আমার রুম মেট প্রেমে পড়েছে। আমরা পাঁচজন মিলে একমেসে থাকি। মেস মানে পাঁচজন একটা বাসা ভাড়া করে থাকি সিলেট শহরের মোটামুটি ইম্পর্টটেন্ট একটা জায়গায়।সবে মাত্র ২/২ ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ক্লাশ শুরু হয়েছে, কিন্তু এখনো পুরোদমে না। আর হলেই বা কি, পড়াশোনা যা করার তা তো টার্ম ফাইনালের আগের দিন ছাড়া করা হয় না। তাই সারাদিন ক্যাম্পাসে ঘুরে, বিকেলে মামার দোকানে চায়ের আড্ডা দিয়ে আর রাতে নেটওয়ার্কে গেম খেলে মোটামুটি আমরা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতেছি। এরমাঝে কথা নাই বার্তা নাই রুমমেট প্রেমে পরে গেল।আমি মোটামুটি গবেট টাইপ ছেলে। ক্যাম্পাসের কোথায় কি হচ্ছে তা খেয়াল রাখি না। কে কার সাথে প্রেম করে, কে কার সাথে বিকেলে ঘুরতে বের হয় কিংবা কে কতক্ষন লেডিস হলের সামনে দাড়িয়ে থাকে তাও জানি না। রুমমেট বিতর্ক করে। বিতর্ক ক্লাবের মেম্বার টেম্বার এই টাইপের কিছু হবে হয়তো। ইন্টার ডিপার্টমেন্ট বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তার সাথে নাকি এক জুনিয়র মেয়ের পরিচয় হয়েছে।সেই থেকে তার ভেতর ব্যাপক পরিবর্তন। সারাদিন কি যেন ভাবে। মেসের পোলাপান তাকে খেপায়। সবচেয়ে বড় জ্বালাতনে পড়ছি আমি। প্রেমে পড়লে ছেলেদের মাঝে নাকি কবি কবি ভাব জাগে। তো আমার মেসমেটের মাঝে কাব্য প্রতিভা না জেগে যেটা জাগলো সেটা হোল সংগীত প্রতিভা।সে কোনদিনও গান টান শুনতো না।এখন দেখি সে সারাদিনই গানশুনে। আর একটাই গান শুনে খালি। ‘আমার সারা দেহ খেওগো মাটি...’। এত সুন্দর একটা গান, কিন্তু দিনের মধ্যে শ’দুয়েকবার এই একই গানশুনে আমার মাথা খারাপ মত হয়ে গেল। তার ওপর একদিন শুনি সে হেরে গলায় রবীন্দ্র সংগীতের সুরে গাচ্ছে ‘আমার সারা দেহ খেওগো মাটি,এ চোখ দু’টো শুধু খেও না...’।
আল্লাহ মনে হয় কোন সমস্যাই বেশিদিন রাখেন না। আমিও খুব দ্রুতই মাটি খাওয়া গানের সমস্যা থেকে রক্ষা পেলাম। মেসমেটদের একজন এসে খবর দিল, ওই মেয়ের সাথে নাকি অন্য একটা ছেলেকে প্রায়ই দেখা যায়। এরপর চোখের সামনে দেখলাম ট্রাজেডি পর্ব। আমার রুমমেট সারাদিন মেঝেতে খালি গায়ে শুয়ে থাকে ছাদের দিকে তাকিয়ে। মাঝে মাঝে গানটা নিজেই গাওয়ার চেষ্টা করে। কখনোই মূল সুরের কাছাকাছি যেতে পারে না। বেচারার জন্য আমার খারাপই লাগা শুরু হয়। এর মাঝে আমার আর এক মেস মেট ঘোষনা দিলো সে এতদিন যে মেয়েটার পেছনে ঘুরছিলো, সেই মেয়ে নাকি তাকে প্রেমে সম্মতি দিয়েছে। এই উপলক্ষে আমরা একরাতে ফিস্টও করে ফেললাম। আমার রুমমেট পানশে মুখে ফিস্ট খেলো। এরপরের কাহিনী খুব ছোট। পরের দিনই সে তার পছন্দর মেয়ে কে প্রোপোস করে ফেললো, আর মেয়ে সরাসরি তাকে জানিয়ে দিলো যে সে প্রেম করবে না।এসব নিয়ে ভাববেও না। আমার রুমমেট ছ্যাকা খেলো কিনা তাও বুঝলো না। তার অল্পদিনের মধ্যেই আমরা জানতে পারলাম মেয়েটি অন্য একটা ছেলের প্রেমের প্রস্তাবে সারা দিয়েছে। এরপর বহুদিন দেখেছি মেয়েটি আর ছেলেটিকে একসাথে ঘুরতে, বসে থাকতে। আর আমার রুমমেট? সে আর সেই গান শুনে না। আমিও বাঁচলাম।
বেশ কিছু দিন পর সে আমার কাছে জানতে চাইলো, সিজার তোর কাছে কি ওই গানটা আছে? আমি বলি কোন গানটা?
–‘কাল সারারাত ছিলো স্বপনেরো রাত....’ এই গানটা?
আমি খুব ভালোভাবে তাকিয়ে তাকে বোঝার চেষ্টা করি। আবার কি সে প্রেমে পরেছে?
গানটা আমার কাছে ছিলো। তারপরও বলি ‘না, রে দোস্ত, আমার কাছে নাই’। সাবধানের মার নাই।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



