প্রথমে সম্ভবত সরকার ভেবেছিল দেশের মানুষ দুই নেত্রীকে একেবারেই দেখতে চায় না। তাদের ছুড়ে ফেরে দিলেই মানুষ মারহাবা বলবে। সেটি সম্ভব হয় নি। অনেকেই তখন বলেছেন দেশের মানুষ অশিক্ষিত বলে হয়তো পরিবারতন্ত্র টিকে আছে এখানে। তাই যদি হয়, বুশের ছেলে, ক্লিনটনের বৌ কি করে পলিটিক্সে নাম লেখায় কে জানে। ফখরুদ্দীনই কেন নিজের শ্যালক ছাড়া আর কাউকে ফরেন অ্যাডভাইজর হিসেবে খুজে পেলেন না এ হিসাব আমি মেলাতে পারি না।
সম্ভবত অতি মাত্রায় হিপেক্রেসির জন্যই এ সরকারের আজকে এই অবস্থা। একদিকে তারা নিজেদের সৎ দেখাতে চেয়েছে, অপরদিকে গায়ের জোরে নেত্রীদের বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করেছে। যখন পাঠানো সম্ভব হলো না, তখন মামলা দিয়ে জেলে ঢোকানো হলো। সে সময়ের আইন উপদেষ্টা তো বলেই বসলেন, আমরা চেয়েছিলাম উনারা বিদেশে চলে যান। ভাবখানা এমন, পাঠাতে চাইসিলাম, যাও নাই, এখন জেলের ভেতর পচে মরো।
মাশাল্লা, সেই উপদেষ্টা নাকি এখন পদ আর মর্যাদা হারিয়ে নিজেই বিশেষ বাহিনীর নজরদারিতে।
তারপর দেখলাম বিখ্যাত ডকট্রিন অফ নেসেসিটি। বিএনপির মান্নান ভূইয়া গং আর লীগের আমু গংরা আরামে বাইরে থাকলো আর বাকী সবাই চৌদ্দ শিকের ভেতর।
মজার ব্যপার হলো, যে প্রতিষ্ঠানের পানিপড়া খেয়ে সরকার সারা দেশ দুর্নীতিতে ডুবে গেছে বলে ফতোয়া দিল, সেই টিআইবির রিপোর্ট বলে দেশে সবচেয়ে বেশি টাকার দুর্নীতি হয়েছে মান্নান ভুইয়ার মন্ত্রনালয়ে।
আজ দেখা যাচ্ছে হাসিনা খালেদার কোনো অবৈধ সম্পদের খোজ পায়নি লেজেহাম চৌধুরী। অথচ তিনি এ দুজনকে জেলে ঢোকানোর জন্য এতাই ব্যাস্ত ছিলেন যে মান্নান ভুইয়ার দিকে তাকানোর সুযোগ বা সময় তাদের মেলেনি। সে সময় আর সুযোগ তারা কখন পেলেন? যখন মান্নান ভুইয়া বিএনপি ভাঙ্গতে পুরোপুরি ব্যর্থ হলেন।
বিশ্বাস করতে মন চায় যে, এই সরকার সৎ নিয়তে কাজ করছে, কিন্তু মনকে বোঝাতে পারি না। আজ যদি হাসিনা-খালেদা তাদের বিরুদ্ধে মাণহানির মামলা করেন, কোথায় যাবেন লেজেহাম চৌধুরী?
একাধিক দুর্নীতি মামলা করা হয়েছে হাসিনা-খালেদার বিরুদ্ধে এই বলে যে, তারা যথেষ্ট সচেতন ছিলেন না তাই রাষ্ট্রের অনেক টাকা ক্ষতি হয়েছে। অথচ, আমরা দেখলাম গত দুই বছরে কী চরম অব্যাবস্থাপনায় দেশের অর্থনীতি ডুবতে বসেছে। এখন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর কি বলবেন?
এতো সব কিছুর পর সরকার এমন সব কাজ করছে যা তাদের কেউই করতে বলে নাই। মাঝখান থেকে ক্রমশ অনিশ্চয়তার দিকে এগুচ্ছে ইলেকশন। যারা বিদ্যুৎগতিতে দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দুই ব্যক্তিকে তাদের সভাসদসহ জেলে ঢুকাতে পারে, তারা এখন সাফ দিলে কোনো কথা বলছে না। কেন?
স্রেফ আমার ধারনা সরকার এখনো সম্ভবত বুঝতে পারছে না ইলেকশন হলে কে জিততে পারে।
ফলে সরকার সম্ভবত কান্দুপট্টির সেই বিখ্যাত লাইনটিকেই তাদের মটো হিসেবে ঠিক করে রেখেছে, কাস্টমার হইল গিয়া কাস্টমার। লীগ বা বিএনপি যে তাদের বৈধতা দেবে, তাদেরকেই তারা জিতাতে চেষ্টা করবে। কারণ তাদের একটি ইনডেমনিটি দরকার।
সেটি বুঝতে পেরে হাসিনা বলেই দিয়েছেন, সব বৈধতা দিয়ে দেব। খালেদা সম্ভবত এতো সহজে ছেড়ে দেবেন না। তাই কৌশলে বলছেন, যারা যাই করুক না কেন, তাদের প্রতি বিরুপ নয় বরং আইনানুগ আচরণ করা হবে। এর অর্থ হলো আমরা কিছু করবো না, কিন্তু যদি আইনে ফেসে যাও, সেটা তোমরা সামলাবা।
সরকার এখন বিএনপির সঙ্গে কেমন আচরণ করে সেটাই দেখার বিষয়। সিনেমা অবশ্য শুরু হয়ে গেছে। আজ দেখা গেল সাইফুর, আর দুইটা রাজাকার জেলে ঢুকেছে।
আমি সেই পরিবারে বড় হয়েছি যে বাড়িতে কোনো জামাতী পরিবারকে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতে দেয়া হয় না। অথচ রাজাকার দুইটার জেলে যাওয়াতে স্বস্তির চেয়ে শঙ্কাই বেশি লাগে। কারণ, এতে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোকদের বগল বাজানোর কিছু নেই। সরকারের সঙ্গে হালুয়া রুটি ভাগ বাটোয়ারার হিসাব মেলানো সম্ভব হলে আবার ওই দুইটা বের হয়ে আসবে বলেই মনে হয়।
এখন সরাসরি এই কাজটি করতে গেলে সমস্যা। কারন দুর্নীতির বিরুদ্ধে এরা একসময় ফালাফালি করেছে। তাই বাইরের চেহারায় নিজেদের সৎ ইমেজও রাখতে চায়।
আমার ধারণা সরকার যদি দেশটি গছিয়ে দেবার মতো বিস্বস্ত কাস্টমার (লীগ বা বিএনপি) না পায় তাহলে আবারো ওয়ান ইলাভেনের মতো পরিস্থিতি তৈরি করবে এবং এর পর দেশটি তার ফাইনাল যাত্রা শুরু করবে পরকালের দিকে।
আমার মতে বাংলাদেশ এখনো কোমায় আছে, এবং তাকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। যে কোনো কারণেই হোক, সুষ্ঠু নির্বাচন যদি এবার না হয়, তাহলে দেশটি মারা যাবে।
অনেক দুঃখে কথাগুলো বললাম। ভালো লাগছে না।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



