বিশ্বায়ন, যখন শুরু হয়, তাকে অনেকেই ইসলাম ও বিভিন্ন দুর্বল জাতি-সংস্কৃতির জন্য হুমকি ভেবেছিলেন। বিশ্বায়ন যেভাবে এগিয়ে চলেছে তাতে মনে হয় এটি বর্তমান সময়ের একটি অবিচ্ছেদ্য প্রক্রিয়া। আল্লাহ এর মাধ্যমে ইসলামকে কি দিতে চাচ্ছেন তাই আলোচনা করা যেতে পারে।
একটু বুদ্ধির সাথে চিন্তা করলেই বোঝা যায়, বিশ্বায়নের ফলে সবচেয়ে উপকারিত হবে মুসলিমরা।
বিশ্বায়ন এই পৃথিবীতে এমন কিছু অবস্থা সৃষ্টি করবে, যা অন্যকোন ভাবে সম্ভব হতো না। ১) বিশ্বায়নের ফলে সারা বিশ্বের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বা কথাবার্তা বেড়েছে। আমি বাংলাদেশে থেকে নির্বিঘ্নে একজন ইসরাইলি অথবা হিজবুল্লাহ সদস্যের সাথে আলাপ করতে পারছি (আমি করেছিও)। সারা দুনিয়ায় ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর যে জাতিরাষ্ট্রের উদ্ভব হয়েছিল এবং সেগুলো যে ধরনের অনায্য নিয়ন্ত্রন-বিধিনিষেধ-কড়াকড়ি আরোপ করেছিল তা আজ অনেকটাই শিথিল। ভুয়া ভৌগলিক-ভাষাভিত্তিক-বর্নভিত্তিক জাতীয়তাবাদ ক্ষয়ে গিয়ে এখন ক্রমেই বিশ্বাসভিত্তিক পার্থক্য তীব্র হয়ে উঠেছে। একটি ষ্টাডিতে দেখা গেছে, মালয়েশিয়া থেকে আমেরিকা পর্যন্ত তরুনদের চাহিদা-রুচি একই রকম। কাজেই জাতিরাষ্ট্রের ভিত্তি নড়ে উঠেছে, মানুষ সুযোগ পাচ্ছে তার ইচ্ছা-ঈমান অনুসারে বন্ধু-শুভাকাঙ্খী খুজে নিতে। বিশ্বায়ন শুধু যোগাযোগগত নয়, অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক এমনকি সশরীরেও। আন্তর্জাতিক অভীবাসন (মিগ্রেশন) ক্রমেই বাড়ছে, মুসলিমেরা ছড়িয়ে পড়ছে প্রত্যেক দেশে। অন্য ধর্মাবলম্বীরা এখন মুসলিমদের দেখে ইসলামকে জানতে পারছে। একসময় হয়তো রাষ্ট্র বলে কিছু থাকবে না।
২) বিশ্বায়নের ফলে মানুষের অবস্থানের নির্ণায়ক হয়ে উঠছে বিশ্বাস-ঈমান। আদর্শই মানুষের জন্য মূল চালকশক্তি। আদর্শের জন্য মানুষ জীবন দেয়, শহীদ হয়। সারা দুনিয়ায় ভোগবাদীরা পরস্পরের বন্ধু, যেমন গতানুগতিক ভোগবাদী একজন ভারতীয়ের সাথে একজন ইংরেজের তেমন কোন পার্থক্য নেই। ঠিক উল্টো ভাবে সারা পৃথিবীতে মুসলিমদের মধ্যে যোগাযোগ অভাবনীয় গতিতে বাড়ছে। যোগাযোগ হচ্ছে নেটে, টিভিতে, সিডি-ডিভিডিতে, ফোনে। আমি বাংলাদেশে বসে হারুন ইহাহিয়ার সিডি কিনতে-দেখতে পারছি, পিস টিভিতে ডা: জাকির নাইকের কথা শুনছি, নেটে সমমনা মুসলিমদের সাথে আলাপ করছি, নিজের লেখা পোষ্ট করছি। ক্রমেই সকল মুসলিমদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠছে। আমাদের বিশ্বাস হচ্ছে দৃঢ়, একাকিত্ব যাচ্ছে ঘুচে, পাচ্ছি নতুন উৎসাহ।
৩) এই নয়া-যোগাযোগের ফলে মুসলিম সমাজগুলোতে আগে যে মুনাফেকি রাজনৈতিক বা ক্ষমতাশালীদের প্রভাব ছিল তা ভেঙ্গে পড়ছে (উদাহরন সৌদি আরব, পাকিস্থান)। আগে অনেক শাসক ক্ষমতার জন্য ইসলামকে ব্যবহার করত, তা সম্ভব হচ্ছে না। কোন ব্যাপারে ভুল প্রপাগান্ডা চালানো, মিথ্যা তথ্য দেয়া অসম্ভব হচ্ছে। সৌদি আরবের তরুনরা বুঝছে যে রাজতন্ত্রের নামে তাদের ভুল ধারনা দেয়া হয়েছে। তুরস্কে ধর্মনিরপেক্ষতার ইল্যুশন মুছে যাচ্ছে। আমাদের দেশে পরিবারতন্ত্রের প্রতি আস্থা উবে গেছে। তেমনিভাবে এজাতীয় কুসংস্কার-কুধারনা নাই হয়ে যাচ্ছে।
৪) মুসলিমরা একই নবীর উম্মত হিসেবে নিজেদের অনুভব করছে। বিশ্বের যেখানেই থাকিনা কেন, ইসলামই আমাদের সর্ববৃহৎ পরিচয়। ইসলাম এক ও অভিন্ন। যেমন এক ও একক হলেন আল্লাহ। মুসলিমদের শত্রুদের শত্রুতাও প্রায় একরকম। এক গ্রহ, এক বিশ্বাস ও এক কিবলার অনুভূতি মুসলিমদের নতুন আত্মপরিচয় খুজে দিচ্ছে।
আমি মনে করি আগামি দিনগুলোতে বিশ্বায়নের আরও নতুন নতুন নির্দেশনা আমরা দেখতে পাব। কুরআনে বলা হয়েছে: 'ওরাও ভীষন ষড়যন্ত্র করে, আমিও ভীষন কৌশল করি' অথবা, 'আমি তাদেরকে এমনভাবে পাকড়াও করব যে তারা বুঝতেই পারবে না'। সম্ভবত বিশ্বায়ন আল্লাহর রহমতে ভোগবাদি সভ্যতার কাছে যমদূত হয়ে আসবে।
এই নতুন পৃথিবীতে মুসলিমদের কুরআন ও সুন্নাহর কাছেই বারবার ফিরে যেতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

