প্রিয় ব্লগারগণ,
আমরা সবাই জানি যে মানুষের জীবনের অন্যতম বড় সম্পদ হল সূসাস্থ্য। আর এই স্বাস্থ্যের দিকেই যেন আমাদের তাকানোর সময় নেই। সারাক্ষণ আছি শুধু আছি অন্য বিষয় নিয়ে। এই ব্লগে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য পোষ্ট পেলাম না স্বাস্থ্য সর্ম্পকিত। যাই হোক ব্লগারদের কল্যাণার্থে অনেক মাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ঝেড়ে মুছে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য দেবার চেষ্টা করেছি মাত্র। যদি আমার এই পোষ্টের কারণে কারো সামান্যতম উপকার হয় তবে আমার এ পোষ্ট সার্থক।
সুস্থ জীবন যাপনের গোপন রহস্য
১. প্রাণ খুলে হাসুন..
হাসি ওষুধ। দীর্ঘ ও নীরোগ জীবনের জন্য হাসি অনেক উপকারে আসবে আপনার। একটা হিসেবে দেখা গেছে যে রোয়িং মেশিনে ১০ মিনিট ব্যায়াম করলে হার্টের যে উপকার হয়, চব্বিশ শ'খানেক বার হাসলে সেই একই কাজ হয়। অতএব হাসুন। মনে রাখবেন কোনও ঘটনার কারণে স্বাভাবিক হাসিতে যে উপকার, চেষ্টা করে হাসলেও সেই উপকার। হাসিতে শুধু হার্ট নয়, সমগ্র শরীরের নানা উপকার হয়।
বেশি করে হাসুন। যখন কথা বলছেন তখন, গাড়িতে আছেন, এমনকি যখন অফিসে কাজ করছেন তখনও। হাসির উপকারিতার কথা সবসময় মাথায় রাখুন। অন্যদের সঙ্গেও হাসি ঠাট্টা করুন। এমন গান শুনুন যা শুনে আপনার মন ভাল থাকে।
আপনার মুখের ভঙ্গি সম্পর্কে সচেতন হোন। যদি চেহারায় বিষন্নতা থাকে, তাহলে চোখমুখে খুশির ছাপ ফুটিয়ে তুলুন। তবে হ্যাঁ, আপনি যখন হাসুন আর যখনই হাসুন এমন সময়ে কিছু করবেন না যাতে আপনাকে বোকা বোকা লাগে বা অন্যেরা কিছু মনে করতে পারে।
২. প্লেটটাকে ক্যানভাস ভাবুন
শরীর ভাল রাখার জন্য রোজকার খাবারে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করুন। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা এমন হওয়া উচিত যাতে সর্বাঙ্গীণ পুষ্টি আপনার জোটে। এ কাজটা সহজ হয় যদি খাবারের থালাটি আপনার চোখে ভাসে। খালি থালাটিকে মনে মনে তিন ভাগে ভাগ করুন। তার মধ্যে অর্ধেক থালায় অর্থ্যাৎ অর্ধেক ভাগে থাকবে কার্বোহাইড্রেট প্রধান খাবার, তিনের এক অংশে শাক-সবজি আর ছয়ের এক অংশে প্রেটিন সমৃদ্ধ খাবার। খাবার নির্বাচন করার সহজ পদ্ধতি হল খাবারের রং, গন্ধ, চেহারার দিকে লক্ষ্য রাখা। তবে কৃত্রিম রং নয়। খেয়াল করে দেখবেন আপনার প্লেটের খাবারে যদি নানা রং থাকে তাহলে সেগুলো আসছে শাক-সবজি থেকে। যেমন গাজরের কমলা, বিটের লাল, কুমড়োর হলুদ, বিনের সবুজ ইত্যাদি। আর একটা কথা, খাবারে তন্তু অর্থ্যাৎ ফাইবার জাতীয় খাবার রাখার চেষ্টা করবেন। ফাইবার পেট পরিষ্কার রাখার উত্তম উপায়। এছাড়া এই ধরনের প্রাকৃতিজ রঙিন খাবার আপনার ইমিউনিটি সিস্টেমের উন্নতি ঘটাবে। যখনই কোন রেস্তরায় খেতে যাবেন স্যালড বার-এর দিকটা ভুলবেন না। মাছ মাংস খেলেও আপনার প্লেটটাকে ক্যানভাস ভেবে কিছু প্রাকৃতিজ রং অ্যাড করুন সবজি বা ফলের মাধ্যমে।
৩. ঘুমের কোন বিকল্প নেই...
ভাল ঘুম না হলে পরের দিনটাই মাটি হয়ে যায়। ব্যক্তিবিশেষে ঘুমের সময়ের তারতম্য হলেও সাধারণভাবে ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুম আমাদের দরকার। তবে যে যতক্ষনই ঘুমোন, দেখতে হবে ঘুমের কোয়ালিটি যাতে ভাল হয়। অর্থ্যাৎ ঘুমটা যেন বেশ গাঢ় হয়। গাঢ় ঘুমের জন্য কয়েকটি কথা মনে রাখা উচিত। সেগুলি হল: ঘুমানোর বেশ কয়েক ঘন্টা আগেই চা, কফি, সিগারেট খাওয়া বন্ধ করতে হবে। রাত্রে ভারী মশলাযুক্ত খাবার পারতপক্ষে খাবেন না। ঘুমানোর আগে বেশি পরিশ্রম, উত্তেজনা ঠিক না। ঘুমের ওষুধ নিয়মিত খাওয়া ক্ষতিকর। ঘুমনোর একঘন্টা আগে দরকার হলে ক্যালশিয়াম-ম্যাগনেশিয়াম সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন। আর একটা কথা ঘুমের সময় ছাড়া বিছানা ব্যবহার করবেন না। বেডরুমটাকে ডাইনিং রুম বা অফিসের কাজের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।
৪. সাহায্য নিন সুগন্ধির...
অসম্ভব মানসিক চাপে রয়েছেন ? ভ্যানিলা ও আমন্ড সেন্ট শুঁকে দেখুন, হালকা লাগবে। ঘুম আসছে না ? ল্যাভেন্ডার সেন্ট, ভ্যানিলা ও আমন্ড সেন্ট মেখে দেখুন। দেখবেন কখন ঘুমিয়ে পড়েছেন !!
গন্ধের সঙ্গে আমাদের শরীর, মন ও আবেগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ইদানীং অ্যারোমাথেরাপির গুরুত্ব বাড়ছে এ কারণেই। জাপানে এক পরীক্ষায় দেখা গেছে কিছু কিছু গন্ধ আমাদের ভুল করার হার কমিয়ে দেয় অনেকখানি।
এসেনশিয়াল অয়েল সোজাসুজি ত্বকে লাগালে সেই অয়েল যেন আমন্ড বা অন্য কোন ভেজিটেবল অয়েলভিত্তিক হয়। এটি এক বাটি জলে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল ফেলুন, তারপর সেটা ধীরে ধীরে উবে যেতে দিন। অ্যারোমাথেরাপি ক্যান্টল ঘরে জ্বালায়ে রাখুন। সাইনাস পরিষ্কার রাখতে স্নানের জলে কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিটপটাস বা রোজমেরি অয়েল দিন। এসেনশিয়াল অয়েল বেশি মাত্রায় ব্যবহার করবেন না। হিতে বিপরীত হতে পারে। কতটা কতক্ষণ পরে ব্যবহার করলে ভাল বোধ করেন সেটা পরীক্ষা করে দেখুন।
৫. ধুমপান ছেড়ে দিন...
ধুমপান ছেড়ে দেওয়া শরীরের পক্ষে যে উপকারী এটা বহু পুরনো তথ্য। ধুমপান ছেড়ে দিলে হার্টের পক্ষে মঙ্গল, হজম শক্তির পক্ষে মঙ্গল, ঘুমের পক্ষে মঙ্গল। ধুমপান ছেড়ে দিলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কমে যায়, ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এসব তথ্য আপনাদের জানা। তবু আপনার জানার জন্য আরো কিছু তথ্য দেওয়া যাক। ধুমপান চিরতরে বন্ধ করার জন্য এসব তথ্য কাজে লাগাতে পারবেন।
* শেষ সিগারেট খাওয়ার ২০ মিনিট পর আপনার ব্লাড প্রেসার, পালস্ রেট স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। হাত পায়ের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হতে থাকে।
* শেষ সিগারেট খাওয়ার ৮ ঘন্টা পর রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক
হতে থাকে, বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড চলে যেতে থাকে।
* শেষ সিগারেট খাওয়ার ২৪ ঘন্টার পর হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কমে
আসতে থাকে।
* শেষ সিগারেট খাওয়ার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আপনার গন্ধ ও স্বাদ সংক্রান্ত
স্বাভাবিক ক্ষমতা ফিরে আসে।
* শেষ সিগারেট খাওয়ার ৭২ ঘন্টার মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়ে
আসে।
* শেষ সিগারেট ২ সপ্তাহ থেকে ৩ মাসের মধ্যে আপনার ফুসফুসের
কার্যক্ষমতা শতকরা তিরিশভাগ বৃদ্ধি পায়, রক্ত চলাচলের উন্নতি হতে
শুরু করে।
চলবে...
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ২:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


