somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্বারুচিনি দ্বীপের কথা (ছবি ব্লগ)

০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"জরীর হাত ধরে শুভ্র চাঁদের আলোয় সমুদ্র দেখছে। হঠাৎ সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসে। শুভ্র অন্ধ হয়ে যাচ্ছে।" এমন একটা দৃশ্যে প্রায়ই ভেসে উঠতো মনে হুমায়ুন আহমেদের দারুচিনি দ্বীপ আর রুপালী দ্বীপ বই দু'টি পড়ার পর থেকে। সেই থেকে মনে মনে ভাবতাম আমিও আমার জরীকে পেলে একদিন এভাবেই সমুদ্র দেখবো দারুচিনি দ্বীপে গিয়ে। সে সুযোগ হলো অনেকদিন পর। তাই এই পূর্ণিমায় ঘুরে এলাম দ্বারুচিনি দ্বীপ-সেন্টমার্টিন। আমাদের দেশটা যে কত কত সুন্দর তা আবারো বুঝলাম। সমুদ্র আর প্রবাল দ্বীপ দেখতে মানুষ ব্যাংকক-মালয়শিয়া যায়। অথচ তার চেয়ে অনেক সুন্দর প্রবাল দ্বীপ আছে ঘর হতে দুই পা বাড়ালেই। দ্বারুচিনি দ্বীপ ঘুরে এসে যারা এখনো সেখানে যান নি তাদের জন্য নিজের তোলা কিছু ছবি শেয়ার করলাম।


সেন্টমার্টিন যেতে হয় জাহাজে করে। কেয়ারী সিন্দবাদ আর কুতুবদিয়া নামে দু'টি জাহাজ প্রতিদিন সকাল ১০ টায় টেকনাফ থেকে ছেড়ে যায় দ্বারুচিনি দ্বীপের উদ্দেশ্যে। আবার বিকেল চারটায় ছেড়ে আসে।

মালবাহী নৌকা।এই ছবিটা নাফ নদী থেকে তোলা। তখন আমি কেয়ারী সিন্দবাদের যাত্রী।


নাফ নদীর আর একটা ছবি। দূরে ঝাপসা দেখা যাচ্ছে মায়ানমারের পাহাড়। এই নদীর অর্ধেকটা বাংলাদেশের আর বাকিটা মায়ানমারের।নদীর তীরে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া মায়ানমার বর্ডার ও দেখা যায়।


সেন্টমার্টিনের কাছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়মিত টহলযান। সব সময়ই নাকি একটা না একটা নৌবাহিনীর জাহাজ এখানে নোঙর করা থাকে।


দারুচিনি দ্বীপে পৌঁছে গেছি আমরা। বিস্তৃর্ণ সৈকত। কেবল ছবি দিয়ে যার সৌন্দর্য বর্ণনা করা যাবে না।


সেন্টমার্টিনের দীর্ঘ জেটির নীচ থেকে তোলা ছবি এটা।


মাঝ দুপুরে সেন্টমার্টিনের সমুদ্রতট। প্রচন্ড রোদ ছিলো সে ক'দিন। আমি এমনিতেই কালো, এখন আরো কালো হয়ে গেছি :(


ভর দুপুরে তিন বোরখাওয়ালীর সানবাথ :P


ছেঁড়া দ্বীপের পথে।সেন্টমার্টিন ছেড়ে একটু পাশেই ছেঁড়া দ্বীপেও ঘুরে এসেছি। ছোট্ট এই দ্বীপটা যেন আরো সুন্দর।


ছেঁড়া দ্বীপ। সেন্টমার্টিনের মায়া ছাড়িয়ে একটা প্রায় সতন্ত্র একটা দ্বীপ। এখানে কোন জন মানুষ নেই। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য তাই এখনো মানুষের হাতে নষ্ট হবার সুযোগ পায় নি।


একটুকু ছনের ঘর। মাথার উপর সূয্যি মামা তখন প্রবল প্রতাপে হাসছেন। তাই পুরো দ্বীপে মাথা গোজার এই একটাই ঠাঁই।


ম্যাক্রো ফটোগ্রাফীর একটুখানি শখ জাগছিলো মনে। মানুষ কি জিনিস এখনো মনে হয় এই ফড়িংটা বুঝে উঠে নাই। একদম সামনে ক্যামেরা নিয়ে যাওয়ার পরও নড়াচড়ার নাম নাই। তাই এই গাধা ফড়িংটার কল্যাণে আমিও গ্রেট ফটোগ্রাফার হয়ে গেলাম।;)


জেলেদের কাছ থেকে মাত্র তুলে আনা চিংড়ী। বড়টার সাইজ ছিলো একফুটের চাইতে লম্বা।


আটকে পড়া কাঁকড়া।দ্বীপের ছোট ছোট গর্তে জোয়ারের সময় আটকে পড়া মাছ আর কাঁকড়ার দল। মনে হয় বুঝি মাছ আর কাঁকড়ার আবাদ চলছে।


এমনি সব ট্রলারে করে যেতে হয় ছেঁড়া দ্বীপে। ছবিটা স্পীড বোট থেকে তোলা।


ছেঁড়া দ্বীপের আর একটা ছবি। সমুদ্রের মাঝে এই পাথরটা দেখে মনে হয় কেউ একটা টেবিল উল্টিয়ে রেখেছে!:|


দিনের শেষে। সূর্য ডুবে দ্বারুচিনি দ্বীপের সৈকতে। নেমে আসে অন্ধকার। কারন, সেন্ট মার্টিনে এখনো বিদ্যুত পৌঁছায় নি।


পূর্ণিমা ছিলো সেদিন। চাঁদ উঠছে। এরপর পূর্ণিমার আলোয় আমিও শুভ্রর মতো আমার জরী রে নিয়া সমুদ্রে নেমেছিলাম। ছবি তোলা হয় নি আর। কিছু কিছু সময়ের ছবি তুলতে হয় না। এমনিতেই তা স্মরণীয় হয়ে থাকে চিরকাল।

শেষকথা: বাংলাদেশ বলতেই পৃথিবীর মানুষকে বোঝানো হয় বন্যা,ঘুর্ণিঝড় আর সাইক্লোনের দেশ হিসেবে। এটা কিন্তু বোঝায় আমাদের সকরকাররাই। কারন তাতে বিদেশী সাহায্য পাওয়া যায়। যা দিয়ে নিজেদের উদরপূর্তি করা যায়। অথচ আমার দেশেই আছে অসাধারন সুন্দর সব জায়গা। আমরা চাইলেই আমাদের দেশটা পরিচিত হতে পারে আর একটা ভুস্বর্গ হিসেবে। আমরা চাইলেই কি বিবিসি,সিএনএন এ ইন্ক্রেডিবল ইন্ডিয়া, ন্যাচারাল নেপাল, ট্রুলি এশিয়া মালয়শিয়া বা এক্সেলেন্ট কম্বোডিয়ার মতো বিউটিফুল বাংলাদেশকে দেখতে পারি না?

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৯
৪২টি মন্তব্য ৪২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দশ বাপের পোলা :B# :-P :B#

লিখেছেন আমিই মিসিরআলি, ২৪ শে মে, ২০১৫ রাত ৮:০৪

একদা এক ভরদুপুরে,
বসিয়া ছিলাম পুকুরঘাঁটে
,


একপাল বালক দাপাদাপি করিতেছিল পানিতে। তাহাদের মধ্য হতে এক অতিশয় দুষ্ট বালক সকলের আগোচরে ঘাঁটের উপরিভাগের কোনার এক বড় সিঁড়িতে দণ্ডায়মানরত অবস্থায় দুই হস্ত গগণমুখি করিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতিষ্ঠিত একদল ব্যান্ড ম্যামবার কর্তৃক একটি মেয়ে হ্যারেসমেন্টের (!) ঘটনার চাক্ষুস বিবরণ

লিখেছেন শান্তনু চৌধুরী শান্তু, ২৪ শে মে, ২০১৫ সকাল ১০:৪৫

সেইদিন আমাদের ক্যাম্পাসের পক্ষ থেকে ফেয়ারওয়েল উপলক্ষ্যে একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যান্ড আসছিল । মোটামুটি সবাই এক্সসাইটেড । তবে আমি নষ্টালজিক । কারণটা সেই ব্যান্ডের গান বা তাদের সাথে কাটানো পুরানো সময়গুলোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মনের বৌদ্ধিক ভাব

লিখেছেন জয়দেব কর, ২৪ শে মে, ২০১৫ সকাল ১১:৪৪



মূল : ওয়ালপোলা রাহুল
ভাষান্তর : জয়দেব কর


ধর্ম-প্রবর্তকদের মধ্যে বুদ্ধ ( যদি আমাদেরকে জনপ্রিয় ধারণায় তাঁকে ধর্মের প্রবর্তক বলতে বলা হয়) ছিলেন একমাত্র শিক্ষক যিনি নিজেকে একজন খাঁটি ও সরল... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাধীনতার‬ ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া হত্যা পরবর্তী প্রতিক্রিয়াঃ বিশ্ব গণমাধ্যমের দৃষ্টিকোণ

লিখেছেন আটলান্টিকের প্রবাল, ২৪ শে মে, ২০১৫ দুপুর ১২:১১

স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যাঁর ইতিহাসের সূচনা হয়েছে স্রোতের বিপরীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে, হ্যাঁ, ৭১ এর কথা বলছি। শেখ মুজিবর রহমানের দিক-নির্দেশনা দেয়া ছাড়াই আত্মসমর্পণ আর নারকীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম নিয়ে সমস্যা, সমাধান কি?

লিখেছেন বরফের গরম, ২৪ শে মে, ২০১৫ দুপুর ১:৫৩

প্রথম অংশ

আমরা ধরে নিলাম, সকল ধর্মই সঠিক। সকল ধর্ম সঠিক মানে আল্লাহ আছে। আকাশে বাতাসে কোথায়ও না কোথায়ও আছে। ভগবানরা আছে। ইশ্বর গড, মহাদেব বৌদ্ধ সকলেই আছে।

তাহলে পৃথবীর বাইরে মহাকাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

" মোর ঘুমঘোরে এলে মনোহর -নমো নম, নমো নম, নমো নম নজরুল জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি : নজরুল সংকলন

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ২৪ শে মে, ২০১৫ বিকাল ৩:৫৪

আজ আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৬তম জন্ম জয়ন্তী।

আমাদেরতো দেবার কিছু নেই- নেবার ছাড়া। নিতেই বা পারছি কই? এক অখন্ড নজরুলকে খন্ড খন্ড করে যে যার মতো করে... ...বাকিটুকু পড়ুন