আমার প্রিয় পোস্ট
- অর্কেষ্ট্রা - প্রণব আচার্য
- ট্রান্সকম (আলো-স্টার) গ্রুপ চলে উলফার টাকায়!! - আওরঙ্গজেব
- কবিতার ভাষা। - ফরহাদ উিদ্দন স্বপন
- পথ ও সুড়ঙ্গ - সোহেল হাসান গালিব
- নষ্টালজিয়া (একটা চিঠি) - আমি ও আমরা
- স্বপ্নবাজ চাতক - আমি ও আমরা
- কাল রাতে শব্দগুলো জ্বলে ঊঠেই নিভে গেল ... - সিহাব চৌধুরী
- মা এভাবে আমার কাছে কিছু চেয়েও না, আমার লজ্জা লাগে! - হমপগ্র
- দ্বীপান্তরে - প্রণব আচার্য
- আনন্দ ভ্রমন - প্রণব আচার্য
- আমাদের নতুন উপহার: যে কোন সাইটে ফোনেটিক কিবোর্ড - নোটিশবোর্ড
- তোমায় নিয়ে কবিতা লিখব বলে - অন্তিম
- আবার যুদ্ধ হলে আমি রাজাকার হব... - মো. তারিক মাহমুদ
- মা তোমায় মনে পড়ে(বন্ধু তোমায় মনে পড়ে) - সুলতানা শিরীন সাজি
- একক স্বপ্নের চৌকাঠ - বৃশ্চিক
- কবিতার খুচরাংশ - আমি ও আমরা
- প্রাগৈতিহাসিক - তামিম ইরফান
- তোমরা আমাকে আর একবার - নিয়ন আলোয় বাউল
- প্রেমাংশুর প্রত্যাবর্তন - আকাশচুরি
- যদি দালাল হতে পারতাম। - বিহংগ
- অভিশাপ নারে আশীর্বাদ দিমু (উৎসর্গ : প্রিয় ব্লগার সামী মিয়াদাদ কে) রি-পোস্ট - উত্তরাধিকার
- টস্ বৃত্তান্ত !! @ প্রিয় ব্লগার সবাক ! - উত্তরাধিকার
- আগেকার লেখা কিছু কবিতা ৩ - প্রণব আচার্য
- লাবণী পয়েন্ট - চিটি
- বাণিজ্যিক পিছুটান। - রাতিফ
- জীবনানন্দ দাশ : 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ - একরামুল হক শামীম
- জীবন মু্দ্রা। - রাতিফ
- একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি - মুকুল
- সে এসেছে - আশরাফ মাহমুদ
- ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৭ - নামহীন মানব
- ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৬ - নামহীন মানব
- বুদ্ধদেবের কিছু কবিতা... - নীল নিঃসঙ্গতা
- "শত্রু তুমি পালাও!" - রাগ ইমন
- আমি নাস্তিক। - পুতুল
- এলোমেলোতায় - সুলতানা শিরীন সাজি
- সকল জামাত বিরোধী, রাজাকার বিরোধী পোস্টের সংকলন। - হ্যারি সেলডন
- সহীহ মুসলিম মতে গোলাম আজম, নিজামি, মুজাহিদ, সাইদী এবং অন্যান্য জামাতিদের ইমানের স্তর। - হ্যারি সেলডন
- মা, তুমি তৈরী থেকো। - রাতিফ
- আপনি যেভাবে ব্যর্থ হয়েছেন - প্রণব আচার্য
- মুক্তি পেয়েও আরিফের ফেরারী যাপন - অমি রহমান পিয়াল
- নাটক : তুই রাজাকার - সবাক
- সব ব্লগার বন্ধুদের জন্মদিন বিষয়ক একটি জরিপ - মিলটন
- গডফাদার - মানব মানিক
- নবীনদের জন্য - নাদান
- মা (একটি সত্য ঘটনার আলোকে) - সবাক
- হুমায়ুন আজাদের জন্মদিনে তাঁর ‘ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল’ উপন্যাসের কিছু অংশ... - মুকুল
- প্রিয় কবি হুমায়ুন আজাদ - রিয়াজ শাহেদ
- তসলিমার পক্ষে বলছি - সবাক
- অমর একুশে'র ভাষা সৈনিকদের তালিকা - স্বাধীন বাংলা
জামায়াতের নির্বাহী কমিটির ১১ জনই রাজাকার
০৭ ই জুন, ২০০৮ রাত ১০:০২
১৯৭১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সমর্থনে গঠিত সরকারকে দেওয়া এক সংবর্ধনায় পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির গোলাম আযম বলেছিলেন, ‘দুষ্ককৃতকারীদের (মুক্তিযোদ্ধা) ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে যেসব পাকিস্তানি প্রাণ হারিয়েছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোকই জামায়াতে ইসলামীর সাথে জড়িত।...পাকিস্তান যদি না থাকে তাহলে জামায়াতকর্মীরা দুনিয়াতে বেঁচে থাকার কোনো সার্থকতা মনে করে না।’ ২৬ সেপ্টেম্বর জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় এ সংবাদ ছাপা হয়।
অন্যদিকে জামায়াতের বর্তমান আমির ও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জামায়াতের তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি মতিউর রহমান নিজামী ১৯৭১ সালের ১৪ নভেম্বর দৈনিক সংগ্রাম-এ ‘বদর দিবস, পাকিস্তান ও আলবদর’ শিরোনামে একটি উপসম্পাদকীয়তে লেখেন, ‘আমাদের পরম সৌভাগ্যই বলতে হবে। পাকসেনার সহযোগিতায় এ দেশের ইসলামপ্রিয় তরুণ সমাজ বদর যুদ্ধের স্নৃতিকে সামনে রেখে আলবদর বাহিনী গঠন করেছে।’
জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় সাংগঠনিক সিদ্ধান্তেই জামায়াত বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে। দলের সে সময়কার ও বর্তমানের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রায় সবাই মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পক্ষে কাজ করেছেন।
স্বাধীনতার ৩৬ বছর পরও জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভুমিকার জন্য আজও দুঃখ প্রকাশ করেনি, বরং সব সময়ই তাদের সেই ভুমিকার পক্ষে প্রকাশ্যে যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের একজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘যতক্ষণ একটি দেশ আছে, একজন দেশপ্রেমিকের কাজ হচ্ছে সে দেশের পক্ষে কথা বলা।’ পরে এই বক্তব্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের দক্ষিণ বা পশ্চিম অংশ আলাদা হয়ে যেতে চাইলে আপনার দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের অখন্ডতার পক্ষে কথা বলা। কিন্তু যদি দেশটি ভাগ হয়ে যায়, তাহলে আপনি যে অংশে থাকবেন, সে অংশের পক্ষে কথা বলবেন। একজন সুনাগরিক হিসেবে এটাই আপনার দায়িত্ব।’
গত ২৫ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার পর জামায়াতের বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো স্বাধীনতাবিরোধী নেই, ছিলও না। এটা বানোয়াট ও কল্পনাপ্রসুত।’
বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা: বর্তমানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ১৫ সদস্যের মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধেই স্বাধীনতা বিরোধিতার প্রমাণ আছে। তাঁরা হলেন−আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদ, জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির (সহসভাপতি) আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফ, নায়েবে আমির মকবুল আহমেদ, জ্যেষ্ঠ সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মাদ কামারুজ্জামান, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা ও এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং চার শীর্ষস্থানীয় নেতা মুহাম্মদ সুবহান, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আবু নাসের মোহাম্মদ আবদুজ জাহেদ ও মীর কাসেম আলী (নয়া দিগন্ত-এর পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান)।
কেন্দ্রীয় কমিটির আরও দুই সদস্য নাজির আহমদ ও রফিউদ্দিন আহমদ নিজ এলাকায় স্বাধীনতাবিরোধী বলে পরিচিত। কমিটির অন্য দুই সদস্যের মধ্যে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যে ছিলেন, আর রফিকুল ইসলাম খান ছিলেন সে সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহায়তার জন্য গঠিত পূর্ব পাকিস্তান আলবদর বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে মতিউর রহমান নিজামী সারা দেশ সফর করে দলের নেতা-কর্মীদের পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। পাকিস্তান দিবস উপলক্ষে কার্জন হলে এক আলোচনায় নিজামী বলেছিলেন, ‘...ইসলামী ছাত্র সংঘের কর্মীরা দেশের প্রতি ইঞ্চি ভুমি রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’ (দৈনিক সংগ্রাম, ৮ সেপ্টেম্বর)। ’৭১ সালের ১১ আগস্ট মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে নিহত পাক সেনাবাহিনীর দোসর মাওলানা মাদানীর স্নরণে এক আলোচনা সভায় ২২ আগস্ট নিজামী বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানকে যারা বিচ্ছিন্ন করতে চায় তারা এ দেশ থেকে ইসলামকেই উৎখাত করতে চায়’ (২৩ আগস্ট দৈনিক সংগ্রাম)।
১২ অক্টোবর দৈনিক সংগ্রাম-এর তৃতীয় পাতায় ‘যুববাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ‘গুন্ডামি’ মোকাবিলায় এই বাহিনী গঠনের সাংগঠনিক উদ্দেশ্যের কথা জানানো হয়। এর কিছুদিন পরই গঠিত হয় আলবদর ও আলশামস বাহিনী।
আলী আহসান মুজাহিদ ছিলেন আলবদর বাহিনীর অন্যতম সংগঠক। এই বাহিনী বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তির ওপর নানা নৃশংসতা চালায়। ’৭১ সালের ১৭ অক্টোবর রংপুরে পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘের এক সভায় মুজাহিদ আলবদর বাহিনী গড়ে তুলতে দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন। ২৫ অক্টোবর ইসলামী ছাত্র সংঘের এক সম্মেলনে মুজাহিদ ‘পাকিস্তানের ছাত্র-জনতাকে দুষ্ককৃতকারী (মুক্তিযোদ্ধা) খতম করার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান’ (দৈনিক সংগ্রাম, ২৬-১০-৭১)।
জামায়াতের জ্যেষ্ঠ সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মাদ কামারুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে মুক্তিযুদ্ধকালে বৃহত্তর ময়মনসিংহে আলবদর বাহিনী গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ আগস্ট দৈনিক সংগ্রাম-এর একটি প্রতিবেদনে কামারুজ্জামানকে ময়মনসিংহ জেলা আলবদর বাহিনীর প্রধান সংগঠক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
আমাদের শেরপুর প্রতিনিধি দেবাশীষ সাহা রায় জানিয়েছেন, ১৯৭১ সালের ২৪ আগস্ট শেরপুর সদর উপজেলার গাজীরখামার ইউনিয়নের খরখরিয়া গ্রামের গোলাম মোস্তফাকে মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করার ‘অপরাধে’ স্থানীয় মৃগী নদীর ওপর নির্মিত শেরী সেতুর ওপর নিয়ে হত্যা করে আলবদরেরা।
গোলাম মোস্তফার ভাই মোশাররফ হোসেন ওরফে মানিক প্রথম আলোকে জানান, এ ঘটনার আগের দিন মোস্তফার সঙ্গে আবুল কাসেম নামের এক ব্যক্তিকেও ধরে নিয়ে যায় আলবদরেরা। পরদিন মোস্তফার সঙ্গে তাঁকেও গুলি করা হলে গুলি খানিকটা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আবুল কাসেমের হাতে লাগে। পরে তিনি পানিতে পড়ে যান এবং সাঁতরে কুলে ওঠেন। আবুল কাসেম পরে মানিককে জানিয়েছেন, কামারুজ্জামানের নির্দেশেই সেদিন তাঁদের গুলি করা হয়।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম আলবদর বাহিনীর রাজশাহী জেলা শাখার প্রধান ছিলেন (মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান, এ এস এম সামছুল আরেফিন পৃ-৪৩০)। ১৯৭১ সালের ১৭ অক্টোবর রংপুরের যে সভায় মুজাহিদ আলবদর বাহিনী প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন, সেই সভায় সভাপতিত্ব করেন এ টি এম আজহার। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পূর্ব পাকিস্তান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোপন দলিল ‘ফর্টনাইটলি সিক্রেট রিপোর্ট অন দ্য সিচুয়েশন ইন ইস্ট পাকিস্তান’-এর অক্টোবরের দ্বিতীয় ভাগের প্রতিবেদনে (১৩ নভেম্বর ১৯৭১ স্বরাষ্ট্রসচিব স্বাক্ষরিত) এই বিষয়টি উল্লেখ আছে।
আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাজাকার বাহিনীর সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান, পৃ-৪৩০)। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি জামায়াতের নেতাদের নিয়ে একাধিকবার টিਆা খানের সঙ্গে দেখা করেন বলে ওই সময় প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে দেখা যায়।
জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফ ১৯৭১ সালের মে মাসে খুলনার খানজাহান আলী সড়কের একটি আনসার ক্যাম্পে ৯৬ জন জামায়াতকর্মী নিয়ে প্রথম রাজাকার বাহিনী গঠন করেন। তখন এ সংবাদ দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় ছাপা হয়। ২৮ নভেম্বর করাচিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘রাজাকাররা আমাদের বীর সেনাবাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভারতীয় হামলার মোকাবিলা করছে।’ তিনি রাজাকারদের হাতে আরও আধুনিক অস্ত্র দেওয়ার দাবি জানান। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন।
জামায়াতের নায়েবে আমির মকবুল আহমেদ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শান্তি কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন (মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান, পৃ-৪৩০)। আমাদের ফেনী প্রতিনিধি আবু তাহের জানান, মকবুল আহমদ ’৭১ সালের ১০ আগস্ট রেডিও পাকিস্তান চট্টগ্রামের ডিউটি অফিসার ইনচার্জ ফজলুল হককে লেখা এক চিঠিতে ফেনীর তাকিয়াবাড়ীর মাওলানা সৈয়দ ওয়ায়েজউদ্দিনকে (পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন) সহসভাপতি) মুক্তিবাহিনীর তথ্যদাতা উল্লেখ করে জামায়াতের বিশেষ ক্যাডেট কমান্ডার শাহজালাল ও নওশেরের সহযোগিতায় তাঁকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন। এ জন্য তিনি ফেনী শহর রাজাকার কমান্ডার হানিফ ও উপদেষ্টা মাওলানা মোস্তফাকে চট্টগ্রামে পাঠান। পরে ১৭ আগস্ট চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার থেকে ওয়ায়েজউদ্দিনকে একটি জিপে তুলে করে নিয়ে যায় রাজাকারেরা। এরপর তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্বাধীনতার পর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চিঠিটি বাংলায় অনুবাদ করে বিলি করে।
নির্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ সুবহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনার শান্তি কমিটির প্রধান ছিলেন। পাবনা থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ফারুক হোসেন চৌধুরী জানান, ’৭১ সালের জুন মাসে মাওলানা সুবহানের নেতৃত্বে পাবনায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মাওলানা কাসিমউদ্দিনকে হত্যা করে শান্তি কমিটির সদস্যরা। মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে অনেক হত্যা-নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন পাবনার একাধিক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। তাঁরা জানান, স্বাধীনতার ৩৬ বছর পরও মাওলানা সুবহানকে তাঁরা ভয় করেন। এ কারণে তাঁরা পরিচয় প্রকাশ করবেন না।
নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য ও ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবু নাসের মোহাম্মদ আবদুজ জাহের ’৭১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি ও চট্টগ্রাম বদরবাহিনীর জেলাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন (মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান, পৃ-৪২৯)। ২ আগস্ট চট্টগ্রামের মুসলিম হলে এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘ভারতের সকল চক্রান্ত নস্যাৎ করে পাকিস্তান টিকিয়ে রাখার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব।’ (মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশ কেন্দ্র কর্তৃক প্রকাশিত একাত্তরের ঘাতক দালালরা কে কোথায় বইয়ের ১৩০ পৃষ্ঠা)
নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য মীর কাসেম আলী একই সভায় বলেন, ‘গ্রামগঞ্জের প্রতিটি এলাকায় খুঁজে খুঁজে শত্রুর শেষ চিহ্ন মুছে ফেলতে হবে।’ কাসেম আলী ছিলেন আলবদর বাহিনীর একজন কেন্দ্রীয় সংগঠক (একাত্তরের ঘাতক দালালরা কে কোথায়, পৃষ্ঠা-১৩০)।
সাবেক সাংসদ ও নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীও স্বাধীনতাবিরোধী একজন চিহ্নিত ব্যক্তি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পিরোজপুর মহকুমার (বর্তমানে জিয়ানগর উপজেলা) পারেরহাট বন্দরের মদন পালের দোকান লুটের অভিযোগ আছে সাঈদীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় লোকজন ও কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এ অভিযোগ এনেছেন।
’৭১-এর কেন্দ্রীয় নেতারা: পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমির গোলাম আযম, সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক, নির্বাহী কমিটির দুই সদস্য (পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত আমির) আব্বাস আলী খান ও আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফ (বর্তমান জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির), প্রচার সম্পাদক মাওলানা নুরুজ্জামান, নায়েবে আমির (সহসভাপতি) আবদুর রহীম প্রমুখের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগিতার প্রমাণ আছে।
১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের শেষদিকে শান্তি কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সে সময়কার প্রাদেশিক গভর্নর নুরুল আমিনের বাসায় বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে গোলাম আযম প্রতিনিধিত্ব করেন। গোলাম আযম তাঁর আত্মজীবনী জীবনে যা দেখলাম-এর তৃতীয় খন্ডে ১৫৬ পৃষ্ঠায় এ তথ্য দিয়েছেন।
১৬ অক্টোবর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জামায়াতের সমাবেশে গোলাম আযম বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী গোটা পাকিস্তানে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার জন্য নিরলসভাবে শান্তি কমিটির মাধ্যমে কাজ করছে।’ (১৭ অক্টোবর দৈনিক সংগ্রাম)।
১৪ অক্টোবর দৈনিক সংগ্রাম-এ একটি বিবৃতিতে আবদুল খালেক বলেন, ‘রেজাকাররা সামরিক আইন কর্তৃপক্ষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীনে কাজ করছে।... তাদেরকে প্রশংসা না করে কিছুসংখ্যক লোক তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।’
আব্বাস আলী খান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষে গঠিত পূর্ব পাকিস্তান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। ২৫ জুন তৎকালীন পূর্বদেশ পত্রিকায় একটি সংবাদে বলা হয়, ‘বগুড়া জেলার জয়পুরহাট মহকুমায় জনাব আব্বাস আলী খানের নেতৃত্বে পনের সদস্যবিশিষ্ট মহকুমা শান্তি কমিটি গঠিত হয়েছে।’ ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের ‘আজাদী দিবসে’ জয়পুরহাটে রাজাকার ও পুলিশ বাহিনীর সম্মিলিত কুচকাওয়াজে সভাপতির ভাষণে তিনি বলেন, ‘রাজাকাররা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমূলে ধ্বংস করে দিতে জান কোরবান করতে বদ্ধপরিকর।’
মাওলানা আবদুর রহিম ২৫ সেপ্টেম্বর হোটেল এম্পায়ারে মালেক সরকারকে দেওয়া সংবর্ধনা শেষে পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষায় মোনাজাত করেন (দৈনিক পাকিস্তান, ২৬ সেপ্টেম্বর)।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মওলানা নুরুজ্জামান ঢাকা জেলা রাজাকার বাহিনীর সংগঠক ছিলেন বলে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান বইয়ে উল্লেখ আছে (পৃ-৪২৭)।
[প্রথম আলো, ১৭ ডিসেম্বর, ২০০৭]
প্রকাশ করা হয়েছে: জামাত শিবির রাজাকার বিভাগে ।
মুকুল বলেছেন:
পুরাটা দলটার আদর্শই তো রাজাকারী আদর্শ।
লেখক বলেছেন: কিন্তু তারাতো নিজেদের যুদ্ধাপরাধী মানতে নারাজ!!
জেনারেল বলেছেন:
দারুন
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
জিলাপীর প্যাঁচ বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
মিয়াভাই সিলটী বলেছেন:
ভালো+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ![]()
![]()
![]()
হ্যারি সেলডন বলেছেন:
জাঝাবাদ!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ![]()
![]()
![]()
খোঁছা মারা কবিরাহ গুনাহ![]()
![]()
![]()
মাইনুল বলেছেন:
১৯৪৭ সালে যখন ভারত পাকিস্থান ভাগ হয় তখন মুসলিম লীগ চাইছিল পাকিস্থান আর ভারত আলাদা দুটি দেশ হোক আর কংগ্রেস চাইছিল দুইটা মিলে ভারত নামে একটা দেশ হোক। এই নিয়ে মারামারি সংঘাত হিন্দু মুসলিম দাংগা ইত্যাদিতে লক্ষ লক্ষ লোক মারা যায়। কিন্তু পরে দেখেন কংগ্রেসের অনেক নেতা পাকিস্থানে এসে পলিটিক্স করেছে। আবার মুসলিম লীগ ভারতে একটা লিগাল দল হিসাবে কাজ করতেছে।সুতরাং জামাতের কিছু নেতা রাজাকার ছিল এটা কোন ফ্যাক্টর না। আর রাজাকার মানেই অপরাধী না। উনারা চেয়েছিলেন পাকিস্থান এক থাক- এটা চাওয়াটাই অপরাধ না। আজকে যদি বাংলাদেশের যেকোন একটি জেলা যেমন, চট্টগ্রাম অনুন্নয়নের অজুহাতে আলাদা হয়ে যেতে চায়, তাহলে চট্টগ্রামের মানুষ ও দুইভাগ হয়ে যাবে।
আর জামাতের কোন নেতা কর্মী ৭১ যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত ছিল না। এই ব্যাপারে আমার একটি পোস্ট আছে পড়ে দেখুন।
Click This Link
লেখক বলেছেন:
"আর জামাতের কোন নেতা কর্মী ৭১ যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত ছিল না"
দারুন বলেছেন, যাদের দালালি করতে কথাটি বলেছেন, তারা শুনলেও মুচকি হাসবে।
লেখক বলেছেন:
চরম বলে বলে চিত্তটা গরম করে পরম আপন হয়ে যাচ্ছেন কিন্তু?![]()
নামহীন মানব বলেছেন:
মাইনুলের মন্তব্যের জন্য তাকে মাইনাচ।
লেখক বলেছেন: মাইনাচচচচচচচচচচচছছছছছছছছছছছ
িনেকা বলেছেন:
ভাইরে একটার বেশি প্লাস দেবার নিয়ম তো এখানে নাই। থাকলে দিতেই থাকতাম। প্রিয় পোষ্টে নিলাম। আপনেরে ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: এতোদিনে পুরোপুরি খুশি করতে পারলাম....
দরদী নজরুল বলেছেন:
আপনি বলেছেন "কেন্দ্রীয় কমিটির আরও দুই সদস্য নাজির আহমদ ও রফিউদ্দিন আহমদ নিজ এলাকায় স্বাধীনতাবিরোধী বলে পরিচিত।" ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক আমার জানা মতে লন্ডনে বসে স্বাধীনতা বিরোধী অনেক কিছুই করেছেন। ১৫ তে আসলে ১৪ হবে।
লেখক বলেছেন: তথ্য গুলো পুণরায় যাচাই করা হবে।
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
দারুন কাজ করে যাচ্ছো তুমি। চালিয়ে যাও।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
এস্কিমো বলেছেন:
একটা রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির অধিকাংশ নেতা যেখানে সরাসরি বাংলাদেশের জন্মের বিরোধীতা করেছে - এইটা স্পষ্ট সত্য যে পুরো দলটাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও প্রগতির বিরোধী। এই দলকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তভাবে কাজ করতে দিয়ে দেশটাকে বিপজ্জনক দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। একটা প্রগতিশীল ও আধুনিক রাষ্ট্রের ধারনার সাথে জামাত নামক বাংলাদেশের শত্রুর সহবস্থান পরষ্পর বিরোধী।
অবিলম্বে জামায়াত নামক আন্তর্জাতিক সন্ত্রাবাদের পৃস্ঠপোষক ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী দলটিকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করার দাবী জানাই।
পোস্টের জন্যে সবাককে মোকাবরকবাদ!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, জিয়া ভাই।
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন:
জামাত যে রাজাকারের দল এটা তো সবাই জানে - জামাতকে প্রতিহত করতে হবে এটাও গত ৩০ বছর ধরে সবাই বলে আসছে -গত ৩০ বছরে শত কোটি বার জামাতকে রাজাকার-যুদ্ধাপরাধী-খুনি-ধর্ষক ইত্যাদি গালি দেয়া হয়েছে - কিন্তু তাতে জামাতের অগ্রগতি প্রতিহততো হয়ই নি বরং জামাত মুর্তিমান আতঙ্ক হয়ে টিকে আছে - এমনকি জামাত নেতা নিজামী-মুজাহীদরা জাতীয় পতাকাবাহী গাড়িতে চড়ে আমাদের সামনেই ঘুরে বেড়িয়েছে। সুতরাং আমার মনে হয় আমাদের কোথাও ভুল হচ্ছে - জামাত প্রতিরোধের নতুন কোন উপায় উদ্ভাবন করা দরকার - শুধুমাত্র জামাত নেতাদেরকে রাজাকার-যুদ্ধাপরাধী হিসেবে প্রচার করে এই দলটির অগ্রগতি থামান যাবে বলে মনে হয় না। কিছু কিছু রোগ জীবানু যেমন প্রচলিত এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যাবস্থা তৈরী করে ফেলে - জামাতও মনে হয় রাজাকার-যুদ্ধাপরাধী ইত্যাদি প্রচারনার বিরুদ্ধে একধরনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী করে ফেলেছে - তাই এই ওষুধে আর তেমন কাজ হচ্ছে না।
লেখক বলেছেন: যেভাবে থামানো যায়, সে পথের সন্ধান দিয়ে কয়েকটি পোস্ট দিন। আমরা সবাই মিলে আলোচনা করি।



















