আজ মহানায়কের মৃত্যুদিন। এর মাঝে ত্রিশ বছর কেটে গেছে। তবু তিনি বাঙালি দর্শকের চির আরাধ্যই থেকে গেছেন। মাত্র ৫৪ বছর বয়সে ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ ছবিতে অভিনয় করার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মহানায়ক উত্তম কুমারের জীবনাবসান হয়। তার সঙ্গে টালিগঞ্জের স্বর্ণযুগের আপত অবসান ঘটে। কিন্তু দর্শক হৃদয়ে তাঁর আসন ভালোবাসায় আরক্ত। তাঁর অভিনয়সত্ত্বার জয়গান যেন কাল থেকে মহাকালের পথে ধাবমান।
বাংলা চলচিত্রের মহানায়ক উত্তম কুমার। হয়তো অনেক পুরাতন কথা কিন্তু বারবার বলতে হচ্ছে হয়। এই বলার জায়গাটি তিনিই প্রস্তুত করে গেছেন। তার সাথে নিজকে করেছেন কিংবদন্তীতুল্য।
১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কোলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কিশোর অরুন কুমার চট্টোপাধ্যায় উত্তম কুমার হয়ে ওঠার আগে উচ্চতর শিক্ষার জন্য কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও অভিনয়ে যুক্ত হবার কারণে শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারেননি। চলচ্চিত্রের নায়ক হবার আগে তিনি কোলকাতা পোর্টে একজন সাধারণ কেরানী হিসেবে চাকরি শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি সৌখিন মনোবৃত্তিতে বিভিন্ন গ্রুপ থিয়েটারের সঙ্গে নাট্যাভিনয়ে যুক্ত হন।
উত্তম কুমারের অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘দৃষ্টিদান’। এর আগে তিনি ‘মায়াডোর’ চলচ্চিত্রে কাজ করলেও চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়নি। উত্তম কুমারের প্রথম সফল চলচ্চিত্র ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ (১৯৫৩)। বাংলা চলচ্চিত্রের আরেক মহারানী সুচিত্রা সেন ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ চলচ্চিত্রে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। শুরু হয় উত্তম-সুচিত্রার স্বার্নালী অধ্যায়। তারই ধারাবাহিকতায় ‘সপ্তপদী’ (১৯৬১), ‘পথে হলো দেরী’ (১৯৫৭), ‘হারানো সুর’ (১৯৫৭), ‘চাওয়া-পাওয়া’, ‘বিপাশা’ (১৯৬২), ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘সাগরিকা’ (১৯৫৬), ‘শিল্পী’ (১৯৬৫), ‘শাপমোচন’ (১৯৫৫), ‘অগ্নিপরীক্ষা’র (১৯৫৪), জনপ্রিয়তা আজও কোন বাংলা চলচ্চিত্র অতিক্রম করতে পারেনি।
উত্তম সুচিত্রার নাম ভালোবাসার স্বরে ঘরে ঘরে উচ্চারিত। ছোটি সি মোলাকাত, নায়িকা, অমানুষ, আনন্দাশ্রম, কিতাব এবং দুরিয়ানসহ বহু হিন্দী চলচ্চিত্রেও তিনি সুনামের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। ‘ছোটি সি মোলাকাত’ ছবিতে তার বিপরীতে ‘নায়িকা’ হিসেবে অভিনয় করেন বৈজন্তিমালা, ‘অমানুষ’ এবং ‘আনন্দাশ্রম’ ছবির বিপরীতে অভিনয় করেন শর্মিলা ঠাকুর। এ সব হিন্দী চলচ্চিত্র জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে ফিরেছেন সঠিক সময়ে স্বমহিমায়। সমৃদ্ধ করেছেন টালিউডকে।
টালিউডের খ্যাতির পিছনে তার অবদান অনেক বেশি। টালিগঞ্জ কিংবা পরবর্তীতে টালিউড এবং উত্তম কুমার একে অপরের পরিপূরক। ষাট এবং সত্তর দশকে অগ্রদূত, অগ্রগামী, আত্রিকসহ অনেক গুণি পরিচালনা পরিষদ তার বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। বিশ্বখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘নায়ক’ তার জীবনের এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। সত্যজিত রায় উত্তম কুমারের ব্যাক্তিসত্তা মাথায় রেখেই নায়ক চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য প্রস্তুত করেছিলেন।
উত্তম কুমার শরবিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের লেখা এবং সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘চিড়িয়াখানা’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। ‘পলাশির পদাবলী’সহ অনেক চলচিত্রের প্রযোজক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। উত্তম কুমারের সময়কে অনেকই বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ নামে অভিহিত করেন। সুচিত্রা সেন এবং সাবিত্রির সঙ্গে তার প্রেমের টানাপোড়েনে স্ত্রী সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে-এমন কাহিনীও প্রচলিত।
উত্তম কুমার অভিনয়ের স্বীকৃতিও পেয়েছেন, পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। সত্যজিৎ রায় অভিনীত ‘নায়ক’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ১৯৬৭ সালে এই পুরস্কার পান তিনি। ‘চিড়িয়াখানা’ এবং ‘অ্যান্থনি ফিরিঙ্গি’র জন্যও তিনি পুরস্কৃত হন।
উত্তম কুমার ছিলেন তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। তার দ্বিতীয় ভাই বরুন কুমার ছোট বয়সেই মারা যান। ছোট ভাই তরুণ কুমারও বাংলা চলচ্চিত্রের অতি পরিচিত নাম। উত্তম কুমার এবং তরুণ কুমার একত্রে সপ্তপদি, মায়ামৃগ, অগ্নিশ্বরে অনবদ্য অভিনয়ের স্বাক্ষর রাখেন। উত্তম কুমারের একমাত্র পুত্র গৌতমও চলচ্চিত্রের সংগে যুক্ত ছিলেন কিন্তু তিনি ক্যন্সারে মারা যান।
উত্তম কুমার অভিনীত চলচিত্র ‘বসু পরিবার’, ‘সাড়ে চুয়াত্তর’, ‘মনের ময়ূর’, ‘গৃহে প্রবেশ’, ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘অ্যান্থনি ফিরিঙ্গি’, ‘পথে হলো দেরী’, ‘জীবন জিজ্ঞাসা’, ‘আলো আমার আলো’, ‘রাজদ্রোহী’, ‘সবার উপরে’, ‘শ্যামলী’, ‘শিল্পী’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘নায়ক’, ‘চাওয়া পাওয়া’, ‘ঈন্দ্রানী’, ‘রাজলক্ষী ও শ্রীকান্ত’, ‘সপ্তপদী’, ‘নায়িকা সংবাদ’, ‘চিড়িয়াখানা’, ‘গৃহদাহ’, ‘কখনো মেঘ’, ‘ধন্যি মেয়ে’, ‘মৌচাক’, ‘স্ত্রী’, ‘তিনকড়ি হালদার’, ‘খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’, ‘পথের দাবী’, ‘ভ্রান্তিবিলাস’, ‘রাজকুমারী’, ‘সিস্টার’, ‘জয় জয়ন্তি’, ‘গলি থেকে রাজপথ’, ‘বাঘবন্দি’, ‘অগ্নিশ্বর’, ‘সন্যাসী রাজা’, ‘হারানো সুর’, ‘চৌরাঙ্গী’, ‘আনন্দাশ্রম’, ‘দেশপ্রেম’, ‘ওগো বধূ সুন্দরী’র মতো অসংখ্য চলচ্চিত্র চিরকাল মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হবে। বাঙালি দর্শকের হৃদয়ে চিরকাল তিনি থাকবেন চির কামনায়। বাংলাদেশের হৃদয় হতে তাঁর জন্য অনেক অনেক শ্রদ্ধা।
আলোচিত ব্লগ
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।