চকোলেট পেলে খুব সহজেই কাছে চলে আসে, তবে সিস্টাররা যদি বলেন, ফেরত দিয়ে দাও। সে আর দেরি করবে না। সঙ্গে সঙ্গেই ফেরত দেবে।
ছবি তোলার কথা বলতেই সে বিভিন্ন পোজ দিতে থাকে। সাংবাদিকের ডিজিটাল ক্যামেরায় নিজের ছবি দেখে এক পর্যায়ে ক্যাপ্রো জানায়, সে ওই ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলবে।
এক পর্যায়ে সত্যিই সে সাংবাদিকের সহযোগিতার নিকন ডি সেভেনটি ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলে। নিজের তোলা ছবি ক্যামেরার স্কৃনে দেখে উল্লসিত হয়।
ক্যাপ্রো পড়ে শিশুশ্রেণীতে। তার বাবা নেই। প্রায় বছর খানেক আগে তার এক আত্মীয় তাকে এখানে রেখে যায়। আর কেউ কোনোদিন খোজ নেননি। তার মা আছেন। কিন্তু তার পক্ষেও ছেলেকে দেখতে আসা সম্ভব হয়নি। কারন দেখতে হলে তিন দিন কেবল পাহাড়ের পর পাহাড় পার হয়ে আসতে হয় এখানে। ফিরতি পথে আবারও পাহাড় পার হওয়ার ঝক্কি। টানা ছয় দিন থাকতে হয় কামাই রোজগার আর খাওয়া ছাড়া।
ক্যাপ্রোকে আমি বলেছিলাম, ওই খানটায় গিয়ে বসো, আমি তোমার ফটো তুলবো। সি ঠিক হাসিমুখে গিয়ে সেখানটায় বসে। তাকে বললাম গুরুজী কিভাবে ধ্যান করতে বসেন দেখাও। সে অমনি বসে পদ্মাসনের ভঙ্গিতে। আমি ফোকাস অ্যাডজাস্ট করি, ফ্রেম ঠিক করি, তারপর শাটার টিপবো, অমনি সে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ফিক করে হেসে ফেলে।
ক্যাপ্রো এখানেই থাকে। শিশুকাননই তার ঘরবাড়ি। এখানকার মানুষই তার পরিবারের সদস্য। মুখ কখনোই গোমড়া থাকে না। কেমন আছো জানতে চাইলে হাসি দিয়ে বলে - বেশ ভালো আছি।
ক্যাপ্রোকে নিয়ে যায়যায়দিনে লিখেছিলেন ফিচার এডিটর মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান। সে লেখা থেকে ধার করলাম আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

