somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামুর ব্লগার, ব্লগ সাহিত্য ও বাংলা সাহিত্যে বাংলাভাষা

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অগ্রজ বল্লেন, ‘এ আবার কেমন কথা? ‘বৌ’ এর বানান ‘বৌ’ হতে ‘বউ’ হলো কবে থেকে?’ অনুজেরা উত্তর দিলেন, ‘গুরু তোমার ‘বৌ’ একটু সেকেলেতো তাই মাথায় ঘোমটা (ৌ) দিয়ে চলে, আর আমাদের ‘বউ’ একটু আধুনিকতো তাই সঙ্গে সাথী (উ) নিয়ে চলে’।অনুজদের উত্তরে শ্মশ্রুমন্ডিত সুদর্শন বয়:বৃদ্ধ গুরু বুঝলেন আজকালকার ছোকরা গুলোর অকাট্য যুক্তির সাথে তর্ক করে লাভ নেই, তাই দাঁড়িতে হালকা হাত বুলিয়ে উপবিষ্ট অনুজদের প্রতি প্রশ্রয়ের যে হালকা হাসিটি দিয়েছিলেন সে হাসি আমি যেনো আজও দেখতে পাই।বলাই বাহুল্য অগ্রজটি আর কেউ নন, আমাদের রবীন্দ্রনাথ, আর অনুজদের গ্রুপটি সে সময়কার কল্লোল যুগের (১৯২৩-১৯৩৫)বাংলা সাহিত্যের কান্ডারী বুদ্ধদেব বসু, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম, অমিয় চক্রবর্তী সহ আরো অনেকে।ঘটনাটি পড়েছিলাম বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত চিঠিপত্র সংকলন সন্ক্রান্ত কোন একটি বইয়ে যার নাম এই মূহুর্তে মনে পড়ছেনা। সাহিত্যে ভাষার ও শব্দের ব্যবহার নিয়ে যতরকম কাঁটাছেড়া করা যায়, রবীন্দ্রনাথের মতো আর কেউ বোধ হয় তা করেননি এবং ভদ্রলোক যে এটাকে একরকম একক সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছিলেন এতে কোন সন্দেহ নেই।বাংলা ভাষায় তার সৃষ্ট অনেক শব্দ তাই প্রতীয়মান করে।তাই অনুজদের শব্দ নিয়ে বাড়াবাড়ি তার ভালো না লাগলেও হাসিমুখে মেনে নিতেন তা বোধ হয় কালের দাবীকে উপেক্ষা করতে না পেরেই।হয়তো তার মনে পড়ে যেতো, এক সময় বঙ্কিমচন্দ্রকেও তার মতো সময় পার করতে হয়েছিলো।

এরপর সাহিত্যের ধারায় অনেক পানি গড়িয়েছে।আখতারুজ্জামান ইলিয়াসেরা ভাষার নান্দনিক উপস্থাপনের চেয়ে জীবনের রুঢ় বাস্তবতার আক্ষরিক উপস্থাপনকে বেশী প্রয়োজনীয় বলে অনুভব করেছেন এবং কথ্যভাষাকে সাহিত্যে জায়গা করে দিয়েছেন।চলচিত্র, নাটক ইত্যাদি মাধ্যমেও এর ব্যাপক ব্যবহার ইদানীং লক্ষ্য করা যায়।এক্ষেত্রে শিল্পের নান্দনিক উপস্থাপনার বিতর্কে যেতে চাচ্ছিনা কারন এ বিতর্ক চিরন্তন আবহমান এবং অমীমাংসিত।একদল একদিকে তো আর এক দল আরেক দিকে।

এখন ইন্টারনেটের যুগ, শিল্প সাহিত্য আর কাগজের ছাপা অক্ষরের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই।এর ব্যপ্তি ছড়িয়েছে এখন ইলেক্ট্রনিক ভিজুয়্যাল ইলিউশনে।ব্লগ সাহিত্য বোধ হয় এর একটি রুপ।অনেকের লেখা পড়েছি এই ব্লগে।অনেকের লেখাই ভীষণ ভলো লাগে।কেউ সাহিত্যের ভাষা ব্যবহার করেন, কেউ পুরামাত্রায় কথ্যভাষা আবার কেউ দুটোর সংমিশ্রণে লেখেন।এর মাঝে যোগ হয়েছে আঞ্চলিক ভাষা/শব্দ/টোন।সবগুলি ফর্মেরই একেকরকম গ্রহণযোগ্যতা আছে (অন্তত আমার কাছে)।আমার মনে আছে, আমি প্রথম যেদিন এই ব্লগে পড়লাম ‘মুঞ্চায়’ অথবা ‘কস্ কি মুমিন’, আমার হাসতে হাসতে বিছানা থেকে পড়ে যাবার উপক্রম, চোখের পানি এবং পেটে ব্যথার কথা না হয় উহ্যই থাক।সাহিত্যের বিজ্ঞ জনেরা হয়তো সাহিত্যে এসবের ব্যবহার এর সাহিত্যিক মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন, কিন্তু আমার মনে হয় গ্রহণযোগ্যতা যদি সাহিত্যের মূল্যমানের অনেকগুলো মাপকাঠির একটি হয় (সবসময় নয়, কমল কুমারের একটি বই সর্বসাকুল্যে ২৫ কপি বিক্রি হয়েছিলো, কিন্তু তাতে তার সাহিত্য মান একটুও কমেনি) এবং সবাই যদি তা গ্রহণ করে তবে সাহিত্যেরতো লাভ বই ক্ষতি দেখিনা।কেউ যখন কোন একটি পোষ্টের প্রতিউত্তরে বলে ‘লন্ডন যাইবার মুঞ্চায়’, আমি অবাক হয়ে দেখি কী অদ্ভুতভাবে সরলতার প্রস্ফুটন ঘটে ভাষার মাধ্যমে। মূহুর্তের জন্য ভুলে যাই ভিডগেন্ষ্টাইনের ভাষার দূর্বলতার যুক্তি গুলি (যদিও আমি তার সংগে একমত)।

সাহিত্যের বিজ্ঞজনদেরও বোধ হয় কালের দাবী মানার সময় হয়ে গিয়েছে।যেভাবে বঙ্কিম বা রবীন্দ্রনাথেরা মেনে এসেছেন।নতুন শিশুদের জায়গা দিতে হবেতো।জয় হোক আকাশ ব্লগারদের, ব্লগ সাহিত্যের।শুধু রবীন্দ্রনাথ এই ব্লগের সদস্য হলে কী করতেন দেখতে বড় ‘মুঞ্চায়’।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৩৯
১৮টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×