হঠাৎ করেই বেকার হয়ে গেলাম। কিন্তু বলতে পারছি না নিজেকে বেকার।কেননা নিজেকে বেকার দাবি করলেই আসল বেকাররা আমার উপর হামলে পড়বে। কেননা আমি শখের বেকার।অর্থাৎ কিনা চাকরিটা শখ করে ছেড়েছি আরেকটা চাকরিও হলো।দিন বদলের সূচনা হলো মনে হতেই কেমন একটা বিপ্লব এসে উপস্থিত হয়।যা হোক সত্যি কথা হলো আমি বেকার হয়েছি কেবল মাত্র তের দিনের জন্য। অপয়া তের সংখ্যা টা আমার কাছে বড়ই পয়া মনে হচ্ছিল আশু আরামের কথা ভেবে। সেই ভাবনায় কীভাবে ব্যাঘাত ঘটল সেই গল্পই বলি।
চাকরিটা ছাড়ার পর একরকম আরাম করে নিজের শিকড় গেড়ে জাকিয়ে বসলাম বাসায়।যখন খুশি ঘুম থেকে উঠি যা খুশি তাই করি সারাদিন ।পাশের বাড়ির বাচ্চা ছেলেটাকে দেখি আমাকে দেখলেই দাত বের করে চেচিয়ে উঠে।ওর সাথে ফাজলেমি করি।ছেলেটাকে দেখে বড় মায়া হয়।খেলার সঙ্গী নেই ।সারাদিন জানালার গ্রিল ধরে বসে থাকে যেন সেই রবিবাবুর অমলের মত। অমলকে আসলেই মনে করিয়ে দেয় ছেলেটি। তার মত ঢাকা শহরের শত শত নিঃসঙ্গ অমলদের জন্য একটু সমবেদনা জানাই মনে মনে।যা হোক আমার কম্পিউটার আনতে একদিন সাহস করে চলে গেলাম বুয়েটে।হতাশ হওয়ার মত ব্যাপার।কোন বন্ধুর টিকিটাও খুজে পেলাম না।চাকরি জীবিরা অফিস করে আর ছাত্ররা বন্ধে বাড়ি চলে গেছে।যাহোক রেজাল্ট তোলার কাজে নেমে গেলাম আমি।
শুরুতেই বাগড়া।আইডি নাই।ওটা আনতে বাসায় যেতে হবে।কম্পিউটার রাখতে এমনি বাসায় যেতাম।তা তাড়াতাড়ি করে কম্পিউটার নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম বাসায় যেতে।রিকশাওয়ালাদের ওপর মেজাজ খারাপ হয়ে গেল।ব্যাটারা হাতে কম্পিউটার দেখে ভাড়া দ্বিগুন করে দিল।আমি দাতের নিচে একরকম শিরশির অনুভব করলাম।ইচ্ছে করছিল কামড়ে দি ব্যাটাকে- ব্যাটা বদমাশ কোথাকার।কুকুর হলে বোধ করি সহজেই কামড়ে দিতে পারতাম কিন্তু বাঙালি বলে পারলাম না।আমরা যেন কুকুরের চেয়েও নিরীহ তার চেয়েও হীন।অনেক তোষামোদ করে একজনকে কিছু কমে রাজি করানো গেল। দুহাতে প্রানপণে কম্পিউটার ধরে কড়া রোদে ঘর্মাক্ত
হতে হতে গেলাম।বাসায় এসে গোসল করে আইডি নিয়ে ছুটলাম বুয়েটের দিকে।তাড়তাড়ি যেতে হবে।
আমি যেতে চাইলেই তো আর হবে না- ট্র্যাফিক জ্যাম বলে একটা কথা আছে।আর তাতে বসে রইলাম ।সময় যায় যায় যায় কিন্তু জ্যাম আর ছুটে না।এদিকে আমার সময় নেই।গুলিস্তান নেমে অনেক কষ্টে রিকশা জোগাড় করে ছুটলাম।আমার এক বন্ধু যে কিনা বুয়েটের টিচার তার কাছ থেকে কাগজ সাইন করে ছুটলাম।কিন্তু বিধি বাম।অফিস বন্ধ করে সবাই ছুটছে বাসার পানে।আমার কথা তারা শুনবে কেন?অনেক কাকুতি মিনতি করে পরদিন দুপুরের পরিবর্তে সকালে কাজ শেষের আশ্বাস নিয়ে এলাম।
আবার ছুটলাম।এবার ইফতারির দাওয়াতে।আগের শিক্ষা কাজে লাগালাম। রিকশা আর বাস সব বর্জন কজরে হেটে রওয়ানা হলাম কাওরান বাজারের দিকে।রাস্তায় হাটতে হাটতে মনে এক ধরণের প্রশান্তি ছুয়ে গেল।কর্পোরেট জগতের মোটা কাচে ঘেরা চরম কৃত্রিম জগতে যে হাপিয়ে উঠেছি তার থেকে মুক্তি মিলেছে।আর তার মুক্তিপণ টুকু হিসাবে সারাদিনের দুর্ভোগ গুলিকে সামান্যই মনে হতে থাকে।
এ্যাই মিয়া দেইখ্যা পথ চলতে পারেন না।-রিকশাওয়ালার তীব্র শ্লেষাত্মক চিৎকারে বাস্তবে ফিরে আসি।রিকশা ওয়ালার দিকে কাচুমাচু দৃষ্টি হেনে একটু চেপে পথ চলতে থাকি ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


