ডিপার্টমেন্ট থেকে আট টাকা দিয়ে রিকশা ভাড়া করে পৌঁছালাম শাহবাগ। অপারেশন অর্কিড ফুল ক্রয়। আমার আগের পোস্টগুলো থেকে ব্লগার ভাইয়েরা ভালমতই জানেন যে আমি বেরসিক গোত্রীয় মানুষ। আমি অর্কিড ফুল চিনি না।
ডিপার্টমেন্টে অনুষ্ঠান শুরু হবে কিছুক্ষণের মধ্যে। আমার এক বন্ধু ব্যস্ততার কারণে তার দুই বান্ধবীর জন্য ফুল কেনার দায়িত্ব দিল আমার কাঁধে। আমি আবার না বলতে পারি না। সুতরাং তার কথা ফেলতে পারলাম না। অতএব আমার মত বেরসিক অপ্রেমিকপুরুষের শাহবাগে ফুল কিনতে যাবার করুণ কাহিনী। যাই হোক, অর্কিড ফুল চিনি না। এক দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলাম অর্কিড ফুলের দাম কত? সে আমাকে বলল, প্রতি পিস ৩০ টাকা। এদিকে আমার বন্ধ মশাই আমাকে একশ টাকার একটা পুরান নোট দিয়ে বলেছে যে দুইজন মেয়ের মাথায় দেয়ার জন্য ৭ থেকে ৮ টা অর্কিড ফুল লাগবে। আমি তো পড়লাম বাটে। একশ টাকায় কীভাবে ৭-৮ টা ফুল কিনব যেখানে প্রতি পিস ৩০ টাকা। এর মধ্যে পাশের দোকানদার আমাকে বলল, ভাই ও (প্রথম দোকানী) আপনাকে যে ফুল দেখাচ্ছে সেটা গ্ল্যাডিওলাস। আমি ঢোক গিলে বললাম, ও। সে বলল, আমার কাছে অরিজিনাল অর্কিড ফুল আছে, প্রতি পিস ৪০ টাকা। আমি মনে মনে বললাম, খাইছে। এবার আমি স্বীকার করলাম যে আমি অর্কিড ফুল চিনি না এবং ৪০ টাকা দাম হলে আমার পক্ষে তা কেনা সম্ভব না। একটু দূরে এসে সেই বান্ধবী প্রেমিক বন্ধুকে ফোন করে ঘটনা বললাম। সে বলল, তার বান্ধবীদের (যারা আমার সহপাঠী) কাছে ফোন করে সিদ্ধান্ত জানাচ্ছে। এর মধ্যে আমি অর্কিড ফুল চিনে গেলাম এবং কয়েকটা দোকান পরের একজন দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই অর্কিড ফুলের দাম কত? আরও জানতে চাইলাম যে একজন মেয়ে কয়টা ফুল মাথায় দিতে পারে। সে বলল, প্রতি স্টিক ২৫ টাকা এবং একটা স্টিকে একাধিক গুচ্ছ ফুল থাকে। একজনের জন্য একটা স্টিকই যথেষ্ঠ।
আমি মোটামুটি লজ্জ্বা পাচ্ছি। ডিপার্টমেন্টে অনুষ্ঠানের জন্য ফরমাল পোষাক পরেছি। এখন আবার ফুলের দরদাম করছি। অস্বস্তিকর অবস্থা আমার জন্য। বন্ধু মহোদয় ফোন করে জানাল যে তার বান্ধবীদের জন্য বেলী ফুল আনলেই হবে। এত দামী অর্কিড কেনা সম্ভব না। তখন আমি আমার সদ্যপ্রাপ্ত অর্কিড জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে বললাম যে অর্কিড ফুলের ২৫ টাকার একটা স্টিকে যে কয়টা ফুল থাকে তাতে একজনের হয়ে যাবে। অতঃপর মহামূল্যবান অর্কিড ফুলের দুইখানা স্টিক হাতে নিয়ে দশ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে লজ্জ্বায় লাল হয়ে ডিপার্টমেন্টে ফিরলাম। আমার মনে হচ্ছিল, হে ধরণী, দ্বিধা হয়। ডিপার্টমেন্টে ঢুকেই অস্বস্তি আরও বহুগুণে বেড়ে গেল। সিনিয়র ভাইবোনেরা ড্যাব-ড্যাব করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে (হয়তো আমার মনের অতিরঞ্জিত কল্পনা)। এক নিশ্বাসে তিন তলায় উঠে গুণধর বন্ধুর হাতে ফুলগুলো তুলে দিয়ে ( সাথে বাকি টাকা) আদালতে আত্মসমর্পণ করার মত শান্তি পেলাম। অথবা বলা যায় থানায় গিয়ে অবৈধ অস্ত্র জমা দিয়ে চিন্তামুক্ত হলাম।
এই হল আমার শাহবাগে ফুল কেনার কাহিনী। আর জীবনেও না।
Moral: Say No Politely.

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

