somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... মুভি রিভিউ: অবৈধ অভিবাসীদের মর্মবেদনা
ক্রসিং ওভার বানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকান চিত্রনাট্য লেখক, প্রযোজক, পরিচালক ওয়েন ক্রমার। তিনি যেন আবিষ্কার করছেন আমেরিকান হয়ে উঠার স্বপ্ন এবং বাস্তব অবস্থার মধ্যে ফারাকগুলো কি কি। ২০০৯ সালে মুক্তি পেলেও, মুভিটি নির্মিত হয় আরো বছর দুয়েক আগে।এটা একই নামে ১৯৯৫ সালে ক্রমারের বানানো স্বল্পদৈর্ঘ্য মুভির পুনর্নির্মাণ।

এক মুভির মধ্যে অনেকগুলো কাহিনী। মুভির চরিত্রগুলো কাহিনীর শাখা-প্রশাখা দ্বারা যুক্ত। একই ধরণের গল্প পাওয়া যায় অস্কার জয়ী ক্রাশ (২০০৪) মুভিতেও। ক্রসিং ওভারে আছে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেয়া ও জাল কাগজপত্র নিয়ে বসবাসরত মানুষ, আছে নির্বাসিত এবং গ্রীণকার্ড প্রসেসিং হচ্ছে এমন মানুষ। ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের ভিন্নতা এই মুভির একটি উপলক্ষ্য। ফলে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষের বৈচিত্র্য আচারের দেখা মেলে এই মুভিতে। মুভিটিতে দেখানো অভিবাসীদের মধ্যে আছে মেক্সিকো, স্পেন,অষ্ট্রেলিয়া, ইরান, চীন, যুক্তরাজ্য এবং বাংলাদেশের মানুষ।

কাহিনীতে নানা চরিত্রগুলো জট পাকিয়ে থাকলেও একটি কাহিনী আরেকটিকে প্রভাবিত করে নাই। একমাত্র প্রভাবক হলো আমেরিকান জীবন-যাপনের (গ্রীনকার্ড তার প্রতীক) প্রতি দুনিয়ার তাবৎ মানুষের আকাঙ্খা। সেই আকাঙ্খাই এই মুভির মূল চরিত্র। সে আকাঙ্খা নানা সংস্কৃতিতে নানান আচরণ করছে। এবার মুভির চরিত্রগুলোর সাথে পরিচিত হওয়া যাক।এই পরিচয়ই এই মুভির মর্ম খোলাসা করবে।

বেআইনীভাবে লুকিয়ে কাজ করতে গিয়ে আটক হয় মেক্সিকান নারী মারিয়া সানচেজ। শাস্তি-হয় জেল নয় স্বদেশে ফেরত।আটক করে ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টম এনফোর্সমেন্ট(আইসিই)’র স্পেশাল এজেন্ট ম্যাক্স ব্রগান (হ্যারিসন ফোর্ড)। মারিয়া একটা ঠিকানা দিয়ে অনুরোধ করে তার ছেলেকে যেন মেক্সিকোয় নানা-নানী’র কাছে দিয়ে আসে। ম্যাক্স প্রথমে অস্বীকৃতি জানালেও পরে মারিয়ার ছেলেকে মেক্সিকোয় পৌছে দেয়। কিন্তু মারিয়ার খোজ মেলে না। এক সময় মারিয়ার লাশ পাওয়া যায় সীমান্তের কাছাকাছি।

তাসলিমা জাহাঙ্গীর (সামার বিশিল) তিন বছর বয়সে বাবা-মা’র সাথে আমেরিকায় আসে।এখন সে কিশোরী। স্কুলে ‘৯/১১’র বিমান ছিনকারীদের কেন বুঝা উচিত’ এই নিয়ে একটা পেপার পড়ে। এর সুত্র ধরে এফবিআই এজেন্টরা তার বাসায় হানা দেয়। জব্দ করে ডায়েরী এবং ‘আত্মহত্যার নৈতিকতা’ নামে স্কুল এসাইনমেন্ট। ইন্টারনেট ঘেটে তারা আরো দেখতে পায় তাসলিমা ইসলামিক ওয়েবসাইটের সদস্য ।এইসব দেখে মনে হয়,সে সম্ভাব্য আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের একজন। তাসলিমা’র বাবা নাগরিকত্ব পাবার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এই ঘটনা পুরো পরিবারকে ঝুকির মধ্যে ফেলে। সহানুভূতিশীল ইমিগ্রেশন ডিফেন্স এটোর্নি ডেনিস ফ্রাঙ্কেল (আশলে জুড) বলে, পুরো পরিবারকে আমেরিকা ছেড়ে যেতে হবে না।তাসলিমা এখানে জম্মায় নাই, তাকে বাংলাদেশে ফিরে যেতে হবে। তার ছোট ভাইবোন এদেশের নাগরিক,বাবা-মা’র যেকোন একজন তাদের অভিভাবক হিসেবে থাকতে পারবে। বাবা ও দুই ভাই-বোনকে আমেরিকায় রেখে তাসলিমা তার মায়ের সাথে বাংলাদেশে ফিরে যায়।

অবৈধ অভিবাসী আস্ট্রেলিয়ান তরুনী ক্ল্যারা সেপার্ড। অভিনেত্রী হবার আশায় আমেরিকা এসেছে। ইমিগ্রেশন অফিসার কোল ফ্রাঙ্কেল প্রস্তাব দেয় দুই মাস তার সাথে সেক্স করলে গ্রীনকার্ডের ব্যবস্থা করে দেবে।দুই মাস পর জানায় ডাকে গ্রীনকার্ড পৌছে যাবে। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ টের পেলে ক্ল্যারাকে আস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যেতে হয়। কোল ফ্রাঙ্কেল গ্রেফতার হয়। যেদিন ক্ল্যারা অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছে একই দিন তাসলিমা তার মায়ের সাথে বাংলাদেশে ফিরছে। অন্যদিকে কোলের স্ত্রী যিনি তাসলিমার কেস নিয়ে কাজ করছিলেন,ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকা নাইজেরিয়ান বালিকাকে দত্তক নেন।

স্পেশাল এজেন্ট ম্যাক্স ব্রগানের ইরানী সহকর্মী হামিদ বাহাহেরী। তার বোন জাভিয়ার পেদ্রোসা নামের স্পেনিজ বিবাহিত ব্যক্তির সাথে যৌন সম্পর্কে জড়ায়। হামিদের ছোট ভাই ব্যভিচারিনী বোনকে খুন করে। হামিদ প্রমান নষ্ট করতে সাহায্য করে। যাকে বলা হয় অনার কিলিং, যদিও ‘ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিল’র অনুরোধে এই খুনকে সরাসরি অনার কিলিং বলা হয় নাই। এখানে পুলিশ চরিত্রে কাজ করেছিলেন বিখ্যাত অভিনেতা ‘শন পেন’।পরে শন পেন’র অভিনীত দৃশ্যগুলো বাদ দেয়া হয়। ব্রগান খুনের বিষয়টি বুঝতে পারেন। হামিদের ভাই গ্রেফতার হয়।আবার খুন হওয়া জাভিয়ার পেদ্রোসা জাল কাগজপত্র বানানোর সাথে জড়িত ছিলো। যার সেবা গ্রহিতার একজন ছিলো আস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যাওয়া ক্ল্যারা।

এছাড়া আরো আছে দক্ষিন কোরিয়ান একটি পরিবার। সেই পরিবারের ছেলে কিম ভবিষ্যত নিয়ে হতাশাগ্রস্থ । এক সময় ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়ে। এক ডাকাতিতে হামিদের হাতে ধরা পড়লেও তাকে ছেড়ে দেয়। কিম স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে।আরো আছে ইহুদী যুবক গবীন, ধর্মীয় স্কুলে পড়াতে চায়।সমস্যা থাকা সত্ত্বেও এক রাব্বির বদান্যতায় গ্রীন কার্ড অর্জন করে। এই যুবক একসময় ক্ল্যারার প্রেমিক ছিলো।গ্রীনকার্ড পাওয়ার পর নতুন একজন জুটিয়ে নেয়।

তাসলিমা জাহাঙ্গীরের মা রোকেয়া জাহাঙ্গীরের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশী অভিনেত্রী নায়লা আজাদ নূপুর। কথা সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আজাদ’র কন্যা নূপুর সত্তর ও আশির দশকে ঢাকার মঞ্চ, টিভি এবং চলচ্চিত্রের আলোচিত অভিনেত্রী। তিনি নাট্যকার সেলিম আল দীন রচিত নাটক অবলম্বনে আবু সাইয়িদ পরিচালিত‘কীত্তনখোলা’ (২০০০) মুভিতে অভিনয় করেছিলেন। আমেরিকাতে তিনি আরো আরেকটি মুভি ও টেলিভিশন সিরিয়ালে অভিনয় করেছেন।

ব্রগান চরিত্রে হ্যারিসন ফোর্ড দারুণ অভিনয় করেছেন। তাকে ছাড়িয়ে গেছেন ডেনিস চরিত্রে আশলে জুড। সবাই টপকে গেছে তাসলিমা জাহাঙ্গীর চরিত্রে সামার বিশিল। মুভিটিতে অনেকগুলো কাহিনী থাকলেও দর্শকের ভিন্ন ভিন্ন কাহিনীগুলো বুঝতে সমস্যা হয় না। দৃশ্যান্তরও চমৎকার। বিশেষ করে জড়ানো প্যাচানো ফ্লাইওভার প্রতীক হিসেবে দারুন লাগে। আমেরিকান রাষ্ট্র যেন এইভাবে নানান পথের পথিক নিয়ে গঠিত হয়েছে।চিত্রগ্রহনে ছিলেন জেমস ওয়াইটাকার।তার লং শটগুলো অনবদ্য। সংগীত পরিচালনায় ছিলেন মার্ক ইসাম।ক্রমারের সাথে এই মুভির প্রযোজনায় আরো ছিলেন ফ্রাঙ্ক মার্শাল।

মুভিটিতে অনেকগুলো ঘটনা। কোনটি সাধারণ আবার কোনটি নাটকীয়। দেখা যাচ্ছে তাসলিমা জাহাঙ্গীরের সাধারণ কৌতুহলের ছোট্ট ঘটনাটি মারাত্বক পরিণতি টেনে আনে। একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেও সব কৌতুহল জায়েজ না। ৯/১১ আমেরিকার ইতিহাসে ভয়ানক ঘটনা। যার প্রভাব সারা পৃথিবীতে ছড়িয়েছে। এই মুভিতে দেখা যায় প্রতিক্রিয়া স্বরূপ ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের যে সন্দেহের চোখে দেখা হয়।তাসলিমা’র প্রতি তার সহপাঠীদের আচরণ ভালো দৃষ্টান্ত।আবার রাষ্ট্রের সম্ভাব্য অপরাধী খোজার প্রবণতা অনেক মানুষের ভবিষ্যতকে অন্ধকার করে দেয়। এটা ইসলাম ধর্মাবলম্বী অভিবাসীদের জন্য একটা মেসেজ।লক্ষ্যনীয় এখানে ইহুদী এবং মুসলমানকে আলাদাভাবে দেখানো হচ্ছে।এই দুটি ঘটনা আলাদা । কারণ, অপর ঘটনাগুলোর চরিত্রের দেশ পাল্টালেও ঘটার সম্ভাবনা রহিত হয় না।

এই মুভির চরিত্রগুলো অবৈধ অভিবাসী। তাদের সমস্যা কিভাবে আমেরিকার সমস্যা হয়ে উঠে তার নমুনা এই মুভি। অবৈধ অভিবাসীদের দৌড়-ঝাপ দেয়ানোর জন্য তার আছে বিশাল বাহিনী। এই কাজগুলো যারা করে তারা লাভ করে কষ্ট আর দ্বন্ধের অভিজ্ঞতা। যা দর্শকদেরও স্পর্শ করে। অবৈধ অভিবাসন ঠিক নয়- এমন সোজা কথা এখানে নাই।কারণ অবৈধ অভিবাসন একটা বাস্তবতা। আর অবৈধ হবার পরিণতি হলো বৈধ হবার সংগ্রাম। তার ফলাফলের কয়েকটা অনুমান আমরা এই মুভিতে দেখি।

মুভির শেষ দিকে অভিবাসীদের নিয়ে এক অনুষ্ঠানে দেখি গর্বিত আমেরিকানদের শপথ। এখানে মনে হয় দুনিয়ার নানা পথ আর মত এসে আমেরিকায় মিলছে।যেটা নিয়ে আমেরিকার গর্ব আছে। কিন্তু শেষপর্যন্ত কি মত আর পথ এক থাকে। এই সুনাগরিকের প্রনোদনা কি নিজেকে ছাপিয়ে যায় না? সেটা কিভাবে সম্ভব তা নিয়ে সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় মতাদর্শিক বাহাস উঠতে পারে। সন্দেহ নাই। তারপরও ‘ক্রসিং ওভার’র চোখকে আমরা অগ্রাহ্য করতে পারি না। এটা অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে নির্মিত দলিল হয়ে উঠেছে।

>লেখাটি প্রবাসী পত্র -এ প্রকাশিত]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/29517870 http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/29517870 2012-01-07 11:10:07
প্রবাসী বাঙালিদের শেকড়ের সন্ধানে তারেক মাসুদের ‘অন্তর্যাত্রা’
এই কথাগুলো বলছে সম্প্রতি প্রয়াত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ নির্মিত অন্তর্যাত্রা (২০০৬) চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র সোহেল । এই কথায় অনুরণিত হয় দুনিয়ার নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা নতুন প্রজন্মের অভিবাসীরা নিজের দেশকে কিভাবে আবিষ্কার করে, সেই সুর। অন্তর্যাত্রা প্রবাসী মানুষের শেকড় খোঁজার কাহিনী। এই কাহিনী নিজের দিকে ফিরে আসার। আপন ইতিহাস, ঐতিহ্য, সম্পর্ক ও সংস্কৃতির অন্বেষণ। যথারীতি এই যাত্রায় তারেকের সাথে ছিলেন তার সকল কাজের সঙ্গী ক্যাথরিন মাসুদ।

বাবার সাথে ছাড়াছাড়ি’র পর সোহেল তার মা শিরিনের সাথে লন্ডনে বসবাস করে। তারা সেখানকার নাগরিক। একদিন খবর আসে সোহেলের বাবা মারা গেছেন। কৈশোর পার করা সোহেল মায়ের সাথে বাংলাদেশে আসে। দেশ সম্পর্কে, নিজের আত্মীয় স্বজন সম্পর্কে সে কিছুই জানে না। মা তাকে সবকিছু থেকে আড়াল করে রেখেছিলো। সোহেলের পরিচয় হয় বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী সালমা এবং তাদের মেয়ে রিনির সাথে। দুই ভাই-বোন সহজে মিশে যায়। মাকে নিয়ে সিলেটে বাবার কুলখানিতে হাজির হয়। পরিচয় হয় দাদা, ফুপু, ফুপা আর মৃত বাবার সাথে। সে বাবাকে নতুন করে অনুভব করে। অনুভব করে জন্মভূমিকে। গল্পের শেষে সে বুঝতে পারে বাবার মৃত্যু শুধু তাকে নয় মা’কেও বাবার কাছাকাছি এনে দিয়েছে, তাকে এখানে বারবার ফিরে আসতে হবে।

এই চলচ্চিত্রে আমরা ভিনদেশে নাগরিকত্ব পাওয়া পাশাপাশি থাকা দুই প্রজন্মের মানুষের দেশ-জ্ঞাতি উপলব্ধির বয়ান দেখতে পাই। তাদের কাছে জন্মভূমির ধারণা এবং বাস্তবরূপে ধরা দেয়ার মাঝে বিস্তর ফারাক আছে। সেই ফারাক চিন্তা থেকে জীবনযাপনের নানা টানা-পোড়েনে বিস্তৃত। এই অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি দুই প্রজন্মের কাছে আলাদা রূপ নিয়ে হাজির হয়।
শিরিন শেষবার বাংলাদেশে এসেছিলো পনের বছর আগে। পুরাতন প্রজন্মের শিরিন যখন ঢাকায় ফিরে– তখন তার বর্তমানের চেয়ে অতীতকে নিয়ে ফিরে আসে। সে সবকিছু মিলিয়ে দেখতে চায়। এটার উপর নির্ভর তার আনন্দ-বেদনা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি। তার কাছে বিষয়টা এমন যে, ঢাকা কতো বদলে গেছে। বড়ো বড়ো বিল্ডিং উঠেছে, গাড়ি বেড়েছে, বেড়েছে জ্যাম। স্কুলখানা আগের মতো আছে কিনা, মানুষগুলো কতটা বদলে গেছে। কিছু্ই আগের মতো নাই। যা এখন অনুপস্থিত তাইই আনন্দের। উপলক্ষ্যটা অতীতকে দেখা, বর্তমানের তীরে দাঁড়িয়ে।

কিন্তু পরবর্তী প্রজন্ম যাদের কাছে সবকিছু নতুন তারা কিভাবে এই শহর এই দেশ দেখে ? যারা এই দেশকে বোধ বুদ্ধি কালে কখনো দেখে নাই। যারা অন্য দেশের আলো-হাওয়া গায়ে লাগিয়ে আর মগজে সেই দেশের চিন্তা-চেতনা দিয়ে সবকিছু ভাবতে অভ্যস্ত- তাদের কাছে এটা কেমন। এর মধ্যে নিশ্চয় বিশেষত্ব আছে। নতুনকে দেখার কৌতুহল। সাথে সাথে নিজেকে নানান সম্পর্কের মধ্যে আবিষ্কার। একে কি আত্ম আবিষ্কার বলা যায়? দর্শক কৌতূহলী হয়েই সেই জিজ্ঞাসার জবাব খুঁজতে হাজির হয় অন্তর্যাত্রায়।
‘অবশেষে এখন আমি বাংলাদেশে। ভাবিনি কখনও আসা হবে। এসে মনে হচ্ছে দীর্ঘদিন এই ফেরার অপেক্ষায় ছিলাম। আমার জনক… ঠিক বাবা ভাবতে পারি না… সে আজ মৃত অথচ ঠিক শোক অনুভব করছি না। কী করে করবো আমার কাছে সে অনেক আগেই মৃত। মা তাকে তো মৃত করেই রেখেছে। এতদিন এই নিয়ে প্রশ্ন তুলি নি। মেনে নিয়েছি– এটাই স্বাভাবিক। অনেক কিছুই আমি জানি না। আমি এখন সবকিছু জানতে চাই। অনেক কিছুই বুঝতে চাই’। ঢাকায় এসে সোহেল কম্পিউটারে এইসব লিখতে থাকে।
সিলেটে যেতে যেতে সোহেল মা এবং বাবাকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে থাকে। এতদিন যে বিষয়গুলো তার কাছে সত্য ছিলো সেগুলো বানানো মনে হয়। এই আবিষ্কারের সাথে সাথে সোহেলের সাথে মায়ের দূরত্বও তৈরি হয় । কারণ, শিরিন তাকে সবকিছু থেকে দূরে রেখেছিল। প্রবাসের উন্নত জীবন সব কিছু নয়। মা’র প্রতি অভিমান বাড়ে। অন্যদিকে, শিরিন ভাবে কী করে তার কষ্টের দিনগুলোর কথা ছেলেকে বলবে।

এই দেশ সোহেলের কাছে কতো অচেনা ছিলো। যখন লন্ডনে স্কুলে বা বন্ধুদের সাথে দেশ নিয়ে আলোচনা হতো, সে তেমন কিছু বলতে পারত না। লজ্জাই পেত। সোহেল ট্রেনে করে সিলেট যেতে যেতে বুঝতে পারে, পোস্টকার্ডের ছবির পেছনে এক বাস্তব দুনিয়া আছে। আরো বড়ো আরো গভীর। সেই ছবিগুলো কখনো আস্তে আস্তে আবার কখনো দ্রুত আবিষ্কৃত হচ্ছে। এটা শুধুমাত্র আদিগন্ত সবুজে হারিয়ে যাবার পর্যটন নয়। শুধু দেখার বা সেই দেখাকে উপলবব্ধি করার চেয়ে বেশি কিছু। সেটাকেই হয়তো আমরা নাড়ির টান বলি। হা, যেটাকে নাড়ির টান বলি। সোহেল তার মধ্য আকুতি টের পায়। বংশীয় সিলসিলা তার চিন্তা ভাবনায় প্রভাব ফেলে। সব মিলিয়ে সে নিজের শিকড়ের সন্ধান করে। যে জ্ঞাতি সম্পর্কের সবকিছুই তার অচেনা ছিল তা কত সহজে পর্দা ভেদ করে সামনে আসে। যখন তার সৎবোন রিনিকে প্রথম দেখে- তার যে উপলব্ধি তা আর কিছু নয় একটা পরম্পরার শরিকানা, যার সাথে এই দেশ যুক্ত।

সেই সব বৈচিত্র্য অভিজ্ঞতায় ডুব দিতে সোহেলকে সাহায্য করে বোন রিনি আর দাদা। বোনের আছে ছেলেমানুষী আর সম্পর্কের সরলতা। মা, দাদা, ফুপু, ফুপার সাথে মোকাবেলা করে সম্পর্কের জটিল দিকগুলো।
বিট্রিশ কাউন্সিল, নেদারল্যান্ডের হুবাট বেলস ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশের মাছরাঙা প্রোডাকশনের যৌথ সহযোগিতায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রে তারেক মাসুদ নিজেই যেন একজন অভিযাত্রী। তারেক মাসুদের অন্য দুটি পূর্ণ দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মাটির ময়না ও রানওয়ে। তার সমগ্র কাজ নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, এই কাজগুলোর মধ্য দিয়ে আত্ম অনুসন্ধান করছেন। বিষয়ের নিরিখে অন্তর্যাত্রা অন্য দুটি চলচ্চিত্র থেকে আলাদা হলেও ভাবগত মিল পুরোদস্তুর বজায় আছে। অন্তর্যাত্রায় তারেক দাদার সাথে সোহেলের দীর্ঘ সংলাপের আশ্রয় নেন। দেশ কী? কেন দেশকে ঘিরে মানুষের আকুতি তা বুঝাতে গিয়ে তিনি বিহারীদের কথা বলেন। যাদের আদি বাড়ি ভারতের বিহারে। এদের কমপক্ষে দুটা প্রজন্ম বাংলাদেশে জন্মেছে। অথচ তারা এই দেশকে ভিনদেশই মনে করে। তারা এমন এক পাকিস্তানে যাবার কল্পনা করে, বাস্তবিক এর সাথে তাদের কোন ঐতিহাসিক বন্ধন নাই। তিনি চা শ্রমিকদের কথা পাড়েন। চা বাগানে কাজে লাগানোর জন্য তাদেরকে ব্রিটিশরা উড়িষ্যা থেকে ধরে এনেছে। এখন এটাই তাদের দেশ। তিনি ফিলিস্তনি ও ইজরাইলিদের কথা বলতে গিয়ে অন্য প্রসঙ্গে চলে যান। এই যেন হুট করে তারেকের প্রসঙ্গান্তর। তারেক কোনো স্পষ্ট মত দিচ্ছেন না। কিন্তু এই দেশ যাকে হোমল্যান্ড বলা হচ্ছে সেটা আসলে কী? দাদা বলছেন, প্রকৃত দেশ আমাদের কল্পনার মধ্যে থাকে। হয়তো বা, কিন্তু মানুষ যে মাটি ছুয়ে দুনিয়ার অন্যান্য জায়গার মাটি থেকে আলাদা করে সেটা কী? এতো সব বিশেষ বিশেষ উদাহরণের মধ্য দিয়ে দাদা এক ধরণের বিশ্বজনীনতায়, বিমূর্ততায় মগ্ন হন। এর মধ্যে সরলতা ও নিরাসক্তি আছে। কেন এই নিরাসক্তি?

শুধু তা না, এর মধ্যে একটা দায় দেনাও থাকে। দাদা সোহেলকে ব্রিটিশদের গোরস্থান দেখাতে নিয়ে যান। তিনি কবর দেখিয়ে বলেন, ব্রিটিশরা ভাগ্যন্বেষণে এই দেশে এসেছিল। ভাগ্যবানরা দেশে ফিরতে পেরেছে। অন্যরা রয়ে গেছে এই দেশের মাটিতে। একটা সাত মাস বয়েসী শিশুর কবর দেখান সোহেলকে। যারা এখন ভাগ্যের সন্ধানে ব্রিটিশমুলুকে বা অন্য কোনো দেশে পড়ে আছেন তাদেরকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভাগ্যান্বেষণের সাথে মিলানোর চেষ্টা যেন। এরমধ্যে মারাত্বক সরলীকরণ আছে। এরসাথে যে ঐতিহাসিক প্রবঞ্চনা জড়িত তা যেন শুধু সেলুলয়েড নয়, তার চরিত্রগুলো থেকেও মুছে যায়। দাদা ও মামার কথায় পশ্চিমের নিয়ম শৃঙ্খলার স্তুতিতে পশ্চিমা আনুগত্যের ছাপ ধরা পড়ে। কোনো দেশ হাওয়ার উপর ভর করে দাঁড়ায় না। বাংলাদেশও দাঁড়ায় নাই। তার দীর্ঘ ইতিহাস আছে। তার একটামাত্র দিক এই চলচ্চিত্রে দর্শক দেখেন, দেশ বিভাগের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় একটা অংশের দেশান্তরী হওয়া। আর কোনো ঐতিহাসিকতা চোখে পড়ে না। বাদ থাকে এই দেশান্তরে ব্রিটিশদের ভূমিকা।
এইসব ঐতিহাসিক ভেদচিহ্নই দিয়ে সংস্কৃতির নানা আবয়ব তৈরি হয়। সেটা স্পষ্ট না হলে যে সংস্কৃতির সাথে সোহেল পরিচিত হবে তার মধ্যে অতীত আর বর্তমানের বাস্তবিক যোগসূত্র খোঁজা কঠিন। বাবার কুলখানিতে দোয়া পড়া বা কবরে গিয়ে দোয়া করা সোহেলের কাছে একদম অপরিচিত। এটা সে বুঝতে পারে না। একইভাবে উড়িয়া গান তার কাছে অচেনা একধরনের অনুভূতি সৃষ্টি করে। কিন্তু আগ্রহ সীমিত। আবার যখন আনুশাহের ফিউশন কীর্তন শুনে তার চোখ মুখ জ্বলে উঠে। সে যেন আগ্রহী হয়ে উঠে। এই আগ্রহটা কি পুব আর পশ্চিমের মিলনের প্রতীকি বিষয় বা কোন সমন্বয়ী চিন্তার ফসল। কিন্তু এই ফিউশনে কী ধরা পড়ছে? এই সমন্বয়ে কে কার দ্বারা ব্যাখ্যাত হয়? এই সম্বন্বয়ে কে প্রকট হয়ে উঠে? পুব যখন পশ্চিম দিয়ে ব্যাখ্যাত হয় বা উপস্থাপিত হয় তখন তার এটা আলাদা বয়ান তৈরি হয়। সেখানে পুব তার কৌমার্য হারায়। এইখানে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির যে শক্তিমান উপস্থাপনা দরকার ছিলো তা গরহাজির। এই সংকোচন অন্যের আয়নায় নিজেকে দেখার একটা কারিগরী দিক তৈরি করে। সে আয়নার বাইরে সোহেল কিভাবে আসবে? যদি না আসতে পারে, যাকে আমরা অন্তর্যাত্রা বলছি সেটা অসম্পূর্ণ ও বিকৃত। তখন দেশের সাথে সম্পর্কহীন একটা উল্টো সম্পর্ক তৈরি হয় ।

এই চলচ্চিত্রের কাহিনীকার তারেক মাসুদ। চিত্রনাট্যে তার সাথে আছেন ক্যাথরিন মাসুদ। গল্পে বিশেষ জটিলতা নাই। অভিনয় করেছেন সারা যাকের, রিফাকাত রশিদ, আবদুল মোমেন চৌধুরী, রোকেয়া প্রাচী, হেরল্ড রশিদ, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, লক্ষন, বিশেষ চরিত্রে বাঙলা ব্যান্ডের আনুশেহ ও বুনো। সবার অভিনয় বেশ মানিয়ে গেছে। চরিত্রগুলোর হাত ধরে গল্প তার সতেজ স্বাভাবিক ভাবের অলিগলিতে সহজে হেটেছে। তবে কারো অভিনয়ে আলাদা কোনো বিশেষত্ব ধরা পড়ে নাই। ভালো লেগেছে সিলেটি ভাষার ব্যবহার। সংগীতের কাজ মানানসই। সংগীত পরিচালনায় ছিলেন হেরল্ড রশিদ ও বুনো। দৃশ্যায়নে কারিগরি আছে। বিশেষ করে কিছু কিছু ক্ষেত্রে খুটিয়ে খুটিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি তৈরি এই চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রাণশক্তি। আর ক্যাথরিন মাসুদের অসাধারণ সম্পাদনার কাজ আবারো এই চলচ্চিত্রেও আমরা দেখতে পাই।

তারেক মাসুদ তার কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলোকে একধরনের পর্যবেক্ষকের জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেখেন। সেখানে বিচারমূলক কিছু খুঁজতে তিনি চান নাই। সচেতনেই। আবার তার কাজের মধ্যে ডকুমেন্টশনের একটা বিষয়ও থাকে। তিনি বিশেষ বিশেষ সূত্র ধরে এগিয়েছেন। তাই তার বয়ানের মধ্যে বিরুদ্ধ কোনো চরিত্র নাই। যা আছে, কোনোটাই পরম্পরের সামনে দাঁড়ায় না। সবকিছুই একরৈখিক। তখন মনে হয়, এই রিপ্রেজেন্টেশনটা আরো গভীর হওয়া দরকার ছিলো। তাহলে আমাদের অস্বস্থি কিছুটা কমতো।
প্রযুক্তিগত দিক হতে এই চলচ্চিত্রের আলাদা একটা বৈশিষ্ট্য আছে। এটা ডিজিটাল ফর্মেটে নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র। প্রদর্শনীর সুবিধার্থে পরে ৩৬ মি.মি. ফর্মেটের রূপান্তর করা হয়। এই কারিগরী বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে উল্লেখযোগ্য সংযোজন। তরুণ নির্মাতাদের সাধ্য এবং সামর্থ্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে। ডিজিটাল চলচ্চিত্র ও এর কারিগরি প্রসারে তারেক মাসুদ কাজ করেছেন। তিনি মনে করতেন কারিগরি দিক থেকে ডিজিটাল চলচ্চিত্র বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের নতুন ধারা তৈরি করতে সক্ষম হবে। সেই নতুন দিনের বন্ধন এই অন্তর্যাত্রার আরেকটি দিক।

>লেখাটি প্রবাসীপত্রে প্রকাশিত
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/29487877 http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/29487877 2011-11-22 00:24:19
আজকের দিন নিয়া মহাত্মা ফরহাদ মজহারের কবিতা
১৪ ফেব্রুয়ারি ঘটনার প্রতিবাদে ফরহাদ মজহারের লেখা দুটি কবিতার একটি :

লাশসকল প্রতিশোধ নেবে

গুম হয়ে যাওয়া লাশসকল প্রতিশোধ নেবে—
বীভত্স কফিনহীন মৃতদেহ রাস্তায় রাস্তায়
মোড়ে মোড়ে
অলিতে গলিতে
অন্ধিতে সন্ধিতে
তোমাদের শান্তিশৃঙ্খলা স্থিতিশীলতার গালে
থাপ্পড় মেরে
অট্টহাসি হেসে উঠবে।

ভোরবেলা
দাঁতের মাজন হাতে ঢুকবে বাথরুমে—
সেখানে লাশ
তোমাদের প্রাতঃরাশে রুটি-মাখনের মধ্যে লাশের দুর্গন্ধ
তোমাদের ভোর সাড়ে সাতটার ডিমের অমলেটে লাশের দুর্গন্ধ
তোমাদের পানির গ্লাসে লাশের দুর্গন্ধ
তোমাদের চায়ের কাপে গলিত নষ্ট মৃতদেহের রক্ত;
লাশসকল প্রতিশোধ নেবে
লাশসকল হত্যার বদলা চায়।

রিকশায় তোমাদের পাশে যে বসে থাকবে
দেখবে সে একজন লাশ
টেম্পোবাসে তোমাদের গা ঘেঁষে যে বসে পড়বে
দেখবে সে একজন লাশ
ফুটপাতে তোমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যে হাঁটছে
দেখবে সে একজন লাশ

অলিতে গলিতে
অন্ধিতে সন্ধিতে
চড়াও হয়ে
লাশসকল প্রতিশোধ নেবে।

প্রতিটি লাশের গায়ে ৩৬৫টি গুলির দাগ
(দিনে একবার করে বাংলাদেশকে বছরে ৩৬৫ বার হত্যা করা হয়)
জবাই করে দেওয়ার ফলে অনেক লাশের কণ্ঠনালী ছেঁড়া
অনেকের চোখ হাত পা বাঁধা
অনেককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে—
অনেককে হাড়মাংসসুদ্ধ কিমা বানানো হয়েছে প্রথমে
পরে থেঁতলে থেঁতলে পিণ্ডাকার দলা থেকে
তৈরি করা হয়েছে কাতারবদ্ধ সেনাবাহিনী
ওদের মধ্যে অনেককে দেওয়া হয়েছে মেজর জেনারেল পদ
একজনকে নিয়োগ করা হয়েছে
প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে
তাদের সবার চেহারাসুরত বরফের মতোই ঠাণ্ডা ও নিষ্পলক
এই হচ্ছে লাশসকলের সুরতহাল রিপোর্ট

তারা সামরিক কায়দায় উঠে দাঁড়ায়
অভিবাদন দেয়
অভিবাদন নেয়
অভিবাদন গ্রহণ করে
এবং সর্বক্ষণ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের
পরবর্তী বিক্ষোভ মিছিলকে
মেশিনগান মেরে উড়িয়ে দেবার পরিকল্পনা আঁটতে থাকে—
তোমরা আতংকিত হলে লাশসকল অট্টহাস্য করে ওঠে
তারা তোমাদের সেনাবাহিনীর মতোই
নিজেদের সেনাবাহিনী গঠন করে নিয়েছে—

কারণ
লাশসকল প্রতিশোধ চায়।

লাশসকল তোমাদের অফিস করিডোরে ফাইলপত্রে
হাজির থাকবে
তারা সংবাদপত্র অফিসে নিখোঁজ সংবাদের রিপোর্টার হয়ে
বসে থাকবে
তারা রেস্তোরাঁয় হোটেলে হোটেলে
মরা মানুষের কঙ্কাল হয়ে ঝুলে থাকবে।

বিকেলে পার্কে সিনেমাহলে ঘরের সামনে
ফুলবাগানে লাশ
লাশসকল অভিনয় জানে
তারা মহিলা সমিতি মঞ্চে অভিনয় করতে চায়
তারা জীবিতদের মতো কথা বলবে
সংলাপ উচ্চারিত হবে নির্ভুল
সর্বত্র
সবখানে
সবজায়গায়
লাশসকল তোমাদের অনুসরণ করবে।

লাশসকল মনে করিয়ে দিতে চায়—
বুট ও খাকির নীচে বাংলাদেশের মৃতদেহ থেকে
পচনের আওয়াজ বেরুচ্ছে
তারা বুঝিয়ে দিতে চায়—
পাছায় রাইফেলের বাঁট মেরে শুয়োরের বাচ্চার মতো
তোমাদের খোঁয়াড়ে রাখা হয়েছে।

রাত্রিবেলা তোমাদের স্ত্রীদের ওপর
তোমাদের মেয়েমানুষদের ওপর
চড়াও হয়ে
লাশসকল ঝুলিয়ে দেবে
তোমরা
নিবীর্য
নপুংসক
লিঙ্গহীন
উত্থানরহিত।

একদিন
জেনারেলদের মাথার খুলি লক্ষ্য করে
সমস্ত লাশ একযোগে
দ্রিম দ্রিম
ক্রাট ক্রাট
সাব-মেশিনগান
৩৬৫ বার
প্রতিদিন একবার করে বাংলাদেশকে হত্যার প্রতিশোধে
লাশসকল অট্টহাস্য করে উঠবে—

লা শ স ক ল প্র তি শো ধ চা য়
গু ম হ য়ে যা ও য়া লা শ স ক ল
প্র তি শো ধ নে বে।

সৌজন্যে: আমার দেশ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/29326427 http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/29326427 2011-02-14 12:47:06
আর আমারে মারিস নে মা...
গানটি শ্রী কৃষ্ণ'র ননী চুরি নিয়া হইলেও মনে হয় লালনের নিজের জীবনের কথা যেন। নাকি অন্য কোন তাৎপয্য আছে? বিশেষ করে এই লাইনটা ‍'পরের মাকে ডাকবে লালন,তোর গৃহে আর থাকবে না মাগো, তোর গৃহে আর থাকবে না'... কেমন যেন লাগে।

বলি মা তোর চরণ ধরে ২
ননী চুরি-ই আর করব না
আর আমারে মারিস নে মা ৫
(ননীর জন্যে আজ আমারে
মারলি মাগো বেধে ধরে) ২
দয়া নাই মা তোর অন্তরে…এ.. ২
সাল পেতেই গেল জ্বালা ২
(পরে মারে পরের ছেলে
কেদে যেয়ে মাকে বলে) ২
সেই মা জননী নিষ্ঠুর হলে..এ .এ.
কে বোঝে শিশুর বেদনা ২
আর আমারে মারিস নে মা ৩
(ছেড়ে দে মা হাতের বাধন
যাই যে দিকে যায় দুই নয়ন) ২
পরের মাকে ডাকবে লালন ২
তোর গৃহে আর থাকবে না মাগো
তোর গৃহে আর থাকবে না
আর আমারে মারিস নে মা
বলি মা তোর চরণ ধরে ২
ননী চুরি-ই আর করব না
মাগো ননী চুরি-ই আর করব না
আর আমারে মারিস নে মা ৩

লিরিকটি এখান থেকে নেয়া।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/29285021 http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/29285021 2010-12-07 00:15:57
ভারতে নিষিদ্ধ হলো 'বিটি বেগুন' সাক্ষাৎকার পড়েছিলাম । সাক্ষাৎকারটি নিয়ে ছিলেন কাজী সায়েমুজ্জামান । গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার । হাইব্রীড সম্পর্কিত একটা লেখা প্রকাশিত হয়েছে আজকের কালের কন্ঠে। ঘটনাটি ভারতের। কিন্তু যে অপবিজ্ঞান এবঙ রাজনীতি এতে জড়িয়ে আছে, তা আমাদের দেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাই লেখাটি এখানে শেয়ার করলাম।)

জিনপ্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভাবিত 'বিটি বেগুন' বাজারজাত করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভারত। ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে দেশটির পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশ এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। গত অক্টোবরে ভারত সরকারের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাপ্রোভাল কমিটি (জিইএসি) জিনপ্রযুক্তির বেগুনের বীজ বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাতকরণের অনুমোদন দেয়। দেশটির বিভিন্ন মহল এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে। বিটি বেগুনই জিনপ্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রথম সবজি হিসেবে বাজারজাতের অনুমতি পেয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ জিনপ্রযুক্তির সয়া, ভুট্টা, তুলা উৎপাদন করলেও কোনো দেশই এ প্রযুক্তির সবজি চাষের অনুমতি দেয়নি।
জয়রাম রমেশ গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারত নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে বিটি বেগুন বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করতে দেবে না। তিনি বলেন, জিনপ্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভাবিত এ বেগুনের বীজ বাজারে ছাড়তে কোনো তাড়া নেই ভারতের। তাই নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে জনগণের সন্দেহ দূর হলেই কেবল এ বীজ বাজারে ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হবে। গবেষণার মাধ্যমে মানুষের শরীর ও পরিবেশের ওপর এ বেগুনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব দেখা হবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, 'জনগণের নিরাপত্তার খাতিরে এ উদ্যোগ নিচ্ছি আমি।'
বর্তমানে ভারতে প্রায় আড়াই হাজার ধরনের বেগুন উৎপাদিত হয়। অন্যান্য সবজির মতোই এসব বেগুনের ক্ষেতে পোকামাকড়ের প্রকোপ দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান মোনসান্টো ও ভারতের প্রতিষ্ঠান মাহিকো যৌথভাবে জিনপ্রযুক্তির মাধ্যমে বিটি বেগুন উদ্ভাবন করে দাবি করে, এ বেগুনে কীটনাশকের ব্যয় অর্ধেক কমে যাবে, ফলনও হবে বেশি। জিইএসি এ বীজ বাজারে ছাড়ারও অনুমতি দেয়। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই এর বিরোধিতা শুরু করে পরিবেশবাদী ও কৃষকরা। তারা অভিযোগ করে, জিনপ্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভাবিত এ সবজি উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ভারতকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ সবজির মাধ্যমে মানুষের শরীরে ক্যান্সারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের জীবাণু ছড়িয়ে পড়বে। এ বেগুনের সত্যিকার প্রভাব জানার জন্য নিরপেক্ষ গবেষণারও দাবি জানায় তারা। বাজারে এ বেগুন ছাড়ার একজন বিরোধী বলেন, 'আমরা গিনিপিগ নই। আমাদের গবেষণার জন্য ব্যবহার করা যাবে না।' সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ১১টি রাজ্যের সরকারও বিটি বেগুন বাজারে ছাড়ার বিরোধিতা করে। ভারতের শীর্ষ বেগুন উৎপাদনকারী এসব রাজ্যের সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এ বেগুন চাষের অনুমতি দেবে না তারা।
জনগণের বিরোধিতার কারণেই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য মাঠে নামেন পরিবেশমন্ত্রী নিজে। গত কয়েক সপ্তাহে জয়রাম রমেশ পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, বিহার, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, চণ্ডিগড়, কর্নাটক ও হায়দ্রাবাদ রাজ্যে সফর করে স্থানীয় মানুষের জনমত যাচাই করেন। এ সময় জিনপ্রযুক্তির এ বেগুনের বিরোধীদের পাশাপাশি পক্ষের কথাও শোনেন তিনি। এক মহিলা কৃষক মন্ত্রীকে বলেন, 'বিটি তুলা আমাদের উৎপাদন বাড়িয়েছে। বিটি বেগুনও কারো ক্ষতি করবে না।' জনমত যাচাইয়ের পরই গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বিটি বেগুন বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত স্থগিত করার ঘোষণা দেন তিনি।
কেন বিরোধিতা
কৃষকরা সাধারণত নিজেদের ফসল থেকেই পরবর্তী বছরে চাষের জন্য বীজ সংগ্রহ করেন। জিনপ্রযুক্তির শস্য চাষের জন্য বিশেষ বীজের প্রয়োজন। ফসল থেকে এ ধরনের বীজ সংগ্রহ করা যাবে না। বীজের প্রযুুক্তি উদ্ভাবকরাই কেবল তা উৎপাদন করতে পারবে। ফলে প্রতিবছরই নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির কাছ থেকে বীজ কিনতে হবে কৃষকদের। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, বীজের ওপর একাধিপত্যের কারণে ইচ্ছামতো দাম বাড়াবে উৎপাদক কোম্পানি। পরিবেশবিদরা বলছেন, জিনপ্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভাবিত বিটি বেগুন মানবশরীরে দীর্ঘমেয়াদি রোগের তৈরি করতে পারে। পরিবেশেরও ক্ষতি করবে এ বীজ।
ভারতে অবশ্য ২০০২ সাল থেকে জিনপ্রযুক্তির শস্য উৎপাদিত হচ্ছে। তবে এ প্রযুক্তির কেবল তুলাই চাষ হয় ভারতে। বিশ্বের অন্য কোনো দেশে জিনপ্রযুক্তির সবজি উৎপাদন না হওয়ায় বিটি বেগুনের বিরোধিতার অন্যতম কারণ।
যুক্তরাষ্ট্রের লবিং!
বিশ্বে জিনপ্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভাবিত শস্যের সবচেয়ে বড় বীজ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান হলো যুক্তরাষ্ট্রের মোনসান্টো। কেবল গত বছরই এ প্রতিষ্ঠান বীজ বিক্রি করে এক হাজার ১৭০ কোটি ডলার আয় করে। ভারতে বিটি বেগুন বাজারজাত করারও মূল উদ্যোক্তা ওই কোম্পানি। তাদের দাবি, জিনপ্রযুক্তিতে বেগুন চাষ করলে আগের তুলনায় অনেক বেশি ফলন হবে।
ভারত বিটি বেগুন বাজারজাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় প্রতিষ্ঠানটির অর্থনৈতিক ক্ষতি হলো। ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিটি বেগুনবিরোধী সিদ্ধান্ত ঠেকাতে গত সোমবার রাতে ভারতে আসেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের বিজ্ঞানবিষয়ক উপদেষ্টা নিনা ফেডোরফ। তবে তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন জয়রাম রমেশ। এর আগে তিনি বলেছিলেন, বুধবার (্আজ) 'বিটি বেগুন' নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হবে। অনেকে ধারণা করছেন, ফেডোরফের আগমনের খবর পেয়ে তড়িঘড়ি করে গতকালই সংবাদ সম্মেলনে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন রমেশ। সূত্র: বিবিসি অনলাইন, এএফপি, জিনিউজ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/29094954 http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/29094954 2010-02-10 22:40:58
সিদ্ধার্থ ও চড়ুই পাখি
একটি চড়ুই বলল, "তোর জন্য নির্বাণ বলে কিছু নাইরে বোকা, তুই মোহমুক্ত হ"।
আমি তার স্পর্ধায় যুগপৎ ক্রুদ্ধ ও ব্যথিত হলাম।
পাখিটি বলে, "এতো সহজে ক্রুদ্ধ হলে কি নির্বাণ লাভ করা যায় না"।
আমি দ্বিধা নিয়ে তার ক্ষুদ্র চোখে তাকিয়ে বলি, "হে পাপী তোর দেহে কোন দুরাত্না ভর করেছে"।
পাখিটি বলে, "আমাকে কেন পাপী বলো। পাপী তো তুই নিজে। তাই অন্যের পাপ, ভুল নিয়ে এতো ব্যস্ত। তুই লোভী আর অহংকারী। তুইনির্বাণ কেন চাস? তোর ভেতর কি নির্বাণ লাভের লালসা ভর করে নি। এটা জগতে তোকে প্রতিষ্টা দেবে এই বাসনা কি তোর মাঝে নাই। আর দেহ তাকে তো আত্নাই কলুষিত করে- তো দেহ কি পাপী হতে পারে। আর আত্না তো অবিনশ্বর। যা অবিনশ্বর তা কি পাপী হয়। তুই কি বলতে চাস আর কি করতে চাস সেটা স্পষ্ট হ। নির্বোধ চিন্তা আর কথার ভেতর দিয়ে তা তুই নির্বাণ পাবি না।"
আমি বলি, "তুই নির্বাণের কি বুঝিস"?
পাখিটি বলে, "তুই আমার গন্ধ মেখে আমার গর্ভে বেড়ে উঠিস আর আমাকে তুই প্রশ্ন করিস ..."।
আমি বলি, "এ কথার মানে কি"?
পাখিটি বলল, "তোর নিজের দিকে তাকা। এই উত্তর আমি দেবো না"।
আমি বুঝলাম, সে ঠিকই আমাকে লক্ষ্যচ্যুত করতে চায়। আমার ভেতর ক্রোধ আরো বাড়তে থাকে।
আমি বলি, "তুই ঠিকই আগের জন্মে বড়ো কোন পাপ করেছিস, তাই আমাকে বিপথে নিতে চাস"।
পাখিটি বলে, "তুই এতো জন্ম জন্ম করিস কেন? সেতো ইতিহাস। তাকে ঘেটে শুধু পাপই পাবি। কারণ, তোর নিজের পাপ হতে তোর মুক্তি নাই। তাই তুই ভেক ধরতে চাস। জন্মান্তরের ভেতর দিয়ে যা তারপর মানবজন্মের স্বাদ বুঝবি। তোর তো কোন কর্তব্যের জ্বালা নাই, তাই মুক্তি নামক অলীক ফানুস খুজিঁছ বোকা। তোর আবার মোক্ষ কিরে। তুই তো অল্পতে ভেঙ্গে যাস, অল্পতে গলে পড়িস, অল্পতে তোর ইন্দ্রিয় কেঁপে উঠে। তুই যে নির্বাণের কথা বলিস, এই তোর মোহ ছাড়া কিছু না। তোর আত্নাকে প্রশ্ন কর..."।

আমার ভেতরকার ক্রোধ যেন নিভে এলো। ভর করল হতাশা। তারপর দেখলাম, সেই ঘাসের বনের বদলে বিশাল বটবৃক্ষের নিচে শুয়ে আছি। বটবৃক্ষ বলল, "যা সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে আন। তারপরের প্রশ্নটি আমি দেবো"।

আমি নিজেকে বার বার প্রশ্ন করেছিলাম কেন চড়ুই বলেছিলো, "তুই আমার গন্ধ মেখে আমার গর্ভে বেড়ে উঠিস আর আমাকে তুই প্রশ্ন করিস ..."।
সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দুই জন্ম পার হলো। শুধু বুঝতি পেরেছি, চড়ুইয়ের কন্ঠেও কোন এক অদৃশ্য অহংকার ছিলো, সেটা কি ধরতে গিয়েও যেন ধরতে পারছি না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/29044122 http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/29044122 2009-11-16 00:26:09
নক্ষত্রের সাথে জেগে থাকা
চাঁন সুরুজ ছাড়া কিছুই চিনি না। তারপরও অচিন আকাশের' চে সুন্দর কিছু আছে বলে মনে হয় না। যা দেখি তা তো আছে, আর যা দেখি না তা রহস্যময় কিন্তু অর্থপূর্ণতা হয়েই যেন ধরা পড়ে। আকাশ দেখার সময় কোনটা? সময় অসময় বলে কিছু নাই। তুমি যখন চাও মেঘের ভেলায় ভাসতে পারো। রঙতুলি দিয়ে ইচ্ছে মতো ছবি আকঁতে পারো, শক্তি কুলালে দু'একটা কবিতা গান আসতে পারে।

ছোট্ট বেলায় কোন কোন রাতে ঘুম ভেঙ্গে কি যে কান্না পেতো। জানালায় দিয়ে আসা চাঁদের আলোয় ঘর ভেসে যাচ্ছে, কিন্তু কখনো ঐ চাঁদে যেতে পারব না। মনি মনিক্য ভরা আকাশ কি সুন্দর ঝিকমিক করে। কেন জানি তখনই মনে হতো জাগতিক কোন সামর্থ্য লাভ করব না। তাই অলৌকিক সমাধানের চিন্তা করতাম। আমাকে যদি ফেরেশতা এসে বলে তুমি কি চাও? বিলকুল বলতাম, আমি অসীম মহাশূণ্যে অসীম সময় ধরে পরিভ্রমন করতে চাই। আর এখন চাওয়া-পাওয়ার দ্বন্ধে সে ইচ্ছে বলবধ আছে কিনা সে প্রশ্নে যেতে পারি না। এই তো জীবন।

আমি আর মুর্শেদ অনেক গভীর রাত পয্যন্ত ঘুরতাম। চুপচাপ। কেউ কোন কথা বলতাম না। পাছে আকাশে বাতাসে কি বিশৃঙ্খলা তৈরী হয়। মুর্শেদ একদিন বলল, আমি চলে যাচ্ছি। জানি সবাই কে চলে যেতে হয়। তাই বলেছি, ঐ নক্ষত্রটা আমাদের। যেখানে যাস নক্ষত্রটা দেখলে মনে করবি আমি আছি। আর আমিও তাই করি।

এখন কঠিন ভাবলেশহীন শহরে থাকি। দিন-রাত এখানে জীবন্মৃত। কোন সৌন্দর্য নেই যেন। হঠাৎ করে একটুকরো আকাশ চোখে পড়ে। কত যে ভালো লাগে। আবার যেন থমকে দাড়াঁয়। এই তো জীবন। তবুও স্বপ্ন দেখি তারা ভরা রাতে ঘাসের বনে শুয়ে আছি। জীবনানন্দের নায়কের মতো। ব্যতিক্রম হলো, আমি ঠিকই একদিন জেগে উঠব। এই শহরে অনেকদিন ঘুমোয় না। তারপর নক্ষত্রের দিন, নক্ষত্রের সাথে জেগে থাকা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/28989467 http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/28989467 2009-08-06 01:04:14
টিপাইমুখ বনাম গণশক্তি - মাসউদুর রহমান

একাত্তরের ষোলোই ডিসেম্বরের পর ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশীদের জন্য সবচে’ গৌরবোজ্জ্বল দিন বলে আমি মনে করি। এদিন বাংলাদেশের সৈনিক জনতা কুড়িগ্রামের রৌমারি সীমান্তে ভারতীয় হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ সৃষ্টি করে তাদের অন্যায় দখল প্রচেষ্টা প্রতিহত করে বিজয় ছিনিয়ে আনে। ভারতীয় বিএসএফ, ব্ল্যাকক্যাট এবং সর্বোপরি সে দেশের সেনাবাহিনী টের পায় আমাদের জনগণের রাম দা আর লাঠির জোর কতখানি। ব্ল্যাকক্যাট এবং সেনাবাহিনীর কথা বলছি এজন্য যে, সেদিনের সেই অপারেশনে বিএসএফের সাথে তারাও অংশ নেয় বলে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। এরপরের সবকিছুই তো আমাদের জানা। ভারত অন্যায়ভাবে অতর্কিত হামলা চালালেও বাংলাদেশের তৎকালীন মেরুদন্ডহীন সরকার ভারতের কাছে ক্ষমা চেয়েছিল। তিরিশ বছর ধরে বেদখলে থাকা আমাদের মাটি নিজেদের দখলে এনেও ফের ভারতকে ফিরিয়ে দিতে হয়েছিল সরকারী নির্দেশে।

টিপাইমুখ বাঁধ নিয়েও সংকটটা একই দিকে মোড় নিচ্ছে মনে হয়। বর্তমান শাসকগোষ্ঠির কথাবার্তায় আচরণে মনে হচ্ছে, টিপাইমুখ বাঁধ হলে যেন তাদের লাভ। দেশের বিশাল একটি অংশ এই বাঁধের ফলে স্বাভাবিকভাবেই মরুভুমিতে পরিণত হবে। এমন অবস্থায় সরকারের মিউ মিউ স্বরে মার্জারিয় অবস্থান আমাদের মনে প্রশ্নের সৃষ্টি করে, এর বিরুদ্ধে কথা বলতে সরকার ভয় পাচ্ছে কেন? সরকার নির্বাচিত হয়েছেন জনগণের ভোটে, ভারতের টাকায় বা ভারতের সহযোগিতায় নয়। সরকার কি জনগণের জন্য না ভারতের স্বার্থে কাজ করবে, আমরা তা জানতে চাই। আন্তর্জাতিক নদী আইন লঙ্ঘন করে ভারত কখনোই এটা করতে পারবে না, যদি না সেখানে সরকারের সমর্থন থাকে।

১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম অস্ত্র ছিলো ফারাক্কা বাঁধ। প্রচারণায় এভাবেই বলা হতো ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারে পশ্চিম পাকিস্তানের উদাসীনতাই দায়ী। নির্বাচনে অত্র অঞ্চলে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে আর মুসলিম লীগ সেই যে ডুবেছে আর ভেসে ওঠেনি। আমাদের স্বাধীনতার প শক্তি বলে দাবীদার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যদি কঠোরভাবে টিপাইমুখ বাঁধ প্রতিরোধ করতে না পারে তবে আগামী প্রজন্ম জামাতে ইসলামী নয়, রাজাকার দালাল বলে চিহ্নিত করবে আওয়ামী লীগকে। স্বাধীন বাংলাদেশে এই অপরাধ আরো গুরুতর। বৃক্ষ তোমার নাম কি, ফলে পরিচয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে আমরা দেখিনি। তাই তাঁর ব্যাপারে আমাদের কোন অনুভূতি কাজ করে না। কিন্তু আমরা শেখ হাসিনাকে দেখেছি। আগামী প্রজন্ম শেখ মুজিবকে জাতির পিতা বলে মন থেকে গ্রহণ করবে, নাকি শেখ হাসিনার পিতা বলে ঘৃণা করবে, সে সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনাকেই নিতে হবে।

আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ভারতের দুর্বিনীত হাই কমিশনারের এদেশের রাজনীতিবিদ এবং পানি বিশেষজ্ঞদের বিরুদ্ধে অশোভন উক্তিতে মিসেস মনির নির্লিপ্ততা প্রমাণ করে যে, তার কোন মেরুদন্ড নেই এবং বাংলাদেশী হিসেবে তার কোন আত্মমর্যাদাবোধও নেই। অন্যদিকে বানিজ্যমন্ত্রীর হাস্যকর একটি উক্তি, “টিপাইমুখ বাঁধ বাংলাদেশের জন্য কল্যাণকর হলেই তারা এই বাঁধ নির্মাণে সমর্থন জানাবেন।” একথা তো একটি শিশুও বুঝতে পারে যে, নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণ করলে ভাটির জন্য তা কখনোই কল্যাণ বয়ে আনে না। সর্বোপরি যেখানে ফারাক্কার অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। একটি শিশুর বোধ-বুদ্ধি যখন একজন পরিণত বয়ষ্কের মধ্যে পাওয়া যায় না, তখন আমরা তাকে কথ্য ভাষায় বেকুব বলি। যে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেরুদন্ডহীন এবং বানিজ্যমন্ত্রী বেকুব, সে দেশের মন্ত্রীপরিষদের দেশ পরিচালনা নিয়ে আমাদের বড়ই দুশ্চিন্তা হয়।

আরেকটি বিষয় আমাকে অবাক, হতবাক, আশ্চর্যান্বিত এবং বিস্ময়বিমূঢ় করে দিয়েছে টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যুতে সেক্টর কমান্ডারদের নির্লিপ্ততা। নির্বাচনের ঠিক আগে আগে যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো তাদের গর্জে ওঠার ব্যাপারে কোন একটি স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়িয়েছিল যে, তারা যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক প্রচারণার জন্য ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর কাছ থেকে বিপুল অংক উৎকোচ হিসেবে নিয়েছিলেন। আমরা সেটা বিশ্বাস করি না। কিন্তু টিপাইমুখ একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এর সাথে অবশ্যই আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন জড়িত। এ ধরণের রাষ্ট্রীয় সঙ্কটময় ইস্যুতে সেক্টর কমান্ডারদের অস্বাভাবিক নিরবতা আমাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে। তাদের উচিৎ ছিল এই ইস্যুতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে গর্জে ওঠা। জাতি আবার তাদের ডাকে তাদের পেছনে ঐক্যবদ্ধ হবে। কে জানে, এ জন্য তারা হয়তো পাকিস্তানের আইএসআই এর কাছ থেকে উৎকোচের অপো করছেন। যদিও আমরা এটাও বিশ্বাস করি না। সেক্টর কমান্ডারদের বলি, সরকারকেও বলি, শ্রদ্ধাভাজন কবি-সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদের ভাষায়, যারা একবার দেশের সাথে বেঈমানী করে তারা চিরজীবনের জন্য রাজাকার, আর একবার যুদ্ধ করেই সারা জীবন মুক্তিযোদ্ধা শব্দটি ব্যবহার করা যায় না।

পরিশেষে নিবেদন, সরকারের কাছে এবং দেশবাসীদের কাছে, ২০০১ সালে যদি ৩০ জন সৈনিক আর নিরস্ত্র গ্রামবাসীরা মিলে ভারতের অতর্কিত আক্রমণ, ৩০০ সুসজ্জিত সৈন্যের আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের পাশাপাশি মর্টার শেল দিয়ে আক্রমণ, প্রতিহত করতে পারে, তাহলে সরকারের ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। ভারতের সামরিক সৈন্য সংখ্যা সব মিলিয়ে একত্রিশ লক্ষ যার ১৩ লক্ষ সক্রিয় আর বাকীরা রিজার্ভ বেঞ্চে, কিন্তু সরকারের মনে রাখতে হবে আমাদের জনসংখ্যা ১৭ কোটি। তাই সরকারকে হুজুর হুজুর মার্কা পররাষ্ট্রনীতি পরিহার করে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য অনুরোধ করছি। একই সাথে বিরোধী দলকে অনুরোধ জানাচ্ছি, ইস্যুটিকে ব্যবহার করে সরকার পতনের প্রচেষ্টায় না নেমে বরং রাষ্ট্রের স্বার্থকে রাষ্ট্র ও জনগণের জায়গা থেকে দেখে টিপাইমুখ বাঁধ প্রতিহত করার নিখাদ এবং সক্রিয় আন্দোলনের ডাক দিতে। নতুবা ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেরাই রুখে দাঁড়ানোর সাথে সাথে জনগণ সরকারী, বিরোধী দল উভয়ের বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়াবে। টিপাইমুখ অভিমুখে অভিযান শুরু করার আগে জনগণ অবশ্যই গণভবন, বঙ্গভবন এবং সংসদভবন পাক পবিত্র করেই রওনা দেবে। কেননা কোন নপুংসক সরকার কিংবা সুযোগসন্ধানী নিষ্ক্রীয় বিরোধী দলের বাংলাদেশী জনগণের কোন প্রয়োজন নেই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/28979759 http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/28979759 2009-07-17 23:56:59
বুদ্ধ এবঙ আমি চেতনার ব্যাপারী জানি না। সম্ভবত: না। তিনি সকল চাহিদা হতে মুক্ত হইলেন। কিন্তু সাধারন মানুষ সেই মুক্তি কিরূপে লাভ করিবে? সকলই কি সেই নিরপেক্ষক মোক্ষ লাভ করিবে? না, তোমার আমার মতো মোক্ষজ্ঞানহীন মানুষ ছাড়া এই বিশ্ব কি করে টিকিবে। বুদ্ধ ছাড়াও কি টিকিত?

তিনি অষ্টমার্গের জীবন দেখালেনই।

দেখিলাম, এই জগতে যাহা প্রকৃত যাহা মৌলিক, তাহা হইল দুঃখ। বুদ্ধ যখন নির্বাণ লাভ করিলেন তখন কি তিনি সমস্ত রোগ ব্যাধি জরা সর্বাপরি দুঃখ মুক্ত হলেন। তাহলে তিনি কিভাবে অপরের দুঃখ কষ্ট বুঝতেন। বুদ্ধ কি জাতিস্মর ছিলেন? যদি ধরি, বোধি প্রাপ্ত হওয়ার পূর্ব ও পরের জীবন আলাদা আলাদা। তাহলে বেয়াদবী হয় এই ভেবে যে, আমরা তো পূর্ব সিদ্ধান্তকে ভুল ধরে সঠিকটা নিয়ে নতুন জীবন শুরু করার কথা অহরহ ভাবি। মানুষ তারপরও ভুল করে আবার শুধরাই অর্থ্যাৎ একের ভেতর অনেক জনম।

এটা ঠিক যে, গৌতমের উপর এই ধরনের কিছু আরোপ করা অনুচিত। কিন্তু মানুষের যুক্তি বুদ্ধি বড়ই সীমা ছাড়াইতে চায়। আমরা যেহেতু বুদ্ধ হইতে পারিব না, অতৃপ্ত আত্নায় এই বাসনা জাগে বুদ্ধ কিরূপে বুদ্ধ হইলেন, ইহা জানিতে।

বুদ্ধ কিরূপে কি বুঝিতেন তাহা জানিবার উপায় নাই। তাহা যদি নিতান্ত ঐতিহাসিক বিষয়রূপে ঘটে থাকে তবে সেই বোধিত্ব বুদ্ধতে শেষ। আর যদি ইহা সত্যই অধি জগতের বিষয় হয়, তাহলে বুদ্ধ আমার ভেতরও খেলা করে। হয়তো এটাই বোধি লাভের মর্ম্। তুমি এই মর্ম অনুধাবনের পথে এগুতে থাকো। মনে প্রশান্তির ভাব জাগিল।

আমাদের জীর্ন বস্ত্র ত্যাগ করতে হইবে। যে বস্ত্রখানি ত্যাগ করিতে মানুষ বেশী বেশী ভুল করে, তা হলো চেতনা। তাহারা চেতনার বেদিতে এতই অর্ঘ্য দান করে যে, চেতনা কাহার নিমিত্তে আসিয়াছে তাহাই ভুলিয়া যায়। তাহারা বুঝে না চেতনা পশুর স্বভাব, মনুষ্য স্বভাব না। মনুষ্য স্বভাব হলো সে বিবেকের তাড়না সত্য অন্বেষণে জীবনপাত করে। বোধিজ্ঞান ছাড়া সকল সত্যই অপেক্ষিক, তাই বিবেকের তাড়নায় সদা দৌড়ের উপর থাকিতে হয়।
যে মানুষ আত্নার অনুসন্ধান করে, সে দেখিতে পাইবে চেতনা কিরূপে অন্ধ করিয়া তোমাদের ভুলের পথে বন্দী করে রাখে। যে মোক্ষ লাভ করিতে চায় সে যেন আত্নার অনুসন্ধান করে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/28976934 http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/28976934 2009-07-12 00:34:44
সংকোচ
এতটা বৈচিত্র্যের মাঝে মুগ্ধতা ছাড়া কোন উপায় থাকে না। এই বেলায় ঝিঁঝিঁ ডাক যখন মনোহর হয়ে উঠেছে, তখন কি ঘর ছাড়তে ইচ্ছে করছে না!

আমাদের সংকোচহীনতার মূলে হয়তো বা কোন মহত্তম ইচ্ছে থাকে। যা সহসা বুঝা হয়ে উঠে না। শেষ পয্যন্ত কোন অর্থহীনতায় নিরর্থক থাকে না। আমাদের এই অনর্থক বেঁচে থাকাটাও একটা কীর্তি বটে। এটা কোন সান্ত্বনা নয়, সৃষ্টির আনন্দে মুগ্ধ হয়ে বলছি। এই সত্য যেন মুছে না যায়।

আমিন!! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/28973711 http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/28973711 2009-07-05 02:17:57
মৃত্যু
কারো মৃত্যু হালকা, আর কারো ভীষণ ভারী এবঙ ভীতিকর। হয়তো পাপ-পূণ্যের বিষয়। মাঝে মাঝে মৃত্যু নিয়ে রোমান্টিক চিন্তা ভর করে। কিন্তু বাস্তব হয়তো তা-ই নয়। যতবার মৃত্যুর দৃশ্য দেখেছি ততবারই কেমন যেন বেদনার অনুভূতি। কোন কিছুর সাথে মেলাতে পারি না।

আমাদের সমাপ্তি আর হিসেব-নিকেশ। শেষ তো নয়- শুরু মাত্র।
আমাদের আগে অনেকে গেছেন, যাচ্ছেন এবঙ আমরাও যাবো।

জুনায়েদ বাগদাদী মৃত্যুর পূর্বে দেখতে পেলেন তার সমগ্র জীবনের পূণ্য একটা চুলের মতো শূণ্যে ভাসছে। আর আমি!

হিসেব করতে গেলে কিছুতেই কিছু মেলে না।

জগতে ছোট-খাট নিঃসঙ্গতা সহ্য হয় না, বুকের উপর ভারী পাথর হয়ে চেপে বসে। যেদিকে তাকাই শুধু নিঃসঙ্গতা। স্মৃতিশূণ্য জীবন। মৃত্যু তো স্মৃতিশূন্য নয়। হয়তো সেই মুহুর্তে সকল কিছু চোখের সামনে একের পর এক আসতে থাকে। আহ!

নিজেকে পলকের মাঝে পড়ে ফেলা। আমরা কি সকল কিছু মনে করতে চাই?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/28973229 http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/28973229 2009-07-03 23:47:57
নিরাপদ হইলাম
যা বলছিলাম, কি বলিব কি লিখব কিছুই মাথায় আসিতেছে না।
ভাবখানা এমন আমি বিদ্যার জাহাজ। আসলে তেমন কিছু না সকল কিছুতে প্রথম প্রথম এমন টগবগ করতে পারি। পরে কখন যে মিছিল হইতে ছিটকে পড়ি নিজেরও খেয়াল থাকে না।

ভাইসব দোয়াপ্রার্থী।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/28968180 http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/28968180 2009-06-23 00:28:41
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে লেখা ইন্ডিয়ান সর্দারের ঐতিহাসিক চিঠি
" ওয়াশিংটন থেকে প্রেসিডেন্ট সাহেব জানিয়েছেন যে তিনি আমাদের জমিজিরাত কিনতে চান। কিন্তু আকাশ কি কেনাবেচা করা যায়? যায় জমি কেনাবেচা করা? আমাদের কাছে এই ধারনা খুব অদ্ভূত মনে হচ্ছে। বাতাসের সজীবতা, জলের স্বচ্ছতা তো আমাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। তাহলে? কী করে কিনবেন তাদের?

" এই ধরিত্রীর ধূলিকনা আমার লোকদের কাছে পবিত্র। প্রতিটি পাইন গাছের পাতা, প্রতিটি বালুকণা, ঘনান্ধকার অরণ্যের প্রতিটি শিশিরকণা, প্রতিটি মাঠ, প্রতিটি গুন্জরিত পতঙ্গ। আমার লোকেদের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতায় এরা সবাই খুব পবিত্র।

" গাছ রস টেনে নেয় গোপন পথে-আমরা তা জানি, যেমন জানি রক্ত আমাদের ধমনী বেয়ে চলে। আমরা এই ভূলোকের অংশ যেমন এই ভূলোক আমাদের অংশ। সুরভিত ফুলেরা আমাদের বোন। ভালুক, হরিণ, রাজকীয় ঈগল-এরা সবাই আমাদের সহোদর ভাই। পাহাড়ের চূড়া, সবুজ প্রান্তরের রস, ঘোড়ার শরীরের ওম, আর মানুষ সবাই আমরা একই পরিবারের সদস্য।

" ঝরণায়, নদীতে স্ফটিক-স্কচ্ছ যে জল গড়িয়ে যায় সে তো নেহায়েত জল নয়, আমাদের প্রপিতাদের দেহের স্বেদ, রক্ত। আমরা যদি আপনাকে জমি বিক্রি করি তো অবশ্যই স্মরণ রাখবেন যে জমিটা পবিত্র। ঝিলের স্বচ্ছ জলে অলৌকিক ছায়া পড়ে। তার প্রতিটিতে আমাদের লোকদের জীবনের স্মৃতি আর ঘটনা বিম্বিত হয়। বনের মর্মরধ্বনিতে আমি আমার পিতামহের ডাক শুনতে পাই।

" নদীরা আমাদের ভাই। তাদের জলে আমাদের তৃষ্ণা মেটে। ওরা আমাদের নৌকা বয়ে নেয়, আমাদের সন্তানদের মুখের গ্রাস জোগায়। অতএব, আপনি অবশ্যই নদীকে সেই রকম দয়াদাক্ষিণ্য করবেন যেমনটি করবেন আপনার ভাইকে।

" আমরা যদি জমি বিক্রি করি তো মনে রাখবেন যে সেই জমির ওপর প্রবাহিত বাতাস আমাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। হাওয়া তার উদ্যমের অংশ দান করে তার সমস্ত পোষাকে। হাওয়া যেমন প্রথম ফুৎকারে আমাদের প্রপিতামহদের ফুসফুসে দিয়েছে দম, তেমনি গ্রহন করেছে তার অন্তিম শ্বাসবায়ুও। আমাদের শিশুদেরও বাতাস দেয় জীবনের উদ্যম। অতএব আপনাকে জমি বিক্রি করলে আপনি অবশ্যই সেই জমি বিশেষ যত্ন করে রাখবেন যেন সেখানে লোকে মাঠের ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ পাওয়ার লোভে সমবেত হয়।

" আমাদের সন্ততিদের আমরা যা শিখিয়েছি, আপনারাও কি আপনাদের সন্ততিদের তা-ই শেখাবেন? আমরা শিখিয়েছি এই ধরনী আমাদের মা। এই ধরনীর কিছু হলে এর সন্তানদের সবার তা হবে।

" আমরা এটুকু জানি: মাটি মানুষের নয়, বরং মানুষই মাটির। রক্ত যেমন আমাদের একত্রে বেঁধেছে, তেমনি সমস্ত জিনিসও পরস্পরে বাঁধা। জীবনের জাল মানুষ বয়ন করেনি। সেতো জালে কেবল বাঁধা। এই জালের ক্ষতি মানে তার নিজেই ক্ষতি।

" আপনাদের ভবিষ্যৎ আমাদের কাছে রহস্যজনক মনে হয়। গরু-ঘোড়া সব জবাই করলে কি হবে অবস্থাটা? বুনো ঘোড়া ফোষ মানিয়ে চালাবেন? অরণ্যের গোপন জায়গাগুলো যখন মানুষের ঘামের গন্ধে উঠবে ভরে, এবং উচুঁ পাহাড়ের চুড়া আলাপি তারের আড়ালে পড়বে ঢাকা, তখন কি হবে? ঝোপঝাড়, বন বাদাড় যাবে কোথায়? উধাও উধাও। আর ক্ষিপ্রগতি টাট্ট্ুঘোড়া আর শিকারকে অকালে বিদায় জানাতে হলে কেমন হয় ব্যাপারটা? তখন ফুটে উঠবে জীবনের অন্তিম দশা এবং শুরু হবে ধুঁকে ধুঁকে জীবন পথে চলা।

" যখন একেবারে শেষ মানুষটিও তার নিধুয়া দিগন্তে পাড়ে হাওয়া হয়ে গেছে, এবং তার স্মৃতি কেবল ভাসমান মেঘের মতো প্রেইরির পাথারে থেকে থেকে ছায়াসম্পাত করে বেড়াচ্ছে, তখনো কি এই সমুদ্রতট, এই অরণ্যরাজি থাকবে, যেমন আজো আছে? তখনো কি আমার লোকেদের আত্না মিশে থাকবে এদের আনাচে কানাচে?

" নবজাতক যেমন তার মায়ের হ্দস্পন্দন ভালোবাসে, তেমনি আমরা ভালোবাসি এই পৃথিবীটাকে। অতএব আমরা জমি বিক্রি করলে আপনিও একে আমাদের মতোই ভালোবাসবেন। আমরা এর যেমন যত্ন নিয়েছি, আপনাকেও সে রকম যত্ন নিতে বলি। জমি সম্প্রাদনের অবিকল স্মৃতি মনে ধরে রাখুন। সমস্ত সন্তানের জন্য জমি রক্ষা করুন, জমিকে ভালোবাসুন যেমন ঈশ্বর আমাদের ভালোবাসেন।

" আমরা যেহেতু সবাই ভূমির অংশ, সে জন্য আপনিও এর অংশ। জমি আমাদের কাছে মূল্যবান, তেমনি আপনার কাছেও। একটা বিষয়ে আমরা নিশ্চিত: ঈশ্বর এক। মানুষ-সে লালই হোক আর সাদাই হোক, কখনো সে অন্য থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না; হাজার হলেও আমরা তো পরস্পর ভাই।

উৎস:
জোসেফ ক্যাম্পবেলের মিথচিন্তা
ভাষান্তর: খালিকুজ্জামান ইলিয়াস


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/28958921 http://www.somewhereinblog.net/blog/sirdartha/28958921 2009-06-02 00:47:20