তুমি কি জানো, তোমার কোন জিনিসটা আমি ভালোবাসি?
-কোনটা?
মেয়েটার প্রশ্নে লজ্জা মাখা কৌতুহল।
-তোমার ছেলেমানুষি।
-আমি মেয়ে, এটা হবে মেয়েমানুষি।
ছেলেটার ভুল ধরতে পেরে মেয়েটা যেন গর্ববোধ করে।
-আচ্ছা মেয়েমানুষি।
ছেলেটা মুচকি হাসে।মেয়েটার এই জাতীয় ছেলেমানুষি আসলেই সে খুব পছন্দ করে।
কিছুক্ষন চুপ করে থেকে মেয়েটা প্রশ্ন করে,
-আচ্ছা, তুমি সারা জীবন আমার সাথে থাকবে?
-কেন নয়। সারা জীবন তোমার পাশে থাকবো। তোমাকে নিয়ে উইক এন্ডে পূবের পাহাড়ে সূর্যাস্ত দেখতে যাবো। পড়ন্ত বিকেলে সূর্য যখন অস্ত যাবে, পাহাড়ের চূড়ায় সেই আলো প্রফিলিত হয়ে মনে হয় যেন পুরোটা পাহাড় সোনা দিয়ে মোড়ানো। অস্তগামী সূর্যের আলো যখন তোমার মুখে এসে পড়বে, হালকা হাওয়ায় তোমার সামনের দিকের চুল এসে পড়বে তোমার মুখে।আমি তখন তা তোমার মুখের ওপর থেকে সরিয়ে দিয়ে লালচে আলোয় তোমাকে দেখবো।
-সত্যি?
মেয়েটা যেন বিশ্বাস করতে পারে না।সত্যিই সে সুযোগ পাবে তার প্রিয় মানুষটির সাথে পুরোটা জীবন একসাথে থাকবার? কোন অপার্থিব বাধা তাদের এই স্বপ্নকে গুড়িয়ে দিবে নাতো?
-যদি বিপদ আসে? হঠাৎ করে আমাদের স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়?
মেয়েটার কন্ঠে স্পষ্ট শঙ্কা।
-কেন ভাঙ্গবে? এই যে দেখ আমি তোমাকে ধরে আছি। কখনো এই হাত তোমাকে ছাড়বে না।
মেয়েটাকে আস্বস্থ করে ছেলেটা মেয়েটাকে ধরতে চায়।কিন্তু ছুতে পারে না।চারিদিক ধীরে ধীরে অন্ধকার হয়ে আসে।ছেলেটা অন্ধকারে হাত বাড়িয়ে মেয়েটাকে স্পর্শ করতে চায় প্রান পণে। কিন্তু পারে না।মেয়েটিও আকুল হয়ে খুঁজতে থাকে তার প্রিয় মানুষটিকে।
----- -------- -------- ------- -------- ------- ------- -------- -----
সিস্টেমটা সাট ডাউন করে বিজ্ঞানী নিহান ছেলে মেয়ে দুইটির কথোপকথনের লগ পুরো পর্যবেক্ষন করেন। নাহ, তার গবেষনা মুটামুটি সফল বলা চলে এখন। বছরখানেক ধরে তিনি তার ডি.এন,এ কম্পিউটারটিতে একটি মানবিক আবেগ সম্পন্ন সিস্টেম নিয়ে গবেষনা করছেন।মানবিক আবেগের মোটামুটি সবগুলো দিকই পরীক্ষা করা হয়ে গেছে। ভালোবাসা অংশের পরীক্ষাটা করছেন গত কয়েকদিন। এজন্য একটা ছেলে আর একটা মেয়ে চরিত্র তৈরী করতে হয়েছে কৃত্রিম ভাবে। নারী আর পুরুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য গুলোর সম্ভাব্য সব কম্বিনেশনের একটা ড্যাটাবেজের সাথে একটা ইন্টারফেস দিয়ে যুক্ত ডি.এন.এ কম্পিউটারটি। কৃত্রিম ভার্চুয়াল ছেলে মেয়ে দু’টির কথা বার্তায় পুরোপুরি ভাবে মানুষের ভালোবাসা আর আবেগের ব্যাপারটা ফুটে উঠেছে। একদম সত্যিকারের মানুষের মতো। তারমানে বিজ্ঞানী নিহানের তৈরী সিস্টেম টি সত্যিকার অর্থেই এখন ভালোবাসার মতো জটিল একটা মানবিক আবেগসম্পন্ন। মুগ্ধ চোখে বিজ্ঞানী নিহান তার ডি,এন,এ কম্পিউটারটির দিকে তাকিয়ে থাকেন। একটা বিশাল পাত্রে বেশ খানিকটা তরলের মাঝে রাখা অসংখ্য ব্যাকটেরিয়ার ডি.এন.এ।বিভিন্ন দিক থেকে তাতে ঢুকে আছে কতোগুলো ক্যাথোড আর অ্যানোড টিউব। কৃত্রিম ছেলে মেয়েদুটির কথাবার্তার লগ দেখে কে বলবে, ভালোবাসার অসম্ভব সুন্দর রোমান্টিক কথা গুলো কতগুলো ব্যাকটেরিয়ার ডি,এন,এর মাধ্যমে তৈরী?
সেখানে সত্যিকারের মানুষের ভালোবাসার কোন অস্তিত্ব নেই।
নির্ঘন্ট:
ডি.এন,এ: ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) একটি নিউক্লিক এসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রনের জিনগত নির্দেশ ধারন করে।
ডি,এন,এ কম্পিউটার: যে কোন জীবের ডি,এন,এ ব্যাবহার করে তৈরী কম্পিউটার যার গননা ক্ষমতা অনেক বেশী। এতে মাইক্রোচিপের পরিবর্তে ডি,এন,এ কে গননার কাজে ব্যাবহার করা হয়। এতে সাধারন কম্পিউটারের দুই ভিত্তিক গণনার পরিবর্তে চার ভিত্তিক গননা পদ্ধতি ব্যাবহার করা হয়। ব্যাকটেরিয়ার ডি,এন,এ ব্যাবহার করেই খু্ব শক্তিশালী একটা ডি,এন,এ কম্পিউটার তৈরী করা সম্ভব। ব্যাপরটা এখনো গবেষনার পর্যায়ে আছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



