"ভাইয়া তুমি কবে আসবে" এই লেখায় সজ্জিত পোস্টার বুকে ধারণ করে মানব বন্ধনে দাড়িয়ে আছে এক বোন। ভাইয়ের নির্মম মৃত্যুতে আজ সে বাকহীণ। এক বোনের অশ্রুসজল মুখচ্ছবি দেখে আমার অশ্রুকেও থামাতে পারিনি। যেমন পারেনি আমার মতো অনেকেই।
এহতেশাম আল জিয়াদ মৃণাল । তরতাজা এক তরুন। চিরহরিৎ স্বপ্নে বুনেছিলো ভবিষ্যত। ছোটবেলায় "বড় হয়ে তুই কি হবি" কেউ এ প্রশ্নটি করলেই, ঝটপট বলে দিত আমি ডাক্তার হবো। সন্তানের আশা পূরণ করতে এইচএসসি পাশের পর ভর্তি করানো হলো বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চলতি মাসের ৫তারিখ ছিলো তার প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা। কিন্তু সেই পরীক্ষায় নিজের যোগ্যতা প্রমানের আগেই চুরির মিথ্যে অপবাদ নিয়ে তাকে পৃথিবী ত্যাগ করতে হলো। পূর্ব পরিচিত হিমেল নামের এক ছাত্রের পশুবৃত্তির হাতে মৃত্যু হল একটি তাজা স্বপ্নবান প্রাণের। কিন্তু মৃণালের অকাতরে চলে যাওয়ার কারণ অজানাই রয়ে গেল।
২৯মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএস হলের ১৪০ নম্বর কক্ষে ডেকে এনে কতিপয় ছাত্র মৃণালকে অমানুষিক মারধর করে কক্ষে আটকে রাখে। ৩০মে সকালে ঐ কক্ষ থেকে পালিয়ে যায় মৃণাল। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মমতা!! আবার তাকে ধরে নিয়ে আসে জগন্নাথ হলের সামনে থেকে। আবার চলে বর্বরতা। দীর্ঘ প্রহারের পর মৃণালের প্রাণহরণ সম্পন্ন হলে ঘাতকেরা ফোন করে খবর দেয় মৃণালের বাবাকে। কিন্তু উনি এলে উনাকে আর রুমের ভিতর ঢুকতে দেয়া হয় না। পরে পুলিশের সাহায্য নিয়ে রুমে ঢুকে মৃণালের নিস্তেজ দেহটা পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নিলে পুলিশ মৃণালকে মৃত ঘোষনা করে। সাংবাদিকরা এলে এমএস হলের কিছু ছাত্র মৃণালকে মোবাইল চোর বলে সাব্যস্ত করে। হায়রে তরুন সমাজ!! একি করলি? একটি সহজ সরল ছেলেকে মোবাইল চোর বানালি? আমাদের মৃণাল, তার ভালোবাসার মানুষও ছিলো। তাকে নিয়ে স্বপ্ন বুনেছিলো অনেক। আজ সব তুচ্ছ হয়ে গেল। মা-বাবা, ভাই বোন, বান্ধবরা সহ সকলেই আজ ছিন্নভিন্ন ঘন্টা পার করছে। একেতো মৃণালকে হারানোর কষ্ট অন্যদিকে সবার প্রিয় মৃণালের সরলতার গায়ে লেপ্টে দেয়া "চুরির অপবাদের ঘৃণিত প্রতিবাদ।স্বজনরা আজ দুখের ভারে ন্যু হয়ে রাস্তায় নেমেছে মৌন র্যালি ও মানব বন্ধন করতে।
মৃণাল হত্যার বিচারের দাবীতে আজ ০৮ জুন নোয়াখালী শহরে মৌন র্যালি ও মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে শতশত ছাত্র আর সাধারণ মানুষ অংশ নিয়েছে এই বৃষ্টিস্নাত মৌন র্যালি ও মানব বন্ধনে। নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগে এই মৌন র্যালিটি বৃষ্টির মাঝেই নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে মানব বন্ধন শেষে স্মারকলিপি পেশ করে আবার প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। পরে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। তখন সবাই বৃষ্টিতে ভেজা। বৃষ্টিতে ভিজে কেউ কেউ হয়তো এখন জ্বরের প্রলাপ বকছে। কেউবা হয়তো বৃষ্টির সাথে প্রিয়জন হারানোর বেদনা মিশিয়ে ভার মুক্ত হয়ে চেয়েছে।
বৃষ্টি নাকি সব কিছু ধুয়ে দিয়ে যায়, কিন্তু মৃণালকে হারানোর সব দু:খ ধুয়ে নিতে পেরেছে কি?
আমরা আমাদের মৃণাল হত্যার বিচার চাই।
তার মৃত্যুর সঠিক তদন্ত চাই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



