কী হবে দেশের ও দেশের মানুষের?
২০০৬-এর ২৮ অক্টোবরের সেই ভয়াল স্মৃতির পর দেখা আমার এক বন্ধুর সঙ্গে। কী হচ্ছে, কী হবে এসব নানা শঙ্কার কথা ভাবছিলাম আমরা দুই বন্ধু। একটা অপ্রত্যাশিত কিছু বদলে দেবে, নাকি রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা নেবে বাংলাদেশ- এসব ছিল আমাদের আলোচনার বিষয়। আওয়ামী লীগ, ওয়ার্কার্স পার্টি, জামায়াত, বিএনপির যুদ্ধংদেহী অবস্থা, ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের অন্যায্য আচরণ, নির্বাচন কমিশনে আজিজ গংয়ের কদর্য উপস্থিতি- সব মিলিয়েই তখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। কী হবে দেশের, দেশের মানুষের- সেই আশঙ্কা আর উৎকণ্ঠার উদ্গ্রীবতা নিয়েই আলোচনা শেষ করি দুই বন্ধু।
তারপর এল ১/১১। অনেক ভাবনা, অনেক প্রত্যাশা- আমাদের উদ্বেল করেছে। বন্ধুটির সঙ্গে এরপর আর সাক্ষাৎ হয়নি। দু -একবার কথা হয়েছে ফোনে।
বন্ধুটির সাথে আবার দেখা হয়েছে। নিজের ব্যবসা নিয়ে গুছিয়ে বসেছে।
বহুদিন পর আবার সাক্ষাৎ। কথা হচ্ছিল আবার দেশ ও দেশের জনগণের স্বার্থ নিয়ে। কথার শেষে এসে দেখি আবার সেই উৎকণ্ঠা ভর করেছে আমাদের কণ্ঠে । সেই একই জিজ্ঞাসা। একই উদ্গ্রীবতা।
ডিসেম্বরে নির্বাচন কি হবে? সব দল কি অংশ নেবে? নিজামী যেভাবে বেরিয়ে এলেন জামিনে, ভয়ঙ্কর কিছু ঘটবে না তো? পিন্টু-সাকাচৌ কি আবার দাবড়িয়ে বেড়াবে? ভারত, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও রাষ্ট্রদূতরাই কি আবার অনুঘটক হয়ে উঠবে রাজনীতির? দেশের পুরো বাজার কি হাতছাড়া হয়ে যাবে? অন্যরা সব দখল করে নেবে? উপদেষ্টা পরিষদের মুখ কি বদলে যাবে? ক্ষমতার পুরোভাগে থাকা ব্যক্তিরাই কি টিকে থাকবেন শেষাবধি? নাকি পালাবদল ঘটবে অনেক কিছুর!
খালেদা জিয়া, হাসিনা কি ছেড়ে কথা কইবেন ভবিষ্যতে? গণতন্ত্র কি ফিরবে বাংলাদেশে? ফিরলে কোন গণতন্ত্র? আইয়ুব-মুজিব, জিয়া-এরশাদ নাকি নতুনধারার দেশি-বিদেশি লুটেরাদের গণতন্ত্র! সম্বিত ফিরতেই দেখি ২০০৭-এর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের প্রথম দিনগুলোর ভাবনাগুলোই যেন ভর করছে ২০০৮-এর জুলাইতেও।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



