somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কানুভট্ট'র মৃত্যু পরবর্তী সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

১৫ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কানুভট্ট পুত্রকর্মশোকে আত্মা বিসর্জন দিয়েছেন। ১২ অক্টোবর বিকেলে পুকুর পাড়ে বিষপান শেষে হাসপাতালে নেয়ার পথে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৫৫বছর। এ সময় তিনি তার স্ত্রী দু'ছেলে এক মেয়ে, বৃদ্ধা মা আর অনেকগুলো ভাই-ভাইয়ের বৌ, পোলা মাইয়া রেখে যান। অপমৃত্যু বলে অপরাপর ব্যক্তিবর্গ তার স্বজন হওয়ার দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কানুভট্টের স্বাভাবিক মৃত্যুর কিছুদিন আগে এই অকস্মাৎ বিদায়ে গ্রামের বিশিষ্টজনরা সতর্কভাবে শোকবানী দিয়েছেন। মৃত্যুখবর শুনে অনেক মুসলমান ইন্নালিল্লাহ পড়লেও পরে হিন্দু আবিষ্কারের পর দু'গালে থাপ্পড় মেরেছেন এবং তওবা করেছেন।

গ্রামে এ সংক্রান্ত আলোচনা আজ দু'দিন। মু'দি দোকানগুলোয় চাপাতা, চিনি আর কনডেন্সড মিল্কের কাটতি ভালো। এর আগে নবী এবং তুলসী দেবী প্রেমসহ নীল হয়েছিলো। মানুষের আলোচনায় আরো উঠে এলো ক্ষুদিরামের বোন। অপমৃত্যু বলে অধিকাংশ ধর্মীয় আচারমুক্ত ভট্ট পরিবারে ছোট মেয়েটা দু'দিন আর নুপুর পরে না। আরো ছোট ছিলো সে- একদিন ঈদের বাজারে টুপি কেনার জেদ ধরেছিলো। মহাপাপী কানু সেদিন ধর্মের ধোহাই দিয়ে রেহাই পেয়েছিলো। কানুর অর্ধবৃদ্ধা স্ত্রী মোট দু'বার মাথা ঘুরে পড়েছে। আর অনেক বিলাপ করেছে। ছোট ছেলের নাম রাজন। পলিটেকনিক্যালের পড়া হয়তো শেষ। কিন্তু শুরুও নিশ্চয় কিছু একটা হবে। হোক, আরেক মৃত্যু অথবা অগণিত মৃত্যু শুরু হোক।

অঞ্জন আর জয়- আমার সহকর্মী। কানু'র দাহকর্মে গিয়ে ফিরে আসলো। পুলিশ এখনো ছাড়েনি। কলিজা গুদ্দা সব নেয়া হয়নি বলে পোড়ানো হয়নি। মৃত মানুষ পুড়িয়ে ফেলা বা মাটিচাপা দেয়া আমার ভালো লাগে না। শক্তিহীন কাউকে এমন শাস্তি দেয়ার মাঝে কোন বীরত্ব নেই। আগুনের চীৎকার আর মাটিচাপা ধড়পড়; আহা! জীবনসুখের কামভোগ। হীরন্ময় আর পংকজ তাদের আত্মহত্যা চেষ্টার স্মৃতিচারণ করলো। পরিকল্পনা ভালো ছিলো। হীরন্ময় চেয়েছিলো পেটে ছুরি চালান করতে আর পংকজ রেলে কাটা পড়তে। পরিশেষে হীরন্ময়ের পেটে ১২টি সেলাই পড়লো। পংকজের সে রাতের রেল আসেনি। কিন্তু এরপর অনেকদিন ধরেই নিয়মিত রেল এসেছিলো এবং পরের বৈশাখী মেলায় আরো ধারালো ছুরি উঠেছিলো। আশ্চর্য! আর নতুন সেলাই পড়েনি, অঞ্জন আর জয়ও পূণ্যকর্মে ছুটেনি।

মনে আছে দু'বারের কথা। একবার ৫তলা দালানের ছাদ আরেকবার ৪০টা ঘুমের বড়ি। দু'বারই ব্যর্থ! লজ্জা আর লজ্জা। আমার জীবন, আমার দেহ। পারি না, পুরোপুরি অধিকার খাটাতে পারি না। কানু ভট্টকে নমষ্কার। জীবনের প্রতি এমন অধিকার খাটাতে ক'জন পারে! হীরন্ময়, পংকজ কিংবা আমি; এরকম অনেকেই পারেনি।

মৃত্যুর আগে কানু'র শরীরে দেবতারা অসূরের শক্তি আর কালীর সাহস আপলোড করেছেন। কানু'র চোখ থেকে মুছে দিয়েছেন ছোট মেয়েটার ছোট ছোট দাঁত। গোল গাল গোস্বা ভুলে কানু হারিয়ে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। তাদের বাড়ির উপরের আকাশটা রং বদলায়নি। পুকুর পাড়ে কোন স্বর্গ বা নরক সৃষ্টি হয়নি। তুবও কানু মরে যাবার বিষয়ে একক সিদ্ধান্তে আসতে পারলেন। মৃত্যুর সময় সাহায্য করেছিলো তার বড়ো ছেলের অপকর্ম। আর বড়ো একটি সালিশ। অবশ্য ছোট দু' ভাইয়ের অনিশ্চিত ভবিষ্যতও কিছুটা অবদান রেখেছে। যমদূতের অপেক্ষা ছিলো শেষ নি:শ্বাস পর্যন্ত। মৃত্যু টুকে নিয়ে তারা ঈশ্বরের কাছে চলে গেলেন।

শোকটা পুত্রকর্মে। কমতো নয় ১২ লাখ টাকার কেলেংকারি। যদিও গ্রামের সবচে' লম্বা ঘরের মালিক ভট্ট পরিবার। তবুও ঘর বিক্রির টাকায় দেনা শোধ হবে না। গ্রামের সব পিতার সচেতন হবার কথা শুনি। পুত্রদের খোঁচা দেয়ার ব্যাথা পাই। নারীদের গর্ভে থাকা সকল পুত্রের বিলম্ব প্রসব টের পাই। পিতারা এখন শংকিত, আতংকিত। কিন্তু একটা খবর জানা যায়নি, বিকেলে কানুর মৃত্যুখবরের রাতে কতোজন পিতা স্ত্রী সংগমে বিরতি নিয়েছিলেন। আসলে সে রাতের কামকর্মে কতটুকু আরাম ছিলো? আমার ঘরে কোন স্ত্রী নেই। আমিই বা কি করতাম? পুত্রকর্মশোক আমাকে কত বড় পিতা বানাতো?
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:৩০
২৭টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×