পূর্ব প্রকাশের পর..... Click This Link সূচনা
Click This Link ১ম পর্ব
Click This Link ২য় পর্ব
Click This Link ৩য় পর্ব
Click This Link ৪র্থ পর্ব
সময়টা নিউ টেন।আমি কলেজের বন্ধে এসে আমার বাবা মাকে বুঝালাম কোচিং এ পড়ার গুরুত্ব।অনুমোদন মিলল।এটা আমাকে একরকম হাফ ছেড়ে বাচিয়ে দিল।বন্ধগুলিতে আমি যে হাপিয়ে উঠতাম তা ঠিক নয় তবে কলেজের বন্ধুদের মুখে ম্যাবস নামক শব্দটি আমার কানে এমনভাবে বিধছিল আমি পারছিলাম না স্বচক্ষে পরিভ্রমন থেকে নিজেকে বিরত করতে।তা যাই হোক কোচিং সেন্টারে দুরুদুরু বুকে কিছুটা ভয় আর কিছুটা কৌতুহল নিয়ে ঢুকলাম।ঢুকা মাত্র অতি পরিচিত কন্ঠে নিজের নাম ধরে ডাক শুনে সব ভয় কেটে গেল।হ্যা আমার বন্ধু আলম সেখানে।আমি দেরি না করে আলমের পাশে গিয়ে বসলাম।আমাদের কলেজের ছেলেপেলে কিছু তো ছিলই আর অন্যান্য ছেলেদের সাথে পরিচয় হতে বেশি সময় লাগল না আলমের সৌজন্যে।আলম আমাকে ফিরিস্তি দিতে লাগল ঐ মোটা ছেলেটা ফারাবী,ফর্সা সুন্দর ছেলেটা হাসনাইন,তার পাশের ছেলেটা তাজ,এই ছেলেটা আন্দালিব।জাকির আর মিথুন নামে আরো দুটো ছেলে এল আমার মত নতুন ।ওদের সাথে পরিচিত হলাম।
আরেকটা মজার ঘটনা ঘটল পরিচয়ে।আমদের সামনে একটা ন্যাড়া মাথার ছেলে বসে ছিল।আমি আর আলম পরিচিত হতে গেলাম।আমরা আমাদের নাম বলে ওর নাম জানতে চাইলাম।সে আমাদের অবাক করে দিয়ে বলে ওঠেছিল,ভারী মুশকিলে ফেলে দিলে।আর যায় কোথায়।সেই ছেলের নাম ছিল জাহিদ।তো আমরা ওর নাম মুশকিল জাহিদ সংক্ষেপে মুজা বলে ডাকা শুরু করলাম।জাহিদ পরে বুয়েটে এসে আমার ভালো বন্ধু হয়।কিন্তু আজ পর্যন্ত আমি সেদিনের মুশকিল ঘটনার কোন সদ ব্যাখ্যা ওর থেকে আদায় করতে পারি নি।
ম্যাবসে যে শুধু ছেলেরাই ছিল তা নয়।বরং মুল আকর্ষন ছিল গার্লস ক্যাডেটের মেয়েরা।সেই মেয়েগুলোর বাচ্চা বাচ্চা মুখ এখন ও আমার চোখে ভাসে।তা আমি বরাবরই মেয়েদের সাথে কথা বলতে একটু বিব্রত বোধ করতাম।কেমন যেন এক টা জড়তা কাজ করত(অবশ্যি আজও করে)তাই আমি মেয়েদের সাথে কথা বলার ধৃষ্টতা দেখাতাম না।তারপরও আলম একরকম জোর করেই আমাকে শাখরুনার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল।(অবশ্যি পরেও আমাকে শাখরুনার সাথে অনেকবার নতুন করে পরিচিত হতে হয়েছে।নামে সে আমাকে চিনত কিন্তু চেহারা মনে রাখতে পারত না এবং এখনও চিনবে না)।সে যাই হোক সেবার ঈদ উপলক্ষে কার্ড দেয়াদেয়ি হলো।শাখরুনাকে দেয়ার জন্য আলম সব মেয়েকেই ঈদের কার্ড দিল।বিপরীতক্রমে শাখরুনাও আলমকে দেয়ার জন্য আমাদএর সবাইকে কার্ড দিল।সেই কার্ড খুজলে আমার ড্রয়ারে আজও পাওয়া যাবে।
যাই হোক ম্যাবসে এভাবে খুনসুটি চলতে লাগল আলম শাখরুনার।তাদের সম্পর্ক আরো প্রগাঢ় হতে থাকে।আলমের কাছের মানুষ হিসাবে আমি এটা মর্মে মর্মে অনুভব করতে থাকি।আলম অদ্ভুত কিছু কাজ করত অবসর সময়ে।নামে নামে মিল বের করে ভালবাসার হার বের করত।পদ্ধতিটি এখন ভুলে গেছি।কিভাবে যেন নামের অক্ষর কাটাকাটি করে করতে হয়।সে নিজের বিভিন্ন নাম আর শাখরুনার বিভিন্ন নাম(বুড়ি বাবুএই জাতীয় নিক) মিলাত।আর কখনো ৮০% এর নিচে নামলে তার মুখ চোখ আধারে ঢেকে যেত।আমি তখন হিসাবে চুরি করে সিস্টেম বদলিয়ে ৮০ এর উপর করে দিতাম।
বিশ্বকাপ ক্রিকেট চলে এল।তা আলম নিয়ে এল রেডিও।এই রেডিও নিয়ে মজার ঘটনাও ঘটল।সেদিন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ।আলমের রেডিও এসেছে আমাদের ক্লাশরুমে।আলম কানে দিয়ে স্কোর শুনে আর তার দিকে ধেয়ে আসে অনেকগুলি জিজ্ঞাসু দৃষ্টি।আবার স্যার এলে সব চুপ হয়ে বসে।তা ইতিহাস সাইফুল (ড্রামা সোসাইটির স্যার এবং রাইসুল ইসলাম আসাদের সথে মিল থাকয় যার নাম ছিল লেকু) এলেন এবং কোন হিন্টস ছাড়া আলমকে বললেন কী স্কোর কত?আলম থতমত খেয়ে কিছু বলে ওঠার আগেই স্যার ওর রেডিও সিজ করলেন ।মজা হল স্যার নিজেও খেলার স্কোরে মজে গেলেন।তা খেলা শুনতে পারার খুশিতেই কিনা স্যার প্রেপ শেষে আলমকে রেডিও দিয়ে গেলেন।
আরেকদিনের কথা।সেদিন দুইটা খেলা হচ্ছে।তা তখন ডিশের সুবিধা না থাকায় একটা খেলাই দেখছি সবাই।আমরা অবশ্য একটু এগিয়ে ।আমরা বলতে আমি আর আলম -আমরা কিছুক্ষন পর পর রেডিওতে স্কোর শুনে আসি।বড় ভাইরা ঐ খেলার আলোচনা করতে আলম আড় আমি বলে দিলাম সর্বশেষ স্কোর।এইবার আর বাচা গেল না।রেডিও সিজ করে হাউস লিডার রায়হান ভাই আলমকে বলে দিলেন টার্ম শেষে হাউস মাস্টার অফিস থেকে নিয়ে যেতে।
আমাদের খেলা শুনা আর আলমের মিথ্যার ভংগিতে স্কোর বলে বাজিজেতা বন্ধ হয়ে গেল।ক্রিকেটের জোয়ারে আমরা নিজেরাও খেলতে লেগে গেলাম।পাকিস্তান সমর্থক বনাম এন্টি পাকিস্তান।তা আমদের ব্যাচের একজন ভালো ক্রিকেটার বাদ পড়ে গেল কোনটা না করাতে।এবং সেই ম্যাচ ফলাও করে আমরা পত্রিকা বের করলাম "রাতের আধারে"।তার সম্পাদক ছিল রেজওয়ান।আমি ছিলাম তার সহকারী ।তা ক্লাশে এইটা নিয়ে হৈ চৈ করে রেজওয়ান খেয়ে গেল এক্সট্রা ড্রিল।তাতেও আমরা থামিনি।তা এন্টি পাকদের অধিনায়ক হিসাবে আলম আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিল।সেটা দেয়ার সময় তার মুখের আকর্ন বিস্তৃত হাসি আজও আমার চোখে ভাসে কেবলই।
ক্লাশ টেনের সুন্দর দিন গুলি ক্রমেই শেষ হয়ে যায় সামনে চলে আসে এস এস সি পরীক্ষা।আর তার আগে হঠাৎ হ্যা হঠাৎ করেই আলমের সাথে আমার ঝগড়া হয়।কার দোষ ছিল মনে নেই কিন্তু সেই ঝগড়ার জের চলে এস এস সি পরীক্ষা পর্যন্ত।সেই কৈশোরের চাপল্যে যদি তোমার মনে বেশি আঘাত হেনে থাকি আলম তুমি ভুলে যেও তা চিরদিনের জন্য।
চলবে......
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


