(জ্বিনের বাদশা "প্রসঙ্গ নির্বাচন: আসলে কি হচ্ছে?" Click This Link শিরোনামে একটি পোস্ট দিয়েছেন। এতে তিনি নির্বাচন বিষয়ে বর্তমান অচলাবস্থার কারণ খুজে বের করার চেষ্টা করেছেন। এ লেখাটি সেখানেই কমেন্ট আকারে দেয়া যেত। তবে বড় হয়ে যাওয়ায় আলাদা পোস্ট আকারে দিলাম।)
জ্বিনের বাদশার বিশ্লেষন বেশ ভালো, তবে একটু দ্বিমত আছে আমার। কারণ আলোচনায় তিনি সবচেয়ে সক্রিয়, আলোচিত ও বিতর্কিত পক্ষটি বাদ দিয়ে গেছেন, সেটা হলো ফখরুদ্দিন আর নির্বাচন কমিশন পক্ষ। গত দুই বছরে এদের ব্লাফ আর স্টান্টবাজী তো আর কম দেখিনি। কয়েকটা উদাহরণ মনে করে দেখুন-
০১. বিগ ফিশ ইজ আওয়ার বিজনেস (এখন মাছ ধরা বন্ধ)
০২. সরকার দুই নেত্রীকে বিদেশ পাঠানোর চেষ্টা করছে না। (সে সময়ের পত্রিকা খুললেই সত্যিটা জানা যাবে)
০৩. বেশি করে আলু খান। (এটা সম্ভবত ঈশ্বরের তরফ থেকে নাজিল হওয়া বাণী)
০৪. মান্নান+হাফিজই আসল বিএনপি। (শেষ পর্যন্ত এরাই দল থেকে মাইনাস টু)
০৫. আসন সীমানা পুণঃনির্ধারণ (এটা কারোই দাবী ছিল না)
০৬. আগের দুই সরকারের আমলে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশ পাচার হয়েছে। (সে বিষয়ে এরা এখন কিছুই বলেন না)
০৭. দুই নেত্রীর কোনো অবৈধ সম্পদ নেই। (হা ভগবান!)
০৮. বিএনপির ছয়টি দাবী মেনে নেয়া হয়েছে। (পরের পয়েন্ট খেয়াল করুন)
০৯. কোনো দাবীই মানা হয়নি। তবে যুক্তিসংগত বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে। (আগের পয়েন্ট খেয়াল করুন)
আসলে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা বর্তমানে এমন স্থানে এসে পৌছেছে যে, এদের আসলে লীগ বা বিএনপি কেউই বিশ্বাস করতে পারছে না।
ফলে ইলেকশন সিনারিও এখন যেহেতু লীগের খানিকটা পক্ষেই দেখা যাচ্ছে, তাতে লীগ চাইছে সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া যায়। আবার এদের চেহারা কখন বদলে যায় কে জানে।
অপর দিকে এ সরকারকে বিএনপির পক্ষ থেকে বিশ্বাস করার কোনো কারণ আছে এটা সম্ভবত পাগলেও বিশ্বাস করবে না। ফলে বিএনপি নিশ্চিত হতে চাইছে এ সরকার চাইলেও আবার যেনো কোনো দুই নম্বরি করতে না পারে। যে জন্য তারা ৯১(ই) বাতিল করতে বলছে, যে ধারা অনুসারে নির্বাচন কমিশন চাইলে ভোটের দিনও যে কোনো প্রার্থীর নমিনেশন বাতিল করে দিতে পারে। সেইসঙ্গে, বিএনপির সম্ভবত আসলেই খানিকটা সময় দরকার প্রস্তুতির জন্য। (যে সময়টা বিএনপি না পেলে লীগের জন্য নির্বাচনী মাঠ আরেকটু সুবিধার হয়।)
এখন আসুন দেখি ইলেকশন নিয়ে দুই দলের চিন্তা কি হতে পারে। লীগ ভাবছে তারা জিতে যাবে যদি এখনই নির্বাচন হয়। আবার বিএনপির জন্য বর্তমান সময়টি যতোটা খারাপ তার চেয়েও খারাপ অবস্থায় দলটি ছিল ৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন করার পর। সে সময় তারা ছিল নৈতিক দিক থেকে পরাজিত। তবুও সে সময় তারা সংসদে ১১৬টি সিট কনফার্ম করেছিল। সে সময়ের তুলনায় এখন বরং নৈতিক দিক থেকে বিএনপির অবস্থান ভালো। তাদের (খালেদা ও তারেক) বিরুদ্ধে হাজার চেষ্টার পরও সরকার কোনো অপরাধই প্রমাণ করতে পারেনি। এর সঙ্গে রয়েছে জামাতের ফিক্সড ভোট ব্যাংক। ফলে তারাও যদি ইলেকশনে জেতার স্বপ্ন দেখে, আমি আপনি বলার কে?
এর ফলে বর্তমান অবস্থানটি সরকারের জন্যও বেশ নাজুক। তারাও সম্ভবত বুঝতে পারছে না আসলে ফল কি হতে পারে। সরকারের আসলে দরকার একটি ইনডেমনিটি। সেটি কোথা থেকে পাওয়া যাবে, সেটি সরকারের কাছে যতোদিন নিশ্চিত হচ্ছে না, ততোদিন কি হবে সেটা সম্ভবত ফখরুদ্দিনও জানেন না।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



