ফটোগ্রাফি ভালোবাসি বলে দৃকের কাছাকাছি থাকাটা আমার জন্য প্লাস পয়েন্ট। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে এদের যোগাযোগ অসম্ভব ভালো। ফলে দৃকের কাছাকাছি থাকলে ফটোগ্রাফি বিশ্বের টাটকা খোঁজখবর ভালোই পাওয়া যায়। যেমনটি এবার পেলাম।
অফিসে কাজ করতে করতে ঝিমুনি এলে আমার অভ্যেস পাঁচ/দশ মিনিট বাইরে হেঁটে আসা। তেমনি হাঁটতে বেরিয়েই দেখলাম বেঙ্গল গ্যালারিতে ফটো একজিবিশন হবে। তার ব্যানার টানানো হচ্ছে। একটু কাছে এগিয়ে গেলাম। আমার চোয়াল ঝুলে গেল। রঘু রাইয়ের প্রদর্শনী হবে। উদ্বোধন পরের দিন। সকাল ১১টায়।
রাতে ফেসবুকে বসেছি। দৃক সংশ্লিষ্ট একজন তরুণ ফটোগ্রাফার বললেন, কাল আসেন বেঙ্গলে। আমি বললাম যাব, তবে রঘু এলে ভালো হতো। তিনি বললেন, রঘু তো এখন ঢাকায়! কাল সে থাকছে উদ্বোধনে।
সে রাতটি কি করে কাটিয়েছি আমি বলতে পারব না। ফটোগ্রাফির একজন দিকপাল, প্রফেটও বলা যেতে পারে। সেই রঘু হাতের নাগালে থাকবেন।
ম্যাপ ফটো এজেন্সির অ্যাসোসিয়েট লতিফ ভাই যখন আমাদের ফটোগ্রাফির ক্লাস নিতেন, কতো বার যে রঘু রাইয়ের রেফারেন্স টেনেছেন।
সবচেয়ে বেশি রেফারেনাস ছিল লেন্স বিষয়ে। রঘু রাই সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে বনেদী ফটোগ্রাফারদের মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যক লেন্স নিয়ে কাজ করেন। রঘুর নিজের কথায়, "আমার বড় ভাই পল আমাকে বললেন নতুন ওয়াইড অ্যাঙ্গল লেন্স কিনতে। আমি বললাম এখন নয়। ভাই আমাকে বললেন যে, আমি কৃপণতা করছি, পয়সা বাচাচ্ছি। আমি বললাম, বিষয়টি ঠিক তেমন নয়। যে প্রাইম লেন্স নিয়ে এখন আমি কাজ করছি সে লেন্সটি যে স্পেস আমাকে দেয়, তার পুরো ব্যবহার এখনো আমি করতে পারিনি। আমি এখনো জানি না কোন পরিস্থিতিতে এটি আমাকে কেমন রেজাল্ট দেবে। যখন আমি এ লেন্সটির ব্যপারে অভিজ্ঞ হয়ে উঠব, তখন আমি লেন্সটি ক্যামেরায় না লাগিয়েও ঠিক ঠিক বুঝবো কোন রেজাল্ট পাবার জন্য আমাকে কোন স্টেপগুলো নিতে হবে। তার আগে আমি মনে করি না নতুন আরেকটি লেন্স ধরার যোগ্যতা আমার হয়েছে।
সেই রঘুকে পরের দিন দেখলাম বেঙ্গল গ্যলারিতে। আমি সাড়ে দশটাতেই গিয়েছিলাম, যদি ক্ষাণিকক্ষণ আগে পাওয়া যায়, তবে হয়তো দু-চারটি কথা বলার সুযোগ হবে। সে সুযোগটি আমার হয়েছিল।
সে দিন যে ছবিগুলো তোলার সুযোগ হয়েছিল তার কিছু এখানে শেয়ার করা গেল। এ বিষয়ে বিডিনিউজে করা আমার রিপোর্টটি পাবেন এখানে।
একজিবিশন উদ্বোধনের আগে রঘু দেখে নিচ্ছেন ছবিগুলো
দৃক পিকচার লাইব্রেরির পরিচালক ড. শহিদুল আলম আর রঘু রাই বলছেন একজিবিশন সম্পর্কে
একসঙ্গে ছবি তোলার সময় রঘু জিজ্ঞেস করলেন আমার ক্যামেরায় কোন লেন্স লাগানো আছে। বললাম ৫০ মিলিমিটার প্রাইম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আরো ওয়াইড লেন্স ব্যবহার করছি না কেন?
বক্তৃতা করছেন রঘু রাই
একসময় দেখি শহিদুল আলম আমার ছবি তুলছেন, আমিই বা তাঁকে ছেড়ে দেব কেন?
টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে প্রদর্শনীর উদ্বোধন ঘোষনা করছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। সম্প্রতি তেল-গ্যাস ব্লক ইজারার প্রতিবাদে এক মিছিলে পুলিশের হামলায় আহত হবার কারণে তিনি স্বশরীরে গ্যালারিতে আসতে পারেন নি।
আমাদের অনুরোধে রঘু পোজ দিলেন নিজের তোলা ছবির সামনে।
এক ফাঁকে পেলাম অন্যমনষ্ক অবস্থায়
বিকেলে ওপেন ডিসকাসে তরুণ ফটোগ্রাফারদের সঙ্গে শহিদুল আলম ও রঘু রাই।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


