somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি এক আদিম মানুষ : আধুনিকতা পেরিয়ে আজ লেজ গজাবার সময় এসেছে

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১০:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি গুহাবাসী এক আদিম মানুষ। জন্মের সময় আমার পরনে কিছু ছিল না। এখনও সবাই ওভাবেই জন্মায়। কোন পরিবর্তন হয়নি শাশ্বত এ নীতির। কিন্তু বদলে গেছে শুধু মানুষের যৌবণ কালের সাজ সজ্জা। খোলা কাপড়ে থাকলেও শিশুকে সুন্দর দেখায়। সে জন্য স্রষ্টা হয়ত ওকে লেজ দেয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি। কিন্তু এরা যে যৌবন কালে এমন আচরণ করবে এটা বুঝেও কেন যৌবণের আগেই লেজ গজানোর ব্যবস্থা করেনি- সেটাই বুঝে উঠতে পারিনা। আদিম কালে জন্মে আজো বেঁচে আছি। কি দেখলাম আর কি দেখছি ! আরো যে কি দেখব জানি না।
যখন আদিম ছিলাম, তখন আমরা সবাই উলঙ্গ থাকতাম। আর সে সময়ে সুতো বা কাপড়ের চিন্তাই আমরা করতে পারতাম না। সবাই সবার সবকিছু দেখতে পেতাম। কিছু মনে করতাম না। একদম লজ্জাও পেতাম না। নারী পুরুষ নির্বিশেষে গুহায় একসাথে শুয়ে থাকতাম। তেমন অঘটন ঘটত না। মনের মধ্যে বেশি কাজ করত কিভাবে একটা পশু ধরে খেতে পারব। কিন্তু এভাবে হাজার খানেক বছর কেটে যাওয়ার পর স্ত্রীর প্রতি একটা বিশেষ টান লক্ষ্য করলাম। সাথে সাথে দেহের বিশেষ অঙ্গের অস্বাভাবিক আচরণ। শুধু আমার নয়, অনেকের মধ্যেই এমন ঘটতে দেখা গেল। তখন বুদ্ধি খাটিয়ে দেখলাম গাছের পাতা দিয়ে ওই অঙ্গটা ঢেকে রাখলে আর ওমন লাগে না। পাতায় ঢাকা অঙ্গটা যখন তখন অস্বাভাবিক আচরণ করত না। তবে যখন ইচ্ছা হয় তখন পাতা খুললেই স্ত্রী-পুরুষ পরষ্পর ওই স্বাদ পেতাম। কিন্তু গা থেকে প্রায়ই পাতা খুলে পড়ে যেত। তখন ইচ্ছে হতো পশু হতে। কারণ পশুদের লেজ আছে। ওদের লজ্জাস্থান ঢাকার জন্য পাতা পরতে হতো না। লেজ দিয়ে ওই অঙ্গ ওরা ঢেকে রাখতে পারে। তখন মনে হতো পশুরা আমাদের চেয়ে উত্তম গঠনের।
হাজার খানেক বছর কেটে গেলো। পশুর চামড়া চামড়া দিয়ে বিশেষ অঙ্গটা ঢাকার বুদ্ধি বের হলো। সেই থেকে পশুর চামড়া পরা। আস্তে আস্তে আরো কয়েক হাজার বছর পার করলাম। আধুনিক যুগে পা রাখলাম। সুন্দর ! আঃ কত সুন্দর। সুন্দর সুন্দর পোষাক পড়লে আমাদের কতইনা সুন্দর দেখায়। যারা দেখতে খুব একটা সুন্দর নয়। সুন্দর পোষাক পড়লে তাদেরও সুন্দর দেখায়। সবাই বলে এ হলো আধুনিক কাল। মানুষ আর আদিম কালে নেই। ওরা নিজেকে সুন্দর করে সাজাতে শিখেছে। জীবনকে উপভোগ করা নানা কৌশল মানুষের হাতে ধরা দিয়েছে।
কিন্তু হায় ! এ কোন কাল। আধুনিক কাল পাড়ি দিলাম কিনা বুঝতে পারছি না। এখন কেন জানি একেবারে অন্য রকম। মানুষের পোষাক ছোট হতে হতে নাই নাই ভাব। এটা আবার কোন কালের দিকে যাত্রা শুরু করলাম বুঝে উঠতে পারছি না। ওদের প্রশ্ন করলে বলে, এটা আধুনিক যুগ। সেকেলের ধান্দা বাদ দেন। ভাবছি- এটা যদি আধুনিক যুগ হয় তবে বছর বিশেক আগে যখন সবাই সুন্দর পোষাক পরতো ওটা কি যুগ ছিল ! সেই যুগের নাম তো জানা হলো না। তবে আরো হাজার হাজার বছর পাড়ি দেবার পর আমার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এ গল্প কিভাবে শুনাব। আর এই তো ক’দিন আগে- টেলিভিশনের নাটক আর সিনেমাতে হঠাৎ করে যখন দেখেছি কোন নায়িকা ওড়নাটা লম্বা করে বুকের দু’পাশ দিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছে। তখনই তো মনে হতো এ নায়িকাটা বোধ করি ভালো স্বভাবের নয়। তার ক’দিন পরেই দেখছি ওড়নাই নেই। কেউ কেউ বলছে ওড়না থাকা ব্যাক ডেটেড। এখন আবার দেখি টিভি খুললেই ওড়না তো দূরের কথা- বুকের পাতলা কাপড়টাও যদি খুলে রাখতে পারতো তবে বুঝি ওরা নিঃশ্বাস নিতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করতো। প্রশ্ন করি, এটা কি ? ওদের জবাব হলো। এটা শিল্প। যাক বাবা- একটা জিনিস অন্ততঃ আজ শিখতে পারলাম। শিল্প কাহাকে বলে ? আজ থেকে পরীক্ষার খাতায় শিল্পের সংজ্ঞা মজা করে লিখতে পারবো।
অনেকদিন থেকে আর একটা বিষয় বুঝতে পারছিলাম না। ইন্ডিয়ান নায়িকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকারা গোটা গা খুলে আদিম গুহাবাসী মানুষের মতো বুকের দুই হিমালয়ে এক চিমটি ছেঁড়া নেকড়া আর যৌনাঙ্গের উপর ইঞ্চি দুয়েক সুতা। প্রশ্ন করি- ওটা কি ? ওটাও কি শিল্প! ওটাও কি আধুনিকতা ! নেংটা আর উলঙ্গ হলেই যদি আধুনিক হওয়া যায়, তবে তো আদিম মানুষেরাও আধুনিক ছিল। ওরাও তো উলঙ্গ থাকতো। তাহলে হাজার হাজার বছর আগেই তো আমি আধুনিক ছিলাম। আমি তো তখনই উলঙ্গ থাকতাম। তখন উলঙ্গ থেকেও লজ্জা পেতাম না। আজও দেখছি আধুনিকতা ও সংস্কৃতির নামে যৌবন প্রদর্শনে লজ্জা পায়না। তবে কি আবার আদিম যুগের গন্তেব্য আমাদের যাত্রা শুরু করেছি ?
তোমরা কি সবাই আমাকেও ডাকছো- এসো আধুনিক যুগে যাই। না- সেকালে যেতে আমি পারবো না। তোমরা পারলে নেংটা হয়ে ওই আদিম যুগেই ফিরে যাও। আমি কিন্তু সুন্দর কাপড় পরে আধুনিক হয়ে বাঁচতে চাই। আর তোমরা যদি কাপড় পরতে বাধা দাও তবে স্রষ্টা যেন আমাকে পশুর মতো একটা লেজ দান করেন। ওই লেজটা দিয়ে আমি যেন আমার গোপন অঙ্গটাকে ঢাকতে পারি।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১২:০৮
১৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×