somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্যাডেট নম্বর ১৮৬২ -অসময়ে হারিয়ে যাওয়া অতি আপনজন ( পর্ব ৭)

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্ব প্রকাশের পর..
Click This Link ষষ্ঠ পর্বের লিংক
Click This Link পঞ্চম পর্বের লিংক (এখানে আগের পর্ব গুলোর লিনক পাওয়া যাবে)
ক্যাডেট কলেজ থেকে বের হবার পর আলাদা হয়নি আমরা একেবারে। বের হয়ে ঢুকে পড়লাম বুয়েট কোচিং এ।কেউ গেল মেডিকেল কোচিং কেউ আই বি এ আবার কেউ বা আর্মি।তাতে কী?সবার কোচিং সেন্টারই ছিলো ফার্মগেট।ফল দাড়াতো এই আমরা কোচিং করতাম এগারোটা পর্যন্ত তারপর সারাদিন আড্ডা মারতাম ডিব্বা নামক এক জায়গায়।সেটা অবশ্য কোচিং করতে আসা সকল ছেলেরাই চিনতো।সেই দিন গুলো কেটে যেত বৈচিত্র‌হীন অথচ আনন্দময়।প্রতিদিন শেষেই মনে হত যেন এমনভাবে দিন কেটে যেত অনেকদিন -অসীম সময়। যতই সময় এগুতে থাকে এ আনন্দময় সময়গুলোকে আমার কাছে দুঃসহ মনে হতে থাকে।এমন সোনা ঝরা দিন গুলো আর ফিরে আসবে না ভেবে বিষন্নতা অনুভব করি।তারপর একদিন না একদিন নয় একে একে আমরা চলে যেতে থাকি নিজেদের প্রার্থিত প্রতিষ্ঠান গুলোতে।সরে যেতে থাকি আমরা একে অপরের থেকে।ক্যাডেট কলেজের মায়া থেকে যায় আমাদের আত্মার বন্ধন হয়ে কিন্তু বাহ্যিক ভাবে আমরা সরে যেতে থাকি ক্রমেই একে অপরের দূরে।

একদিনের ঘটনা ।সময়টা ২০০২ সালের ডিসেম্বর।আমাদের বিচ্ছেদ পর্ব তখন ছুই ছুই।এমন সময় আমরা ঘটা করে গেলাম বাংলাদেশ আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলা দেখতে।স্টেডিয়ামে।তো যাওয়ার আগে আমার এক স্কাউট বড় ভাইকে সিট ম্যানেজ করতে বলেছিলাম।কিন্তু ছেলেপেলে থিক আশ্বস্ত হতে পারছিল না।তারাও টিকিট কিনে ফেলল।তো যাওয়ার পর আমার ভাই টিকিট দিলে আমরা পরে গেলাম বিপদে।ডাবল টিকেট দিয়ে এখন কী করি?আমার আর আলমের কাধে দায়িত্ব পড়ল সে অতিরিক্ত টিকিটগুলো বেচে দিয়ে কিছু খাবার দাবার কিনে আনতে।তো আমি আড় আলম নামলাম।কিন্তু হায় কাজটা যত সহজ ভেবেছি মোটেই ততটা নয়।কেননা নিচে ব্ল্যাকারের ভিড়ে দাড়ানো যাচ্ছে না।আর মাঝে মাঝে পুলিশ এসে ব্ল্যাকার দমনে লাঠি চালাচ্ছে।আমরা প্রমাদ গুনলাম। খাইছে। পুলিশের একটা বাড়ি খায়া গেলে আর মুখ দেখানো যাবে না।যাহোক আলমের অভিনয় ক্ষমতা কাজে লেগে গেল।সে কাচুমাচু মুখে এক পুলিশকে বুঝালো আমাদের অনেক ফ্রেন্ড আসার কথা ছিলো।তারা আসেনি।টিকিট গুলো একট্রা।এগুলোর সদগতি যদি তিনি করে দেন। আলমের কাচুমাচু মুখ দেখে পুলিশ সাহেব নিজেই কিছু কম দামে আমাদের থেকে টিকিট গুলি নিয়ে আমাদের বিরাট উপকার করেছেন এমন ভাব নিলেন।তিনি যে পরে সেটা বেশি দামে ব্ল্যাকারকে কিনতে বাধ্য করার বিনিময়ে ব্ল্যাকিং এর অনুমতি দিয়েছিলেন তা বোধ করি সবাই না বললেও বুঝবেন।

আমরা সবাই আলাদা হবার আগে সুযোগ পেলাম একত্রিত হওয়ার।সেটা আমরা এক্স ক্যাডেট হওয়ার পর প্রথম রিইউনিয়নে।সেই কটা দিন ছিলো স্বপ্নের চেয়েও সুন্দর।সবাই আজ ফিরে এসেছি একত্রে এক্স ক্যাডেট হিসাবে।শুধু সুন্দর ছিলো না প্রথম রাতটা।সেদিন আমাদের এক বন্ধু কনসার্টে নাচার জন্যই হোক কিংবা নেশার মাত্রাধিক্যেই হোক বমি করে ভাসালো।দুর্ভাগ্যক্রমে সেটা আমার আলমের জায়গাটাকেই পুরো সয়লাব করে দিয়েছে।তো আমি আর আলম সারা রাত এখানে ওখানে গার্ডদের সাথে গল্প করে পার করলাম।পরে সকালে রুমে এলাম ছেলে পেলে উঠলে কারো জায়গা দখল করব বলে।আমাদের আই ইউ টির বন্ধুদের সাথে এক পাকিস্তানিও ছিলো।এমনিতেই পাকিস্তান দেশটাকে আমি কখনো সহজ ভাবে নিতে পারি না তার উপর সেই ব্যাটা তার বিরাট ভূড়ি বুলিয়ে সুখ নিদ্রা ত্যাগ করতে করতে আমাদের প্রতি বিরক্ত প্রকাশ করে বলল ,আন ফরগোটেবল নাইট।এই শালারে আনছে কে?........খোলা রুমে একদম বাংলায় গালিগালাজ শুরু করে দিলো আলম।তার সাথে আমিও যোগ দিলাম ভুক্তভোগী বলে কথা।পাকিস্তানের জাতি গোষ্ঠী উদ্ধার করে ছেড়ে দিলাম। পরবর্তীতে আই ইউ টির ওরা ব্যাপারটা মিটিয়ে দেয় আমাদের ভোগান্তির কাহিনী জানার পর।ঐ ব্যাটা পাকিস্তানি সরি বলছিল।কিন্তু আমি জানি সেই সরি অন্তর থেকে গ্রহন করিনি আমি আলম কিংবা ভুক্তভোগীরা কেউই।

এরপর সময় খুব দ্রুত কেটে গেল।আমি বুয়েটে ভর্তি হলাম ।আলম গেল নর্থ সাউথে।সে ওখানে ক্লাশ করলেও তার মন পড়ে থাকতো বুয়েটে। আমাদের সাথে আড্ডা দিতে চলে আসতো সে বুয়েটে।শুনতাম তার গল্প ।তার নর্থ সাউথ অভিজ্ঞতা।শুনতাম তার ভালো লাগার মানুষটির কথা।সে সময় তার ভালো লাগার মানুষটির সাথে তার চড়াই উৎরাই সম্পর্ক ছিলো।কখনো সে রেগেই যেত কিন্তু আবার সে পরক্ষনেই হয়ে যেত নমনীয়।আলমের এ এক অদ্ভুত বৈশিষ্ট ছিলো।শুধু যে ও ই আসতো আমাদের এখানে তা না।আমরা ও মাঝে মাঝে যেতাম তার বাসায়।আর হ্যা ও খুব ভালো রাধতে পারতো।মাঝে মাঝেই ওর বাসায় গিয়ে খেয়ে আসতাম আমরা।এর মধ্যে মনে পড়ে বিশেষভাবে রমযানের সময় ইফতার আর ডিনারের ব্যবস্থা করেছিল ও।উফফ সেই কথা মনে করলেও জিভে জল চলে আসে।

সময় দ্রুত চলে যায়।আমাদের মধ্যকার দেখা সাক্ষাৎ অনেক কমে যায়।কিন্তু তার মাঝেও হারিয়ে যায় না মনের টান।মোবাইল চলে আসার পর আমরা একে অপরের সাথেই যেন থাকি সব সময়।আর সে সময় ই খবর পাই আলম শাখরুনার বিয়ে সমাগত।তাদের মধ্যে কী ভাবে কী হলো তা জানার আগ্রহ আমার কোনদিন ই হয়নি কেননা আমি যতবারই আলমের কাছে গিয়েছি তার সাথে শাখরুনার ভালবাসার গভীরতার নতুন নতুন নজির আমাকে মুগ্ধ করেছে।আসলেই ওদের মধ্যে বড়ই টান ছিলো।অদ্ভুত ভাবে শাখরুনার সাথে কথা বলত আলম।আমার মনে আছে।একাধিকবার আমার সামনে বসেই ওরা ফোনে কথা বলেছে। অদ্ভুত লেগেছে আমার কাছে ওদের কথোপকথন।আলম কে দেখতাম সবসময়ই আশ্বস্ত করত যে সে ঠিক আছে।এই জাতীয় কথা।আমি দেখতাম তখন আলমের চোখ তার মুখ।সেখানে যেন আনন্দের এক ঝিলিক লেগে থাকত সবসময়।

আলম চাকরিতে ঢুকল এক সময়।তার কাছে তার চাকরির গল্প শুনতে শুনতে আমার গত রিইউনিয়নে যাওয়া।আর সবাই আগে চলে গিয়ে জায়গা দখল করে আমরা দুজন আলমের জন্য রয়ে যাই আমি আড় রিফাত।বাসে বসে অনেক কথাই হলো সেদিন।আলম বলল তার বিয়ে ঠিক হওয়ার কথা।বলল যে বিয়ে করে সে সাত আট বছরের জন্য যাবে ইউ কে তে আমাদের সাথে অনেকদিনই দেখা হবে না।সেদিন দুঃখ পেয়েছিলাম ওর সাথে সাত বছর দেখা হবে না ভেবে যা আজ আমার কাছে সবচেয়ে বড় পরিহাস মনে হয়।
(চলবে)

(আর অল্পই বাকি আছে এই ধারাবাহিক গল্পের।সেটা ছোট একটা অংশ।আর লিখতে পারছি না ।হাত ধরে আসছে।অপ্ল কথায় আরেককটা পর্বে শেষ হবে।)
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×