(আট নয় বছর বয়সী রোহিন নবীনার সংসার ভাবনা)
১.
বালতির পানিতে পা চুবিয়ে বসে থাকতে আর ভালো লাগে না। কপালে লাগানো কাদামাটির প্রলেপও শুকিয়ে গেছে। মেজাজ গরম হলে নাকি মাথা আর পা ঠান্ডা রাখতে হয়। পুরো শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য এটাই ভালো থেরাপী। নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে মামাতো বোনের টিউটরের কাছ থেকে শেখা এই থেরাপীও অকার্যকর মনে হচ্ছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে রোহিনের মুখ না দেখে বিগড়ানো মেজাজ এখনো তামাশা করেই যাচ্ছে। রোহিন পুচকিটাকে ছাড়া নবীনার কিচ্ছু ভালো লাগে না। ঘুম থেকে ওঠেই রোহিনের মুখ দেখা চাই। নইলে সারাদিনের যন্ত্রনা বাড়ির সবাইকে ভোগ করতে হয়। রোহিনতো পরদিন সকাল পর্যন্ত পালিয়েই থাকে। খালি সুযোগ বুঝে দুপুরের খাবার খেয়ে গেলেই হলো। পরের সকালে কাচুমাচু মুখ নিয়ে নবীনাকে ঘুম থেকে জাগাতে গেলে একটি চড় খাওয়া বাধ্যতামূলক। চড় খাওয়াটা রোহিনের কাছে ঘুমের মাঝে বিছানায় শিস করার মতোই স্বাভাবিক। অপরাধটা রোহিনের বলে নবীনার রাগ ভাঙিয়ে ভাত খাওয়ানোর দায়িত্ব তার মা’কেই নিতে হয়। নবীনার মা’র এই দায় নেই।
কিছুক্ষণ আগে রোহিন আর নবীনা মুখোমুখি হয়েছিলো। বকেয়া হিসেব নিকেশ চুকানোর পর দু’জন এখন পুকুর পাড়ের শুয়ে থাকা নারিকেল গাছের ওপর। নবীনার চোখ পাজল বিদ্ধ। আজ সারাদিন রোহিনের কাছে তার ভীষন কদর থাকবে। এই যে, প্যান্টের এ পকেট থেকে বেরুলো ম্যাংগো বার, আরেক পকেট থেকে চকলেট। পেছনের দু’পকেটের খবর এখনো বেরোইনি। নবীনা হয়তো রাগ করার কথা ভুলেই গেছে। কিন্তু রোহিন আছে খালি রাগ ভোলানোর তালে। পাজল খেলতে খেলতেই নবীনা মায়ের প্রতি সন্ধ্যায় ঝাল মুড়ি না বানানো, আগের মতো আদর না করা আর ফোনে বাবার সাথে ঝগড়া করার কথা বলতে থাকে। রোহিন এসব কথায় কান দেয় না। নিজ বাবা মাকে এখনো ঝগড়া করতে দেখেনি সে। এসব তার ভালোও লাগে না।
দুপুরে খাওয়ার পর এ সময়টা ঘরেই থাকে নবীনা। নিজের রুমে বসে থাকে। এ ঘরে মাত্র দু’টো মানুষ- নবীনা ও তার মা। দু’জন দু’রুমে। একসাথে থাকার বিষয়টি স্বাভাবিক হলেও নবীনার মা থাকেন না। রুমে বসে বসে পাজল মেলানোর চেষ্টায় আছে। খেলার মাঝে মনে পড়লো বাবার কথা। মাঝরুমের শোকেসের উপর থেকে মোবাইল নিয়ে বাবার নাম্বারে মিসকল দিলো। মায়ের পায়ের আওয়াজ শুনে মোবাইল রেখে আবার পাজল মেলাতে থাকে। কোমরে আঁচল প্যাঁচানো ঘাম ঘাম মেজাজ নিয়ে মেয়ের ঘরে ঢুকে মেয়েকে পাজল মেলানোর নিরর্থকতা বুঝানোর চেষ্টাকালে মোবাইল বেজে উঠলে নরম সুরে দাঁত কিমানো ধমক দিয়ে কলটা রিসিভ করেন। শুরুতেই চেঁচামেচির শুরু হয়- সংসারটা বাপ আর মেয়ের, না? এতটুকুন পুঁচকি মেয়ে সুযোগ পেলেই মায়ের নামে বদনাম করে! আমি যেন সংসারের কাজের বেটি। আরে শুনি, সংসারটা কে গুছিয়ে রাখে? খালি আপনার মেয়ের খেলনা গোছানোর জন্যই একটা বান্দীর দরকার। সংসার গোছাতে গোছতেই আমার দিন পার...। অবস্থা বেগতিক দেখে বোধহয় ওপ্রান্ত থেকে লাইন কেটে দেয়। পাজল খেলতে খেলতেই নবীনা হেসে ওঠে।
রুম থেকে বেরিয়ে নবীনার মা শোকেস গোঁছায় আর মাছির মতো ভনভন করে। ঘাঁড় বাঁকিয়ে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে পাজল রেখেই দেয় দৌড়। রোহিনের সামনে গিয়ে পেটে গুতো দিয়ে জিজ্ঞেস করে- এই... সংসার কাকে বলে জানিস? রোহিনের উত্তরের অপেক্ষা না করেই বলে- শোকেস। তারপর হাসি আর হাসি। রোহিন কিচ্ছুই বুঝেনি অথবা অনেক কিছুই বুঝেছে। যতটুকু বুঝেছে তাতে করে সংসার অবশ্যই মসজিদের মতো বড় কিছু। কিন্তু শোকেসতো খুবই ছোট। নবীনার হাত ধরে টেনে বাড়ির পেছনের দিকে হাঁটা দেয় রোহিন, আর নবীনা তখনো শোকেস শোকেস সংসার সংসার বলে পেছন ঝোঁকা হাসিতে ব্যস্ত।
মুড়ির বালুর ডিবিতে একসময় বাড়ির পেছনটা খুব উঁচু ছিলো। মানুষ বালু নিতে নিতে এখন সেখানে ছাউনি গর্ত হয়েছে। গর্তের সামনে গিয়ে রোহিন বললো এখানে আমাদের সংসার হবে। নবীনা তার মতোই দাড়িয়ে থাকলো। ... তুই এখানে থাক- বলেই রোহিন বাড়ির দিকে দৌড় দেয়। কিছুক্ষণ পর একটি ছোট কোদাল আর দা নিয়ে ফিরে। মাটির গা কেটে কেটে তাক বানানো দেখে নবীনা কিছুটা বুঝে নিয়ে রোহিনের সাহায্যে এগিয়ে আসে। এক পাশের তাক হয়ে যায় অল্প সময়ে। এবার নবীনার দৌড়ে যাবার পালা। রোহিন ঠিকই তাক কেটে যাচ্ছে। ছোট ছোট খেলনা, সবকটি পাজল আর দু’একটা সাবান, ক্রীমের প্যাক নিয়ে ফিরে এসে এগুলো তাকে সাজাতে থাকে। হাত থেকে কোদাল রেখে দু’জন তাকিয়ে তাকিয়ে হাসতে থাকতে। তৃপ্তি আর দুষ্টু মেশানো হাসিতে বাড়ির পেছনটা একটি নতুন সংসারের জন্ম দিলো।
এবার আর যায় কোথায় ওই সংসার ছাড়া। আট নয় বছর বয়সী দুটি মানুষের স্কুল পরীক্ষা পরবর্তী সময়টা সংসার নির্মাণে খেটে যাচ্ছে। সংসার বলতে কোন কিছু সাজিয়ে রাখাকে শিখে নিলো। রোহিন জানে সংসার মানেই সুখের কিছু। নবীনা জানে খালি সাজিয়ে রাখা। ভালোই হলো, একজন সাজিয়ে রাখবে আরেকজন সুখ আনবে। হবেও তাই, এর ব্যত্যয় নয়।
আজকের সকালটা অন্যদিনের উল্টো। নবীনা অনেক আগেই ঘুম থেকে ওঠে রোহিনের খাটে গিয়ে বসে থাকে। রোহিনের দেরি হচ্ছে। পাজল মিলিয়ে আর নারকেল পিঠা খেতে খেতে সময় ভালোই যাচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি পাজল মেলাতে পেরে নবীনা চিৎকার করতেই ঘুমে থাকা জনের চেতন হয়। হতচকিত রোহিনের খিল খিল করে হাসতে গিয়ে গাল আটকায়নি। বুঝাই যাচ্ছে তার খুশি। একেবারে তরতাজা এ খুশি।
মায়ের হাতে খেয়ে নবীনাকে নিয়ে সোজা মাটির সংসারে। আসার সময় রোহিন তার বাবার একটি ফ্রেমসহ ছবি, ছোট মামার সাইকেলের চুরি করা বেলবাটি আর মায়ের কিছু ভাঙ্গা কাচের চুড়ি নিয়ে আসে। সংসারে সাজিয়ে রাখার কাজ নবীনার। পাজল মেলাতে মেলাতে পিচ্ছিটা সাজানোয় বেশ পটু হয়েছে। সংসারের আর একটি তাকও খালি নেই। দু’জন মিলে ভালো করে তাকিয়ে দেখে। কি বুঝে জানি নবীনাকে দাড়িয়ে থাকতে বলে বাড়ির দিকে দৌড় দেয় রোহিন। আবার নতুন করে নাড়াছাড়া, একটু এদিক সেদিক করে সাজানো বালু মুছে নেয়া- অর্থাৎ যতোক্ষণ না মনে ধরছে ততোক্ষণই পরিবর্তন। পিঠে কিসের আঘাত লাগতেই পিছনে তাকিয়ে মৃত দাদার বেতের লাঠিসহ হাস্যোজ্জ্বল রোহিনকে পায়। হাত থেকে লাঠি নিয়ে শোকেসের সাথে ঠেস ধরিয়ে রেখে শোকেসকে খুব অভিজাত চোখে দেখে যাচ্ছে।
২.
ভাঙা পাজল মেঝেতে ছড়িয়ে থেকে নবীনার চোখের পানি দেখছে। মা কখন রুমের দরজা বন্ধ করে আছে। ওইদিকে রোহিন দুপুরের ভাত খেয়ে বসে বসে হজম করছে অথচ নবীনার এখনো খাওয়াই হয়নি। ছোট কাকা দু’মাস পর ভার্সিটির হল থেকে এসেছে। এখন মা’র সাথে কথা বলছে। কিন্তু কথা শেষ হয় না কেন? বসা থেকে ওঠে মোবাইলটা খুঁজে নিয়ে বাবাকে মিসকল দিতেই কল করলে কাঁদতে কাঁদতে দুপুরে এখনো না খাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দেয়। সবক’টি পাজল ভাঙার কথাও বাদ রাখেনি। আবার রাতে যে মায়ের রুমে থাকা বড় পান্ডা পুতুলটি ছিঁড়ে ফেলবে তাও জানিয়ে রাখে। বাবা বললেন আগামীকাল বাড়িতে আসবেন। সাথে করে নিয়ে আসবেন অনেকগুলো নতুন পাজল এবং আরো বড় একটি পান্ডা। মোবাইল রেখে জেঠিমা’র কাছে যায় নবীনা। একটা প্লেট ধুয়ে এনে ভাত দিতে বলে।
রোহিনের মা’ দেবর বৌয়ের বিষয় আসয় কিছুটা আঁছ করেছিলেন অনেক আগেই। ছোট দেবর বাড়িতে এলেই ওবৌয়ের কাছে গিয়েই আটকে যায়। কিছু কিছু সন্দেহ নবীনার বাবাকেও ধরেছে। গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল ব্যস্ত থাকার বিষয় অথবা মেয়ের প্রতি যতœ না নিয়ে উল্টো মেয়ের নামে অভিযোগ অবশ্যই কোন সুস্থ মনের মা’র পক্ষে সম্ভব নয়। শত চেষ্টা করেও স্ত্রীর সাথে বয়সাধিক্য ব্যবধান গোছাতে পারেননি। আর গুছবেও না।
৩.
ঝগড়ার মাত্রা খুবই বেশি। নবীনা বাইরের জানালা ধরে দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছে। বাবা বাড়িতে এসে মেয়েকে কোলে নিয়ে আদর কর জেঠিমা’র কাছে যেতে বললেন এবং মেয়ের মা’কে নিয়ে রুমে এসে দরজা বন্ধ করে দিয়ে শুরু হলো উত্তেজনা। কিন্তু বাবা দেখি খুব কঠিন কঠিন কিছু কথা বলছেন- ঘরটা ভেঙ্গে যাবে, মা নানার বাড়ি গেলে যেন আর না আসেন এবং বাবার চোখে জীবনে প্রথম পানি দেখলো। তারপরই শুরু হয় মোবাইল নিয়ে টানাটানি। বাবা কি যেন দেখতে চাইছেন আর মা দেখাতে চাইছেন না। এসব কিছু বুঝতে না পেরে ঘরের সিঁড়ির ওপর বসে থাকে আর ভাবে ঘর ভেঙ্গে গেলে থাকবে কোথায়? জেঠিমা’র ঘরে? মা জেঠিমা’র সাথে কথা বলেন না বলেই কি নানার বাড়ি গেলে আর আসবেন না? কিন্তু বাবা কাঁদলো কেন? এতো বড় মানুষ কি কাঁদে?
দরজা খোলার শব্দ পেয়ে পেছন ফিরে বাবাকে আসতে দেখে। মেয়ের কাছে এসেই বুকে জড়িয়ে শব্দ করে কাঁদতে থাকেন। দূর থেকে জেঠিমা আর রোহিনকে তাকিয়ে থাকতে দেখে। বাবার বুকে ছোট্ট নবীনা আঁটসাট হয়ে গুটিয়ে থাকলো। হয়তো বাবার কান্নায় হতবিহ্বল হয়ে নিজেও কাঁদতে থাকলো। রোহিন দৌড়ে এসে নবীনার সামনে দাড়ালে পেছনে জেঠিমাও আসেন।
কান্নাপর্ব রেখে রোহিন নবীনা তাদের সংসারে ফিরে আসে। ঘর ভেঙে গেলেও কোন চিন্তা না করার জন্য নবীনাকে বলতে বলতে চোখের পানি মুছে দেয় রোহিন। তাদের ঘরে ২টা বাড়তি রুম আছে। নবীনা তার একটিতে থাকবে। কিন্তু নতুন ঘর ভাঙবে কেন? রোহিনের প্রশ্নে নবীনারও উল্টো প্রশ্ন- আচ্ছা ভাঙবে কেন? কথার মাঝেই রোহিনের চোখ আটকে যায় নবীনার চেহারায়। অসম্ভব বিরক্তি আর অসহ্যবোধ। পা দু’টোকে একেবারে মিশিয়েও আরাম করে বসতে পারছে না। নবীনাকে জিজ্ঞেস করলে কিছুই বলে না। জোরাজুরি করলে কানে ফিসফিস করে কিছু একটা বলে। তাকে বসতে বলে রোহিন দৌড়ে বাজারের দিকে যেতে থাকে। নবীনার অস্বস্তিবোধ বাড়তেই থাকে। রীতিমতো চোখে পানিছাড়া কান্না শুরু করে দেয়। তাদের মাটির সংসারের সামনেই শুয়ে পড়ে। শুয়ে থেকেই রোহিনের দৌড়ে আসার দৃশ্য দেখতে পায়। রোহিনের প্রতিটি পদক্ষেপ সে বড় বড় করে দেখতে থাকে। পা’চলাচল থামিয়ে দু’টি ট্যাবলেট হাতে ধরিয়ে দেয় নবীনার। নবীনা অস্বস্তি চেপে ডাক্তারকে কি বলে অষুধ এনেছে তা জিজ্ঞেস করে। -কেন, বলেছি আমার নুনুতে পিপড়া কামড় দিছে, এখন ব্যাথার অষুধ দেন। কথাটা শুনে নবীনা গালে হাত রেখে হাসলে অপমানবোধ করে রোহিন। কতোক্ষণ গদগদ করে পরনের হাফপ্যান্টটি খুলে দাঁড়িয়ে থাকে। নবীনা আর দেরী না করে অষুধ হাতে নিয়ে হাসতে হাসতে দৌড়ে বাড়ি গিয়ে অষুধ খেয়ে ন্যাংটা ছেলেকে নিয়ে আসার জন্য জেঠিমাকে বলে।
৪.
নবীনার বড়বাবাও আজ বাড়িতে। অনেক ঘটনা ঘটে গেলো। ছোট কাকার গালে বেশ কয়েকটা চড় পড়ে। একজন উকিল এসেছিলেন। কয়েকটা কাগজে বাবারা তিন ভাই মিলে সই করে কিছু কাগজ ছোটটার হাতে ধরিয়ে দেয়। উকিল চলে যাবার পর কাকাও যায়। বড় বাবা তখন চিৎকার করে বলছিলেন- আর কখনোই আসবি না। এর একটু পরেই নবীনার মাও চলে যায়। দূরে গিয়ে আড়চোখে মেয়ের দিকে একবার তাকিয়েছিলেন। নবীনা তখন বাবার কোলে। এবার বাবারও চলে যাওয়ার পালা। বড়বাবা যাবেন পরশু। কোলে থেকেই বাবার দিকে তাকিয়ে লাল লাল চোখগুলো দেখে নেয়। রোহিন নবীনার কাছে কাছেই থাকে, জেঠিমাও। নবীনাকে নিয়ে বাবা ঘরে যায়। ব্যাগ গোছাতে গোছাতে এবার থেকে জেঠিমা’র কাছে থাকার কথা এবং জেঠিমাকে কষ্ট না দেয়ার কথা জানিয়ে রাখে নবীনাকে। নবীনা মনের ভেতর কিছু প্রশ্ন জমালেও বাবাকে তা শুনায় না। শুধু মাথাটা নাড়িয়ে যায় আর ভাবে সবইতো হলো কিন্তু ঘর ভাঙে না কেন? তবে কি ঘরটা বেঁচেই গেলো?
উঠোনের মাঝখানে এ বাড়ির বর্তমান সবাই দাড়িয়ে। পাশেই ব্যাগ রেখে মেয়ের হাত ধরে আছে নবীনা বাবা । মুখে কোন কথা নেই তবে চোখে পানি আছে। এবার কান্না বেড়ে গিয়ে একেবারে শরীরটা কাঁপিয়ে কাঁপিয়ে শুরু করলেন। বাবার চওড়া বুকে গুটিয়ে থাকতে নবীনার ভালোই লাগে। কাঁদতে কাঁদতেই বলতে থাকলেন, রোহিনের সাথে একসাথে পড়বি। বড় মা’র কথা শুনবি। এখন থেকে বড়মাকেই মা ডাকবি। কথাগুলো রোহিনের কাছে খুবই ভালো লাগতে শুরু করলে নবীনার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। নবীনার বাবা আরো কি কি যেন বলতে বলতে চোখে দেখছেন ফেলে যাওয়া ঘর। আর নবীনার সামনে রোহিনের মুখ। বাবার বুক থেকে কষ্ট করে একটি হাত বের করে রোহিনের হাতে রাখে নবীনা। বাবার কান্না যতো বাড়ে নবীনাকে ততোই জোরে ধরেন আর নবীনার হাত রোহিনের হাতকে তারচে’ও জোরে ধরে। ছোট ছোট বাধাগুলো ভাঙতে থাকে। অন্তত রোহিনের সাথে একসাথে খেতে বসার সময় মায়ের চোখ আর লাল হবে না।
কোন যোগাযোগ ছাড়াই রোহিন নবীনার মনের ভেতর বালুর ডিবি’র সংসারটা ইচ্ছেমতো সাজতে থাকে।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


