আমাদের দেশে এমন অনেক মুসলমান আছেন যারা নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বহু বিবাহ নিয়ে ওনার চরিত্র সম্পর্কে সন্দেহ পোষন করেন (নাউযুবিল্লাহ)।
যদি কোন মুসলমান এরকম ধারনা অন্তরে পোষন করে থাকেন তাহলে ঈমান হারানোটা সুনিশ্চিত।কারন নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার তেষট্টি বছরের জীবনে যা কিছু করেছেন তা আল্লাহর আদেশে করেছেন।
উনি প্রথম বিবাহ করেন মাত্র পচিশ বছর বয়সে ।যে মহীয়সী নারী বিবি খাদিজা /তিনি প্রথম বিবাহ করেন তিনি তখন দুইবার স্বামি হারা এক বিধবা ও বিগত যৌবনা নারী।অপপ্রচারকারীরা বলেন নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবি খাদিজার রাজিআল্লাহু তালা আনহা ধন সম্পদের লোভে উনাকে বিবাহ করেছেন।এটি সম্পুর্ন একটি মিথ্যা অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়।কেননা বিবি খাদিজাকে রাজিআল্লাহু তালা আনহাকে বিবাহ করার আগে নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকবার উনার সাথে অংশীদারীতে ব্যাবসা করেছেন ।সেই সময় নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সততা ,নির্লোভ এবং নিষ্ঠা দেখে বিধবা নারী বিবি খাদিজা রাজিআল্লাহু তালা আনহা উনার প্রতি শ্রদ্ধা পোষন করেন যা পরবর্তীতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে সহায়তা করে ।নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি ধন সম্পদের জন্য লালায়ীত হতেন ,তাহলে যখন ধর্ম প্রচার না করার জন্য কাফেররা সুন্দরী নারী ও প্রচুর ধন সম্পদের লোভ দেখিয়েছিল তখন তিনি চাইলেই তা গ্রহন করতে পারতেন।
নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বহু বিবাহ করেছেন সামাজিক, মানবিক,ধর্মিয় শিক্ষা, রাজনৈতীকও আরবের তৎকালীন কুসংস্কার উছ্ছেদ করার জন্য।বিয়ে করার উদ্দেশ্য যদি জৈবিক কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্য হত তাহলে তিনি যৌবন কালেই করতে পারতেন।
এখানে একটি ঘটনা উল্লেখ করা যায় : হযরত যাবের বিন আব্দুল্লাহ রাজিআল্লাহু তালা আনহু একদিন নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দেখা করলেন তার গায়ে তখনও আতরের ঘ্রান ও চেহারায় আনন্দের ছাপ ছিল।নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখে বললেন তুমি কি বিয়ে করেছ ?
:হ্যা ইয়া রাসুলুল্লাহ।
: কুমারী না বিবাহিত ?
:বিবাহিতা।
:কুমারী করলেনা কেন ? সে তোমার সাথে খেলাধুলা করত তুমিও তার সাথে খেলাধুলা করতে।দুজনে হাসি -তামাসা করতে ।তুমি তাকে হাসাতে সেও তোমাকে হাসাত।
উপরোক্ত ঘটনা থেকে বোঝা যায় যৌবনের চিরনতন নিয়ম সম্পর্কে তিনি সম্যক অবহিত ছিলেন।
তিনি বহু বিবাহ করেছেন উনার পণ্চাশ বছর বয়সের পরে।যৌবন কালটা তিনি কাটালেন একজন বয়স্ক নারী নিয়ে বার্ধক্য এসে এত গুলো বিয়ে করার কারণ কি?তাও একমাত্র বিবি আয়শা রাজিআল্লাহু তালা আনহা ছাড়া আর সব বিবি ছিলেন বয়স্ক ও বিগত যৌবনা।মদিনায় রাষ্ট্র গঠন করার পর তিনি যে ক্ষমতা পেয়েছিলেন তাতে তিনি চাইল ধনাঢ্য যুবতী সুন্দরী কুমারী নারী সহযেই বিয়ে করতে পার্তেন।
তিনি বিবি খাদিজা রাজিআল্লাহু তালা আনহাকে বিয়ে করা পর দীর্ঘ পচিশ বৎসরের জীবনে আর কোন বিবাহ করেননি।বিবি খাদিজা রাজিআল্লাহু তালা আনহা নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিয়ে করার পর পন্চাশ বছর বয়সে মৃত্যু বরন করেন।
নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিবি গনের নাম
-----------------------------------------------------------------
১/সায়্যেদা খাদিজা রাজিআল্লাহু তালা আনহা বিনতে খুয়াইলেদ। ২//সওদা রাজিআল্লাহু তালা আনহা বিনতে যুময়া। ৩//আয়েশা রাজিআল্লাহু তালা আনহা বিনতে আবুবক্কর রাজিআল্লাহু তালা আনহু। ৪//হাফসা রাজিআল্লাহু তালা আনহা বিনতে ওমর ফারুক রাজিআল্লাহু তালা আনহ। ৫//জয়নব রাজিআল্লাহু তালা আনহা বিনতে জাহস। ৬// উম্মে সালমা রাজিআল্লাহু তালা আনহা বিনতে আবি উম্মিয়া। ৭//উম্মে হাবিবা রাজিআল্লাহু তালা আনহা বিনতে আবু সুফিয়ান রাজিআল্লাহু তালা আনহু। ৮// মায়মুনা রাজিআল্লাহু তালা আনহা বিনতে হারেছ। ৯//জুয়াইরিয়া রাজিআল্লাহু তালা আনহা বিনতে হারেছ । ১০//সাফিয়া রাজিআল্লাহু তালা আনহা বিনতে হুয়াই১১//জয়নাব রাজিআল্লাহু তালা আনহা বিনতে খুজাইমাহ । ১২//মারিয়া ক্বিবতিয়া রাজিআল্লাহু তালা আনহা (উম্মে ইব্রাহীম)
নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাথে বিবি খাদিজা রাজিআল্লাহু তালা আনহার প্রগাঢ় ভালবাসা ছিল ।বিবি খাদিজা রাজিআল্লাহু তালা আনহা মৃত্যুর পর বিবি হালাহ/(বিবি খাদিজা রাজিআল্লাহু তালা আনহার বোন )নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্দর মহলে প্রবেশ করার জন্য ঘরের বাহির থেকে অনুমতি চাইলে নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চমকে উঠেন।কারন হালাহ রাজিআল্লাহু তালা আনহার কন্ঠস্বর ছিল বিবি খাদিজার রাজিআল্লাহু তালা আনহার কন্ঠের মত। তারপর বিবি খাদিজার রাজিআল্লাহু তালা আনহার কথা স্মরন করলেন।সেখানে আয়েশা সিদ্দিকা রাজিআল্লাহু তালা আনহা ছিলেন।তিনি বললেন এখনও তার কথা স্মরন করছেন।যিনি বৃদ্ধা হয়ে মারা গেছেন বহু দিন আগে।আল্লাহ আপনাকে তার চেয়েও উত্তম বিবি দান করেছেন।নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন না কখনো নয়।যখন মানুষ আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে তখন খাদিজা আমার সত্যতার সাক্ষি দিয়েছে। ।যখন মানুষ কাফের ছিল তখন সে প্রথম ইসলাম কবুল করেছে।যখন আমার কোন সাহায্যকারী ছিল না তখন সে আমাকে সাহায্য করেছে।
হযরত আয়শা রাজিআল্লাহু তালা আনহা বলেন যদিও আমি দেখিনি তবুও হযরত খাদিজা রাজিআল্লাহু তালা আনহা এর প্রতি যতটুকু হিংসা হয় তা আমার যে কারণ ছিল এই নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবসময় খাদিজা রাজিআল্লাহু তালা আনহা এর কথা স্মরণ করতেন।এতে একবার আমার মনোকষ্ট দেখে তিনি বললেন ,আল্লাহ পাক আমার মাঝে খদিজার মহব্বত বেশি প্রদান করেছেন।
বিবি সওদা রাজিআল্লাহু তালা আনহা
--------------------------------
হযরত বিবি সওদা রাজিআল্লাহু তালা আনহা নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বয়সে কয়েক বছরের বড় ছিলেন।হযরত বিবি সওদার রাজিআল্লাহু তালা আনহার প্রথম বিবাহ হয় তাহার চাচাত ভাইয়ের সাথে ।তারা স্বামি-স্ত্রী দুজনেই ইসলাম ধর্ম গ্রহন করার কারনে মক্কার কাফেরদের অত্যাচারে আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন।সেখানে আব্দুর রহমান নামে একজন পু্ত্র সন্তান জন্ম গ্রহন করে।পরে আবিসিনিয়া হতে মক্কা আসলে কিছুদিন পর উনার স্বামি ইন্তেকাল করেন।তখন আত্তিয় স্বজন হীন অবস্থায় খুবই অসহায় পড়ে যান।মুসলমান হওয়ার কারনে কাফের আত্তিয়- স্বজন কেউ মাথা গোজার ঠাইটুকু দিতে রাজি হল না।শেষে নিরুপায় হয়ে খাওলা (ইনি বিবি খাদিজা রাজিআল্লাহু তালা আনহা সাথে নবী/ বিয়ের ঘটকালী করেছিলেন ) নামে তিনি নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুর সম্পর্কিয় খালার কাছে আশ্রয় নেন।খাওলা ছিলেন গরিব।তাই অভাব অনটন লেগেই ছিল।এট দুঃখ কষ্টের মধ্যেও সাওদা রাজিআল্লাহু তালা আনহা এতটুকু ধৈর্য হারা হলেন না।কায়মনে আল্লাহর এবাদত করতে লাগলেন আর নিজের দুর্দশা হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করতে লাগলেন।ইতিমধ্যে এক বছরের মধ্যে নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় চাচা আবু তালেব ও প্রাণ প্রিয় বিবি খাদিজা রাজিআল্লাহু তালা আনহা ইন্তেকাল করেন।নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে নেমে এল দুঃসহ একাকী সময়।এছাড়া কাফেরদের ষড়যন্ত্রতো ছিলই।আরো ছিল মা হারা ছোটছোট দুই শিশু মা ফাতেমা রাজিআল্লাহু তালা আনহা ও উম্মে কুলসুম রাজিআল্লাহু তালা আনহা।এদের দ্বায়িত্ব কার কাছে ন্যাস্ত করবেন।এই নিয়ে ছিল দুশ্চিন্তা।কারন এদের দিকে খেয়াল রাখতে গেলে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজে বিঘ্ন ঘটে।তিনি এই সমস্যায় জর্জরিত হয়ে এক প্রকার দিশেহারা অবস্থা।এই অবস্থা দেখে খাওলা নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে হাজির হয়ে বলল ঃহুজুর বর্তমানে আপনার একজন সাহায্যকারী দরকার। তাই আপনি যদি রাজি হন তাহলে আমি সাওদা বিনতে জামআর সন্গে আপনার বিবাহ দিতে পারি।সে খুবই শান্ত ও নীরহ।তার স্বভাব-চরিত্র খুবই ভাল এবং ধৈ্যশীল।সে আপনার বিবি হওয়ার উপযুক্ত একজন মহিলা।সে আপনার সংসারের দ্বায়িত্ব নিলে আপনার এই দিক নিয়ে আর চিন্তা করতে হবেনা।
নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্তাবে সম্মত হলে খাওলা সেদিনই সওদা রাজিআল্লাহু তালা আনহার পিতা জামআর নিকট বিবাহের কথা বললেন।জামআ ছিল খ্রিস্টান তবুও বললঃকোরাইশ বংশের শ্রেষ্ঠ পুরুষের সাথে বিবাহ দিতে আমি রাজি।
হিজরীর দশম বছর অথবা অষ্টম বছরে বারশত দেরহাম দেন মোহরে নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবি সাওদা রাজিআল্লাহু তালা আনহার বিবাহ হয়।
বিবি সাওদা রাজিআল্লাহু তালা আনহাকে বিবাহ করার পর নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংসারের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেলেন।বিবি খাদিজা রাজিআল্লাহু তালা আনহার ইন্তেকালের পর যে সংকট নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে এসেছিল বিবি সাওদা রাজিআল্লাহু তালা আনহার উপস্থিতিতে তা পুরোপুরি কেটে গেল।বিবি আয়শা রাজিআল্লাহু তালা আনহা বলেছেন আমি কেবল একজন মহিলার কথা জানি ,যার অন্তরে কোনদিন হিংসার লাশ মাত্রে দেখিনি তিনি বিবি সাওদা রাজিআল্লাহু তালা আনহা তিনি সর্ব মোট পাচটি হাদিস বর্ননাকরেছেন।নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের তেইশ বছর পর প্রায় একাশি বছর বয়সে বিবি সাওদা রাজিআল্লাহু তালা আনহা ইন্তিকাল করেন।মদীনায় জান্নাতুল বাকি তে উনাকে সমাহীত করা হয়। (আরও বাকি অংশ আগামী পর্বে)
------------------------------

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



