদের ঠিক মনে পড়ে মান্নানের কথা। এর মধ্যে গুরুতর ঘটনা ঘটে যায়। কেউ কেউ বেহুলার কান্না শুনতে পায় রাতের বেলা। কেউ মান্নানরে স্বপ্নে দেখে। কেউ মান্নানের বলে যাওয়া স্বপ্ন দেখে, কেউ দেখেছে কিনা তাও ঠিক কইরা কইতে পারে না। কিন্তু তাও তার মনে হয় সে দেখছে, স্বপ্নটা সেও দেখেছে। মান্নানের স্বপ্ন যে দেখা নাই তার জীবন দেখার বাকি আছে বলে ঘোষণা দেয় স্বয়ং মৌলভি সাব।

মান্নানের মরার পরে এই যে সবাই তারে নিয়া চিন্তায় পড়ল এটা কিন্তু জীবিত মান্নানের বেলায় ঘটে নাই। সে তখন রঙের কাজ করে। বেশির ভাগই আখাউড়াতে। ঢাকায়ও গেছে বার দুয়েক। শেষ বার বেহুলারে স্বপ্নে দেখার আগে সে ঢাকাতেই ছিল। টানা প্রায় চার কি ছয় মাস না আট মাস যেন। কোব্বাদ বা তার মা ভালো বলেতে পারবে। ফিরে এসে মান্নান অনেক্ষণ তিতাসের বুকে তৈরি করা বাঁধের মুখে বসে ছিল। তখনও মান্নানরে কেউ পাত্তা দেয় নাই। সে ভালো মানুষ, মোটামুটি চলতে-ফিরতে পারে। তো সে ঢাকা থেকে ফিরে তিতাসের বুকে রাস্তা দেখে আর তার উপর দিয়ে চলে যাওয়া বিচ্ছুর মতো শত-চাকার গাড়ি আর সেই গাড়িতে কি যায় তা নিয়ে ভাবতে ভাবতে বাঁধের মুখেই সন্ধ্যা করে দেয়। কাজেও যায় না, নতুন কাজও খোঁজে না। কেমন করে, এমন করে সন্ধ্যা পার করে দেয়। শেষ দিকে লাল সূর্য তিতাসের জেলে ঝিলিক দিলে তা মান্নানের মুখে এসে পড়ে। তাতে মনে হয় যেন সে কোথাও রঙ করে এল। সেই রঙ লেগে আছে মুখে। এমন করেই দিন কয়েক গেল। মান্নান এ সময়ে কথাও তেমন বলত না। দুপুর গড়ায়ে গেলেও বাড়িতে ফিরত না। অমন নধর বৌটারে ধরেও দেখত না। কি হল মান্নানের কেউ বুঝতে পারে না। একদিন মান্নান, তখন সকাল আটটা এনকি দশটাও বাজতে পারে। সে মোমিনের দোকানে না ইলিয়াসের মোকামে গিয়ে কাল রাতে কি স্বপ্নে দেখেছে তা বলতে থাকে। বিরক্ত মুখে ইলিয়াস বা মোমেন তার গল্প শুনে যায়। দ্বিতীয় দিনেও একই কথা। সেই এক স্বপ্ন। তৃতীয় দিন পার করে পঞ্চম এমনকি টানা সাত দিন সে রাতে একই স্বপ্ন দেখতে থাকে ও পরদিন যারে সামনে পায় তারেই তা বেলে যেতে থাকে। এতে করে আর সন্দেহ থাকে না যে মান্নান পাগল হয়ে গেছে। কিন্তু পাগল হলে খালি একটাই স্বপ্নের কথা কেন বলবে। সারাদিন বাঁধের এপাড়-ওপাড় করে সে। কোনোদিন বাঁধের তলায় বালির বস্তা ধরে টানাটানিও করে। ঘুরাঘুরি করে। সাত দিন কি দশদিন পার হয়ে গেলে সে এবার বলতে থাকে সে রাত হলে বেহুলার কান্না শোনে। এবেং লখিন্দরেকে আর বাঁচানো যাবে না বলে বেহুলা মাতম তোলে রাতভর। এক্ষণে মান্নানের পাগল হয়ে যাওয়া বিষয় সবাই নিশ্চিত হয়। এবং বেহুলার কান্না মান্নানের বৌয়ের চোখে ভর করে। কান্নাও যে ভুত হয় তা কি আর মান্নান বোঝে না, ফলে সে বউরে বেলে কান্দিস না, লখিন্দর মরত না। আমি বাঁধ কাটতে যাই। তারপর বার দুয়েক কোদাল নিয়ে এসে বাঁধ কাটার চেষ্টা করতে গেলে কোনদিন কোব্বাদ কোনদিন নাদের কোনদিন ওয়াহাব তারে ধরে নিয়ে আসে। কোনদিন কাটতে-কাটতে সে নিজেই বেহুঁশ পড়ে থাকে।

মান্নানের দশা খারাপই হতে থাকে। সে এরপর ভারত কোথায় তা বলে বলে বাজারময় ঘুরতে থাকে। এমন খুঁজতে খুঁজতেই সে একদিন বাঁধ ধরে কোথায় চলে যায় আর তারে খুঁজে পাওয়া যায় না। মেলা দিন খুঁজে পাওয়া যায় না। তার আশায় কোব্বাদের মা দিন-রাত গুজরান করে। মান্নান আর আসে না। কোব্বাদও রঙের কাজ শুরু করে। মান্নানের ছেলে বলেই সে কাজ পায়। তার হাতও খারাপ না। রঙ করতে করতে জীবনের অনেক কিছু ভুলে যেতে হয় কোব্বাদকে। লাশটাই যত নষ্টের গোড়া। লাশ হয়ে মান্নান আবার ফিরে আসে। যে স্বপ্ন সবাই ভুলে গিয়েছিল তা আবার তাদের মনে পড়ে যায়। কোব্বাদেরও। বাপের কুলখানি শেষ করে সেও একদিন সন্ধ্যাতক বাঁধের মুখে বসে থাকে। অনেকেই তারে নিষেধ করে। তাছাড়া মান্নান-তাড়িত বলে কেউ কেউ কোব্বাদরেই মান্নান ভাবে আর তা স্বাভাবিক বিবেচনা করে। কোব্বাদ সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে থেকে ফিরে যায় বাড়িতে। রাতে আর তাদের খাওয়া হয় না। যদিও এরা-তারা খাবার পাঠায়েছে। কিন্তু সে খাবার পড়েই থাকে। ক্লান্ত কোব্বাদ শুয়ে পড়লেই ঘুমায়ে যায় কিনা বুঝতে পারে না। সে বরং নিজেরে সেই বাঁধের পাড়েই দেখে আবার। রোদ তখন জ্বল-জ্বল করতেছে। বাঁধের পাড়ে একদল মানুষ দাঁড়ায়ে আছে। সাবই চিল্লা-চিল্লি করতেছে। গম গম আবাজ উঠতেছে। কি হইল, কি হইল বইলা আরও মানুষ ছুটে আসতেছে। বেহুলা আটকা পড়ছে বাঁধের কাছে এসে। লখিন্দর শুয়ে আছে। চাদর ঢাকা শরীরে কলার ভেলায় শুয়ে আছে সে। তার পায়ে সাপের দংশন। নীল হয়ে আছে পা। ঠিক নীল ও না কালচে হয়ে যাচ্ছে। বেহুলা কত কি বলে কিছুই শোনা যায় না। তার রুক্ষ চুল, তার গায়ে সোনা-বরন শাড়ি। দুই হাত মেলে ধরে খুব জোরে নাড়ে। আর কি যেন বলে। তার মুখ বাঁকা হয়ে আসে। কানলেই কেবল এমন চেহারা হয় মানুষের। বেহুলা আর লখিন্দরের আটকে যাওয়া ভেলা দেখতে দেখতে কোব্বাদ সে উপরে উঠতে থাকে। তার পায়ের নিচে মাটি নাই। বেহুলা আর লখিন্দর আর যারা তাদের দেখতে এসেছিল সবার কাছ থেকে উপরের দিকে উেঠে যেতে থাকে কোব্বাদ। কোথায় উঠে তার ঘুম ভেঙে যায় সে বুঝতে পারে না। কিন্তু ঘুম ভাঙলে সে বুঝতে পারে এটা স্বপ্ন। পর দিন কাজে গেলেও এ স্বপ্ন সে ভোলে না। কাউরে বলেও না। তার মনে ভয় ঢুকে গেছে। বাপের পরিণতি না তার হয়। তারও কি এমন ধারার মরণ হবে। সে কি পাগল হয়ে যাবে। কাজে ভুল হয়ে যায় কোব্বাদের। মালিক তারে ছুটি দেয় কয়েক দিনের জন্য। বাপ-মরা ছেলে বলে হয়তো সুবিধা পায় কোব্বাদ। ঘরে ফিরলেও মায়ের সাথে তার কথা হয় না। মাও কেমন চুপ করে থাকে। মারে দেখতে বেহুলার মতো লাগে। কোব্বাদরে বার কয়েক খাইতে ডাকে। কোব্বাদ খাইতে যায়। আবার ফিরে আসে। বাজারের দিকে ঘুরতে যায়। বাজারে সবাই কেমন তাকায় তার দিকে। সবার দিকে কোব্বাদ তাকায়। এরাই ছিল তার স্বপ্নে। এদের সবাইরে সে দেখেছে। কোব্বাদ ঘুরতে ঘুরতে হয়রান হয়। বাঁধের মুখে গিয়ে বসে থাকে। কেউ ফিরে যেতে বলে, কেউ মাথায় হাত বুলায়ে দিয়ে চলে যায়। কেউ তার পাশেই বসে থাকে। বাঁধের মুখে বসে থাকা লোকের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। কাজ ছেড়ে দিয়ে এরা কেউ কেউ সারাদিন বাঁধের পাশেই বসে থাকে। কোব্বাদ তাদের দেখে কি দেখে না। সে বাঁধের দিকে তাকায়ে থাকে। এখানেই আটকা পড়েছে বেহুলার ভেলা। বাড়ি ফিরে গিয়ে আবারও তরে সেই স্বপ্ন দেখতে হয়। মালিকের কাছ থেকে আবারও ছুটি নিয়ে আসে সে। স্বপ্নটা দেখার জন্য কিছুটা নিরাপদ সময় চায় কোব্বাদ। একা থাকলে স্বপ্নটা জমে উঠবে বেলেই তার ধারণা। ফলে বাড়ি ফিরে গিয়ে সে আবার শুয়ে পড়ে। রাতে সে কান্না শোনে। উঁ উঁ স্বরে সেই কান্না কোব্বাদের পৈঠায় বসে থাকে। দরজ খুলে বাইরে আসেলে সে বেহুলারে দেখে। বেহুলা কি বলে বুঝতে পারে না যদিও। কিন্তু দুই হাত মেলে দিয়ে তার কান্না ঠিক কোব্বাদ শুনতে পায়। বেহুলারে দেখতে দেখতে আবারও আকাশের দিকে উঠতে থাকে কোব্বাদ। বেহুলা নিজের তলপেটে হাত বোলায়। তার ঋতুকাল বন্ধ হয়ে আছে। কেউ হয়তো পাশ থেকে বলে বা কোব্বাদ নিজেই নিজেরে বলে।

কোব্বাদের মতো আরও জনা কয় সে রাতে আকাশ ভ্রমণে যায়। তাদের চোখের সামনে বেহুলার উঁ উঁ কান্না চড়াই পাখির মতো উড়ে বেড়ায়। বেহুলার তলপেটের বেদনা কুয়াশার মতো তাদের ঘাড়ে-গায়ে পড়তে থাকে। তারা আকাশে কতদূর উঠে গেলে দূরে বাঁধের গায়ে লখিন্দরকে দেখতে পায়। নিস্তেজ শুয়ে আছে সে। আবছা ছায়া-ছায়া আঁধারে কোব্বাদরা মিশে যেতে থাকে। আকাশ থেকে নেমে আসে কখন তারা বুঝতে পারে না। কিন্তু পর দিন সূর্য উঠলে বাঁধের কাছ থেকে ঘুরে এসে কেউ কেউ কাজে যায়। কেউ আবার শরীর খারাপ বলে ঘরেই শুয়ে থাকে। কোব্বাদ কাজেই যায়। আজ তার ছুটি শেষ হয়েছে। কাজে তেমন সুবিধা করতে না পারলেও সারাদিন খাটতে হয়। গত রাতের স্বপ্ন সে ভুলেই গিয়েছিল। খালি যখন রঙ করতে শরু করেছে। তখন দেয়ালে সে বেহুলারে বসে থাকতে দেখে। যতই রঙ করে কোব্বাদ বেহুলা ভেসে উঠতে থাকে। এতে মালিকের বকা শুনতে হয়। বাপের মতো পাগল হইবিনি, এমন খোঁটাও শুনতে হয়। শুনে শুনে নিজেকে আরও গুটিয়ে আনে কোব্বাদ। কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরে কখন নিজে বিছানায় শুতে পারবে সেই চিন্তায় সে নিজেকে গোপন করতে থাকে চরাচর থেকে। বাড়ি ফিরে এসে কোব্বাদ আবার স্বপ্ন দেখে। আসলে কোব্বাদ আরাধনা করে সেই স্বপ্নের। বেহুলার প্রতি এ তার প্রেম না তার মুক্তি বেহুলাতেই কে জানে। এ স্বপ্নের ফজিলত জানতেও হয়তো কোব্বাদ বা তার গ্রামের কেউ কেউ শুয়ে পরে নিজেদের বিছানায়। রাতের ঘুমে বেহুলাই আসে, আজ তার অবস্থা আরও খারাপ। আজ সে শুকিয়ে গেছে অনেক। আজ সে সারা গায়ে দারুন ব্যাথা জানিয়ে যায়। আজ তার কথা একটু বুঝতেও পারে কোব্বাদরা। বেহুলার উত্থিত আঙুল বাঁধের উল্টা পাশ দেখায়ে দেয়। মুক্তি চায় বেহুলা। লখিন্দর যে মারা যাবে, আর টিকবে না। কি হবে বেহুলার। তার সারা শরীরে বাঁধের যন্ত্রণা ফুটে ওঠে। তার শরীরে কারা যেন বাঁধ বানায়ে দিছে, রক্তও বাধা খায় বাঁধের গায়ে। কি করে সে বাঁচাবে লখিন্দরকে। বেহুলা যারা বাঁধ দিয়েছে তাদের কাছে যেতে চায় লখিন্দরকে নিয়ে, আজকের মধ্যেই, নইলে বাঁচবে না কেউ।
স্বপ্ন দেখা শেষ হলে নিজেকে অনেক তাজা আর শরীরে শক্তি পায় কোব্বাদ। তার চোখে সূর্য জাগে, লাল সুর্য ভোর ফোটাতে থাকে কোব্বাদেও চোখ থেকে। সেই চোখে তিতাসের বুকের বাঁধ পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই দিকেই হাঁটা দেয় কোব্বাদ। তার পেছনে আরও কে কে যেন বাঁধের দিকে এিগিয় যায়, ঘষা আঁধারে ঠিক বুঝতে পারা যায়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29510606 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29510606 2011-12-26 22:44:26
একটি রাজনৈতিক জ্বর- গল্প (পত্রিকার লোকেরা অশ্লীল গল্প ছাপতে চায় না)

মোমেন নিজের গোয়ায় আগুনগরম কিছুর অনুপ্রবেশ টের পায়। এমনতিইে তার শরীর গরম হয়ে আছে। নাক দিয়ে ভাপ যায়। মাথায় খানকতট কাঁচা ইট বসিয়ে দিলেই দেখা যেত কেমন লাল হয়ে উঠেছে সেগুলা। পিঠের ওপর কিছু চাল ছড়িয়ে দিলেই হয়েছে, তাতে খই ফোটা শুরু হবে। বুকে হাপর উঠছে। কানজোড়া রেলের ইঞ্জিন যেন, ভোঁ-ভোঁ করেই চলেছে। সব মিলায়ে মোমেন আস্ত একটা লু হাওয়া হয়ে শুয়ে আছে। এর মধ্যেই তার গোয়ায় গরম কিছুর অনুভূতি তারে গরম সম্পর্কেই সজাগ করে তোলে। গরমের উপরও গরম আছে, তা সে টের পায়। কি ঢুকেছে সে পরে, আগে এতক্ষণ গরম শরীরের অবশ ভাবটা তার দূর হতে শুরু করে। ভেতরে-বাইরে গরমভাবের ফেরে পড়ে সে বে-হুঁশ পড়েছিল। এত গরম গায়েও হুঁশ টিকে থাকে। হুঁশও কি গরম হয়ে উঠেছিল। কিন্তু গোটা শরীরের হুঁশের বাসা কোথায়। তা-ই ভাবছিল, হুঁশ খুঁজতে-খুঁজতে নিজেই হারায়ে গিয়ছিল, আবার নিজেরে ফিরে পেলে হুঁশের সন্ধানে নেমেছিল। নিজেরে ফিরে পাওয়ার জন্য সে এখন এখানে কেমন আর কিভাবে আছে, আর ছিলই বা কোথায়, এসেছেই বা কি করে, গরম হয়ে উঠল কখন, গরম হতে শুরু করেছিল কখন- এসব ভাবতে থাকে। ফলে সে নিজেরে খুঁজে পায়। নিজেরে খুঁজে পেতে গেলে হুঁশ যায় হারায়ে। গরমে গলে গিয়ে হুঁশ তারে তালাক দিয়ে চলে গেছে কি। হুঁশ যার নাই সে বিধবা। বিধবা মোমেন গরম গায়ে কোনো শক্তি পায় না। হুঁশ থাকে না বলে কি করতে হবে এখন সেই বোধটাও আসে না। কি করলে সে আবারও গায়ের তাপ কমাতে পারবে তাও বুঝতে পারে না। এখানেই পড়ে থাকবে না উঠে অন্য কোথাও যাবে, তার ক্ষিধা পেয়েছে, খাবে কিছু, কলা-রুটি-বন-পুরি, ইতি-আদি যা কিছু খাওয়ার যোগ্য বলে সে জানে, তেমন কিছু কি খাবে। খাওয়ার কথা ভাবতে গেলে ক্ষুধা যায় হারায়ে। ক্ষুধা ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় সে আবার রত হয় যখন, তখনই সব অন্ধকার হয়ে আসে। অন্ধকারেও তার গা গরমই থাকে আর সে গরম গায়ে অন্ধকার বেড়েই চলে। নিজেও অন্ধ হয়ে যায়, অন্ধ হয়ে গেলে চোখ মেলার চেষ্টা করে, আর কি আশ্চর্য চোখ মেললে বা মেলার চেষ্টা করলে সে দেখতে পায় সে হাঁটছে। হাঁ, হেঁটেই সে এখানে এসেছে। কিন্তু সে তো এখন নয়, এখন সে শুয়ে আছে। কুত্তারা যেমন শুয়ে থাকে। কিন্তু সে নিজে চোখে দেখে যে সে হাঁটতেছে। হাঁটার সময়টাও তার মনে পড়ে যায়। আজ সারাদিন সে হেঁটেছে, গতকালও হেঁটেছে। হাঁটতে-হাঁটতে যেখানে দেখল যে একটা বাজারে আগুন লেগেছে, সে আগুন যেন এক বিশাল ডানা প্রজাপতি, যার পাখনার শেষ প্রান্তে ছাই রঙ, ক্রমশ সে ভেতরের দিকে হলুদ, কোথাও কমলা আর শরীরের সঙ্গে সেই ডানা যখন যুক্ত হইছে, তখন তা লাল। আর সেই প্রজাপতির চোখ জ্বলে, তাও লাল। লালচে একটা প্রজাপতির ডানায় বাতাস লাগলে, আকাশময় ধোঁয়া উড়ে। প্রজাপতিটা বসে আছে এক টিনের চালের উপর। মোমেন সেখানে গিয়ে দাঁড়াতেই প্রজাপতিটা লাল চোখে তার দিকে যখন একবার তাকায়েছিল না! তখন, তখনই তার গরম লাগে প্রথম। এরপরও সে হেঁটেছে অনেক দূর। কিন্তু সেই প্রজাপতি যে তার দিকে তাকায়েছিল, সেই তাকানোটা অনেকক্ষণ তার চোখে-চোখে ফিরেছিল। এখন শুয়ে থেকে সে অন্ধকারে হারায়ে গেলে সেই আগুন-চোখ তার না-দেখা চোখে দৃশ্যমান হয়। দাউ-দাউ প্রজাপতিটা দোকানের চাল জ্বালায়ে দিতেছিল, প্রজাপতিটার শরীরের তাপে টিনগুলা কেমন শুকনা পাতার মতো মড়-মড় ভাইঙ্গে পড়ে। কোথাও বসতে পারে না প্রজাপতিটা, সরে সরে বসার নতুন জায়গা খোঁজে। যেখানেই যায়, সেখানেই সব পুড়ে যায়। আগুনের কতো কষ্ট, কোথাও তার বসার জায়গা হয় না। সে একটা প্রজাপতি, তাতে কি, তার ঠাঁই হয় না। ফলে আগুন নিজেই তার আত্মারে হত্যা করে। আর সে যারে ছোঁয়, সে ছাই হয়ে যায়। মোমেনরে ছুঁতে পারে নাই। সে চলে এসেছে। জোরে জোরে হেঁটে দাউদকান্দি পার হয়ে এসেছে। কিন্তু একবার যে তাকিয়ে ছিল, তাতেই মোমেনের জ্বর চলে এসেছে। নইলে জ্বরটা বেড়েছে, জ্বর তার আগে থেকেই ছিল। মোমেনের গা মনে হয় এমন গরমই ছিল যে, সে যখন প্রজাপতিটার কাছে যায়, তার গায়ের আঁচে সেই প্রজাপতি আরও তেঁতে ওঠে। তাতেই সে বিরক্ত চোখে মোমেনের দিকে তাকায়। আর মোমেন ভয় পায়। ভয় পেয়ে জোরে হাঁটা দেয়। হাঁটতে-হাঁটতে এখন যেখানে শুয়ে আছে আরকি, সেখানে চলে আসে। সেখানে কি হয় সে কিছু দেখতে পায় না। যারা বর্তমান দেখে না, তারা কি অন্ধ। তাইলে তারা যে অতীত দেখে। সেইটা কি দেখা না। জ্বরের ঘোরে এমন সব নিয়ে ভাবতে-ভাবতে মোমেন ক্ষুধাও হারায়ে ফেলে, চোখের দেখাও হারায়ে ফেলে। গরমের তাপে আসলে সব উবে যায়। শরীর ছেড়ে চলে যায়। শুনতে পাইত এই কিছুক্ষণ আগে। এখন তাও পায় না। মন্ত্রীর গাড়ি যাইতেছিল তখন, সে সাইরেন শুনেছিল। মন্ত্রীরা সশব্দ গমন করে। মোমেনেরও মুত চাপছে তখন। সে যদি মুইতা দিত, নির্ঘাত মন্ত্রীর গাড়ির উপর গিয়া সেইটা পড়ত। ফলে অর্ধেক পথেই সে মুত থামায় দেয়, নিজের হাতের কোষে মুত জমা করে আশে-পাশে ছিটিয়ে দেয়। মন্ত্রীর গাড়ি চলে গেলে তারপর সে আবার মুততে বসে। সোডিয়ামের আলো আর গাড়ির আলো আর সাইনবোর্ডের আলো আর হাসপাতালের আলো আর দোকানের আলো আর প্রতিফলিত আলো আর মানুষের চোখে জোনাক-আলো তার চারপাশে বিচরণ করলেও মোমেন মুতের রঙ দেখতে পায় না। তাও সে ধরে নেয় এর রঙ হলুদ। এই ধরে নেয়াটা আসলে মোমেন ধরে না, অন্ধকার থেকেই বা অজ্ঞান থেকেই এমন একটা মত উঠে আসে যে, মুতের রঙ হলুদ। মুতা শেষ করে আগের জায়গায় যখন শুয়ে পড়ে তখন সে ভেবেছিল, অনেক বাঁচা বেঁচে গেছে। তাছাড়া সে যে ভদ্রতা দেখাইছে, তাতে নিজের বিষয়ে নিজের বিশ্বাস বাড়ে, তার জ্বর ভালো হয়ে যাবে এমনটাও মনে হয়। তারপর ঠাণ্ডা লাগতে শুরু করে তারপর কাঁপুনি আসে তারপর মোমেন নিজেরে জড়ায়ে ধরে তারপর মোমেন অজ্ঞান হয়ে যায়। সেখানে সে কিছুই দেখে না, শোনে না, বুঝে না। এমনকি জ্ঞান ফিরে পাইলেও, মানে এই যে নিঃশ্বাস নিতে পারে সে, হাত পা নাড়াইতে পারে সে, অতীত দেখতে পারে সে, কি করছিল, কই আছে সব বুঝতে পারে সে- এতকিছু পারলে তারে জ্ঞানী কেন বলবে না লোকে। আলবাত বলবে। মোমেনরেও বলবে। তার গোয়ায় যে এখন গরম আর শক্ত কিছুর প্রবেশ ঘটেছে তাও তো সে বুঝতেছে। জ্ঞানীরা সব বুঝে। অজ্ঞান না হইলে জ্ঞানে ফেরা হইত না মোমেনের। জ্ঞানে ফিরলে একবার চোখ খুলে নিজের আশে-পাশেও সে তাকাইছিল। মনে হইছিল কেউ একজন তার সামনে দাঁড়ায়ে আছে, একটা লাঠি হাতে সে গুতা দিতেছে। তখন জ্ঞান আর অজ্ঞানের মাঝামাঝি কোথাও সে ছিল বলে আবছা লাগতেছিল চারপাশ। তারে কেউ কিছু জিজ্ঞেস করেছিল বলে ভ্রম হইলেও সে কোনো কথার উত্তর দেয় নাই। বোল ফোটার মতো করে আঁহ-উঁহ করেছিল। আর মনে হয়েছিল যে লাঠির আগাটা তার শরীরে যখন ঘুরে বেড়াইতেছিল তখন লাঠিটা দুই পায়ের মাঝখানে বিচি আছে কি-না তা খুঁজতেছিল। তা মোমেনের আছে। বাপের কাল থেকেই আছে। লাঠিটা সেখানে এসে থেমে গেলে মোমেন আবারও কিছুই দেখতে পায় না। এতক্ষণ যারে ভেবেছিল মানুষ, পরে তারে কুত্তা বলে ভ্রম হইল। এতক্ষণ যারে ভেবেছিল অন্ধকার পরে তারেই দিন মনে হইল এতক্ষণ যারে ভেবেছিল সে নিজে পরে তারেই একটা লাশ মনে হইল। কুত্তার পাশেই সে দাঁড়ায়ে আছে। আজকেই দেখেছিল লাশটা। দাউদকান্দি তখনও কি সে পার হয়েছে। মনে হয় না। দাউদকান্দি এত সহজে পার হওয়া যায় না। সেখানে গুলি-খাওয়া লাশটার সাথে সে আর একটা কুত্তাই খালি দাঁড়ায়ে ছিল না। সে দাদীর কাছে যে গল্প শুনেছিল , জালিমদের গল্প। তেমন চেহারার কয়েকজনও লাশ ঘিরে দাঁড়ায়ে আছে। লাশের নাম আর সাকিন যা-ই হোক না কেন তারা বলে যে লাশটা তাদের। তাদের কারণেই সে লাশ। তারা এ বাবদে গল্পও শোনায়। আর মোমেন দেখে আরও কেউ-কেউ জীবনে লাশ অথবা গুলি-খাওয়া-লাশ দেখে নাই বলে গভীর মনোযোগে লাশ দেখতে থাকে। আর মানুষ কেমনে লাশ হয় বা মানুষ কেমনে গুলি খায় তা জানতে গভীর আগ্রহ নিয়ে কান খাড়া করে। কেবল কানের দিকে তাকাইলে মানুষের চেহারা পাল্টে যায়। চেহারার জায়গায় কান আর কানের জায়গায় চোখ-নাক থাকলে কেমন হইত। যাই হোক, জালিমরা গল্প বলে- লাশ-হওয়া লোকটা বজ্জাত আছে, সে খারাপ কাজ করেছিল,
: কি খারাপ কাজ
: সে নেশার ব্যবসা করত
: কিসের নেশা
: বাজে নেশা
: ও, ধুতুরার বিষ বেচত বুঝি
: আরও ভয়ানক নেশা আছে
: দেখতে কিরাম
: নেশার নির্দিষ্ট কোনো রং আর আকার নাই। আমাদের জানা মতে এমন কিছু লোক আছে যারা কথার-নেশা ফেরি করে। তাদের কথা শুনে কত লোক খারাপ হয়ে গেল।
: এ লোক কি নেশা বেচত ?
: গোল নেশা
: সেটা খালি কিরাম লাগে
: আমারা তো খাই নাই
: তালি বুঝলেন কেমনে
: আমাদের জানানো হয়েছে
: ও, তা লোকটার দেশ কোয়ানে?
: মুন্সিগঞ্জ
: এখানে এল কি করে ?
: অস্ত্র নিয়ে পালায়ে যেতেছিল
: তো সে আপনাগের গুলি করে নাই
: করেছে
: একটাও লাগে নাই গায়ে!
: না
গল্প এখানেই শেষ হয় যদিও, কিন্তু গুঞ্জন চলে। এমন লোকদের প্রথমে জালিম ভাবলেও পরে নিজেরেই নিজে গালি দেয় মোমেন। ছি, ভালো লোকগুলারে নিয়ে সে কি ভেবেছে। আর পুরা ঘটনাটা এই জ্বর-কাতর শরীরে মনে করার পর তার আবার ধন্দ জাগে। সে আসলে এমন কিছু কি দেখেছিল, নাকি শুনেছে। কোনো সিনেমার ঘটনা শুনেছে। এখন জ্বরের ঘোরে মনে হেেচ্ছ সে দেখেছে। এমন সিনেমা যেখানে কয়েকজন নায়ক আর একজন গুণ্ডা। নাহ, জ্বরটা বোধ হয় বাড়তেছে আরো। তা এতটা পথ মোমেন হাঁটতেছিল কেন। তার কি পকেটে পয়সা ছিল না? ছিল। তার কি বাসে বা ট্রেনে চড়া নিষেধ ছিল? না। তাইলে! কে জানে, মোমেনের তো জ্বর। সে হয়তো বাসে করে যাওয়ার পথেই এমন কিছু দেখেছিল। বা কেউ তারে বলেছিল। বা এখন তো আর এসব কথা জানার জন্য হাঁটতেও হয় না, বাসেও চড়তে হয় না। হয়তো মোমেন সিনেমাতেই দেখেছিল। আগুনও দেখেছিল। না হাঁটলেও যাওয়ার পথে দেখেছিল। যাওয়ার পথে যেতে-যেতে তার জ্বর বাড়তেছিল, জ্বর বাড়লে সে আর কোথাও যেতে পারতেছিল না, যার কারণে সে শুয়েই পড়েছে এখানে এসে। জ্ঞান হারায়, জ্ঞান হারালে অজ্ঞান হয়ে যায়। অজ্ঞান হয়ে গেলে সে এসব ঘটনা মনে করতে পারে। যা দেখত তা শুনে, যা শুনত বলে জেনেছিল তা দেখে। আর মনে করা কথার এত সত্য-মিথ্যা জানতে চাইলেও কি তার সত্য জবাব দেয়া সম্ভব? এখন তো আরও সম্ভব হয় না। নিজেরে দেখার জন্য মোমেন অজ্ঞানের তলা থেকে একটু-একটু ভেসে উঠতে থাকে, আর দেখে যে তার আশে-পাশে অন্ধকারেরা গায়ে চাদর দিয়ে বসে আছে, একটা-একটা করে অন্ধকার চাদর খুলে উঠে দাঁড়ালে, একটু-একটু করে রাত বাড়ে। এমন করে রাতের বাড়া দেখতে-দেখতে সে মনে করতে পারে যে সে জ্বরও দেখেছিল। তা বোধহয় তখন সে হেঁটে কি বাসে করেই মিঞারবাজারে এল মাত্র। তখনই তার পাশে একটা লোকের দেখা পায়। লোকটা একটা ছায়া, কাঁচা-মেঘের মতো রঙ। শ্যাওলার মতো চুল, মুখের ভিতর অন্ধকার, চোখের ভিতর কেতুর। সে তার ঠিক পাশেই দাড়ায়ে বলে-
: আমার নাম জ্বর
: হা, জব্বর?
: না জ্বর
: আ, মানে কি
: মানে আমি এখন আপনাতে ভর করব
: আ
: হ, আমার একটু ঢাকা যাওয়া দরকার
: আ
: হ, সেখানে কিছু লোকের শরীরে জ্বর আনা দরকার
কথা বলতে-বলতে জ্বরের, শরীর খসে যেতে থাকে আর নিজের শরীরে তার অনুপ্রেবেশ দেখতে থাকে মোমেন। প্রথমে পায়ের অংশ, তারপর হাতে, তারপর জ্বরটা যখন আর কোথাও দেখা গেল না, মোমেন বুঝল তার মাথা-ব্যাথা শুরু হয়েছে। এবং জ্বরের কথা স্মরণেই সে বুঝল যে সে ঢাকায় এসেছে। কাজের জন্য না কিসের জন্য। খাইতে পায় না বলে কাজ করবে, না দেখতে পায় না বলে দেখবে। অভাব পূরণের জায়গা হইল গিয়া ঢাকা। যে জন্যই হোক জন্য, সায়েদাবাদ আসতে না আসতেই তার পকেটে কিছু টাকা যদি তখন থেকে থাকে তা সে সেখানেই খুইয়ে এসেছে। পকেট মারা খাওয়া আর হোটেলে খাইতে গিয়া খরচ হইলেও, একই মানে দাঁড়ায়। এখন তো বটেই। টাকার যেহেতু জ্বর হয় না, ফলে সে জ্বর-নিরপেক্ষ থাকে। টাকার যেহেতু পকেট মারের ভয় নাই ফলে সে হোটেল মালিকের হাতেও নিরাপদ বোধ করে না। টাকা নিয়াও কিছুক্ষণ ভাবনা জাগে মোমেনের মনে। জ্বরের ঘোরে একবার মনে হয় যেন মোমেন নিজেরে টাকায় পাল্টে ফেলেছিল। রাতের অন্ধকারে কেউ তারে টাকা ঠাউরে তুলে নিতে গিয়ে সত্য বুঝল, তখন লোকটা বলেছিল- ছ্যা, মানুষ। বারডেমের ওভারব্রিজে তার জ্বরতপ্ত শরীর চিত হয়ে শুয়ে ছিল। এখানে এসেই সে প্রথম জ্ঞান হারায়। সঙ্গে আনা ব্যাগের মধ্যে কি ছিল সে মনে করতে পারে না। এখন সেই ব্যগটাও নাই। সব হারায়ে চিত হয়েই শুয়েছিল মোমেন। এর মধ্যেই সে তারে নিরীক্ষণ করতে আসা কাউরে দেখে থাকলেও, দেখে থাকতে পারে। জ্বরের পুকুরে ডুব দিয়ে সে চরাচর ভুলে গেছে। কি ঘটে যাচ্ছে তার শরীরে, বুঝে উঠতে পারে না। গোয়ায় কোনো কিছুর অনুপ্রবেশে তার দিশা হয়। প্রাথমিক যন্ত্রণা সয়ে এলে সে বুঝে উঠতে পারে তার কি হয়েছে। তারে উপুড় করে ফেলা হয়েছে। গোয়ার কাপড় নামিয়ে ফেলা হয়েছে। প্রথমে সেখানে একেটু ঠান্ডা বাতাসের অনুভূতিও এখন মনে করতে পারে। কোথায় যেন সে দেখেছিল, কোথায়? জ্বরের ঘোরে, স্বপ্নে, না কোথায় দেখেছিল- লোকেরা গোয়ার কাপড় তুলে মাথায় ঘোমটা দেয়। কোথায় দেখেছিল, বারে-বারে শরীর ঝাঁকুনিতেও তা মনে করতে পারে না। পলকে কথাটা মনে হলেও, গোয়ার বেথায় সে আর স্মরণে আসে না। এবার একটু একটু হুঁশ ফিরে অসতে থাকে মোমেনের। বেদনাতেই জ্ঞানের প্রথম অনুভূতি জাগে। তারপর শব্দ, তারপর গন্ধ। সবকিছু বুঝে উঠতে-উঠতে মোমেন নিজের শরীরের উপরে অন্য কাউরে অনূভব করে। তার ভারে মোমেনের দমবন্ধ দশা। মাথার নিচে নরম কিছু দেয়া হয়েছে। উঁহ, উঁহ একটা শব্দ আস্তে-আস্তে তার আশে-পাশের দৃশ্যসকল জীবন্ত করে তোলে। উঁহ উঁহ একটা শব্দ তার সামনে লম্বা ওভারব্রিেেজর আবছায়া মেঝে ফুটিয়ে তোলে। ঘনশ্বাসের শব্দ ভাসতে থাকে। কি ঘটেেছ বুঝে উঠতে দেরি হয় মোমেনের। হাত দুটো তার চেপে ধরে রেখেছে পিঠে-চাপা লোকটা। পা দুটো ছড়ানো। যন্ত্রণা মোমেনর সব ফিরায়ে আনে। শুনতেও পায় সে এখন। উঠে দাঁড়িয়েছে লোকটা, ঘাড় ঘুরিয়ে তারে দেখার চেষ্টা করে মোমেন।
: খানকির পোলা সমানে গোয়া মারা খাইতেছে, তাও রা করে না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29494265 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29494265 2011-12-01 16:11:42
হেল্প প্লিজ http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29439451 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29439451 2011-08-27 15:25:02 ব্লগ দখলের চেষ্টা
ব্লগের আলোচনার সাথে প্রযুক্তির একটা বিষয় আছে। ফলে বিসমিল্লায় গলদের আভাস আমি এখানে উল্লেখ কইরা রাখলাম। আমাদের 'বুদ্ধিজীবিদের' একটা স্বভাব আছে, এ আলোচনা সে স্বভাব দোষে দুষ্ট।
যদি আমরা ধইরাও নেই যে মিডিয়া(এখানে কারা আমরা জানি না, ধইরা নিতে হবে প্রথম আলো) ব্লগ দখলের চেষ্টায় আছে, ঘটনাটা সত্য কিনা! আমি মনে করি সত্য, তয় সেটা ব্লগের দোষ না। ব্লগারদের দোষ, প্রযুক্তিগতভাবে ব্লগ যে সুবিধা দেয় তা সরাসরি প্রতিষ্ঠিত মিডিয়ারে চ্যালেঞ্জ করে। ব্লগারদের দোষ আর ব্লগের দোষ বুঝতে হইলে ব্লগিং করাটা গুরুত্বপূর্ণ, তাদের আলোচনায় আমণ্ত্রিত অনেকেই ব্লগার না। মূলত ‌'বুদ্ধিজীবি'।

যেমন তারা ফেসবুকে এ সংক্রান্ত প্রচার চালাইছে, কিন্তু দাওয়াত দেয়ার মধ্য দিয়া তারা আবার নির্দিষ্ট কইরা রাখছে এর উপস্থিতিরে। জায়গার সংকট বিবেচ্য কিনা আমি জানি না। কিন্তু ব্লগে জায়গার সংকট হয় না বললেই চলে। ‌‌'মিডিয়ার' জায়গা নির্দিষ্ট। এনাদের স্বভাবে মিডিয়া আছে। ফলে দখলের প্রশ্নটা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। এ সামহয়ারইন ব্লগই দখলের চেষ্টা হইছে বারবার। ফলে ব্লগ আসলে কার দখলে থাকবে এবং কোন ব্লগের চরিত্র কি হবে তা 'মিডিয়া' নির্ধারণ করতে পারে না। আমাদের 'মিডিয়ার' সে অবস্থা তৈরি হয় নাই।

এ কাজ ব্লগারদের, এবং এর জায়গা হিসেবেও ব্লগ হইতেছে প্রধান। ব্লগ নিয়া এ আলোচনার বিস্তারিত ব্লগে প্রকাশ করা হইবে বইলা আশা রাখি।

Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29434961 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29434961 2011-08-19 15:48:49
বণিক বার্তা: দেশের প্রথম বিজনেস ডেইলি
বাংলা ভাষায় দেশের প্রথম ব্যবসা ভিত্তিক জাতীয় দৈনিক বণিক বার্তায় লেখতে পারেন চাইলে। মূলত দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য খাতের খবরাখবর নিয়া সাজানো হয় প্রতিদিনের বণিক বার্তা। আপনেরাও লিখতে পারেন। জানাইতে পারেন কেমন হইতেছে, কেমন হইলে ভালো হইত।

আপনাদের লেখার অপেক্ষায় থাকুম -
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29394077 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29394077 2011-06-09 21:00:12
আমার গল্পগ্রন্থ-মানবসঙ্গবিরল।
কিছু গল্পের গল্পাংশ উল্লেখ করলাম।

মুসা যে তাপসের কোন শব্দবন্ধে বিরক্ত হবে, তা বোঝা মুশকিল। আমরা তাপসের কথা শোনার পরই মুসার গালি শোনার আশায় থাকি। এই সকল শব্দবন্ধের মানেও তাপস আমাদের সামনে পরিষ্কার করে। তার মতে আমরা যত বড় হতে থাকি অর্থাৎ এই যে এখন যেমন বেকার, চাকরি খুঁজি এমন বয়েস যার আসে সে ক্রমশ মানবসঙ্গবিরল জীবনের দিকে ধাবিত হয়, এই জীবনের শেষ হয় কবরে গিয়া। বা আসলে মিনিপ্যাক-সভ্যতা মানুষের সঙ্গকে ক্রমশ বিরল করে তুলছে গল্প-কররেখায় জমানো গল্প।

আইজ অবশ্য নিজেরে নারী ভাবার কারণও আছে। আমার পিরিয়ড শুরু হইছে। কাইল অমন একটা লম্বা মিছিলের পরে পার্টি অফিসে আইসাই বিপদে পড়লাম। তলপেটে একটা ব্যথা আর প্রস্রবণের চাপ টের পাইলাম। ভাগ্যিস, ব্যাগে টিসু আছিল। তাড়াতাড়ি অফিস ছাইড়া হলে আইসা পড়ি। সারা দিনের ঘামনুন আর রজঃস্রাবের রক্ত ধুয়া সাফসুরত হইতে হইতে শরীরে আর শক্তি পাইলাম না। না খায়াই ঘুম। রাইতে খুব মায়ের কথা মনে হইতেছিল। টাকাও শেষ। এই শুক্রবারেই বাড়ি যাইতে হইব। গল্প-লাল রঙ কৃষ্ণচূড়া।

এই টেক সাপ শেয়ালের আড্ডাখানা। শেয়ালে তেমন ভয় নাই, কিন্তু সাপের বিষে কত যে মানুষ মরল, তার লেখাজোখা নাই। দাঁড়াইশ, কালিপানো, খইয়াপানো, দুধরাজ, সুতানালি, জাইত, গোখরা, আলাজ, বীনরাজ, পীতরাজ, গলাকাটি, পিরপিরে, টিয়াঠুটি, সুতাশঙ্খ, কালিনাগ- কত কিসিমের সাপ। সব সাপের একই ধরন বিষয়। গল্প-সাকিনি।


যারা কিনতে আগ্রহী হইবেন, তারা বইমেলায় গিয়া ভাষাচিত্রের স্টলে যোগাযোগ করবেন। ১০-০২-২০১১ তারিখ থিকা বই পাওয়া যাবে।

বইটা উৎসর্গ করছি জাহাঙ্গীরনগরের বন্ধুদের।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29322093 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29322093 2011-02-07 18:51:06
সাময়িকি ডট কম পড়ুন।
সাময়িকি ডট কমে প্রকাশিত কিছু লেখা-

একরাম আলির কবিতা

সাক্ষাৎকার : শিল্পী মুর্তজা বশীর

পাপড়ি রহমানের গল্প

শাহীন আখতারের সখী রঙ্গমালা উপন্যাসের সমালোচনা

চেরি ব্লসম সিনেমার রিভিউ

সলিমুল্লাহ খানের লেখা

আহমদ ছফার অগ্রন্থিত কবিতা :: কবিতায় ‘বাজা’ আর ‘বাজে’ -সাখাওয়াত টিপু

আপনিও হতে পারেন সাময়িকির লেখক।
যোগাযোগ:

অথবা যারা আগেই পড়েছেন আপনাদের সমালোচনা জমা দিতে পারেন এই পোস্টে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29268144 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29268144 2010-11-07 14:10:22
সাময়িকি ডট কম পড়ুন।
সাময়িকি ডট কমে প্রকাশিত কিছু লেখা-

একরাম আলির কবিতা

সাক্ষাৎকার : শিল্পী মুর্তজা বশীর

পাপড়ি রহমানের গল্প

শাহীন আখতারের সখী রঙ্গমালা উপন্যাসের সমালোচনা

চেরি ব্লসম সিনেমার রিভিউ

সলিমুল্লাহ খানের লেখা

আহমদ ছফার অগ্রন্থিত কবিতা :: কবিতায় ‘বাজা’ আর ‘বাজে’ -সাখাওয়াত টিপু

আপনিও হতে পারেন সাময়িকির লেখক।
যোগাযোগ:

অথবা যারা আগেই পড়েছেন আপনাদের সমালোচনা জমা দিতে পারেন এই পোস্টে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29268142 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29268142 2010-11-07 14:01:08
সাময়িকি ডট কম পড়ুন।
সাময়িকি ডট কমে প্রকাশিত কিছু লেখা-

একরাম আলির কবিতা

সাক্ষাৎকার : শিল্পী মুর্তজা বশীর

পাপড়ি রহমানের গল্প

শাহীন আখতারের সখী রঙ্গমালা উপন্যাসের সমালোচনা

চেরি ব্লসম সিনেমার রিভিউ

সলিমুল্লাহ খানের লেখা

আহমদ ছফার অগ্রন্থিত কবিতা :: কবিতায় ‘বাজা’ আর ‘বাজে’ -সাখাওয়াত টিপু

আপনিও হতে পারেন সাময়িকির লেখক।
যোগাযোগ:

অথবা যারা আগেই পড়েছেন আপনাদের সমালোচনা জমা দিতে পারেন এই পোস্টে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29268138 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29268138 2010-11-07 13:56:41
য়োসা সাহিত্য না রাজনীতির কারণে নোবেল পেলেন।
লাতিন আমেরিকায় সাহিত্যে নোবেল বেশ মর্যাদার আর আলোচ্য বিষয়। ফলে য়োসার নোবেল জয় নিয়ে নানা প্রকার মতামত আদান প্রদান চলছে। লাতিনে বর্তমান সময়ে এটাই বিবেচনা করা হচ্ছে যে য়োসা মূলত তার উপন্যাস লেখার জন্য নয় তার রাজনৈতিক মত পরিবর্তনের জন্যই নোবেল পেয়েছেন। য়োসা সমলিঙ্গীয় বিবাহরে পক্ষে এবং মাদক গ্রহণের বিপক্ষে অবস্থান যেমন নিয়েছেন তেমনি জোরালো অবস্থান নিয়েছেন শ্যাভেজ এবং ফিদেলের বিপক্ষে। য়োসা ঘোষণা দিয়েছেন তিনি স্বৈরাচারদের বিপক্ষে তা হোক বাম অথবা ডান। য়োসা নোবেল পাওয়ার পর সিএনএন-কে দেয়া এক স্বাক্ষাৎকারে বলেন-আমি স্বৈরাচারদের বিপে সবময়ই সোচ্চার, এর কোন বাছ বিচার ছাড়াই। সিএনএন যখন তাকে জিজ্ঞেস করলো কেন তিনি ফিদেল আর শ্যাভেজের সাথে দেখা করতে চান- ‘আমি এটা বলার জন্যই দেখা করতে চাই যে তাদের উচতি সরকার থেকে সরে দাঁড়ানো। তারা তাদের দেশের উন্নতির জন্য প্রতিবন্ধক।’ এছাড়াও ১৯৯০ সালে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর য়োসা স্পেনে চলে যান। লাতিনে স্পেনের দীর্ঘ দিনের অমানবিক উপনিবেশ ভুলে গিয়ে উল্টো স্পেনের প্রতি তার আবেগ আর আসক্তি প্রকাশেও তিনি কুণ্ঠা বোধ করেন নাই। অনেকেই একে তার বেঈমানি বলে মনে করেন। বিশেষত যারা আদিবাসী অধিকার আন্দোলনে সক্রিয় তারা নানাভাবেই ক্ষুব্ধ য়োসার কর্মকান্ডে। ২০০৩ সালে তিনি একবার বলেছিলেন- বর্তমান সামাজিক প্রক্ষাপটে উন্নয়ন আর সভ্যতা এক কথা নয় । এখানে মূল বিষয় হচ্ছে ঐকমত্যে পৌঁছানো। আদিবাসীতত্ত্ব যা প্রায় ভুলেই গিয়েছিল লোকজন তা আবারো একটা সামাজিক প্রপঞ্চ হিসেবে ফিরে এসেছে সেই লোকের পেছনে যিনি হচ্ছেন ইভো মোরালেস। ২০০৫ সালে মোরালেস মতায় আসাবার পরে য়োসা বলেছিলেন- একটা মিশ্র রক্তের মানুষ এসেছে ক্ষমতায় যিনি বলিভিয়াকে শেষ করে দিবেন। ১৯৭০ সালে তিনি কিউবান বিপ্লবের একজন সমর্থক ছিলেন কিন্তু পরে তিনি ফিদেলের একজন কড়া সমালোচক হিসেবে নিজেকে হাজির করেন। অন্য সব লেখকের মতোই তিনিও কিউবার বিপ্লবী আন্দোলনের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। সেখানেই তার সাথে মার্কেজ, ফুয়েন্তেস, হুলিও কোর্টাজারসহ বিভিন্ন জনের সাথে পরিচিত হন। ফিদেলের সরকার কবি হার্বার্টো পদিল্লাকে অন্তরীন করার পরে য়োসা প্তি হন। তিনি ফিদেলের শাসনের বিপে অবস্থান নেন। য়োসা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্বাবিদ্যালয়ে পাঠদান করছে।


সূত্র বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29251978 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29251978 2010-10-09 15:48:30
বাসদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন ও ভিন্নমতের কারণেই এ হামলা হয়েছে বলে জলি দাবি করেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৮টায় তাদের ৫৬৩ নম্বর শাহিনবাগের বাসায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কয়েকজন কর্মী ঢুকে এই হামলা চালায় বলে তিনি তেজগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
তবে বাসদের নেতারা দাবি করেছেন, ফেসবুকে একটি কার্টুন পোস্ট করা নিয়ে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
জলি দাবি করেছেন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান ভুঁইয়ার নির্দেশে মেহেদি হাসান তমাল, রাহাত আহমেদ, প্রণবেন্দু রায়সহ ৭/৮জন তার বাসায় ঢুকে মারধর করে। এতে তিনি ছাড়াও মেয়ে, মেয়ের জামাই, গৃহশিক্ষক আহত হন।
বাসদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন ও ভিন্নমতের কারণেই এ হামলা হয়েছে বলে জলি দাবি করেন।
মঙ্গলবার রাতে পাঁচজনকে আসামি করে জলি তেজগাঁও থানায় অভিযোগ করেছেন।

তেজগাঁও থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান জানান, তাহেরা বেগম জলির অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে একটি টিম পাঠানো হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে।
তবে মেহেদি হাসান তমালের দাবি, এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। রাতে তারা ওই বাসায় যাননি।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, "জলির সঙ্গে এ বিষয়টির কোনো সম্পর্ক নেই। আমার নির্দেশ দেওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না।
"জলির মেয়েজামাই শিবু দাসগুপ্ত (যাকে আমরা সুদীপ্ত নামেই চিনি) রোববার ফেসবুকে একটি কাটুর্ন পোস্ট করে। দলের কয়েকজন সদস্য তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে বাসায় গিয়েছিল। সেখানে কিছু কথাকাটাকাটি হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু মারামারি কোনো ঘটনার কথা শুনিনি।"

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসআইটি/ডিডি/এইচএ/০১১৫ ঘ.
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29233785 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29233785 2010-09-01 23:57:14
ব্লগে আমার দুই বছর।
সকল অমানবিকতা-পুরুষতন্ত্র-নিপীড়ণের অবসান হোক।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29232323 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29232323 2010-08-30 14:08:16
কবুতরের উড়াল প্রতিযোগীতা। গিরিবাজ কবুতর আকাশ পথে উড়তে পারে প্রায় ৫০ কি. মি.। কিন্তু হোমা কবুতর উড়তে পারে কতোদূর? হাজার কি মি. না কি তারো বেশি! বিলি নামের এক হোমা কবুতর পাড়ি দিয়েছিল আটলান্টিক। ফ্রান্স থেকে ছাড়া হয়েছিল এই কবুতরটি, যাওয়ার কথা ছিল ইংল্যান্ডের লিভারপুল। কিন্তু সেই বিলি প্রায় ৩৩২১ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে হাজির হয়েছিল নিউইয়র্কে। কেন সেই রহস্য আজো অজানা। এই বিলিকে ছাড়া হয়েছিল আরো প্রায় ১০০ কবুতরের সঙ্গে। কবুতরের উড়াল প্রতিযোগীতায়। সারা বিশ্বেই কবুতরের রেস জনপ্রিয় একটি খেলা হিসেবে চালু হয়ে আসছে ২০০ বছর আগে থেকেই। ধারণা করা হয় ২২০ খ্রিস্টাব্দে প্রথম কোন কবুতরের রেসের আয়োজন করা হয়। উনবিংশ শতকের শুরুতে প্রথম বেলজিয়ামে কবুতর রেসের আনুষ্ঠানিক আয়োজন করা হয়। বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ড কবুতর এবং কবুতর রেসের জন্য বিশ্বময় সুপ্রসিদ্ধ। সাধারণত ১০০০ কি.মি আকাশ পথের এই রেসের আয়োজন করা হয়। সর্বশেষ বার্সেলোনা থেকে বেলজিয়াম পর্যন্ত ১০০০ এর বেশি কি. মি. দূরত্বের রেসের আয়োজন করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ১৮০০ কি. মি. রেসের আয়োজন করা হয় আমাদের দেশেও এই কবুতরের রেস চালু আছে। প্রতি বছর শীত পূর্ব এবং গ্রীষ্মকালীন সময়ে এই রেসের আয়োজন করা হয়। নিয়মিত প্রশিণ ও দেখভালের পরে কোন কবুতর এই রেসের জন্য উপযুক্ত হয়। পর্যাপ্ত প্রশিণ প্রাপ্ত একটি কবুতর উড়তে পারে ঘন্টায় প্রায় সর্বনিু ১৩০ কি.মি. থেকে সর্বোচ্চ ২৬০ কি. মি. পর্যন্ত। দিনে একটি কবুতর প্রায় ৬০০ মাইল পথ পাড়ি দিতে পারে। আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড়ো রেসটি হয়েছে তেতুলিয়ার বাংলাবন্ধ থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রায় ৩৭০ কি.মি। আকাশ পথের এই রেসে অংশগ্রহণকারী কবুতরের সংখ্যা ছিল শতাধিক।


কবুতর পাঁচালি
সাধারণত ৬মাস বয়স থেকে কোন কবুতর ওড়ার জন্য উপযুক্ত হয়। এই ৬মাস বয়স থেকে শুরু হয় তার প্রশিণ। তার আগে দুই থেকে তিন মাস বয়স হলেই কবুতরটিকে তার পরিবার থেকে আলাদা করে অন্য কোন খাঁচায় রাখা হয়। চার মাস বয়স হলে আবারো তার খাঁচা পরিবর্তিত হয়। এবারের খাঁচা থাকে ঘরের বাইরে। এই সময়ে কবুতরটি তার বাসস্থান এবং প্রতিবেশ সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। ছয় মাস পরে তাকে তার বাসস্থানের আশপাশে সর্বোচ্চ একশ কিলোমিটার পর্যন্ত ওড়ার প্রশিণ দেয়া হয়। এই সময়ে কবুতর উড়তে শিখে। এবং ধীরে ধীরে তার ওড়ার বেগ ও দূরত্ব বাড়তে থাকে। কবুতরের ব্রিডিং এর ক্ষেত্রও বেশ যত্ন নিতে হয়। এ জন্য কবুতরের জীবনবৃত্তান্ত অনুসরণ করা হয়। সাধারণত তার পূর্ববতী কোন রেসে ভালো ফলাফল করা পুরুষ কবুতর এবং নারী কবুতরের ব্রিডিং করা হয়। একটি কবুতরের ডিম থেকে ১৮-২০ দিস পর বাচ্চা ফুটে বের হয়। অন্তত দুই মাস বয়স পর্যন্ত বাচ্চা কবুতর তার মায়ের যত্নে থাকে। জন্মের এক সপ্তাহ পরেই যে কোন কবুতরের পায়ে একটি রিং পড়িয়ে দেয়া হয়। সেই রিং এ দেশের কোড নাম, একটি কোড নাম্বার এবং জন্ম সাল অঙ্কিত থাকে। এই রিঙের তথ্যাদি প্রামাণ্য হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়। এছাড়াও প্রত্যেক কবুতরের জন্য আলাদা জীবন বৃত্তান্ত তৈরি করা হয়। সেই জীবন বৃত্তান্তে কোন কবুতরের বাবা-মায়ের পরিচয় উল্লেখ থাকে। এভাবে পাঁচ থেকে সাতটি পরম্পরায় কবুতরের জন্মবৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ থাকে। জন্ম বৃত্তান্তে কবুতরের যে দেশে জন্ম নিয়েছে তার নাম, কোড নাম্বার, গায়ের রং, সাল এবং যে পুরুষ ও নারী কবুতরের ব্রিডিং এর মাধ্যমে তার জন্ম তাদেরও জীবনবৃত্তান্ত সংযুক্ত থাকে। প্রশিণবিহীন কোন কবুতর খুব বেশিদূর উড়তে পারে না বা তার গতিবেগও রেসের জন্য সন্তোষজনক হয় না। যে সকল কবতুর চিঠি বা বার্তা আদান প্রদানের কাজ করতো তারা ১০০ কি. মি. এর বেশি উড়তে পারতো না। এসকল কবুতরের গতিবেগ ঘন্টায় ৮০-১০০ কি. মি.। রেসের কবুতর হোমার রেসার হিসেবে পরিচিত। দুই ধরণের হোমার রেসার আছে- কম বয়েসি হোমার রেসার এবং প্রাপ্ত বয়স্ক হোমার রেসার। ৬ মাস থেকে এক বা দেড় বছর পর্যন্ত কবুতরকে কম বয়েসি রেসারদের দলে অর্ন্তভূক্ত করা হয়। একটি কবুতর ৬-৮ বছর পর্যন্ত সনেআষজনকভাবে উড়তে পারে। গিরিবাজ কবুতর পরিচিত রোলার রেসার হিসেবে। রোলার কবুতর সর্বোচ্চ ৬ কি. মি পর্যন্ত উচ্চতায় ইঠতে পারে। হোমার রেসার উঠতে পারে তারো বেশি, বিমান চলাচলের বায়ুস্তর পর্যন্ত। নিজের ঘরে ফিরে আসার এক সহজাত কৌশল কবুতরের আছে। এই কৌশল আÍস্থ করে হাজার মাইল পাড়ি দিয়েও কবুতর তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছায়। রেসে অংশগ্রহণকারী কবুতরের ৯০ ভাগেরও বেশি ফিরে আসে। সাধারণত বজ্রপাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বাজ পাখির আক্রমণে না পড়লে যে কোন কবুতরই ঘরে ফিরে আসে। তবে কেউ কেউ পথ ভুল করে ফিরে আসতে দেরি করে। এই দেরি মাস পেরিয়ে বছরও হতে পারে। বিলি নিউইয়র্ক থেকে ৩১ দিন পরে ফিরে এসেছিল ইংল্যান্ডে।


বাংলাদেশের কবুতর রেস-
আমাদের দেশে বাংলাদেশ রেসিং পিজিওন ওনার্স এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে প্রতি বছর কবুতরের রেসের আয়োজন করা হয়। ২০০৩ সালের মার্চ মাস থেকে এই সংগঠনটি কাজ শুরু করে। সিকান্দার আলি, মাকসুদ আহমেদ সনেট, রেজা-উর-রাহমান সিনহা, আলা উদ্দিন স্বপন এই কয়েকজনের উদ্যোগে কবুতর নিয়ে বাংলাদেশে প্রথম কোন সংগঠনের আÍপ্রকাশ করে। বর্তমানে সংগঠনটির ১৮০ জন সদস্য রয়েছেন। সর্ব প্রথম তারা ২০০৪ সালের মে মাসে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে ৮০ কি. মি. দূরত্বের রেসের আয়োজন করেন। এই প্রতিযোগীতায় প্রায় ৩৫টি কবুতর অংশগ্রহণ করে। এরপর থেকে প্রতিবছরই তারা কবুতরের রেসের আয়োজন করেন। এই সংগঠনের সদস্যরা নিজেরাই কবুতর উৎপাদন এবং সংগ্রহ করে থাকেন। এছাড়াও নেদারল্যান্ড এবং বেলজিয়াম থেকেও তারা কবতুর সংগ্রহ করেন। গত ফেব্র“য়ারিতে অনুষ্ঠিত রেস দেখতে নেদারল্যান্ড থেকে এসেছিলেন মার্সেল স্যাঞ্জার্স। এছাড়াও কবুতরের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ ও চিকিৎসা পরামর্শও তারা সংগ্রহ করেন এই দুটি দেশ থেকে। এবছরের পরবর্তী রেসের আয়োজনও শুরু হয়ে গেছে এর মধ্যে। আগামী আক্টোবর নভেম্বরে আয়োজিত হবে পরবর্তী রেস। মিরপুরে অবস্থিত এই কাবের সদস্যরা মনে করেন- ‘বর্তমান সময়ের বিশ্বের অন্যান্য দেশে পিজিওন স্পোর্টস বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। আমরা গত ছয় বছরে বেশ উৎসাহ পেয়েছি। আমরা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সাড়ে ছয়শো কিলোমিটার পর্যন্ত রেসের আয়োজন করেছি। যদি সীমান্তের বাধা না থাকতো তাহলে আমরাও হাজারেরও বেশি কিলোমিটারে রেসের আয়োজন করতে পারতাম।’

রেসের ফলাফল
প্রথমেই কোন স্থান নির্বাচন করা হয় রেসের জন্য। সেই স্থানে কবতুর নিয়ে যাওয়ার জন্য ভ্যান থাকে। তার আগে অংশগ্রহণকারী কবুতরের পরিচয় লিপিবদ্ধ করা হয়। এবং আরেকটি রিং কবুতরের পায়ে পড়ানো হয় যেখানে একটি গোপন নাম্বার এবং ফোন নাম্বার থাকে। রেসের দিন একই সময়ে কবুতরগুলো ছেড়ে দেয়া হয়। যে কোন ব্যক্তি যে কোন সংখ্যার কবুতর রেসের জন্য নির্বাচন করতে পারেন। প্রতিযোগীতার সময় হচ্ছে কবুতর ছাড়ার সময় থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। কোন কবুতর তার নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালে পায়ে যুক্ত রিংটি খোলা হয় এবং সেখানে লুক্কায়িত নাম্বারটি সংগ্রহ করা হয়। দূরত্ব আর সময়ের প্রেক্ষিতে রেসে অংশগ্রহণকারী কবুতরের গতিবেগ নির্ধারণ করা হয় এবং গতিবেগের বিবেচনায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সাধারণত এই কাজে একটি বিশেষভাবে তৈরি ঘড়ি বিজয়ী নির্বাচনের কাজ করে। ঘড়িটি রেস শুরুর সময়ে চালু করা হয়। যে নাম্বারটি কবুতরের পায়ে লুকানো থাকে, রেস শেষে সেই নাম্বারটি ঘড়ির বিশেষ স্বয়ংক্রিয় স্থানে রাখা হয়। তখনকার সময়কে রেস শেষ হবার সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নতুন প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ইলেকট্রনিক টাইমিং মেশিন। এ ক্ষেত্রে কবুতরের পায়ে একটি ছোট চিপ সংযুক্ত করা হয়। এই মেশিন কোন কবুতরের গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সংগৃহীত হয়। পূর্বের তলনায় ইলেকট্রনিক টাইমিয় মেশিন অনেক নিখুত ফলাফল প্রকাশ করতে পারে।

শান্তির বিজয় লাভ-
বাংলাদেশে কবুতর বিষয়ক যে কোন সমস্যার জন্য তাকিয়ে থাকতে হয় বেলজিয়াম বা নেদারল্যান্ডের দিকে। বাংলাদেশ রেসিং পিজিওন ওনার্স এসোসিয়েশন তাদের এই আক্ষেপর কথা জানান। তারা মনে করেন পিজিওন স্পোর্টস এর জন্য আমাদের দেশ খুব উপযুক্ত একটি জায়গা হতে পারে। কবুতর তবে কেবল আর শান্তির প্রতিক নয় বিজয়েরও প্রতিক।


পূর্বে প্রথম আলোতে প্রকাশিত]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29205193 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29205193 2010-07-22 16:24:37
রাজনীতি কই যায়-
বিএনপি এর চাইতে ভালো কিছু কখনোই করে নাই। আওয়ামিলীগও যে পারছে তা-না। বরং আওয়ামিলীগ আরো ক্ষতিকর আর ভয়ংকর কাজ করে বুইঝা হোক আর না বুইঝাই হোক। যেমন মিডিয়ার ওপর হস্তক্ষেপ-ছাত্রলীগ-সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব-চাঁদাবাজি। এইগুলা আওয়ামিলীগের রোগ। বিএনপি এমন করে না তা-না। কিন্তু প্রকোপটা কম। এর প্রমাণ না দেই-আলোচনা লম্বা হবে এতে। কিন্তু আওয়ামিলীগ ঐতিহাসিকভাবেই মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট বলে এর একটা আলাদা মাজেজা আছে। আওয়ামিলীগ তার এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করে না অবশ্যই। কিন্তু দায়ও এড়াতে পারে না। এইটা তারা মাছের আধার হিসেবে ব্যবহার করে। নির্বাচন আসলেই মুক্তিযুদ্ধ তাদের মাছের টোপ। সবাই গেলে এই টোপ-একটা জাতি যদি এই টোপ না গেলে সেটা তার জন্য লজ্জার। কিন্তু এইবার ভিন্ন পরিস্থিতি।

আওয়ামিলীগ সম্ভবত এইবারও টোপ হিসাবেই ইউজ করলো মুক্তিযুদ্ধরে। বিশেষ করে তার এইবারের ক্ষমতায়নের শুরু থেকেই জনপ্রিয়াতা হুহু কইরা নামতেছিল। এইটা ছিল মোক্ষম সুযোগ। বিএনপির হরতালের পর বিরোধীদের ধরার এতোবড় সুযোগটা আওয়ামিলীগ মিস করতে চায় নাই। এইটা ভালো রাজনীতি কি-না তা অবশ্যই প্রশ্ন রাখে। কিন্তু জাতির কলঙ্ক মোচনের এমন একটা সুযোগ আমাদের জীবনে আর আসে নাই। যেভাবেই হোক জামাতী নেতারা ধরা খাইছেন। এদের বের হওয়ার কোন সুযোগ আপাতত আছে বইলা মনে হয় না। আওয়ামিলীগ এখন দাবার সবচাইতে বড়ো ঘুঁটিটা হাতে নিছে। ভুল করলে বড়ো একটা ভুল হইবো। যার মাশুল গুনে শেষ হবে না। জামাতের এক নেতাতো বইলাই দিছেন এক মাঘে শীত যায় না। কিন্তু জামাতের সেই নেতা বুঝেন নাই-এখন আষাঢ় মাস। মাঘ গেছে ৭১-এ। সেই মাঘ আসতেছে আবার, মাস কয়েক বাকি মাত্র।

কিন্তু বিএনপি কি বুইঝা সমর্থন দিতে গেল জামাতিগোরে। এইটা আবারো তাদের রাজনৈতিক দুর্বলতার প্রকাশ। বিএনপি রাজনীতি বরাবরই কম বুঝে। এরা খালি ক্ষমতা বুঝে। ঘাড় থেকে তাই এদের জামাত ভুত নামে না।

কিন্তু সবশেষ আলাপ আমাদের রাজনীতি কই যায়। জনগণের পক্ষের কোন আওয়াজ নাই-কোন কন্ঠ নাই। কর্মসূচি নাই। এই দুই দলের ঘোরটোপ থাইকা বাইর হওনের একটা উপায় এখন খুব জরুরি। একটা অস্থিতরতা, এতো এতো ঘটনা, জনগনরে সংগঠিত করার সুযোগ দিতেছে না। জনতার কন্ঠ দুর্বল আর দূরশ্রাব্য হয়া পড়ছে। রাজনীতি এখন খুব ঘোলাটে আর জটিল পরিস্থিতিতে আছে। এখান থেকে বাইর হইতে গেলে জোর শক্তি লাগবো। এই শক্তি কেবল জনতারই আছে। আর কারুর নাই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29191147 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29191147 2010-07-03 14:18:40
বিশ্বকাপের অন্য খবর- কামলাদের মজুরি কেউ দেয় না।
বিশ্বাকাপের প্রয়োজনে কর্মকর্তারাও ইহাদের কঠোর হস্তে দমন করিতেছেন। পুলিশ কমিশনার বলিয়াছেন-বিশ্বকাপ নিরাপত্তার প্রয়োজনে ইহাদের কোনমতেই প্রশ্রয় দেয়া যাইবে না। এবং কোন প্রকার আপোষ তারা করিবেন না কামলারেদ সাথে। বিশ্বকাপ হইতেছে মূল।

কেন কামলারা এসব করিতেছে, তাহাদের কথাই শুনুন-‌‌“They were supposed to give us 1,500 rand, that’s what FIFA [International Federation of Association Football] told us, and they gave us 190. We are working from 12 o’clock until now.”

মূল খবর- Click This Link

Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29178343 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29178343 2010-06-16 20:14:48
মগজে কারফিউ। ভাবনা নিয়ে একা রাস্তা পেরুনো
ভাবতে বেরুলে- রাস্তা পেরুলে
পেয়াদা ধরবে- বেঘোরে মরবে

সুমনের গান।...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29169408 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29169408 2010-06-03 18:14:41
সরকারকে হ্যাঁ বলুন। http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29168501 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29168501 2010-06-02 16:13:31 সেই সব মুসলমানেরা কবে মানুষ হইবে।
ধর্মের বিরোধীতা কেউ করতেই পারে। তাতে কি হয়। পরকাল আছে না। ইহকালেই এসবের বিচার হইতে থাকলে পরকালের কী হইবো। এই রাষ্ট্র ব্যবস্থার লোকেরা খুন-বেশ্যা বৃত্তি সব জারি রাখছেন। আবার ধর্মও ফলাইতেছেন। রোকেয়া লিখছিলেন- কবে মুসলমান মানুষ হবে। লিখছিলেন রসনা বিলাস প্রবন্ধে। বলছিলেন মুসলমানদের উচিত খাওন দাওন কমায়া ইশ্বর বন্দনা করতে।
এক ফেসবুকে কে কি করলো-তার জন্যে ধর্ম গেলো বইলা চিল্লানির লোকেরা যদি মুসলমান হয় তাইলে বড়ো ভাবনার বিষয়-তারা মানুষ হবে কবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29165970 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29165970 2010-05-30 14:05:40
বি আর এ ছাড়লো না বাঙালিরে।
উপনিবেশের প্রভাব মনে লয়। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29159041 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29159041 2010-05-20 19:05:31
RAVAAN মান কোন রাবন। RAAVAN মানে কোন রাবন। সম্প্রতি বলিউড কাপাইতেছে এই ছবিটা। আমি কোন চ্যানেলে যেন ট্রেলার দেইখা আগ্রহী হইলাম। এ আবার কোন রাবন। খুঁজতে খুঁজতে কিছু ইনফরমেশান পাইলাম। তামিল এবং হিন্দি এই দুই ভাষায় ছবিটা তৈরি হইছে। ছবির কাহিনী নাকি রামায়ন থেকে উদ্ভূত। Click This Link তামিল ভাষায় রামায়নের কাহিনী আমার জানা নাই। ফলে বুঝতেছি না এ কোন রাবন। ট্রেলার দেইখা মনে হইছিল সাত খন্ড রামায়ন পড়ে সীতা করা বাপ টাইপ কোন কিছু একটা তৈরি হইছে নাকি। কিন্তু বলিউড বইলা কথা। তেলেগু একটা ছবি আছে ভিল্লান VILLAN. Click This Link ওই সিনেমা থেকে এই সিনেমা বানাইছে।

জানি না এ কোন রাবন। কিন্তু হলিউডি ফ্লেভারে বলিউডি সিনেমার সংখ্যা আরেকটা বাড়ছে। রাম-রাবন-সীতা-বেহুলা কেউ ইন্ডিয়াতে বাদ পড়তেছে না। এই রাবন ছবির ট্রেলারে দেখলাম টাইটেল লাইন লিখছে- দশ মাথা, দশ মন, শতাধিক কন্ঠ-একটাই মানুষ। তার মানে তো মনে হয় রামায়নের রাবন। কে জানে। ভারতীয়রা নিজেদের মতো কইরা কতো কিছু বানায়। কিন্তু হলিউড ফ্লেভারটা গেলো না। আর ঐশ্বরিয়া যদি সীতা হয় তাইলেও আপত্তি আছে। সীতা হিসাবে সে ঠিক পারফেক্ট না। আগের আমলের রেখা বা মাধুরী হইলে বোধহয় মানাইতো। কিন্ত্র ভারতের সিনেমাতো মনে হয় ব্যবসা আর দলবাজির বাইরে তৈরি হয় না। যে সমস্ত হলিউডি কাস্ট তিনি নিছেন, ট্রেলাইর দেইখা সেখানেও তারে মানানসই লাগে নাই। আমাদের এই দিকে নায়ক নায়িকা অনেক বড়ো একটা ফ্যাক্ট। পানিতে ঝাঁপাক আর পাহাড়ে উঠুক ক্যামেরা নায়ক নায়িকারে বেশি দেখায়, দর্শকও তা-ই।

এই সব আলোচনা পরে করা যাবে। কিন্তু পোশাক-পুলিশ-পিস্তল দেইখা আমি খুব ধান্দায় পড়লাম। এ কোন রাবন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29158150 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29158150 2010-05-19 14:42:40
রামদা মানে যদি ছাত্রলীগ হয়, পাইপগান মানে যদি দল হয়, ক্ষুর মানে যদি শিবির হয় তাইলে কী কলম মানে বুদ্ধিজীবি।
এই লীগ দল শিবিরের পোলাপানরা সন্ত্রাসী, এরা চাপাতি-পিস্তল-ক্ষুরের নিচে জিম্মি কইরা রাখছে দেশ জাতিরে। কিন্তু এখানে তাইলে রাজনীতিটা কোথায়। এরা তো আর রাজনীতি বিচ্ছিন্ন জাত না। সন্ত্রসীদের দল নাই এইটা ফেক কথা। কিন্তু অস্ত্রের দল নাই, অস্ত্র নিয়া দলবাজীর এই বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায় তাইলে রাজনীতি বুঝুম ক্যামনে। অস্ত্র নিয়া রাজনীতি করে যারা তাদের নিয়াই আবার রাজনীতি করে যারা তাদের নিয়া রাজনীতি করে কে। বুঝি না। অস্ত্র দিয়া দল চিনানির কারণটাই বুঝলাম না। ছবিতো আর কথা কয় না, ছবি রাজনীতিও করে না। অথচ ছবি নিয়া কতোজন কতো রাজনীতির ক্ষেত ফসল ফলায়। ছাত্রলীগের হাতে পিস্তল আর দলের হাতে রামদা থাকলে কি এমন অদল বদল ঘটতো। শিবিরের কতো পোলা হাতে কোরআন শরিফ নিয়া ঘুরে। তাতে কি হইছে। দেশ জাতির কোন উন্নতিটা সাধিত হইতো যদি এদের কোন দলই অস্ত্র দিয়া না, খালি হাতে মানুষ মারতো। ধর্ষণের যে অস্ত্র তা সব পুরুষেরই থাকে। না কি ভুল বললাম।

পোলাপানের হাতে অস্ত্র উইঠা আসবার কারণটা কি। বাজার-পণ্য ইত্যকার বিষয়াদিকে দায়ী করিয়া যে যাই ফালাক, লাভের গরু গোয়াল ছাড়া। রাজনীতি যতো বিমূর্ত আর প্রতীকি হয় ততোই সুবিধা। নইলে বুদ্ধিজীবিদের ভাতের থালায় ঝোল ঘন হয় না। এই পাশের দেশ ইন্ডিয়া, নেপাল সেখানে অস্ত্র বিষয়ে এতো কুন্ঠার প্রকাশ নাই। তার মানে এই না যে অস্ত্র এভেলেইবল হোক। তার মানে এই যে অস্ত্র না অস্ত্র হাতের লোকটাও না, অস্ত্রের যোগান দাতারাই আড়ালে থাইকা যায় বারবার। এবং সত্য এটাই যে এই সব যোগান দাতাদের দল নাই। তারাতো আর ডিজুস সংস্কৃতির মানুষ না। তাদের রাজনীতি আর ব্যবসাই ডিজুস সংস্কৃতি বানায়। এরা হইতেছে আসল ধোঁকাবাজ। এরা ওইসব পোলাপানরে ধোঁকা দিয়া হাতে অস্ত্র ধরায়া দেয় আর এদের প্রতিপক্ষ হিসেবে বুদ্ধিজীবিতারে দাঁড় করায়। এই চক্রে গণেশ উল্টে যায়, উল্টানো গণেশরে নিয়া ভক্তি সমালোচনা যাই হোক তা কেবলই এক হয়রানি।

ফলে এই আলাপের গূঢ় কথা আমার অবোধ্য ঠেকছে। অস্ত্র দিয়া দল চিনিবার চেষ্টার প্রতি আমার গভীর মনোযোগ অর্পণ করিলাম। এখন তাইলে আর আলাপ সালাপে না, হাতে হাতে চোখ ঘুরাইতে হইবে। ক্ষুর মানেই শিবির, পিন্তল মানেই ছাত্রদল। এতো সহজ একটা সমীকরণ এতোদিন পর উদ্ধার হইলো। কী বিস্ময়। খুন্তি মানে নারী, টাকা মানে পুরুষ, ফুল মানে প্রেমিক বা প্রেমিকা, কলম মানে বুদ্ধিজীবি। কী দারুণ। বিকলাঙ্গের সামনে নিজেকে পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ করিবার কী অপূর্ব প্রয়াস।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29154257 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29154257 2010-05-13 16:51:05
এই অস্ত্র এই চাপাতি এই লাঠির মালিকানা কার? পত্রিকায় আসছে ছাত্রলীগ নাকি বেসামাল। এইটা কেমন কথা হইলো। ছাত্রলীগ কি মাতাল নাকি। কি খায়া মাতাল। ছাত্রলীগ ছাত্রদল শিবির মারামারি করে এইটাই স্বাভাবিক। এইটা তাদের বেসামাল অবস্থা না, স্বাভাবিক অবস্থা। এই সমস্ত সংগঠন কইরা কবিতা পাঠ অথবা ছাত্র অধিকারের বিষয়ে আন্দোলন করতে গেলে বিস্মিত হইতাম। ভাবতাম হয়তো তারা বেসামাল। মারামারি না কইরা, এরে তারে মারার প্ল্যান না কইরা, ফাও না খায়া এই সংগঠনগুলার কোন একটা দিন পার হইছে জানলে অবাক হইতাম। ফলে ছাত্রলীগ বেসামাল না। কিন্তু একটা চিন্তার বিষয় ভাবাইতেছে। মারামারি এতো হিংস্র রুপ নিলো ক্যান। আমার দেখা গত পাঁচ বছরে ছাত্রদের মারামারি দিন দিন বিভৎস হইতেছে। হাতিয়ারেও আসছে পরিবর্তন।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুর দিকে দেখতাম ছাত্রলীগের ভাইয়েরা অস্ত্র নিয়া ঘুরতেছে। তাজা অস্ত্র। রাইত হলে শিবির আসবার ভয়ে হলের ছাদে ছাদে বস্তার্ভতী বোমা আর অস্ত্রের পাহারা চলত। কিন্তু এইগুলার ব্যবহার দেখি নাই। কখনো বড়সড় মারামারি হইলেও খুন করাবার উদ্দেশ্য ছাড়া গুলি বাইর হয় নাই। ভয় দেখানোর জন্য হয়তো দুই একটা ফাঁকা গুলি বাইর হইত। এরপর ছাত্রদলের আমল আসল। শুরু থেকেই গ্রুপিং, মারামারি। এর বেশিরভাগই আছিল মারামারির ভান। হয়তো হাতাহাতি, দুই একটা বোমা গুলির ফাঁকা আওয়াজ। অর্থাৎ মারামারির চাইতে ভানটাই বেশি আছিল। হল দখলের ক্ষেত্রেও দেখছি একগ্রুপ হলে আইসা ঢুকলে আরেক গ্রুপ পিছন দিয়া পালাইছে। দুই একটা ভাংচুর ছাড়া তেমন কিছু হইতো না। কিন্তু এরপরের মারামারিগুলা জঘন্যতারেও ছাড়ায়া গেছে। ছাত্রদল থিতু হয়া বসতে বসতেই মারামারিও হিংস্র হইতে থাকল।

এই সকল মারামারির হাতিয়ার হিসাবে দেখলাম রামদা আসছে, চাপাতি আসছে, গজারির লাঠি আসছে। অকেজো অথবা কেজো খাটের লোহার পায়া, জানলার রড, পানির পাইপ ইত্যাদি ইত্যাদি। একটা হল ছিল এর মধ্যে আলাদা। তারা একাই বাকি সব হলের প্রতিপক্ষ। নিজেদের হলে তারা ইট থাইকা শুরু কইরা লাঠি বোমা সব জোগাড় করত। ক্লাসে যাওয়ার ব্যাগে ভইরা নিয়া যাইতো মারামারি করার লাঠি। দিন রাইত খাইটা তারা এই মাপের হাতিয়ার বানাইতো। সম্ভবত নব্বইয়ের পর থাইকাই আমারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলাতে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার রোধ করা হয়। ফলে মারামরির জন্য বিকল্প হাতিয়ার বানানোর কাজে এই সমস্ত সংগঠনগুলার ব্যাপক মেধা পরিলক্ষিত হয়। একবার ছাত্রদলের পোলারা ছাত্রফ্রন্টের কিছু পোলারে পিটাইলো লাকড়ি দিয়া, চুলার লাকড়ি। আরেকবার ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মারামারির সময় ব্যবহার করা হইলো ফুলের টব। ফ্যাকাল্টির বারান্দায় যতো ফুলের টব আছিল সব ওই পোলার মাথায় ভাঙ্গা হইলো। অথচ হাতে অস্ত্রও আছিল। ক্রিকেট ব্যাট স্টাম্প এসব বাদ দিলাম। বাঁশের ব্যবহারও কম দেখছি। মারামারিতে সবসময়ই অকেজো অস্ত্রের ব্যবহার দেখছি। একবার একজন প্রতিপক্ষরে অস্ত্র তাক কইরা ভয় দেখাইতে গিয়া গুলি বাইর কইরা ফালাইলো। এর আগে অনেক চেষ্টা কইরাও যে দোনলার গুলি বাইর হইলো না, হুট কইরা সেই অস্ত্রের গুলি বাইর হওয়াতে সবচেয়ে বেশি বিস্মিত হইলো সে নিজে। গুলি গিয়া লাগলো প্রতিপক্ষের একজানের পায়ে। অস্ত্রধারী নিজেই রক্ত দেইখা কান্নাকাটি।

তবে মারামরির মধ্যে হিংস্রতা খুব বাড়ছে। এই ছাত্রদল আসার আগে রক্ত দেখছি খুব কম। শিবিরের বিষয়টা আলাদা ওদের হিংস্রতা নিয়া আলোচনার মানসিক স্থৈর্য্য আমার এখন নাই। শিবিরই বরঞ্চ আমাদের শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসরে প্রতিষ্ঠিতি করছে। তাদের হিংস্রতার সংস্কৃতি বাকি সংগঠন দুইটারেও ভর করছে। ফলে গত বছর পাঁচ ছয় ধইরা দেখতেছি রক্ত না ঝরায়া, হাসপাতালে না পাঠায়া শান্তি হয়না গুন্ডাগুলার। ঠান্ডা মেজাজে মাথায় আঘাত করা, হাত ভাঙ্গছে কিনা তা নিশ্চিত না হয়ে মাইর না থামানো, নির্বিচারে চাপাতি রামদার আঘাত। ওহ ক্ষুরের কথা বলতে ভুইলা গেছি। শিবিরের ক্ষুরও উইঠা আসলো এই সংগঠনগুলার হাতে। এমন দৃশ্য কয়েবারই দেখছি এবং শুনছি যে মাইরা শোয়ায়া ফালাইছে, হঠাৎ কে জানি কইলো ওই হালারতো পা ভাঙ্গি নাই। শুরু হইলো আবারো মাইর।

তবে সমস্ত মারামারির পেছনের লোক থাকে। কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের/প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কখনো প্রশাসন, স্থানীয় এমপি। কোন মারামারিই এই সমস্ত ক্ষমতাধরদের জানাশোনার বাইরে হইতো না। এমনকি এই শিক্ষক প্রশাসনই এমন অনেক মারামারির প্ল্যান পরিকল্পনা সাজাইতো। ফলে এইটা পরিষ্কার যে উদ্দেশ্য হাসিল ছাড়া কোন শিক্ষাঙ্গনেই মারামারি বাধে না। এবং সকল মারামারির পিছনে রাজনীতি তথা স্বার্থ থাকে। সেই স্বার্থ খুব কমই ছাত্রদের, বেশিরভাগই অন্য কারো। অন্যদের হাতিয়ার ছাত্রদের হাতে ওঠে। এই সত্য অস্বিকারের উপায় নাই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29149035 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29149035 2010-05-05 13:50:59
নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর।
৩০ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ১০.৩০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করুন এবং উল্লেখিত দাবির সাথে একাত্ম বন্ধুদের কর্মসূচির কথা জানিয়ে দিন। আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাস নিপীড়নকারীদের অভয়ারণ্য হতে দেব না

ধন্যবাদ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29144739 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29144739 2010-04-29 12:26:01
নিপীড়ণের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর।
৩০ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ১০.৩০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করুন এবং উল্লেখিত দাবির সাথে একাত্ম বন্ধুদের কর্মসূচির কথা জানিয়ে দিন। আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাস নিপীড়নকারীদের অভয়ারণ্য হতে দেব না

ধন্যবাদ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29143995 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29143995 2010-04-28 12:25:45
যোদ্ধা রেজওয়ান অভিনেতা শাহরুখ আর কলকাতা নাইট রাইডার্স।
দুজন মিলে ব্যারিকেড-
রেজওয়ান কম্পিউটার গ্রাফিক্স ট্রেইনার ছিলেন। বয়েস ত্রিশ। তারই প্রতিষ্ঠানের অধ্যয়নরত প্রিয়াংকার প্রেমে পড়লেন। এই প্রিয়াংকা আসোক টোডির মেয়ে। ভারতের সুবিখ্যাত টাকাওয়ালা পরিবার। দুই হাজার সাত সালের আঠারো আগস্ট রেজওয়ান আর প্রিয়াংকা বিয়ে করেন। http://wapedia.mobi/en/Rizwanur_Rahman স্বাক্ষী হিসেবে ছিলেন তাদের পরিচিত বন্ধুরা। বিয়ের পর প্রিয়াংকা তার শ্বশুর বাড়ি উঠে আসেন। কিন্তু এটা মেনে নেয়ার কোন মানসিকতা নেই টোডি পরিবারের। শুরু হয় রেজওয়ানের ওপর মানসিক অত্যাচার আর প্রশাসনিক হুমকি। প্রিয়াংকা স্বীকার করেছে সে রেজওয়ানকে ভালোবাসে। তার সম্মতিতেই সে বিয়ে করেছে। কিন্তু টোডি পরিবার প্রেম বোঝে না, তাদের মেয়েও হয়তো ঘরের ঝাড়বাতি, যেখানে সেখানে প্রিয়াংকা থাকতে পারে না। ঝাড়বাতি পয়সাওয়ালাদের বাড়িতেই মানানসই। পুলিশ রেজওয়ানের পরিবারকে টাকা পয়সা সাধে, হুমকি দেয়। Click This Link পুলিশ রেজওয়ানের বিরুদ্ধে টোডিদের বাড়ি থেকে মোবাইলসহ অন্যান্য জিনিস চুরির মামলা করে। রেজওয়ান খুন হবার আগে একটা এনজিওর কাছে আবেদন করে সহযোগীতার জন্য। সেখানে সে লিখেছিল প্রয়োজনে ধর্মান্তরিত হয়েও সে প্রেম রক্ষা করতে চায়। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা ভাবছিল অন্য কথা। বিয়ের এক স্বাক্ষী বিপদে ফেলে রেজওয়ানকে। সে পুলিশকে জানায় যে জোর করেই রেজওয়ান প্রিয়াংকাকে বিয়ে করেছে। প্রিয়াংকাও তার বাবার বাড়ি ফিরে যায়। এগারো সেপ্টেম্বর প্রিয়াংকার সাথে রেজওয়ানের শেষ কথা হয়। এর মধ্যেই পুলিশ প্রিয়াংকাকে হুমকি ধামকি দেয়। একুশ সেপ্টেম্বর রেজওয়ানের লাশ পাওয়া যায় রেললাইনের ধারে। এপিডিআর এর একজন কর্মকর্তা জানান- সেদিন প্রায় সকাল দশটা দশের দিকে রেজওয়ান তাকে জানান আরো কিছু ত্থ্য প্রমাণ নিয়ে সে তার সাথে দেখা করবনে। তারা ঠিক করেন দুপুর আড়াইটার দিকে তারা লালবাগ পুলিশ থানার সামনে দেখা করবেন। দুইটা চল্লিশ মিনিটে তিনি শুনতে পান রেজওয়ান মারা গেছে। Click This Link এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়।

দলে দলে মানুষ রেজওয়ানের বাড়ির দিকে মিছিল করে আসে। তারা একে খুন বলে দাবি করে। পরে কোর্ট আদালত অনেক কিছু হলেও এটাকে আত্মহত্যা বলেই রায় দেয়া হয়। অথচ রেজওয়ানের লাশ পাওয়া যায় তার দুই হাত বুকে রাখা অবস্থায় এবং ময়না তদন্তে বলা হয় পেছন থেকে আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়। এসব আলাপ আপনারা লিংকগুলো থেকে পড়ে নিতে পারেন।

এই বিষয়ে সুমনের একটা গান-
http://doridro.net/Bangla Songs/index.php?dirpath=./Indian Bangla Songz/Indian Bangla Adhunik/Kabir Sumon - Gaanola Dhakay (Disc 2)&order=0 দ্বিতীয় গানটি।

প্রেমিক শাহরুখ-
শাহরুখ খান রেজওয়ানের নামটা তার মাই নেম ইজ খান ছবিতে ব্যবহার করেছেন। http://www.rizwanur.com/ কিন্তু সিনেমা আর বাস্তবকে দূরবর্তী করেই তারা রাখেন। অনেক মানুষকে আবেগ আর উত্তেজনার জোয়ারে ভাসিয়ে তারা নিজেদের স্বার্থ আর অর্থ কেন্দ্রিক সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখাই এদের মূল উদ্দেশ্য। ভারত এবং তার সিনেমা শিল্প আজ কোথায় গিয়েছে তার প্রমাণ এই শাহরুক খান। সাম্প্রদায়িকতার পক্ষে তাদের এমন অবস্থান ঘৃণার। আমাদের দেশেও তার ভক্ত এবং অনুসারীদের অভাব নাই। এটা নিশ্চিন্তে বলা যায় যে সে যদি এই দেশে আসে তাহলে তাকে দেখার হুড়োহুড়িতে আরো কয়েকজন রেজওয়ান বা প্রিয়াংকা পদপিষ্ঠ হতে পারেন। শাহরুখ এভাবেই সিনেমার মোড়কে স্ট্যান্টবাজি করে সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতিকে জায়েজ করে রাখেন। তার এই সিনেমা নিয়েও প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে। Click This Link রেজওয়ানের নাম ব্যবহারেও আপত্তি জানিয়েছেন কলকাতার মুসলমানরা।

কলকাতা নাইট রাইডার্স-
আমাদের দেশে দাদা আর কলকাতার সাপোর্টারের অভাব নাই। ক্রিকেটকে বাণিজ্যে রুপান্তরের মহা আয়োজনে কলকাতা নাইট রাইডর্স কিনে নিয়েছেন ওই টোড পরিবার। Click This Link আর তাদের সাথে চুক্তি করেছেন শাহরুখ। যে রেজওয়ানের নাম আর কাহিনী ব্যবহার করে বিখ্যাত হন শাহরুখ তার খুনীদের সাথেই আবার তিনি হাত মেলান। Click This Link


সামগ্রিক আলোচনায় গেলাম না। ব্যস্ততার মাঝে খালি মূল বিষয়গুলা তুইলা দিলাম। বিচার আপনাদের। এখনো শাহরুখ আমাদের মনে মননে থাকে বইলা খানিক গাত্রদাহ হইলো। এখনো কলকাতার খেলা দেখার তাড়না গায়ে বিধে দেইখা এইসব লিখলাম। আশা করি আরো যারা এই ঘটনা জানেন এই ঘটনা নিয়া চিন্তা ভাবনা করছেন তারা নিজেদের মতামত এখানে যোগ করবেন।

রেজওয়ানের জন্য লাল সালাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29138403 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29138403 2010-04-20 14:20:27
বহু চোখের দেখায় মাই নেম ইজ খান- এই সাইটে মাই নেম ইস খান সম্পর্কিত একটা রিভিউ আর কিছু কমেন্ট পাইলাম। পড়তে পড়তে মনে হইলো একটা সিনেমা আসলে অনেকেই দেখে। এবং প্রত্যেকেই তার নিজের অভিজ্ঞতা আর দৃষ্টিভঙ্গীর বিচারে সিনেমার মূল্যায়ন করে। আমি অল্প কয়েকজনের
কমেন্টের অল্প খানিক অংশ তুইলা দিলাম। আপনেরা সরাসরি লিংকটাও পড়তে পারেন, তাইলে আরো মজা লাগবো।

মার্গারেট-
এই সিনেমা অনেকটা ‘ফরেস্ট গাম্প’ এর মতোই, যেমন মানুষ জাতি অথবা ধর্ম নিরপক্ষেভাবে দুই প্রকার হয় ভালো অথবা খারাপ। এই সিনেমার মিউজিক অসাধারাণ। আমি এই সিনেমাকে আমি সাড়ে তিনটা স্টার দিবো।

সিমন-
আমার কাছে মনে হয়েছে এটা একটা কমেডি। অভিনয় খুব দুর্বল। এক ঘন্টা দেখার পরে বিরক্ত হয়ে আমি বন্ধ করে দিয়েছিলাম।

রাহেল আরিফ-
শাহরুখ আমি তোমাকে ভালোবাসি। এটা খুব দারুণ একটা সিনেমা, শাহরুখ খানের অভিনয় মনে রাখার মতো এবং এই সিনেমার কাহিনী মনোযোগ দাবী করে। এই সিনেমা মানবতা এবং শান্তির কথা বলে অনেক শিনীয় মেসেজ লুকিয়ে আছে এই সিনেমায়।

হিরো-
৫ তারকা পাওয়ার যোগ্য। মানবতার পে একটি তর্কাতীত কাজ হয়েছে।

ভুনিট-
ইন্ডিয়ার দর্শকদের প্রধাণ সমস্যা তারা হলিউডের সিনেমা দেখে না। সুতরাং যখন বছরের পর বছর হিন্দি পরিচালকরা হলিউডের নির্লজ্জের মত স্ক্রিপ্ট চুরি করে তাকে হিন্দিতে রুপান্তরিত করে, তখন সবাই এটাকে অরিজিনাল সিনেমা হিসেবেই দেখে। .....এই সিনেমা ফরেস্ট গাম্পকে নকল করেছে।

ন্যান্সি-
প্রধাণ পুরুষ চরিত্র তার এক্সপ্রেশন আরো কমাতে পারতেন। ৩৫ মিনিট পরেই সিনেমাটি খাপছাড়া মনে হয়েছে। সিনেমাটা আধাঘন্টার মধ্যেই শেষ করা যেত। যাই হোক, ব্যাড বলিউড এক্সপেরিয়েন্স।

মিরওয়েইস-
এটা একটা অসাধারণ সিনেমা। শাহরুখ খানের অভিনয়ও দারুণ হয়েছে। এই সিনেমা মানবতার পে কথা বলে। একজন মানুষ কখনোই কেবলমাত্র তার নাম এবং ধর্মের পরিচয়ে দোষি হতে পারে না।

স্নেহা-
এই ছবিতে যা বলা হয়েছে আমরা এমনিতেই জানি। এই সিনেমার মুল বক্তব্য এই নয় যে প্রত্যেক মানুষই ভালো অথবা খারাপ, এই সিনেমার মুল বক্তব্য সকল মুসলমানই সন্ত্রসী নয় এবং শাহরুখের উপস্থাপনা দৃষ্টিকটু।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29137855 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29137855 2010-04-19 15:17:27
কালি ও কলম পুরষ্কার পাওয়া উপন্যাস অন্ধ জাদুকর নিয়া দুই-চাইর কথা।
যেমন কায়সারের ভাবী। জামাই মইরা যায়ার পরে তার সংকটগুলারে কায়সার এভয়েড করছে। দাঁড়ায়া দাঁড়ায়া দেখছে। ভাবীর শ্রম ভোগ করলেও মনের বিষয়ে দুরত্ব ছিল তার। ভাবী এবং তার দুই বাচ্চা সংক্রান্ত বিষয়ে এতোটা নির্মোহ থাকার বিষয়টা চোখে লাগে। এমন কোনো বাঙালি দেবরের সন্ধান হয়তো পাওয়াই যাবে না যে তার গোপন মুহূর্তে তার ভাবী/বৌদিকে একবারও কামনা করেনি। কিন্তু ওই পর্যন্তই। সম্পর্ক আর বেশিদূর এগোয় না, আফটার অল ভাইয়ের বউ, আর কতদূরই বা এগুনো যায়? বিশেষ করে ব্যাপারটা যখন সিরিয়াসলি সামনে চলে আসে, তখন দেবরদের মধ্যে এক ধরনের ক্রাইসিস দেখা যায়, সেটা প্রধানত কামজ অনুভূতির- যে শরীরে আমার ভাই উপগত হয়েছে সেখানে আমি... কিভাবে? কিভাবে সেটা সম্ভব? অন্তত কায়সারের ক্ষেত্রে অনুভূতিটা এমনই। কিন্তু এগুলো ওই কুচক্রি মানুষগুলোকে বোঝাবে কে? এইখানে বাঙালি দেবরদের শরীরে নিজের চেহারা প্রতিস্থাপনের চেষ্টা ভালো হয় নাই। ভাবীর সাথে ঘনিষ্ঠতা মানেই যৌনতা হবে এমন কোন বিষয় নাই। ভাবীর ভেতরের কান্না লেখক শুনতে পান নাই। কারণ ভেতের প্রবেশের বিষয়ে তার অনাগ্রহ এই উপন্যাস জুইড়াই আছে। ছোট বোন নিশার সাথে কায়সারের সম্পর্কটাও বিকশিত না। বরং স্তব্ধ মনে হইছে। বাবার প্যারালাইজড হওয়া শরীর পুরা পরিবারেই ভর করছে। কায়সারও প্যারালাইজড। সে লিখতে পারে না। মানতে পারে না, খালি বুঝার চেষ্টা করে। সম্পর্ক নিয়া লিখবে বইলা শুরু করলেও কায়সার আসলে নিজেরে নিয়া লিখছে। এক পাক্ষিক সম্পর্ক তৈরি হইছে। বন্ধুদের সাথে তার দূরত্ব তৈরি হওয়া, তার নানা সময়ের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রেমগুলা নিয়াও এতো সংশয় কায়সারের যে শেষমেষ সে একাই থাকে। এখানেও মাহমুদুল হকের ভুত ভর করছে বইলা সন্দেহ হয়। লেখক বলতেছেন-সব সম্পর্ককেই মানুষ কোনো-না-কোনো নাম দিয়ে সংজ্ঞায়িত করতে চায়। সম্পর্কের বহুমাত্রিকতায় বিশ্বাস নেই তার, নেই আস্থাও, কিংবা বহুমাত্রিক সম্পর্কের বিষয়টি সে বোঝেই না। ফলে একটি নাম না দিলে সে অস্বস্তিতে ভোগে, অশান্তিতে ভোগে। কিন্তু যখনই একটি সম্পর্কের নাম দেয়া হয় তখনই তাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়, সেই সম্পর্কে নতুন কোনো মাত্রা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায়। সম্পর্ক হয়ে পড়ে স্থির, বদ্ধ। অথচ সম্পর্ক বিষয়টিই পরিবর্তনশীল, বিবর্তনশীল। এক জায়গার দাঁড়িয়ে থাকার জিনিস নয় এটা। সম্পর্ক ক্রমাগত তার ধরন পাল্টায়, তার স্বভাব পাল্টায়- যদি না পাল্টায় তবে তা পরিণত হয় অভ্যাসে। সম্পর্কের সঙ্গে অভ্যাসের পার্থক্যটা এখানেই। সম্পর্ক বিবর্তনশীল, পরিবর্তনকামী, নতুন মাত্রা যোগের সম্ভাবনাপূর্ণ; আর অভ্যাস স্থির, পরিবর্তনহীন, একঘেঁয়েমিপূর্ণ। সম্পর্ক বিষয়ে এমন ভাবনার সমস্যা হইলো তাতে জীবন থাকে না। জীবন বরংচ সম্পর্করে নিজের কইরা নেয়ার চেষ্টায় রপ্ত থাকে অথবা জীবন আসলে সম্পর্কের জটিলতা তৈরি কইরা মানুষের বাঁইচা থাকনের উপলক্ষ্য খুঁজে আনে। যেমন এখানে কায়সার তার জীবনের এতো জটিলতা এতোগুলো সম্পর্কের ভাঙ্গন গড়ন দূরত্ব আবার কাছে আসা এসব নিয়াই বাঁইচা আছে। এগুলোই তার লেখার বিষয়। এছাড়া উপন্যাস তৈরি হয় না। সম্পর্ক বিষয়ক নিশ্চয়তা, নির্দিষ্টতা বিরক্ত তৈরি করে। কিন্তু সম্পর্কসমূহের পাঠ একপাক্ষিক বইলা তাতে নানা বাঁক আর পরিবর্তন কায়সারের আড়াল হয়। ফলে যে সম্পর্করে তিনি অভ্যাস বলতেছেন তা আসলে বৈচিত্রহীন একঘেয়ে নির্বিষ কায়সারের পর্যবেক্ষণ। বিচিত্রতা মানুষ না খালি নেচারেরই স্বভাব। যেমন কায়সার লেখক বইলা তার দেখার আরেকটা চোখ জাগে। এখানে সেই চোখরে অন্ধ বলার ব্যাখ্যা কোনটাই যুতসই হয় নাই। লেখক অথবা পুরুষ হিসাবে কায়সাররে অন্ধ মনে হয় নাই। এক চোখা বলা যাইতে পারে। উপন্যাসের নাম হিসেবে অন্ধ জাদুকর যে দ্যোতনা তৈরি করে পাঠ শেষে তা আর থাকে না।

কিছু চরিত্র যত্ন পাইতে পারতো। একজন কায়সারের ভাবী। কায়সারের মাও। মাকে স্মৃতিকথনে জড়ানোতে যে সমস্যা হইছে তা হইলো মা পূর্ণাঙ্গ হন নাই। কাজলা দিদির মরার ঘটনা আধপেটা হইছে। এমন একটা জটিল সম্পর্কের খোঁড়ল সামনে আসলেও তা অন্ধকারই রয়া গেছে। কায়সারের সাথে কয়েকজন নারীর সম্পর্কের মাঝে প্রেম ছিল নাকি ওই যে নামহীন সম্পর্ক ছিল তা বুঝা যায় নাই। কি বলবো? ওকে নিয়ে আসলেই কিছু বলার নেই আমার। আমি এখনো বুঝে উঠতে পারিনি-ও আমার কে! এবার সে ঘোরগ্রস্থ, বলতে থাকে- ওই যে একটা কবিতার লাইন আছে না- 'তুমি মোর আঁখিপাতে চিরদিন জমে থাকা জল'- হয়তো মৃন্ময়ীও আমার কাছে তাই। এটা দূর্বলতা, অথবা দ্বিধাগ্রস্ততা। মৃন্ময়ী কে নিয়া এতো লম্বা ঘটনার বর্ণনা শেষ পর্যন্ত দীর্ঘশ্বাস হওয়ার পেছনে যুতসই কারণ পাওয়া গেল না। প্রশ্ন জাগে কায়সারের দূর্বলতাটা আসলে কার।

ফলে কাহিনীর বিচারে জমে নাই এই উপন্যাস। তাছাড়া লেখক নিজে সওয়ার হওয়াতে বিশ্লেষণ করতে গিয়াও এইটা ওইটা ঝামেলা আছে। বিভিন্ন লেখকের উদ্ধৃতি উপস্থাপন খাপছাড়া না হইলেও একেবারে কোটেশন তুইলা দেয়াটা পাঠকের জন্য সমস্যার হইতে পারে। উপন্যাসটা আসলে কি নিয়া আগাইছে তা মাঝে মাঝে বুঝা যায় না। শুরুটা দুর্বল হইছে। শুরুতে লেখক যা বলতে চাইছেন তা আরো গভীর এবং গম্ভীর হইতে পারতো। লেখক লিখছেন-এমনি একটি লক্ষ্যহীন-আদর্শহীন-নীতিহীন-স্বপ্নবিহীন সময়ের মধ্যে দিয়ে আমরা বেড়ে উঠেছি। কোথাও ছিলো না কিছু আশাবাদী হবার মতো, কোথাও এমন কিছু ছিলো না যাকে অবলম্বন করে একজন তরুণ জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলার স্বপ্ন দেখতে পারে। এমন একটি সময়ের মধ্যে দিয়ে যাদের কৈশোর ও তারুণ্য কাটে, তারা ধীরে ধীরে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, কোথাও কোনোকিছুর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক তৈরি হয় না। আমাদের সময়টি আসলে সম্পর্কহীনতার সময়। এই সময়ের মানুষগুলো কোথাও সম্পর্কিত নয়, আমাদের বন্ধুত্বের মধ্যে থাকে অবিশ্বাস, আমাদের প্রেমগুলো তুচ্ছ কারণে ভেঙে যায়, সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে- এমনকি পরিবার থেকেও- আমরা একটি নিরাপদ দূরত্ব রচনা করে চলি। যেন পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি কার্যকর ভাষা নির্মাণের ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছি আমরা। কীভাবে প্রেম হবে আমাদের, হবে বন্ধুত্ব? এই প্রশ্ন থেকে বের না হতে পারার ব্যার্থতা আছে উপন্যাসে। লেখক যে বিষয়টার গুরুত্ব দিছেন গোটা উপন্যাসে , যে আকাঙ্ক্ষার তা থেকে পাঠকসুদ্ধা বের হয়ে আসার মানসিক শক্তি কায়সারের নাই। নাকি লেখকের। বিভ্রান্ত হইতে হয়। শেষে কায়সারের মদ খায়া মাতলামির অংশটুকুও মাহমুদুল হকের সাটির জাহাজ উপন্যাসের জয়নালরে মনে পইড়া যায়।

তবে এই উপন্যাসের সফলতা তার চিন্তায় আর বক্তব্যে। আকাঙ্ক্ষায়। যাকে বলে টোন, টোনটা খুব চমৎকার। তবে আমার কাছে উপন্যাসটারে আধপেটা মনে হইছে। লেখককে ধন্যবাদ কালি ও কলম পুরষ্কারের জন্য। আশা করি আরো বিষদ কোন বিশ্লেষণ করতে পারবো এই উপন্যাস নিয়ে।

পড়তে হইলে ক্লিক করেন- ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29128335 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29128335 2010-04-03 15:52:54
উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চলে বৌদ্ধ পদ্মমন্দির আবিষ্কার। বাংলাদেশের প্রাচীন দূর্গনগরী বলে পরিচিত উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চলে এবার বৌদ্ধ পদ্মমন্দির আবিষ্কার হয়েছে। উয়ারী থেকে চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শিবপুর উপজেলার ধুপিরটেকে এই মন্দির আবিষ্কৃত হয়। ২০০৯ সাল থেকে স্থানীয়ভাবে মন্দির ভিটা নামে পরিচিত একটি ঢিবিতে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু হয়। ২০১০ সালের ৯ জানুয়ারি পুনরায় ঐ প্রত্নস্থানে উৎখনন শুরু হয়। প্রায় তিন মাস কষ্টসাধ্য খননের পর বের হয়ে আসে ইট নির্মিত বৌদ্ধ মন্দিরটি। ১০.৬ মি দ্ধ১০.৬ মি বর্গাকার বৌদ্ধমন্দিরটির দেয়াল ৮০ সে.মি প্রশস্ত। মূল দেয়ালের উত্তর, দণি ও পশ্চিমে ৭০ সেমি. দূরত্বে সমান্তরালভাবে ৭০ সেমি. প্রশস্ত দেয়াল রয়েছে । মূল দেয়ালের চারদিকে ইট বিছানো ৭০ সেমি. প্রশস্ত প্রদক্ষিণ পথ রয়েছে। প্রদণি পথের বর্হিদিকে মূল দেয়ালের সমান্তরাল ৬০ সেমি. প্রশস্ত দেয়াল বিদ্যমান। পূর্ব দিকে প্রদক্ষিণ পথ ও বারান্দা রয়েছে। এ পর্যন্ত বৌদ্ধ মন্দিরটিতে দু’টি নির্মাণ যুগ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আদি নির্মাণ যুগের ইট বিছানো মেঝের অংশবিশেষ উন্মোচিত হলেও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে আরও সময় প্রয়োজন। তবে পরবর্তী নির্মাণ যুগে পূর্ব-দণি কোণে ইট বিছানো একটি বেদী পাওয়া গিয়েছে। দ্বিতীয় নির্মাণ যুগের মেঝেতে লাল ইট নির্মিত পদ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে। আটটি পাঁপড়িযুক্ত একটি পদ্ম অনেকটা অত রয়েছে।


খনন এলাকার মানুষেরা জানান এই স্থানটিকে তারা মন্দিরের ভিটা নামেই চিনতেন। তারা মাঝে মাঝে ঢোলের শব্দ শুনতে পেতেন। তাদের ধারণা ছিল বাঁশ ঝাড়ে ছাওয়া এই টেকে হয়তো কোন হারানো রতন লুকিয়ে ছিল। স্থানীয় মানুষদের সহযোগীতায় ২০০৯ সাল থেকে সেখানে খনন শুরু হয়। সুফী মুস্তাফিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খনন শুরু করেন। ২০১০ সালে খনন শুরুর তিনমাস পর গবেষকরা বৌদ্ধ মন্দিরের নিদর্শন আবিষ্কার করেন। আবিষ্কৃত হয় প্রদণি পথ, বারান্দা, বেদি, পদ্ম। এসকল নিদর্শনের উপস্থিতি স্থাপনাটিকে বৌদ্ধ মন্দির হিসেবে চিহ্নিত করে। মোট সাতটি পদ্ম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছয়টি পদ্ম ভঙ্গুর অবস্থায় পাওয়া যায়। এগুলোর পুনরানয়ন সম্ভব বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।



পদ্মের উপস্থিতি মন্দিরটিকে পদ্ম মন্দির বা লোটাস টেম্পলের মর্যাদা দেয়। বৌদ্ধ ধর্মে পদ্ম খুবই তাৎপর্যপূর্ণ এবং বহুল ব্যবহৃত। সাধারণত ধারণা করা হয় বুদ্ধের মূর্তির বদলে পদ্ম ব্যবহার করা হয়। খ্রীষ্টিয় তৃতীয় শতক থেকে বৌদ্ধ ধর্মে প্রতীকের ব্যবহার দেখা যায়। আবিষ্কৃত প্রায় অত পদ্মটিতে ৮টি পাঁপড়ি পরিলতি হয়। হতে পারে ৮টি পাঁপড়ি বৌদ্ধ ধর্মের অষ্টমার্গের প্রতীক। সৎ বাক্য, সৎ চিন্তা, সৎ কর্ম, সৎ জীবন, সৎ সংকল্প, সৎ চেষ্টা, সম্যক দৃষ্টি ও সম্যক সমাধিকে অষ্টমার্গ বলা হয়। সাদা, লাল ও গোলাপী রং এর পদ্ম ফুল ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করে। লাল রং এর পদ্মকে সংস্কৃত ভাষায় কমল বলা হয়। এই পদ্ম প্রতীকী অর্থে হৃদয়জাত উপলব্ধিকে বোঝায়। হৃদয়ের অনুভূতি এর মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। বুদ্ধ ধর্ম চক্রের আটটি দন্ড দেখতে পাওয়া যায়। বুদ্ধ পদ্মের মতোই এই পৃথিবীর সকল মোহ ছেড়ে পূর্ণ বিকশিত হতে আহ্বান জানান। ধুপিরটেকে প্রাপ্ত পদ্মকে বোধিসত্ত্ব অবলোকিতেশ্বরের পুষ্প হিসেবে উল্লেখ করা যায়। অবলোকিতেশ্বর বোধিসত্ত্বের বিনয়াবনত অবস্থাকে নির্দেশ করে। বাংলাদেশের সমতট (কুমিল্লা) এবং পুন্ড্রবর্ধন জনপদের বগুড়া, নওগাঁ ও দিনাজপুর অঞ্চলে বৌদ্ধ বিহার, মন্দির ও স্তুপ আবিষ্কৃত হয়েছে। মন্দিরভিটা ধুপিরটেকে আবিষ্কৃত বৌদ্ধ মন্দিরটি উয়ারী-বটেশ্বর তথা মধুপুর গড় অঞ্চলের বৌদ্ধ সভ্যতা ও সংস্কৃতির স্যা বহন করছে। অধ্যাপক সুফী জানান, ‘আমাদের হাতে এ মূহুর্তে আরো বেশ কিছু চলমান গবেষণা রয়েছে যা সমাপ্ত হলে উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্ম চর্চার বিকশিত রূপ ফুটে উঠবে।’

১৮৮৫ সালে শিবপুর উপজেলার আশরাফপুর গ্রামে আবিষ্কৃত ২টি তাম্রশাসন থেকে জানা যায়, রাজা দেবখড়গ ৭ম শতকে এই অঞ্চলের চারটি বিহার এবং বিহারিকার ব্যয় নির্বাহের জন্য কিছু ভূমি দান করেন। আবিষ্কৃত বৌদ্ধ মন্দিরটির স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য ও দেবখড়গের লিপিস্যা অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে আনুমানিক ৭ম শতকের বলে মনে করা যায়। অক্সফোর্ড ডিকশনারি অব বুদ্ধিজম গ্রন্থে বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্ম চর্চা ২য় শতকে শুরুর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু খ্রিস্টপূর্ব ৫ শতকের উয়ারী দুর্গ নগরে খ্রিস্টপূর্ব স্তরে নবযুক্ত মৃৎপাত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আয়ান গ্লোভার নবযুক্ত বিশেষ মৃৎপাত্রকে বৌদ্ধ ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত বলে মত প্রকাশ করেন। এই বিষয়ে সুফী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আয়ান গ্লোভারের মতামত সঠিক হলে বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্ম চর্চা শুরুর ইতিহাসে একটি যুগান্তকরী পরিবর্তন আসবে।’


উয়ারীর সাথে এই মন্দিরের সম্পর্ক কি তা জানতে চাইলে মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ উয়ারী দূর্গ নগরীকে কেন্দ্র করে আরো অনেকগুলো প্রত্নস্থান রয়েছে। শিবপুরে প্রাপ্ত বৌদ্ধ মন্দিরের সময়কাল এখনো নির্ণিত না হলেও এর সাথে উয়ারীর সম্পর্ক অনুমান করা যায়। কারণ একটি সভ্যতার শুরু এবং বিস্তৃতি ও ধ্বংসের সময়কাল লম্বা। বিস্তৃত এলাকা নিয়েই গড়ে ওঠে কোন সভ্যতা। ফলে এই মন্দিরের সাথে উয়ারীর সম্পর্ক অথবা যোগাযোগ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে আরো গবেষণা এবং খননের ফলেই এসব বিষয়ে নানা তথ্য দেয়া যেতে পারে। এই মন্দিরের প্রাপ্তি উয়ারী এবং তার আশপাশের সর্ণোজ্জ্বল সভ্যতার নিদর্শনকেই তুলে ধরে।’ উয়ারী-বটেশ্বরে এর আগেও বিভিন্ন বৌদ্ধ নিদর্শন পাওয়া গেছে। উয়ারীতে প্রাপ্ত নবযুক্ত মৃৎ পাত্র ও স্টাম্পড্ মৃৎপাত্র ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতীক। তান্ত্রিক বৌদ্ধ ধর্মীয় আচারের সাথে এর সম্পর্ক থাকতে পারে। উয়ারীতে প্রাপ্ত লাঙ্গল বা তীরের ফলা, খড়গ, হাতকুঠার, নেকড়ে, ঘটদেবী, হৃদয়, দাঁত, চোখ ইত্যাদি প্রতীক বিশেষ কোনো দর্শন-চিন্তার ফল বলে মনে করা হয়। যেমন, কুঠার দ্বারা শত্রু ধ্বংস, কচ্ছপ দ্বারা দীর্ঘ জীবন, হাতি দ্বারা সার্বভৌমত্ব বোঝায়। উয়ারীতে প্রাপ্ত বিশ্বাস-প্রতীকসমূহ কৃষি-সম্ভূত প্রকৃতিপ্রেমী এক জাতিসত্তার পরিচয়বাহী। সর্বমোট ৪৮ টি প্রত্নস্থান নিয়ে উয়ারী নগর-সভ্যতার বিস্তৃতি চিহ্নিত করা হয়। উয়ারীকে অবশ্য এই নগর-সভ্যতার কেন্দ্র বলে উল্লেখ করেছেন গবেষকরা। নদীতীরবর্তী উয়ারী অঞ্চলটি ছিল একটি বাণিজ্যকেন্দ্র, এর পাশ দিয়ে বহমান ব্রহ্মপুত্র নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরের মধ্য দিয়ে দণি ও দণি-পূর্ব এশিয়া হয়ে সুদূর রোমান সাম্রাজ্য পর্যন্ত ব্যবসা-বাণিজ্য চলতো। উয়ারীর ভূ-প্রাকৃতিক বিন্যাস এবং উয়ারীতে প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রত্ননিদর্শন বাণিজ্য-কেন্দ্র হিসেবে উয়ারীর সম্ভাবনাকে তুলে ধরে। কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থার প্রতীক রূপে প্রাপ্ত বিপুল পরিমাণে রৌপ্যমুদ্রা স্থানটিকে প্রাক-নাগরিক জনপদ ও পরবর্তীকালের নাগরিক সভ্যতার সুস্পষ্ট প্রমাণ।


আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত আবিষ্কৃত বৌদ্ধ মন্দির দর্শণার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29120778 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29120778 2010-03-21 13:50:01
কেন আপনি পাহাড়ে সেনা ক্যাম্প স্থাপনের পক্ষ নিবেন ?
এটা খুব পরিষ্কার যে পাহাড়ে সেনা ক্যাম্প থাকবে কি থাকবে না তা সম্পূর্ণই রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত। কিন্তু তারপরও জনগন এই বিষয়সহ নানা বিষয়ে তাদের মত গঠন করে এবং জনতার যে কোন মতামতের ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকে। ফলে পাহাড়ে সেনা ক্যাম্প স্থাপনের পক্ষ বিপক্ষ মতামত রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের সাথে বিরোধাত্মক না হয়ে উঠতে পারলেও এই সংক্রান্ত মতভেদ এবং পক্ষ বিপক্ষ রাষ্ট্র যন্ত্রের জন্য সুবিধাজনক। তাই পাহাড়ে সংঘাত সংঘর্ষ ধ্বংসযজ্ঞ এ সমস্তের সমাধান গিয়ে ঠেকছে যে বিন্দুতে তা হলো পাহাড়ে সেনা ক্যাম্প থাকা না থাকার বিষয়ে। এটা কৌশল এবং রাষ্ট্র অথবা কোন না কোন স্বার্থপক্ষীয় রাজনীতি। এর বেড়াজাল থেকে বের হয়েই সমাধান খুঁজতে হবে।

আজ থেকে কয়েক দশক আগে অসংখ্য বাঙালি সরকারী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাহাড়ে গিয়ে আশ্রয় নেয়। আশ্রয় মানেই কেবলমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই বা অন্ন সংস্থান নয়। এর সাথে স্থানচ্যূত মানুষের আচার-সংস্কৃতি-বিশ্বাস এবং জীবনদর্শনও থাকে। আমাদের রাষ্ট্র কখনোই মানুষকে এই সকল প্রপঞ্চ দিয়ে বিচার করেনি। ফলে সমতলের মানুষদের পাহাড়ে তুলে দেবার আহাম্মকি সিদ্ধান্ত নিতে তাদের সমস্যা হয়নি। পাহাড়ে বাঙালি এবং সেনাবাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করবার পেছনের কারণ সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার এবং পার্বত্য চট্রগ্রামও যে বাংলাদেশের তা প্রমাণ করা। এই সমস্ত যুক্তি হাস্যকর মনে হয় যখন আমাদের বাজার-অর্থনীতি-রাজনীতি-সরকার গঠন-সরকারী সিদ্ধান্ত-সমুদ্রসীমা-আকাশ পথ-পণ্য-পাট-মানব সম্পদ সবকিছুই আসলে শোষিত এবং বর্হিদেশ নিয়ন্ত্রিত ও তাদেরই চক্রান্তে ধ্বংসপ্রায়। সীমান্ত বাহিনী দিয়ে রক্ষা হয় না, রক্ষা করতে লোকাল পিপলদের প্রয়োজন হয়। সাদ্দাম তার বাথ পার্টিকে নিয়ে ইরান-কুয়েতের মতো দেশগুলোকে মোকাবেলা করে গেছে কারণ ইরাকের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর জনগণের সশস্ত্র অবস্থান। এবং ইরানের অনেক ষড়যন্ত্র সীমান্ত এলাকাতেই মার খেয়ে যায়। আমাদের দেশেও ওই লোকাল পিপলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ছাড়া কেবলমাত্র সেনাবাহিনী সীমান্ত রক্ষা করতে পারবে না।

যে বিষয়টি সাধারণ, সীমান্ত নিয়ে কোন বিরোধ তৈরি হয়নি। বিরোধ হয়েছে ভূমি নিয়ে। দুইমাস আগে থেকেই বাঙালি কিছু পরিবার পাহড়িদের আবাসস্থলের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। এই নিয়েই বিরোধের শুরু। সেই বিরোধ এতোটা রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠলো কেন। বাঘাইহাটিতে বাঙালি হোক পাহাড়ি হোক তাদের হাতে অস্ত্র আসলো কিভাবে। কেন এই ক্রোধ বৌদ্ধ মন্দির ধ্বংস করলো। আগুন জ্বললো কেন? তার মানে কি জনতা বিশৃঙ্খল-এদের নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজন সেনাবাহিনী। এটাই রাষ্ট্রের কৌশল। সেনাবাহিনী কেন সমাধান হবে-ইতিহাস কি বলে। তারাই অশান্তির কারণ হয়ে উঠেছে পাহাড়ে বারবার। যে বিরোধের শুরু হয়তো কোন পাহাড়ি বা বাঙালিকে মারধরের মধ্য দিয়ে সেই বিরোধে রক্ত গড়ায় কেন। কিভাবে। আভ্যন্তরীন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যারা ব্যার্থ তারা কিভাবে সীমান্ত রক্ষা করবে।

জরুরী সমাধান কোনটা। ভূমির সমস্যা নিরসন করা। সেটা কে করবে? কিভাবে করবে? ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঘর-মন্দির এসবরে ক্ষতিপূরণ কি হবে। বাঙালিরা কি আসলেই পাহাড়ে থাকতে চায়? যারা চায় না তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা কি। বাঙালিদের যে সামাজিক বিপর্যয় মোকাবেলা করতে হল তার দায়িত্ব কে নিবে। কয়েকমাস আগেই ম্রোদের ওপর সেনাদের নিপীড়ণ আমরা দেখেছি। পাহাড়ে পাহাড়ে এমনই অনেক নিপীড়ণ আর নির্যাতনের ইতিহাস জমা হয়ে আছে। পাহাড়ে জীব বৈচিত্র-সংস্কৃতি-জীবনাচার ধ্বংসের জন্য দায়ী কে ? এসবের বিচার না করতে পারলে কি পাহাড়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে? সাম্প্রতিক সময়ের হত্যা ধ্বংসের বিচার কি হবে? দোষীরা কি শাস্তি পাবে? ইতিহাসে কি এমন কোন নজির আছে? ভারত আজ পর্যন্ত আমাদের যে সকল পাহাড়-নদী-ভূমি দখল করে আছে সেসব বিষয়ে কোন আওয়াজ না তুলে কেবলমাত্র মানুষ মেরে হলেও পার্বত্যচট্রগ্রামের সীমানা রক্ষার কথা বলার উদ্দেশ্য কি? ভারত কি চাইলেই আমাদের দেশের কোন অঞ্চল দখল করে নিতে পারবে। বারে বারে এই জুজুর ভয় দেখিয়ে ফায়াদা লুটছে কারা। কেন পার্বত্যচট্রগ্রাম রক্তপাত হলেই কেবল খবর হয়ে ওঠে।

পাহাড়ে সেনা ক্যাম্প না থাকলে কি হবে? ভারত ধীরে ধীরে আমাদের ভূমি দখল করে নিবে? এমন কোন প্রয়োজন ভারতের থাকতেই পারে। কিন্তু সমস্তরকমভাবে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে থাকা ভারতকে মোকাবেলা করতে পারে না যে রাষ্ট্র, পাহাড়ে নিজ দেশের সীমানা রক্ষায় তার এতো তোড়জোড় কেন ? আমাদের দেশের সরকারগুলো কি সেনাবাহিনীর ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে। তাহলে সেই বাহিনীই কেন তাদের ভরসাস্থল হয়ে উঠবে। আর পাহাড়িরা বাঙালি নয় বলে মুসলমান নয় বলে তাদের বিশ্বাস করতে নেই, তাদের রাষ্ট্রের অন্তর্ভূক্ত ভাবতে নেই? তারা কেবলই প্রাণী হিসেবেই বেঁচে থাকবে। পাহাড়ে অবস্থিত বাঙালিরাও তাই। তারাও আসলে প্রাণী। রাষ্ট্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের হাতিয়ার। পাহাড়ি-বাঙালি বিরোধ যে অমানবিকতার এই বোধ যে রাষ্ট্রের নাই তার কাছে প্রত্যাশা কি থাকতে পারে।

সীমানা নয়-সীমানার অভ্যন্তরে বসবাসরত মানুষই প্রধাণ। তাদের জান মালের নিরাপত্তা দেয়াই রাষ্ট্র এবং সেনাবাহিনীর কাজ। মানবতা আর মনুষ্যবিহীন সীমানার পাহারাদার হয়ে উঠতে চায় আমাদের রাষ্ট্র এবং সহযোগী সেনাবাহিনী। পাহাড়ি বাঙালি কথা নয় তারা ঘটনা তৈরি করে অথবা ঘটনার ফলাফর নিজেদের পক্ষে টেনে নেয়। এটাই ইতিহাস। সেই ইতিহাস থেকে বের হয়ে আসতে হবে।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29104585 http://www.somewhereinblog.net/blog/shuvroju/29104585 2010-02-24 14:54:04