somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিচারটা খুব জরুরী, কিন্তু রায় দেবে কে? ব্লগ পলিটিশিয়ানদের জন্য অবশ্যপাঠ

১১ ই মে, ২০০৯ সকাল ১১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(মডারেটরের কাছে অনুরোধ দয়াকরে পোস্টটি মুছবেন না)

চাইনিজের চাইতে আমি ব্রয়লার মোরগের হাঁড় চিবাইতে বেশি পছন্দ করি। অবশ্য আমি কি পছন্দ করি না করি সেটাতো ব্লগারদের জানা অতোটা জরুরী নয়। কিন্তু কিছু ব্লগার বারবার আমাকে চাইনিজে নিয়ে যায়। যা আমার জন্য খুবই কষ্টকর। যে আতিথিয়েতার ধ্বনি উচ্চারিত হয়, সেখানে আমি চাইনিজ নয়, ওটাতো নস্যি এর চাইতেও বড় কিছু পাইছি।

আমরা মানুষগুলান বড়বেশি আহম্মক। খালি বান্ধা থাকতে চাই। আমাদেরকে হয় ধর্ম বাইন্ধা রাখন লাগে নইলে কোন মতবাদ। আর তাও নাইলে অন্তত কোন মোড়লের অধীন হইলেও থাকতে হয়। আবার আমরা চরম বেহায়াও বটে। ৩হাত লম্বা চুক্তিনামায় সই করে অন্দরে ঢুকে পরে সেই চুক্তিনামা বাতিলেরই আন্দোলন করি। এটারে বলবো ঘাঁড়ত্যাড়ামি বা ঝুঁকে পড়া বুদ্ধিজীবীগিরী। সামহোয়ারইনব্লগ বন্ধ হয়ে গেলে দেশে জামায়াত সরকার কায়েম হবে বা ঘোড়ায় চড়ে তরবারি হাতে শিবির নেতারা শহরের রাস্তা দখল নেবে- এমন চিন্তা করা আর গাঁজা খেয়ে ইলেকটৃক খাম্বার গায়ে চুমু খাওয়া একই কথা। দলাদলি করা ছাড়া কোয়ার্টার সেকেন্ডও থাকতে পারি না। অতীতে শোষিত হইতে হইতে অন্যের শাসনাধীন থাকতে থাকতে আমরা এখন আর নিজের মতো চলতে পারি না। নেতা আমাদের দরকারই। আর নেতা হওনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট হচ্ছে মাইনষেরে কইষা অপমান করা, আকাশ থেকে "আ" আর ডিব্বা থেকে "ব্বা" নিয়া আব্বা ডাকনের পারদর্শিতা।

ব্লগের প্লাস মাইনাস রেটিং জের ধরে মনোক্ষুন্নতার কারনে একজন ব্লগারের ব্যক্তিজীবন টেনে এনে তার অসুস্থতার ঘটনাকে নাটক বানানোর সেই সফল ক্রিয়ায় প্রথমে দর্শক হলেও পরে আমার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। ব্লগ লেখার পর থেকে যাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল (অবশ্যই আদর্শ নয়) হই তাদের মধ্যে থেকেই কেউ যখন প্রাণপন চেষ্টা করে বুঝায় যে, একজন ব্লগার অসুস্থতাকে পুঁজি করে ব্লগে সবার কাছে সমীহ চাচ্ছেন। আমিও গর্দভের মতো প্রমাণ ছাড়া বিশ্বাস করে ফেলি। আমার ওই বিশ্বাস আমার সাথেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। নন প্র্যাকটিক্যাল বলেই আমার এই দশা। মুখে সত্যের বুলি আওড়াইলেই যে সত্যবাদী হয় না তা আমি বুঝতে পারি নাই। খুব সহজ একটা কথা বুঝে নিলেই হতো- "অসুস্থতাকে পুঁজি করে যদি জনপ্রিয়তা চাইতো তবেতো ভুলেও তার সাথে তিক্ততা হতো না"। কিন্তু ব্লগের সবচাইতে লাগামছাড়া গ্রুপের সাথেই তিক্ততার শুরু হয়।

একটি ভুল তথ্য পরমানু অস্ত্রের চাইতেও বিপজ্জনক হতে পারে। তার সাথে যদি মানুষের আবেগপ্রবনতা থাকে তবেতো কোন কথায়ই নেই। ভুল তথ্য যখন আবেগকে নিয়ন্ত্রন করে ফেলে তখনই অঘটনের শুরু হয়। ব্লগে একটি কটু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আমিও মন্তব্যকারীর ব্যান চেয়ে পোস্ট দিই। মন্তব্যকারীর সাথে ব্লগার হিসেবে আমার কোন যোগাযোগ ছিলো না। তার ব্যক্তিজীবন সম্পর্কেও আমি কিছু জানতাম না। আমার পোস্টে আমি তার অসুস্থতা নিয়ে কটুবাক্য লিখি। তার পেছনেও ছিলো ভুল তথ্য।

আমি অবাক হয়ে যাই, আলোচিত ব্লগারে ওই মন্তব্যটিকে লাগামছাড়া গ্রুপের ন্যাংটা পর্যায়ের ব্যবহার দেখে। কেই কেই ওই ব্লগারের পোস্টে গিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনাও দিয়ে আসেন। আমি নিজেও ওনাকে মানসিক রোগী বলে সম্বোধন করেছিলাম এবং ব্যান পরবর্তী ব্লগিং কিভাবে করে তা দেখে নেব বলে হুমকী দিই। ফলশ্রুতিতে আমাকে মডারেশন স্ট্যাটাসে পর্যবেক্ষনে নিয়ে যাওয়া হয়। আলোচিত ওই মন্তব্য নিয়ে হাসিবের দেয়া পোস্টে সরাসরি কোন অভিযোগ ছিলো না। কিন্তু আমার পোস্টে শিরোনামেই ওই ব্যক্তিনাম ব্যবহার করি যা নীতিমালা বিরুদ্ধ। পরবর্তীতে মিলটনের দেয়া পোস্টে আমার কয়টি মন্তব্য কর্তৃপক্ষ মুছে দেয়। যেগুলো মুছেনি সেগুলোও অনেক আক্রমনাত্মক ছিলো। কিন্তু আমাকে শুধু পর্যবেক্ষণেই শ্যাষ! ব্লগ বাতিল করা লাগেনি! আসলেই মনে হয় ব্লগ বাতিল হওনের মতো নাঠা আমি এখনো হই নাই। ওই ইস্যু নিয়া যে হাসিবের ব্লগ বাতিল হয় নাই, এটা সত্য। তবে ওটা যে গর্ভবতী পাপের প্রসব পক্রিয়ার মোক্ষম সুযোগ ছিলো এটাও সত্য।

ব্লগে একধরনের পলিটিক্স কাজ করে। যার একমাত্র সমার্থক হতে পারে ভিলেজ পলিটিক্স। হাসিবের ব্যান পরবর্তী সময়ে যতো মডারেশন হইছে, তা যদি নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর বিপক্ষে গেছে তবে সেখানেই একজন ব্লগারের নাম টেনে আনার প্রবনতা দেখা গেছে। আলোচিত ওই মন্তব্য যার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিলো সেই ব্লগারের দু’কাধই এখন ভেঙ্গে যাবার উপক্রম হয়েছে। তার কাঁধে রাইফেল রেখে এতো বেশি ফায়ার করা হয়েছে যে, রাইফেলের ঝাঁকুনিতে তার কাঁধের একটা রফাদফা হয়েছে।

অন্যায় পরবর্তী অনুশোচনাকে পাত্তা না দেয়ার মতো অমানুষ আমি নই। সে আকুতিকে এড়িয়ে যেতে পারিনি। কয়েকজন ব্লগারের সামনেই অন্যায়কারী যার প্রতি অন্যায় করেছেন তার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। আমি জানি এমন মন্তব্য কখনোই ভোলার নয়। কিন্তু সে যন্ত্রনা মনে। অন্যায়কারীর ক্ষমা প্রত্যাশার পর তাকে অবশ্যই ক্ষমা করা উচিৎ (কারণ এখানে ক্ষমা না পাওয়ার মতো কোন উপাদান বিশিষ্ট নেই)।

নিছক একটি মন্তব্য (যাকে করা হয়েছে তার কাছে কলিজার বাঁধ ছেঁড়া) নিয়ে একজন মানুষকে বালাৎকার করার মাঝে বীরত্ব খুঁজতে গিয়ে আমি কেবল পতিত হয়েছি। পেচ্ছাব করার পর নুনুর আগায় যে পেচ্ছাব কনা লেগে থাকে ততটুকু বীরত্ব আমি দেখিনি।

মানলাম সবকিছু এক কোটিপতির ইশারায় হচ্ছে। এখন তাকে কি করা উচিৎ? সেতো অন্য নিকে হলেও ব্লগিং করবে। কারণ এটা তার কাছে খুবই প্রিয় বিনোদন। কিন্তু এরকম একটা পারভার্টতো ব্লগিং করতে পারে না। এতো বড় বড় মোড়লের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে তার ব্লগিং করার হিম্মত কি আছে? কিন্তু সে চুরি করে হলেও ব্লগিং করবে। আমরা এককাজ করতে পারি, ওই ব্লগারের একটি বিচারের আয়োজন করতে পারি। সম্ভাব্য রায় এমন হতে পারে- ওই পারভার্টটাকে গলাসমান মাটিতে পুঁতে ষাঁড়ের পাল ছেড়ে দেয়া হোক। অথবা তার হাত কেটে নেয়া যেতে পারে, যাতে করে লিখতে না পারে। কিন্তু তারতো ম্যালা টাকা। যদি আবার আমার মতো ব্লগারদের কর্মচারী রেখে ব্লগিং করে? নাহ! তার মাথার মগজগুলো বের করে চাটনী বানাতে হবে, সেই চাটনী ব্লগমোড়লদের প্রেমিকাদের খাওয়াদের হবে যাদের ভার্চুয়াল নিরাপত্তায় ওনাদের প্রেমিকগণ শংকিত।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এ রায় দেবে কে? আমার চাইনিজ খাওয়া বন্ধ হওনের আশংকায় ভুগলেও আমি চাই কোটিপতি ব্লগারকে সব ব্লগারের সামনে ব্যান হওয়া সেই বড় বিলাই (মেছোবাগ) বিচারের মুখোমুখি করবে। প্রয়োজনে দেশে আসার বিমানভাড়াও ওই কোটিপতি ব্লগারই দেবে। এই দেয়ার নিশ্চয়তাই আমি সরাসরি পিএস না হলেও সুপারিশ করলে যে হয়ে যাবে তার গ্যারান্টি দিতে পারি।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০১২ রাত ২:০০
১৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×