আমরা তখন ভোরের কাগজের চার তলায় ফিচার বাহিনীর সদস্য। আমাদের লিডার সঞ্জীব দা (প্রয়াত সঞ্জীব চৌধুরী) আর মিটুন ভাই। সে সময় মানিব্যাগের ভেতর ভোরের কাগজের আইডি কার্ড, পদ মর্যাদার স্থানে লেখা "কন্ট্রিবিউটর"। আমাদের কাছে তখন সেটিই সাংবাদিকতার টিকেট। বাবুও ছিল আমাদেরই মতো কন্ট্রিবিউটর। তবে তার লেখালেখির এলাকা, বিষয় ও অনুপ্রেরণা ছিল এফডিসি।
যাই হোক, চার তলায় ফিচার বিভাগ, আমারা সেখানে প্রতি সোমবার মিটিং করি। মুড়ি চানাচুর খাই (চানাচুর, সর্ষের তেল আর পেঁয়াজ মাখানো মুড়ি ছিল মিটিংয়ের জাতীয় খাদ্য। সেটার বিল আসতো অফিস থেকে।) সে মিটিংয়েই ঠিক হতো পরের মেলায় কোন কোন আইটেম দেয়া হবে। প্রায় ৩০-৪০ জন কন্ট্রিবিউটরের বিশাল হাউকাউ।
সে রকম এক মিটিংয়ের পর আমাদের আলোচ্য বাবু এসে বললো. দাদা, আগামি পরশু ঢাকা ক্লাবে অমুক সিনেমার "শুভ মহরত"। ডিরেক্টর সাব বলছে আপনেরে আমি যেন অবশ্যই নিয়া যাই।
যাই হোক, এতে দোষের কিছু ছিল না। সঞ্জীব দা এসব অনুষ্ষ্ঠান এড়িয়ে চলতেন, লৌকিকতার খাতিরেও তেমন একটা যেতেন না। ফলে দাদাকে সেখানে নিয়ে যেতে পরলে ডিরেক্টরের কাছে বাবুর জন্য সেটা ক্রেডিটের ব্যপার হয়। দাদা বললেন, ঠিক আছে, তুই আমাকে আগের দিন মনে করিয়ে দিস।
নির্দিষ্ট দিন সন্ধ্যায় সঞ্জীব দা সে অনুষ্ঠানে গেলেন। লে হালুয়া, সেটা আবার ককটেল পার্টি। বেশুমার মদ্যপানের আঞ্জাম।
জীবনে কোনোদিন বাবুকে শার্ট ইন করতে দেখা যায় নি, সেদিন তাকে দেখা গেল ফুল স্লিভ শার্ট ইন করে ঢাকা ক্লাবে হাজির। সঞ্জীব দাকে সে মোটামুটি গার্ড অফ অনার দিয়ে নিয়ে গেল একটি টেবিলে। মহরতের আনুষ্ঠানিকতাও একসময় শেষ হলো। বাবু এসে দাদাকে জিজ্ঞেস করে, দাদা কি খাইবেন, বিয়ার নাকি বুদকা (ভদকা, বাবুর উচ্চারণে বিরাট সমস্যা তখন ছিল। এখনো আছে, তবে এখন সে আবার প্রমিত বাংলা উচ্চারণে যাবার চেষ্টা করে। ফলে আর কথাবার্তা ও উচ্চারণনে নতুন মাত্রা এসেছে।)
সঞ্জীব দা মুচকি হেসে বললেন, দেখি তোর বুদকাই আন। বাবু মহা উদ্যামে চলে গেল বারের কাছে। দাদার জন্য পানীয় নিয়ে এলো।
এর প্রায় মিনিট কয়েক পর বাবুকে দেখা গেল কোনায় এক টেবিলে আয়েশ করে একটি বরফ ঠাণ্ডা বিয়ারের ক্যান নিয়ে বসেছে। দাদা সেটি খেয়াল করছিলেন। এক পর্যায়ে দেখা গেল দাদার হাতে গ্লাস আর সে হাতটি স্থির হয়ে আছে। দাদার চোখও স্থির হয়ে আছে বাবুর দিকে। দুই টেবিল দূরে বাবুর দিকে তাকিয়ে দেখা গেল সে ঠাণ্ডা বিয়ারের সঙ্গে একটি কোকের বেতলও জোগার করে ফেলেছে। দাদা তাকিয়ে সেটিই দেখছেন।
দেখা গেল বাবু একটি গ্লাসে বরফের টুকরা ঢালছে। তার সঙ্গে যোগ করল ক্যানের বিয়ার। আধ গ্লাসের পর বাবু বিয়ার ঢালা বন্ধ করলো। তারপর বাকী গ্লাসটি সে পুরো করল কোক দিয়ে।
সঞ্জীব দা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন, বাবু সেদিকে খেয়াল নেই। সে তার বানানো "পানীয়" আধ গ্লাস খেল। তারপর উঠে পড়ল।
সঞ্জীব দা ডাক দিলেন, এই বাবু এদিকে আয়। বাবু এলে দাদা বললেন, তুই খেলি না?
হেলে দুলে হেটে এসে বাবু বেশ সিরিয়াস ভাবে উত্তর দিল, না দাদা। বিয়ার আমি দুই পেগের বেশি খাই না।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



