সিঁদুর মুছে গেছে সেই কবে
যখন সিঁথির ফাঁকে রক্ত লেগেছে।
আজ আরাধনা সব তুচ্ছে গেছে
টুটেছে পুষ্পাঞ্জলি, যখন-
তিলাঞ্জলী হয় সন্তানের প্রাণে।
হরি কে পাহারায় রেখে
অগ্নি কুন্ডলীর মাঝেও ঘুমাতে পারে না জননী, যখন-
হরি'র কেবলই ঘুম পায়!
জননীও এখন দশভুজা দূর্গার পুজো ভুলে
একজন ক্ষুদিরামের আশে-
ভোগের পুষ্পঢালি সাজিয়ে উদ্ভ্রান্ত হয়, যখন-
জননীর ছেলে এই আমি কেবলই শান্ত হতে চাই!
অথচ অশান্ত ধানক্ষেত, পুকুর, গোয়ালঘর;
উঠোনের পাশে কচি কাগুজি লেবু মাকাল হয়ে
আমাকে দেয় অভিশাপ।
ঐদিকে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে
মেছোবাঘ হয়ে যায়!
আর নববধূর সাজে ট্রেনের বগি'রা
কলজে কাটা রক্ত সীমান্ত পার হয় মৈত্রীর খোঁজে-
যেমন খুঁজেছিলো পাটক্ষেতে নীল ফসলেরা তিনশতক আগে!
তখন রামেরা ক্ষুধিত ছিলো,
ছিলো রক্তঘামে তিয়াসী।
আজ রক্ত আছে, ঘাম আছে-
আছে সুদীর্ঘ রেললাইন;
ক্ষুধিত রামেরাও আছে ভোগের ক্ষুধায়-
শুধু নেই ক্ষুদিরাম।
আয় ক্ষুদিরাম এই বাংলার দেশে
বিদ্রোহীর বেশে, যখন-
দশভুজা দূর্গার পুজো ভুলে জননী বসে
একজন ক্ষুদিরামের আশে।
২৩.০৭.০৮
রাত ১২.৩০ মি.

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

