মানব জন্মের রহস্য ঘটনাবহুল ইতিবৃত্ত। সেই রহস্য আরও ঘনীভূত হয় যখন ভাবতে হয়- মানব শরীর তৈরির প্রধান উপকরণ হচ্ছে মাটি। এটি ধর্মগত সত্যের অনুষঙ্গ। খুব গভীরে না গেলে যার রহস্য উদ্ঘাটন অসম্ভব। সহজ তত্ত্বে এটুকু অনুমান করা যায়, মাটির ভেতরে শেকড় রেখে সবুজ চারাগাছ যেমন পৃথিবীর আলোয় তার সবুজ সম্ভারের ঘোমটা খুলে দেয়, যেমন করে গোলাপ ফুটে ওঠে সৌন্দর্য নিয়ে, ঠিক তেমনিভাবে আমাদেরকে বিশ্বাস করতে হয় মাটি থেকেই প্রথম মানবদেহ অস্থি-মজ্জা, রক্ত, শিরা-উপশিরার প্রাক সৃষ্টির পর্ব পেরিয়ে পূর্ণ সৃষ্টির পর্বে পদার্পণ করেছিল। সেখানে সরাসরি প্রাপ্তির বিষয়টি ছিল যৌবন। তাকে আর দুধের বোতলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি। দোলনার গল্প শুনতে হয়নি। পরবর্তীতে ইভকে সৃষ্টির পর থেকে মানুষের যৌন জীবনের শুরু। জন্ম যেমন অবধারিত তেমনি যৌবনের নিয়ামক যৌনতা তেমনি তার সহজাত প্রবৃত্তি।
সব কিছুর জন্য শিক্ষার প্রয়োজন হলেও যৌনতার জন্য কোনো নির্দেশনা লাগে না কিংবা বলার প্রয়োজন হয় না তোমার এখন মিলিত হবার সময়। এটি ধর্মীয়ভাবেও স্বীকৃত তবে তা একটি নিয়মে আবর্তিত হবার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যৌনতা কখনোই সীমাবদ্ধ গণ্ডি কিংবা কোনো ধর্মীয় নিয়মের তোয়াক্কা করেনি। সাধারণের ক্ষেত্রে এটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হলেও পুরাণকালে রাজা-বাদশাদের কাছে এটি একটি রাজসিক রীতি হিসেবে গণ্য হতো। সেই রীতির আধার ছিল রমণী আর অবকাঠামো ছিল হারেমখানা।
হারেম শব্দের আরবিরূপ ‘হারাম’। ভিন্ন জাতিসত্তার কাছে তার নামকরণ ভিন্ন ভিন্ন শব্দে হয়েছে। তুর্কি ভাষায় এটিকে বলা হয়েছে হারেমলিক। ইউরোপীয়রা যাকে সেরালিয়ো বলে আখ্যায়িত করেছে। খুব সহজ ভাষায় ভারতীয়দের কাছে এটি তখন অন্তঃপুর হিসেবে চিহ্নিত ছিল। হারেম শব্দের যত সহনীয় অর্থ থাক না কেন আদিকাল থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত হারেমখানা ছিল বহু নারীকে ভোগের নির্ধারিত স্থান। হারেমের আচরণ যৌনতার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। সেকালে রাজা-বাদশারা হারেমখানায় রতি অসংখ্য নারীকে অনায়াসে এবং অবাধে ভোগ করার অধিকার সংরক্ষণ করত। সাধারণ জনগণের মুখ বন্ধ রাখার জন্য তাদের জন্যেও ছিল আলাদা সুব্যবস্থা।
হারেমখানার প্রতি অতি আসক্তের কারণে অনেক রাজা তাদের রাজ্য হারিয়েছেন, নিঃস্ব হয়েছেন কিন্তু তাদের বিকৃত রুচি আর যৌন-জীবনে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।
মুসলিম ধর্মে এই বিষয়টি নিষিদ্ধ থাকলেও রাজা-বাদশারা সেই নীতির পথে পা-ই রাখেননি। ১৪০০ সালে ফিরোজ শাহ ভীমা নদীর তীরে একটি পাথরের দুর্গ গড়েছিলেন। এই দুর্গের ভেতরে ছিল অসংখ্য মনোরম আঙিনা। প্রতিটি আঙিনা আলাদা আলাদা করে তিনি নির্ধারণ করেছিলেন তার প্রিয় রমণীদের জন্য। কথিত যে, এই বিশাল দুর্গটিও তার হারেমখানার স্থান সংকুলানের জন্য যথেষ্ট ছিল না। কারণ তিনি একদিনে তিনশ’ রমণীকে হারেমখানায় ভোগ করেছিলেন।
মোগলদের শাসনকালে হারেমখানাকে তারা যৌন-প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিল। আবুল ফজলের মতে, সম্রাট আকবর একটি বিশাল প্রাচীর বেষ্টিত ভবন তৈরি করেছিলেন যেখানে পাঁচ হাজারেরও বেশি রমণীর বসবাস ছিল। যাদের প্রত্যেকের জন্য আলাদা ক নির্ধারিত ছিল। কী ঘটত মহলের অভ্যন্তরে? আলুলায়িত উত্তেজনা। শাহ বেগম ছিলেন শাহজাদা খসরুর মা। তিনি ছিলেন রাজা ভগবান দাসের কন্যা। তার মহলের উপরাংশে রাজা-রমণীদের নানা অঙ্গভঙ্গির কুৎসিৎ ছবি ছিল। চারপাশে শোভা পেত যৌনতার কারিগরি দৃশ্য। সম্রাট শাহজাহানের সিংহাসনটি ছিল জেনানা মহলসংলগ্ন। কারণ হারেমখানা থেকে বের হয়ে যাতে সহজে এবং অল্প সময়ে তিনি সিংহাসনে এসে বসতে পারেন। পরবর্তীতে অন্য সম্রাটদের কাছে এটি একটি রীতিতে পরিণত হয়। হারেমের রমণীদের চলাচলও ছিল নিয়ন্ত্রিত। তাদের রাখা হতো সাধারণ মানুষের দৃষ্টির বাইরে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে রাজ্য এবং রাজাদের সংকটকালে হারেমখানা ছিল নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
হারেমখানায় শুধু দেশীয় রমণী থাকত তা নয়, অনেক বিদেশি রমণীদেরও আনা হতো। এসব রমণীকে আনা হতো দালাল, উমেদার কিংবা বিদেশি বণিকদের মাধ্যমে। রাজকীয় বিয়ে ব্যবস্থায় প্রথম রানী, দ্বিতীয় পত্নী এবং পরিত্যক্ত স্ত্রী- এই তিন ভাগে জেনানাদের ভাগ্য নির্ধারিত হতো। অন্তঃপুরে ক’জন রানী থাকবে তা নির্ভর করত রাজার ইচ্ছার ওপর। এখানে উপপত্নী রাখার প্রথাও চালু করেন হিন্দু রাজারা। কোনো কোনো রাজার যৌনতায় ক্রীতদাসীরাও প্রভাব বিস্তার করেছিল।
রাজা হর্ষ ছিলেন নির্বোধ প্রকৃতির। তাকে সহজেই বশ করেছিল ক্রীতদাসীরা। ক্রীতদাসীদের যৌনতা নিবারণেও তিনি কোনো কার্পণ্য করেননি। একাধিক জেনানার সঙ্গে মিলনের দিনণ ঠিক করার জন্য সে সময় দূতির ব্যবস্থা থাকত। তারা রাজার ভোগের জন্য কখন কাকে নির্ধারণ করবে তা নিয়ন্ত্রণ করত।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, হারেমখানা ছিল যৌন-মহল, সেখানেই লালিত-পালিত হতো রাজ পরিবারের শিশুসন্তানরা। হারেমখানায় সুগন্ধি ব্যবহারেরও সুব্যবস্থা ছিল। সম্রাট আকবরের দরবারে অম্বর, ঘৃতকুমারী এবং আকবরের নিজ ফর্মুলায় উদ্ভাবিত সুগন্ধি ব্যবহারের প্রচলন ছিল সর্বাধিক। হারেমের রমণীরা কান-নাক-গলা, কবজি আঙুলে অলংকার পরত। এসব ঐতিহ্যবাহী অলংকার ব্যবহৃত হয়েছে যুগের পর যুগ।
হারেমের কাহিনীর সঙ্গে অনেক পুরুষের করুণ কাহিনী জড়িত। হারেমখানা পাহারার জন্য যেসব পুরুষ ভৃত্যকে নিয়োজিত করা হতো তাদের পুরুষাঙ্গ কেটে খোজা করে দেয়া হতো যাতে তারা রাজার ভাগে ভাগ বসাতে না পারে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রানীরা বাজার চেয়ে যৌন আবেদন পূর্ণ করার জন্য প্রহরীকেই বেছে নিতে পছন্দ করত। দেশে যখন যুদ্ধ থাকত না তখন তাদের হারেমই হয়ে উঠত লাম্পট্য আর ব্যভিচারের অভয়ারণ্য। প্রাক বৌদ্ধ আমল থেকেই সহজে যার প্রমাণ পাওয়া যায়।
আলোচিত ব্লগ
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।